হোম / আহতদের তালিকা / মো. মন্টু মিয়া
মো. মন্টু মিয়া

মো. মন্টু মিয়া

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ছাত্র

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম পরিচয়
মো. মন্টু মিয়া জন্মগ্রহণ করেছেন ১০ নভেম্বর ১৯৮৭ সালে। তিনি নেত্রকোনার খালিয়াজুরী এর সন্তান। তার বাবা সেন্টু মিয়া। মা মৃত সাজেদা খাতুন। তিনি একজন বেকার।একজন মন্টু মিয়া তার গুলিবিদ্ধ পেট

ঘটনার বিবরণ
আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ফিরে এসে গণতন্ত্রের নামে একদলীয় শাসনের ছক কষে, তখন গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র পরিণত হয় একটি গোষ্ঠীর দমনযন্ত্রে। প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে পুলিশের মতো বাহিনীগুলো দলীয় আনুগত্যের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রতিবাদ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা সবই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালো আইনের কাঁটাতারে বন্দি হয়ে পড়ে। আর এই নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রনীতির শিকার হন হাজারো সাধারণ নাগরিক, ছাত্র, যুবক ও শ্রমজীবী মানুষ। এরই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ মো. মন্টু মিয়া। মন্টু মিয়া একজন সাহসী তরুণ, যিনি ঢাকার তাঁতিবাজার ও নয়াবাজার এলাকায় একটি মিছিলে অংশগ্রহণ করছিলেন।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসের উত্তাল সময়টিতে এই মিছিল ছিল ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অংশ। কিন্তু হঠাৎ করেই পুলিশ বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায়। মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়, চারদিকে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। সে সময় একটি গুলি মন্টু মিয়ার তলপেটের বাম পাশে সামনে থেকে বিদ্ধ হয় এবং পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। মুহূর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, সেন্সলেস হয়ে যান। এক তরুণ জীবনের স্বপ্ন থেমে যেতে বসে রাষ্ট্রের রক্তাক্ত রাস্তায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু সেখানে উন্নত চিকিৎসার অভাবে ও শারীরিক জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় তাকে পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়। আজও তিনি চিকিৎসাধীন, ভবিষ্যত অনিশ্চিত। কাজের সক্ষমতা হারানোর শঙ্কা সামনে, আর পেছনে পড়ে আছে একটা রাজপথ, যেখানে তাঁর রক্ত ঝরেছিল অন্যায়ের প্রতিবাদে দাঁড়িয়ে। মন্টু মিয়া এখন শুধু একজন আহত ব্যক্তি নন তিনি রাষ্ট্রীয় দমন নীতির নীরব সাক্ষী। তাঁর শরীরে গুলির ক্ষত এদেশের গণতন্ত্র হত্যার আরেকটি অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর যন্ত্রণাদগ্ধ দেহ আজ প্রশ্ন তোলে: মত প্রকাশের স্বাধীনতার মূল্য কি একটি গুলি? তাঁর প্রতিবাদী উপস্থিতি এবং আহত দেহ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এখন বিপজ্জনক কিন্তু অনিবার্য।

যেভাবে আন্দোলন শুরু
যে আগুন এতদিন ছেপে ছিল, তা আবারও জ্বলে উঠেছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে। শুধু দাবানল, নয় ছিল এক বিস্ফোরণ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ রোষ। সে আগুনের ঠিক মধ্যিখানে ছিলেন একজন তরুণ মন্টু মিয়া। তিনি কোনো রাজনৈতিক পেশাদার ছিলেন না, ছিলেন সাধারণ ছাত্র সমাজের একজন সদস্য, এক স্বাধীনচেতা নাগরিক। কিন্তু তাঁর হৃদয়ে ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার সাহস, আর চোখে ছিল একটি পরিবর্তনের স্বপ্ন। সে স্বপ্ন নিয়েই তিনি অংশ নিয়েছিলেন মিছিলে, ঢাকার তাতিবাজার ও নয়াবাজার এলাকায়। তবে শাসকের চোখে এই মিছিল ছিল অপরাধ, আর এই তরুণ ছিল ‘শত্রু’। হঠাৎ করেই পুলিশ বাহিনী গুলি ছোঁড়ে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর। সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে দৌড়াতে থাকে, তখনই সামনে থেকে ছোড়া এক গুলি বিদ্ধ হয় মন্টু মিয়ার তলপেটের বাম পাশে আর পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। মুহূর্তেই নিস্তব্ধ হয়ে পড়েন তিনি, মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সেন্সলেস অবস্থায়। চারপাশে তখন ছিল কেবল গুলির শব্দ, মানুষের চিৎকার, আর একজন তরুণের নিস্তেজ দেহ। তিনি অস্ত্র হাতে নেননি, কেবল হাতে ছিল ন্যায়বোধ আর বুকে ছিল সাহস। কিন্তু সেই সাহসের দাম তাকে দিতে হয়েছে রক্ত দিয়ে, ব্যথা দিয়ে, জীবনের নিশ্চয়তা হারিয়ে। আজও মন্টু মিয়া বিছানায় পড়ে আছেন, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায়। কিন্তু তাঁর গল্প থেমে যায়নি। কারণ এ গল্প শুধুই ব্যক্তিগত নয়, এটা একটি সময়ের, একটি প্রজন্মের যারা প্রশ্ন তোলে, যারা প্রতিবাদ করে, যারা ভয় পায় না, বরং প্রতিবাদের ভাষা হয়ে জ্বলে ওঠে। মন্টু মিয়া সেই আগুনেরই এক জ্বলন্ত শিখা, এক সাহসী হৃদয়, যে অন্যায়ের সামনে মাথা নোয়ননি।

চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
২০২৪ সালের আন্দোলনের উত্তাল দিনে মোহাম্মদ মন্টু মিয়া ছিলেন বিজয় মিছিলের এক সাহসী অংশগ্রহণকারী। ঢাকার তাঁতিবাজার ও নয়াবাজার এলাকায় শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালে হঠাৎই পুলিশ বাহিনীর গুলিতে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে ছাত্র-জনতা। সে সময় পুলিশের একটি গুলি সামনে থেকে এসে মন্টু মিয়ার তলপেটের বাম পাশে সরাসরি বিদ্ধ হয়ে পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। মুহূর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং সেন্সলেস হয়ে যান। স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাত একটার দিকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে রাতভর অপারেশন চলে এবং শেষ হয় পরদিন দুপুর ২টায়। কিন্তু তাতেও শেষ হয়নি তার চিকিৎসাজনিত যন্ত্রণা। ১১ তারিখে তাকে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে পরীক্ষায় ধরা পড়ে তার কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। ১৭-১৮ দিন অপেক্ষার পর দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার করা হয় এবং তার কোমরে স্থায়ীভাবে “বাটি” লাগানো হয়। মোট ২৪ দিন তাকে হাসপাতালে কাটাতে হয়। আজ মন্টু মিয়ার শরীরে সে বুলেটের ক্ষতচিহ্ন বহন করছে রাষ্ট্রীয় দমননীতির নগ্ন বাস্তবতা। তার চলাফেরা, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, এমনকি কাজ করার সক্ষমতাও এখন সীমিত। তিনি কেবল একজন আহত নাগরিক নন তিনি আমাদের সময়ের এক নীরব সাক্ষ্য, যিনি প্রমাণ করে চলেছেন, কীভাবে একটি রাষ্ট্র তার প্রতিবাদী সন্তানদের শরীর আর মন দুটোতেই গুলি করে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
চিকিৎসকরা তাকে কঠোরভাবে বিশ্রামে থাকতে বলেছেন এবং জোরে চলাফেরা করতে নিষেধ করেছেন। বর্তমানে তার ওষুধ চলমান রয়েছে, কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটজনক। এই অবস্থায় মন্টু মিয়ার জন্য উন্নত অর্থোপেডিক চিকিৎসা, ফিজিওথেরাপি, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা (যেমন ঢ-ৎধু বা গজও), দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন এবং বিশেষায়িত পুষ্টি সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তিনি স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বের শিকার হতে পারেন। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া সময়ের দাবি।

এক নজরে মো. মন্টু মিয়া
নাম : মো. মন্টু মিয়া
জন্ম তারিখ : ১০-১১-১৯৮৭
জন্মস্থান : খালিয়াজুরি
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : নেত্রকোনা
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: কল্যাণপুর, ইউনিয়ন: কে. কল্যাণপুর, থানা: খালিয়াজুরী, জেলা: নেত্রকোনা
পরিবারের তথ্য:
পিতার নাম : মো. সেন্টু মিয়া
মায়ের নাম : মৃত সাজেদা খাতুন
পারিবারিক অবস্থা
মাসিক আয় : ৬ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : মোটর গাড়ির পার্টস বিক্রেতা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
১. মো. সিয়াম, বয়স: ১৬ বছর, পেশা: ব্যবসা (মটর গাড়ির পার্টস)
২. মো. শাওন, বয়স: ৯ বছর, পেশা: শিক্ষার্থী
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
আগে চিকিৎসা সমাধান করা। তারপর মটর পার্টসের দোকান করে দেওয়া
এককালীন আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍