হোম / আহতদের তালিকা / মো. রোকনুজ্জামান খান
মো. রোকনুজ্জামান খান

মো. রোকনুজ্জামান খান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ফার্মেসী পরিচালক

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

যেভাবে আন্দোলন শুরু
যে সহিংসতা এতদিন গোপনে হতো, তা প্রকাশ্যে হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে। সারা দেশে যখন ছাত্র-জনতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছিল, তখনও কেউ জানত না কার উপর কখন আঘাত নেমে আসবে। এই আন্দোলনের এক বেদনাদায়ক অথচ গর্বিত অধ্যায়ের নাম মো. রোকনুজ্জামান খান। তিনি কোনো রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন না প্রথম সারির কর্মীও। তিনি ছিলেন এক সাদা অ্যাপ্রোন পরা সাধারণ মানুষ, একজন মানবসেবী ফার্মাসিস্ট। কিন্তু ইতিহাস গড়ে ওঠে কখনো কখনো সেসব সাধারণের রক্তে, যারা অন্যায়ের সময় নিরপেক্ষ থাকতে পারেন না বা পারেন না নিষ্ক্রিয় থাকতে। ১৮ জুলাইয়ের সেই উত্তপ্ত বিকেলে, যখন ছাত্ররা পৌরসভার দিকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন আওয়ামী লীগ ছিল দেশি ও বিদেশি অস্ত্রসহ প্রস্তুত। উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও দলীয় কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় আন্দোলনকারীদের ওপর। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আর তখনই, নিজের ফার্মেসিতে রোগীদের চিকিৎসা দিতে থাকা রোকনুজ্জামান খানের জীবন নেমে আসে ঘোর অমানিশা। ১০-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল হঠাৎ তার ফার্মেসিতে ঢুকে পড়ে। কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়া শুরু হয় নির্মম মারধর। তার মাথা, শরীর, হাত-পা সব জায়গায় আঘাত করা হয়। একজন নিরীহ চিকিৎসাকর্মীকে এভাবে রক্তাক্ত করা হয় শুধু এই অপরাধে যে, তিনি সেই সহিংসতার সময় পাশে ছিলেন, ন্যায়ের পক্ষে, জীবনের পক্ষে। তাঁর ফার্মেসির সাদা র‌্যাকে ওষুধ ছিল, আর মেঝেতে ছিল তাঁর রক্ত। রোকনুজ্জামান খান এখন কেবল একজন আহত ব্যক্তি নন, তিনি একটি ভয়ঙ্কর প্রশ্নচিহ্ন। এই কি আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা? যেখানে একজন রোগীর সেবাদানকারীকেও নিষ্কৃতি দেয়া হয়নি ? তিনি অস্ত্র ধরেননি, শুধুই ব্যস্ত ছিলেন জীবন বাঁচাতে, অথচ তার জীবনই হয়ে পড়ে সংকটাপন্ন। আজ তিনি চিকিৎসাধীন, অথচ যন্ত্রণার চাইতেও বড় হয়ে উঠেছে এই অবিচারের অভিজ্ঞতা একজন নাগরিক কীভাবে রাষ্ট্রীয় ছায়াতলে থেকেও এতটা অনিরাপদ হতে পারে। রোকনুজ্জামান খানের রক্তাক্ত স্মৃতি শুধু তাঁর একার নয়। এটা একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি যেখানে নিরীহদের রক্তেও লেখা হয় প্রতিবাদের ভাষা। তাঁর গল্পও থেমে যায়নি। বরং আরও অনেক রোকনদের চোখে এই রাষ্ট্রের মুখোশ উন্মোচনের আগুন জ্বলে উঠেছে। তিনি এখন এক নীরব সাক্ষী, এক সাহসিকতার প্রতীক যিনি জীবনের পক্ষে দাঁড়িয়েও হয়ে উঠেছেন সহিংস রাষ্ট্রযন্ত্রের শিকার।

ঘটনার বিবরণ
যখনই আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে এসে একদলীয় শাসনের ছক আঁকে, তখন গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র পরিণত হয় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত দমনযন্ত্রে। প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, বিচার ব্যবস্থা, এমনকি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোও ক্রমে দলীয় আনুগত্যের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। সেই সময়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রতিবাদ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা পরিণত হয় ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধে। আর এই দমনমূলক বাস্তবতার নৃশংস শিকার হন অসংখ্য সাধারণ মানুষ, তাদেরই একজন মো. রোকনুজ্জামান খান। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাইয়ের উত্তাল দিনে, যখন ছাত্র-জনতা একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে পৌরসভার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, ঠিক তখনই পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ দেশি-বিদেশি অস্ত্রসজ্জিত অবস্থায় প্রস্তুত ছিল। উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের কর্মীরা ছাত্রদের ওপর বর্বর হামলা চালায়। সে সময় রোকনুজ্জামান খান একজন পেশাদার ফার্মাসিস্ট হিসেবে নিজ ফার্মেসিতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ১০-২০ জনের একটি দল ফার্মেসিতে ঢুকে তাকে নির্দয়ভাবে মারধর করে, যার ফলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। এই নৃশংস হামলা শুধুমাত্র রোকনুজ্জামান খানের ওপর শারীরিক আঘাত নয়, এটি দেশের চিকিৎসাসেবাকে, পেশাদার নিরাপত্তাকে এবং নাগরিক অধিকারকেই আঘাত করে। তিনি এখন কেবল একজন আহত চিকিৎসক নন, বরং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের আরেকটি জীবন্ত দলিল। তাঁর রক্তাক্ত শরীর, ক্ষতবিক্ষত জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় এই দেশে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষদের জন্য নিরাপত্তা নেই, নেই কোনো বিচার বা মানবতা।



চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
১৮ জুলাইয়ের সহিংস ঘটনায় মো. রোকনুজ্জামান খান আক্রান্ত হন একদল সন্ত্রাসীর হামলায়। হামলাকারীদের আঘাতে তিনি মারাত্মক আতঙ্ক ও শারীরিক আঘাতের শিকার হন। দ্রুত তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে জানা যায়, তাঁর আঘাত গুরুতর ছিল না, তবে মানসিক ও শারীরিকভাবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর বর্তমানে তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেও সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য তাঁকে কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই চিকিৎসা ছিল শুধুমাত্র তাঁর শারীরিক ক্ষতের বিরুদ্ধে নয়, বরং এক নিপীড়িত মানসিক অবস্থার প্রতিকারে একটি মানবিক সহায়তা।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
মো. রোকনুজ্জামান খান বর্তমানে শারীরিকভাবে মোটামুটি সুস্থ অবস্থায় রয়েছেন এবং তাঁর আর্থিক অবস্থাও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।জন্ম পরিচয়
মো. রোকনুজ্জামান খান জন্মগ্রহণ করেছেন ১৮ নভেম্বর ১৯৬৮ সালে। তিনি নেত্রকোনার মদন-এর সন্তান। তার বাবা হেলেনেওয়াজ খান। মা সাজেদা খানম। তিনি একজন ফার্মেসীর পরিচালক।




এক নজরে মো. রোকনুজ্জামান খান
নাম : মো. রোকনুজ্জামান খান
জন্ম তারিখ : ১৮-১১-১৯৬৮
জন্মস্থান : মদন
পেশা : ফার্মেসী পরিচালক
নিজ জেলা : নেত্রকোনা
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: জাহাঙ্গীরপুর, ইউনিয়ন: জাহাঙ্গীরপুর, থানা: মদন, জেলা: নেত্রকোনা
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : হেলেনেওয়াজ খান
মায়ের নাম : সাজেদা খানম
পারিবারিক অবস্থা
মাসিক আয় : ৩০ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : ফার্মেসী
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৩ জন
সন্তানের তথ্যাদি
রিদি, বয়স: ২৫, পেশা: শিক্ষার্থী (অনার্স ফাইনাল ইয়ার), সম্পর্ক: মেয়ে

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍