মো: সিফাতুল্লাহ সাদ
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ইন্টারমিডিয়েট ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
সিফাতুল্লাহ সাদ, ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আরাজী রামপুর গ্রামের একজন সাধারণ তরুণ। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ২০০৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। মাত্র ২১ বছর বয়সী সাদ বর্তমানে মাদারগঞ্জ বিএম কলেজে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। তার শৈশব, বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা জীবন সব কিছুই গড়ে উঠেছে নিজ জেলার মাটি ও মানুষের সান্নিধ্যে। সাদের পরিবারটি ছোট। পিতা বজলুর রহমান, বয়স ৪৮, পেশায় একজন কৃষক। কৃষিকাজই পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। মাসে গড়ে আয় মাত্র ১০ হাজার টাকা, যা দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানো সব সময়ই এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই আয় দিয়েই চলে চার সদস্যের সংসার। মা শাহনাজ পারভিন, বয়স ৪০, একজন গৃহিণী। সংসার সামলানো এবং সন্তানদের মানুষ করে তোলা তার জীবনের প্রধান দায়িত্ব। সাদের একমাত্র বোন সিমকীয়া রহমান পাপড়ী, বয়স ১৯, বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। দুই ভাই—বোন এই পরিবারের আগামী দিনের ভরসা ও আশার প্রতীক।
জুলাই আন্দোলনের সাহসী সৈনিক
সিফাতুল্লাহ সাদ শুধু একজন শিক্ষার্থী নন, তিনি ছিলেন ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের এক সাহসী যোদ্ধা। দেশের তরুণ সমাজ যখন বৈষম্য, নিপীড়ন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে, তখন সাদও থেমে থাকেননি। শুরু থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, ঠাকুরগাঁওয়ের জজ কোর্ট এলাকায় ছাত্র—জনতার মিছিলে যোগ দেন। তখন আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রীয় দমন—পীড়নের ও নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় ও বিচার দাবি করে। তারা শেখ হাসিনার পদত্যাগ চায়। আন্দোলনের প্রথম সারিতে, দৃঢ় মনোবল নিয়ে সাদ শ্লোগান দিয়ে যাচ্ছিল। দুপুর আনুমানিক একটার দিকে হঠাৎ পুলিশ জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে অতর্কিতে তাদের উপর হামলা চালায়। শুরু হয় লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ।
পুলিশের লাঠির আঘাতে সিফাতুল্লাহ সাদের নাকের হাড় বাঁকা হয়ে যায়। আহত অবস্থায়ও সে সরে যায়নি। বরং সে মুহূর্তেও তিনি ছিলেন প্রতিবাদী, ছিলেন অটল। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ছররা গুলির আঘাত লাগে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে, রক্তাক্ত হয়ে পড়েন তিনি।
চিকিৎসা
আহত হওয়ার পর সিফাতুল্লাহ সাদকে দ্রুত ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সেখানে তার রক্তক্ষরণ ও ব্যথা সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি না করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রিলিজ দেন। কিন্তু তার নাকের হাড় বাঁকা হয়ে যাওয়া এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলি বিদ্ধ থাকার কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার শরীর থেকে দু’টি ছররা গুলি বের করা সম্ভব হয়। তবে এখনও শরীরে বেশ কয়েকটি ছররা গুলি রয়ে গেছে, যা ব্যথা ও ঝুঁকির কারণ হয়ে রয়েছে। পাশাপাশি নাকের হাড়ে যে আঘাত লেগেছিল, তার চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি, নাকের হাড় এখনও বাঁকাই রয়ে গেছে। যার জন্য অপারেশন করা প্রয়োজন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতেও সাদ তার মনোবল হারাননি। তার আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা নতুন প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। অভাবের সঙ্গে সংগ্রাম করেও সিফাতুল্লাহ সাদ তার লেখাপড়া অব্যাহত রেখেছেন। ফ্যাসিবাদ তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। গ্রামের সরল জীবন, পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধ ও কৃষিনির্ভর সমাজের শিক্ষা তাকে গড়ে তুলেছে পরিশ্রমী ও স্বপ্নদ্রষ্টা একজন তরুণ হিসেবে। সাদের জীবনের গল্প হাজারো গ্রামের শিক্ষার্থীর প্রতিচ্ছবি, যারা স্বপ্ন দেখে, কষ্ট করে এবং প্রতিদিন নতুন ভোরের আশায় বাঁচে। তিনি শুধু একজন শিক্ষার্থী নন তিনি এক পরিবারের আশা, এক গ্রামের স্বপ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতীক। যিনি মেধা, দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে চলেছেন জীবনের পথে। সিফাতুল্লাহ সাদের মতো শত সহস্র তরুণের সাহসী ভূমিকা, আত্মত্যাগ ও প্রতিবাদের কারণেই অবশেষে স্বৈরাচারী সরকার দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এই আন্দোলন ছিল শুধু একটি সরকারের পতনের গল্প নয়, এটি ছিল নিপীড়নের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক দাঁতভাঙা জবাব।
আওয়ামী লীগের তিনটি কলঙ্কিত নির্বাচন : ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন তিনটি গভীর কলঙ্কের অধ্যায় হয়ে আছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ভয় পেয়ে এসব নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে। ফলে নির্বাচনের নাম করে চালানো হয় ভোটবিহীন একক শাসনের পাকা বন্দোবস্ত। ২০১৪ সালের নির্বাচনে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও অধিকাংশ রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচন আয়োজন করে, যেখানে ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এই নির্বাচন গণতন্ত্রকে কবর দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আগেই ভোট ‘নির্ধারণ’ করে নেয়। আগের রাতে ব্যালট বাক্স পূরণ, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে না দেয়া, বিরোধী প্রার্থীদের মারধর; সব মিলিয়ে নির্বাচন যেন ছিল পূর্ব নির্ধারিত নাটকের অংশ। নির্বাচন কমিশনের নির্লজ্জ নিরবতা ও প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা এই নির্বাচনকে আরও বিতর্কিত করে তোলে।
২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল আগের দু’টি নির্বাচনের চেয়েও ভয়াবহ। বিরোধীদের গুম, গ্রেফতার, হুমকি ও সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল সাধারণ ঘটনা। নির্বাচনের দিনেও অনেক কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়নি, জনগণ ভোট দিতে পারেনি।
এই তিনটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করেছিল। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তারা প্রতিষ্ঠা করেছিল এক ভয়াবহ দমনমূলক ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা। যার বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল সিফাতুল্লাহ সাদের মতো হাজারো তরুণ। তাদের আত্মদান ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি নতুন স্বাধীনতার স্বাদ।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: সিফাতুল্লাহ সাদ
জন্ম তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৪
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : ইন্টারমিডিয়েট ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : মাদারগঞ্জ বিএম কলেজ
নিজ জেলা : ঠাকুরগাঁও
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: আরাজী রামপুর, ইউনিয়ন: হরিনারায়ণপুর, উপজেলা: ঠাকুরগাঁও সদর, জেলা: ঠাকুরগাঁও
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: বজলুর রহমান, বয়স: ৪৮, পেশা: কৃষক
মায়ের নাম : মোছা: সাহানাজ পারভিন, বয়স: ৪০, পেশা: গৃহিণী
মাসিক আয় : ১০ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : কৃষিকাজ
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই—বোনদের বিবরণ
১. সিমকীয়া রহমান পাপড়ী, বয়স: ১৯, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: একাদশ, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : ঠাকুরগাঁও জজকোর্টের ভিতরে
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪; দুপুর ১টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
পুনর্বাসনভিত্তিক প্রস্তাবনা
১. শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা
জুলাই আন্দোলনের সাহসী সৈনিক
সিফাতুল্লাহ সাদ শুধু একজন শিক্ষার্থী নন, তিনি ছিলেন ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের এক সাহসী যোদ্ধা। দেশের তরুণ সমাজ যখন বৈষম্য, নিপীড়ন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে, তখন সাদও থেমে থাকেননি। শুরু থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, ঠাকুরগাঁওয়ের জজ কোর্ট এলাকায় ছাত্র—জনতার মিছিলে যোগ দেন। তখন আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রীয় দমন—পীড়নের ও নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় ও বিচার দাবি করে। তারা শেখ হাসিনার পদত্যাগ চায়। আন্দোলনের প্রথম সারিতে, দৃঢ় মনোবল নিয়ে সাদ শ্লোগান দিয়ে যাচ্ছিল। দুপুর আনুমানিক একটার দিকে হঠাৎ পুলিশ জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে অতর্কিতে তাদের উপর হামলা চালায়। শুরু হয় লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ।
পুলিশের লাঠির আঘাতে সিফাতুল্লাহ সাদের নাকের হাড় বাঁকা হয়ে যায়। আহত অবস্থায়ও সে সরে যায়নি। বরং সে মুহূর্তেও তিনি ছিলেন প্রতিবাদী, ছিলেন অটল। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ছররা গুলির আঘাত লাগে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে, রক্তাক্ত হয়ে পড়েন তিনি।
চিকিৎসা
আহত হওয়ার পর সিফাতুল্লাহ সাদকে দ্রুত ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সেখানে তার রক্তক্ষরণ ও ব্যথা সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি না করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রিলিজ দেন। কিন্তু তার নাকের হাড় বাঁকা হয়ে যাওয়া এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলি বিদ্ধ থাকার কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার শরীর থেকে দু’টি ছররা গুলি বের করা সম্ভব হয়। তবে এখনও শরীরে বেশ কয়েকটি ছররা গুলি রয়ে গেছে, যা ব্যথা ও ঝুঁকির কারণ হয়ে রয়েছে। পাশাপাশি নাকের হাড়ে যে আঘাত লেগেছিল, তার চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি, নাকের হাড় এখনও বাঁকাই রয়ে গেছে। যার জন্য অপারেশন করা প্রয়োজন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতেও সাদ তার মনোবল হারাননি। তার আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা নতুন প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। অভাবের সঙ্গে সংগ্রাম করেও সিফাতুল্লাহ সাদ তার লেখাপড়া অব্যাহত রেখেছেন। ফ্যাসিবাদ তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। গ্রামের সরল জীবন, পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধ ও কৃষিনির্ভর সমাজের শিক্ষা তাকে গড়ে তুলেছে পরিশ্রমী ও স্বপ্নদ্রষ্টা একজন তরুণ হিসেবে। সাদের জীবনের গল্প হাজারো গ্রামের শিক্ষার্থীর প্রতিচ্ছবি, যারা স্বপ্ন দেখে, কষ্ট করে এবং প্রতিদিন নতুন ভোরের আশায় বাঁচে। তিনি শুধু একজন শিক্ষার্থী নন তিনি এক পরিবারের আশা, এক গ্রামের স্বপ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতীক। যিনি মেধা, দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে চলেছেন জীবনের পথে। সিফাতুল্লাহ সাদের মতো শত সহস্র তরুণের সাহসী ভূমিকা, আত্মত্যাগ ও প্রতিবাদের কারণেই অবশেষে স্বৈরাচারী সরকার দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এই আন্দোলন ছিল শুধু একটি সরকারের পতনের গল্প নয়, এটি ছিল নিপীড়নের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক দাঁতভাঙা জবাব।
আওয়ামী লীগের তিনটি কলঙ্কিত নির্বাচন : ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন তিনটি গভীর কলঙ্কের অধ্যায় হয়ে আছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ভয় পেয়ে এসব নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে। ফলে নির্বাচনের নাম করে চালানো হয় ভোটবিহীন একক শাসনের পাকা বন্দোবস্ত। ২০১৪ সালের নির্বাচনে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও অধিকাংশ রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচন আয়োজন করে, যেখানে ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এই নির্বাচন গণতন্ত্রকে কবর দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আগেই ভোট ‘নির্ধারণ’ করে নেয়। আগের রাতে ব্যালট বাক্স পূরণ, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে না দেয়া, বিরোধী প্রার্থীদের মারধর; সব মিলিয়ে নির্বাচন যেন ছিল পূর্ব নির্ধারিত নাটকের অংশ। নির্বাচন কমিশনের নির্লজ্জ নিরবতা ও প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা এই নির্বাচনকে আরও বিতর্কিত করে তোলে।
২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল আগের দু’টি নির্বাচনের চেয়েও ভয়াবহ। বিরোধীদের গুম, গ্রেফতার, হুমকি ও সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল সাধারণ ঘটনা। নির্বাচনের দিনেও অনেক কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়নি, জনগণ ভোট দিতে পারেনি।
এই তিনটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করেছিল। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তারা প্রতিষ্ঠা করেছিল এক ভয়াবহ দমনমূলক ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা। যার বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল সিফাতুল্লাহ সাদের মতো হাজারো তরুণ। তাদের আত্মদান ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি নতুন স্বাধীনতার স্বাদ।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: সিফাতুল্লাহ সাদ
জন্ম তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৪
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : ইন্টারমিডিয়েট ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : মাদারগঞ্জ বিএম কলেজ
নিজ জেলা : ঠাকুরগাঁও
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: আরাজী রামপুর, ইউনিয়ন: হরিনারায়ণপুর, উপজেলা: ঠাকুরগাঁও সদর, জেলা: ঠাকুরগাঁও
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: বজলুর রহমান, বয়স: ৪৮, পেশা: কৃষক
মায়ের নাম : মোছা: সাহানাজ পারভিন, বয়স: ৪০, পেশা: গৃহিণী
মাসিক আয় : ১০ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : কৃষিকাজ
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই—বোনদের বিবরণ
১. সিমকীয়া রহমান পাপড়ী, বয়স: ১৯, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: একাদশ, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : ঠাকুরগাঁও জজকোর্টের ভিতরে
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪; দুপুর ১টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
পুনর্বাসনভিত্তিক প্রস্তাবনা
১. শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍