হোম / আহতদের তালিকা / বেল্লাল হাওলাদার
বেল্লাল হাওলাদার

বেল্লাল হাওলাদার

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

১৯৯৫ সালে পিরোজপুরের দক্ষিণ ইন্দুরকানীর নরম সবুজ প্রকৃতির মাঝে জন্ম নেওয়া বেল্লাল হাওলাদার ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমকে সঙ্গী করে বড় হয়েছেন। জীবিকার টানে ঢাকায় এসে ফুটপাতে ডাব বিক্রির ছোট্ট দোকানেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন পরিবারের স্বপ্নের ভরসা। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কুতুবখালীর এক অঘটনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার ডান হাতের শক্তি হারিয়ে যায়, আর জীবনের দৌড়ে হঠাৎ থেমে যায় আশার অনেক পথ। দুই ছেলের মুখ মনে রেখে তিনি আজও ধীরে ধীরে দাঁড়াতে শেখেন ব্যথার ভেতর থেকেও সাহস কুড়িয়ে নেওয়া এক নীরব যোদ্ধার মতো। তার জীবন প্রমাণ করে একজন সাধারণ মানুষের হৃদয়েও অসাধারণ দৃঢ়তার আলো জ্বলে।

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে বিল্লালের ডান হাত গুলিবিদ্ধ হয়
বেল্লাল হাওলাদার
পেশা: ব্যবসা (ডাব ব্যবসায়ী)
ক্রমিক: ০২১
আইডি: ঢাকা সিটি ০২১
জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি
বেল্লাল হাওলাদারের জন্ম ১৯৯৫ সালের ১০ জুন, পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানার দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামে। তার পরিবার স্বল্প আয়ের, মধ্যবিত্ত শ্রেণির। পিতা আব্দুল বারেক হাওলাদার একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বয়স ৬৫ বছর। মাতা মমতাজ বেগম একজন গৃহিণী, বয়স ৫৫। তিনজনের এই ছোট পরিবারটি গড়ে উঠেছে পরিশ্রম, আত্মত্মত্যাগ আর স্বপ্নের ভিত্তিতে। বর্তমানে বেল্লাল রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীতে বাস করেন, যেখানে তিনি ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।
পেশা ও জীবিকার সংগ্রাম
বেল্লাল একজন ডাব ব্যবসায়ী। যাত্রাবাড়ী এলাকায় ফুটপাতে একটি ছোট্ট দোকানে ডাব বিক্রি করেই চলে তার সংসার। তার মাসিক আয় গড়ে প্রায় ২৫,০০০ টাকা। এই আয়ে ঢাকার মতো শহরে থাকা, স্ত্রী ও দুই ছোট ছেলেকে নিয়ে সংসার চালানো এক দুঃসাহসিক কাজ। কিন্তু তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, সৎভাবে পরিশ্রম করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়বেন। ডাব ব্যবসাকে কেন্দ্র করে তিনি স্থানীয়ভাবে একজন প্রিয় ও পরিচিত মানুষ হয়ে ওঠেন।
পরিবার ও সন্তানদের স্বপ্ন
বেল্লালের দুই ছেলে মাহমুদুল হাসান (৩.৫ বছর) এবং সাজিদুর রহমান (মাত্র ১.৫ মাস)। ছোট্ট এই দু'টি শিশুই আজ তার জীবনের মূল প্রেরণা। তারা যেন শিক্ষা, পুষ্টি এবং নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে চেষ্টাই ছিল বেল্লালের প্রতিদিনের লড়াইয়ের পেছনের কারণ। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একটি ছোট্ট ভাড়া বাসায় বসবাস করলেও তাদের স্বপ্ন ছিল অনেক বড় একদিন নিজের ঘর, ভালো স্কুল আর সম্মানের জীবন।
আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, শুক্রবার। সকাল ১০.৩০টা। দেশ জুড়ে চলছিল অধিকার ও ন্যায়ের জন্য ছাত্র-জনতার আন্দোলন। যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় সে সময় মিছিল চলছিল। বেল্লাল দোকান খোলা রেখেই বন্ধুর সাথে আন্দোলনে যান। কারণ তিনি। বিশ্বাস করেন, এই আন্দোলন তার সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য। কিন্তু পুলিশের গুলিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। হঠাৎই গুলি ছোঁড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একটি গুলি সরাসরি বিল্লালের ডান হাতে বিদ্ধ হয়।
চিকিৎসার সংগ্রাম ও শারীরিক অবস্থা
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয় মানুষ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা বলেন, "হাত কেটে ফেলতে হবে।" এই কথায় পুরো পরিবার ভেঙে পড়ে। পরে তিনি প্রাইম হাসপাতালে ভর্তি হন, যেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে ডা. এ.বি.এম রুহুল আমিনের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন। হাত এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়নি। প্রতিনিয়ত ব্যথা ও জটিলতা নিয়ে দিন। কাটাচ্ছেন। কাজ করতে পারছেন না আগের মতো। আয় বন্ধ,
ব্যায় দ্বিগুণ।
অর্থনৈতিক বিপর্যয়
আহতের পর থেকেই বেল্লালের জীবন বদলে যায়। দোকান চালানো বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয়, ওষুধপত্র, খাবার সব মিলিয়ে প্রতি মাসে তার পরিবারের খরচ বেড়ে গেছে, অথচ আয় নেই। দুই ছোট সন্তানের খাদ্য ও চিকিৎসার খরচ জোগানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি আজ পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন।
মো. বেল্লাল হাওলাদারের গল্প শুধু একজন ডাব বিক্রেতার গুলিবিদ্ধ হওয়ার গল্প নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় সহিংসতার দলিল, যেখানে সাধারণ মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় জীবন ও জীবিকা হারায়। সে এখন প্রতিবাদের এক নীরব স্মারক, যার পাশে দাঁড়ানো মানে ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো। রাষ্ট্র, সমাজ ও মানবতার কাছে তার একটাই চাওয়া-চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সম্মানজনক বেঁচে থাকার সুযোগ।
সহায়তা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন
মো. বেল্লাল হাওলাদার এখন একজন আহত নাগরিক। তার জন্য প্রয়োজন-
১. হাতের চিকিৎসার জন্য ২ লক্ষ টাকা অনুদান
২. নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ও ওষুধের জন্য সহায়তা
৩. পরিবার চালাতে অন্তত ৬ মাসের জন্য মাসিক ভাতা
৪. শিশুদের খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা
৫. তিনি চান এই গুলির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হোক, যেন ভবিষ্যতে আর কেউ এমন অন্যায়ের শিকার না হয়।

এক নজরে বেল্লাল হাওলাদার
নাম: বেল্লাল হাওলাদার
জন্ম তারিখ: ১০-০৬-১৯৯৫
জন্মস্থান: পিরোজপুর
পেশা: ব্যবসা (ডাব ব্যবসায়ী)
নিজ জেলা: পিরোজপুর
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: দক্ষিণ ইন্দুরকানী, ইউনিয়ন: সদর,
থানা: ইন্দুরকানী, জেলা: পিরোজপুর
বর্তমান ঠিকানা: ৬০৩/৬০৪ দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম: আব্দুল বারেক হাওলাদার
মায়ের নাম: মমতাজ বেগম
পিতার পেশা ও বয়স: ব্যবসা, ৬৫
মায়ের নাম ও পেশা: গৃহিণী, ৫৫
মাসিক আয়: ২৫,০০০
আয়ের উৎস: ব্যবসা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ০৩ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. মাহমুদুল হাসান, বয়স: ৩.৫ বছর
২. সাজিদুর রহমান, বয়স: ১.৫ মাস
আহত চিত্র
ঘটনার স্থান: কুতুবখালী, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
আহত হওয়ার সময়: ১৯ জুলাই ২০২৪, সকাল ১০.৩০ মিনিট
আক্রমণকারী: পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍