মো: ইছা
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জুলাই আন্দোলনের এক শ্রমিক যোদ্ধার নাম
মাটির গন্ধ মাখা এক নিভৃত ভোরে, (জন্ম সাল পাওয়া যাইনি) ঠাকুরগাঁও জেলার গরেয়া ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম মিলনপুরে জন্ম নেন মো: ইসা। গ্রামবাংলার পাখির ডাকে আর ধানক্ষেতের সবুজ নিস্তব্ধতার মাঝে গড়ে ওঠা এই মানুষটির শৈশব জুড়ে ছিল কষ্ট, কিন্তু সে কষ্টের ভেতরেই ছিল মাটির কাছাকাছি থাকার এক অনন্য শক্তি। তাঁর পিতা মো: আব্দুর রহমান ছিলেন একজন কৃষক; নীরব, নিঃশব্দ অথচ দৃঢ়চেতা এক সংগ্রামী মানুষ, যিনি প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই মাটি কাটতে নামতেন, আর সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীরে ফিরতেন ঘরে।
জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের সামনে এক সৎ, দৃঢ় ও আদর্শবান জীবনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তার বাবা যিনি আজ বেঁচে নাই। মা মালেকা বেগম ছিলেন সেই ঘরের আলো, যিনি সংসারের প্রতিটি কোণে ভালোবাসার কোমল ছায়া হয়ে থাকতেন। মায়ের নিঃস্বার্থ স্নেহ, ধৈর্য আর নীরব ত্যাগই মো: ইসার হৃদয়ে বুনে দেয় মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মমর্যাদার বীজ।
এমন পারিবারিক পরিবেশেই গড়ে ওঠে মো: ইসা; একজন শ্রমজীবী মানুষের অবিকল প্রতিচ্ছবি। কৈশোর পেরোতেই সংসারের ভার কাঁধে তুলে নেন তিনি। জীবন হয়ে ওঠে ইট, বালি আর পাথরের জগৎ। রাজমিস্ত্রীর কাজকে তিনি শুধু রুটি—রুজির উপায় ভাবেননি বরং সেটাকেই রূপ দিয়েছিলেন নিজের আত্মসম্মানের ভিত্তি হিসেবে। ঘাম ঝরানো সেই দিনগুলো তাঁকে শিখিয়েছে শ্রমের মর্যাদা, শিখিয়েছে মাথা উঁচু করে বাঁচার মানে।
তবে মো: ইসার জীবন শুধু শ্রমিকের জীবনে সীমাবদ্ধ ছিল না। সময় তাঁকে টেনে নেয় ইতিহাসের মোড় ঘোরানো এক জাগরণে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, যখন গোটা দেশ ফ্যাসিবাদী দমন— পীড়নের কালো ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়, তখন তিনি শুধু হাতুড়ি— কুড়ালের মানুষ ছিলেন না; তিনি হয়ে ওঠেন প্রতিরোধের সৈনিক। ছাত্রদের ডাকে যখন রাস্তায় নামে জনতা, তখন পেছনে থাকেননি ইসা। তিনি বুঝেছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো শুধু শিক্ষিত শ্রেণির কাজ নয়; বরং প্রতিটি সৎ মানুষেরই দায়িত্ব। সে উপলব্ধি থেকেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন রাজপথে। পুলিশ যখন গুলি চালায় তখন তাঁর শরীরেও লাগে রক্তাক্ত বিদ্রোহের দাগ। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। তাঁর চোখে তখন একটাই স্বপ্ন; একটা শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।
একজন পিতা হিসেবে তাঁর বুক কেঁপেছিল তাঁর ছোট্ট ছেলের সিমরানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে, বয়স মাত্র সাড়ে চার। সে যেন বড় হয় এক আলোয় ভরা দেশে, যেখানে কেউ গুলি খেয়ে পড়ে না, কেউ ভয়ের রাজত্বে নি:শ্বাস নেয় না।
মো: ইসার জীবন কেবলই ব্যক্তিগত অধ্যায় নয়; এটা এক জাতির অন্তর্গত লড়াইয়ের প্রতীক। তাঁর জন্ম, পরিবার, শ্রমিক জীবন ও সাহসী আত্মত্যাগ মিলেই গড়ে তুলেছে এমন এক জীবনগাঁথা, যা আগামী প্রজন্মের জন্য হতে পারে দীপ্ত এক আলোকবর্তিকা। একজন নিঃশব্দ যোদ্ধা, যিনি না থাকলেও রেখে যান দৃশ্যমান এক ইতিহাস।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ : জুলাই যোদ্ধার মুখে শুনুন এক বাহাদুরের কাহিনী
আমি মো: ইসা, পেশায় রাজমিস্ত্রী,আর পরিচয়ে আমি একজন শ্রমজীবী মানুষ; হাঁড়ভাঙা পরিশ্রম করেই চলে আমার সংসার। কিন্তু এক সময় বুঝে গেছি, শুধু মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পেট ভরলেও, বুকে জমা অন্যায় আর অবিচারের ভারে মানুষ বাঁচতে পারে না। বৈষম্য, দুঃশাসন আর ফ্যাসিবাদের অন্ধকার এতটাই ঘন হয়ে উঠেছিল যে, নিঃশ্বাস নেয়ার জায়গাটুকুও যেন হারিয়ে যাচ্ছিল।
সে কারণে আমিও নেমে এসেছিলাম রাজপথে; ছাত্রদের কণ্ঠে যে প্রতিবাদ উঠেছিল, তা আমার বুকের ভেতরও আগুন ধরিয়েছিল। আমি তো রাজনীতি জানি না, কিন্তু চোখের সামনে যখন দেখি, কিশোরদের গুলি করা হয়, মানুষের ঘরে আগুন লাগে, ভোটের নামে প্রহসন চলে; তখন আর চুপ করে থাকাতে পারি না। ৪ আগস্ট ২০২৪, সকাল থেকেই আমি ছিলাম আন্দোলনের মিছিলে। সহযোদ্ধাদের সাথে একত্রে গলা মিলিয়েছিলাম, “ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন চাই, স্বৈরাচারের অবসান চাই।” কিন্তু সরকার, যাদের কাজ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তারা তখন বন্দুক তাক করেছিল আমাদের বুকের দিকে। হঠাৎই পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। একসময় অনুভব করলাম আমার শরীর ঝাঁঝিয়ে উঠেছে। গুলি লেগেছে। মাটিতে পড়ে গেলাম। রক্তে ভিজে উঠল আমার জামা, আর সে রক্ত যেন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক জ্বলন্ত দলিল হয়ে থাকল।
আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু আমার কথা সেখানেই শেষ হয়নি। আমি বেঁচে ছিলাম বলেই বলতে পারি, এই সরকার শুধু গুলি চালায় না, মানুষকে ভয়ের শিকল পরিয়ে রাখতে চেয়েছিল। তারা চায় না কেউ প্রশ্ন করুক, কেউ প্রতিবাদ করুক। কিন্তু আমরা বিদ্রোহ করেছি,কারণ আমরা বাঁচতে চাই। শুধু রুটি চাই না, আমরা সম্মানও চাই, অধিকার চাই, আর চাই মুক্তির আলো। আমার এই গুলিবিদ্ধ শরীর আজও সাক্ষ্য দেয়, আওয়ামী শাসন কেবলই দুঃশাসনের আর এক নাম। এটা গণতন্ত্র নয়, এটা এক নারকীয় নিপীড়নের নাম, যেখানে মানুষের রক্তে লেখা হয় রাজপথের ইতিহাস।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
আমি এখনো শরীরে ফ্যাসিবাদের গুলি বয়ে বেড়াচ্ছি। জুলাই আন্দোলনের সেই রক্তাক্ত দিনে, ফ্যাসিস্ট সরকারের বর্বর গুলিবর্ষণের শিকার হয়ে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। গুলি লাগার তীব্র আঘাতে আমি সেখানেই অজ্ঞান হয়ে যাই। সহযোদ্ধা আন্দোলনরত ভাইয়েরা তখন আমাকে দ্রুত স্থানীয় এক ফার্মেসিতে নিয়ে যান। সেখানে তড়িঘড়ি করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ডাক্তাররা আমার শরীর থেকে বেশ কিছু ছররা গুলি বের করতে সক্ষম হন। কিন্তু গভীরভাবে ঢুকে যাওয়া অনেক গুলি এখনও শরীরের ভেতর রয়ে গেছে, যেগুলো অপসারণ করলে জীবনহানির আশংকা রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সেই যন্ত্রণা প্রতিদিন আমাকে মনে করিয়ে দেয়; স্বাধীনতার নামে যেসব শাসক দমন—পীড়নের পথ বেছে নেয়, তাদের মুখোশ ছিঁড়ে ফেলা কতটা জরুরি। আজও আমি শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছি ফ্যাসিবাদের নীরব সাক্ষ্য, যেন আন্দোলনের ইতিহাস আমার হাড়ে—মাংসে খোদাই হয়ে আছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
পূর্ণ চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা, অবশিষ্ট গুলিগুলো অপসারণের ব্যবস্থা, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা, চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক সহায়তা, নিয়মিত ফলোআপ ও মেডিকেল মনিটরিং।
পূর্বে কী ধরনের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন
রাজমিস্ত্রী
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
স্থায়ী ও নিরাপদ চাকরির ব্যবস্থা, চাকরির মাধ্যমে চিকিৎসা ও জীবিকা নিশ্চিতকরণ, পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনায় মানবিক সহায়তা।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: ইছা
জন্ম তারিখ : ১০—১২—১৯৯৬
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : রাজমিস্ত্রী
নিজ জেলা : ঠাকুরগাঁও
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: মিলনপুর, ইউনিয়ন: গরেয়া, থানা: সদর, জেলা: ঠাকুরগাঁও
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মরহুম মো: আব্দুর রহমান
মায়ের নাম : মোছা: মালেকা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী
মাসিক আয় : ১০,০০০/—
আয়ের উৎস : দিনমজুর
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫
সন্তানদের বিবরণ
১. সিমরান বয়স: ৪.২ সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : চৌরাস্তা, ঠাকুরগাঁও
আক্রমণকারী : আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মদদপুষ্ট পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট, ২০২৪, দুপুর ২.৩০ মিনিটের দিকে
মাটির গন্ধ মাখা এক নিভৃত ভোরে, (জন্ম সাল পাওয়া যাইনি) ঠাকুরগাঁও জেলার গরেয়া ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম মিলনপুরে জন্ম নেন মো: ইসা। গ্রামবাংলার পাখির ডাকে আর ধানক্ষেতের সবুজ নিস্তব্ধতার মাঝে গড়ে ওঠা এই মানুষটির শৈশব জুড়ে ছিল কষ্ট, কিন্তু সে কষ্টের ভেতরেই ছিল মাটির কাছাকাছি থাকার এক অনন্য শক্তি। তাঁর পিতা মো: আব্দুর রহমান ছিলেন একজন কৃষক; নীরব, নিঃশব্দ অথচ দৃঢ়চেতা এক সংগ্রামী মানুষ, যিনি প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই মাটি কাটতে নামতেন, আর সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীরে ফিরতেন ঘরে।
জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের সামনে এক সৎ, দৃঢ় ও আদর্শবান জীবনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তার বাবা যিনি আজ বেঁচে নাই। মা মালেকা বেগম ছিলেন সেই ঘরের আলো, যিনি সংসারের প্রতিটি কোণে ভালোবাসার কোমল ছায়া হয়ে থাকতেন। মায়ের নিঃস্বার্থ স্নেহ, ধৈর্য আর নীরব ত্যাগই মো: ইসার হৃদয়ে বুনে দেয় মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মমর্যাদার বীজ।
এমন পারিবারিক পরিবেশেই গড়ে ওঠে মো: ইসা; একজন শ্রমজীবী মানুষের অবিকল প্রতিচ্ছবি। কৈশোর পেরোতেই সংসারের ভার কাঁধে তুলে নেন তিনি। জীবন হয়ে ওঠে ইট, বালি আর পাথরের জগৎ। রাজমিস্ত্রীর কাজকে তিনি শুধু রুটি—রুজির উপায় ভাবেননি বরং সেটাকেই রূপ দিয়েছিলেন নিজের আত্মসম্মানের ভিত্তি হিসেবে। ঘাম ঝরানো সেই দিনগুলো তাঁকে শিখিয়েছে শ্রমের মর্যাদা, শিখিয়েছে মাথা উঁচু করে বাঁচার মানে।
তবে মো: ইসার জীবন শুধু শ্রমিকের জীবনে সীমাবদ্ধ ছিল না। সময় তাঁকে টেনে নেয় ইতিহাসের মোড় ঘোরানো এক জাগরণে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, যখন গোটা দেশ ফ্যাসিবাদী দমন— পীড়নের কালো ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়, তখন তিনি শুধু হাতুড়ি— কুড়ালের মানুষ ছিলেন না; তিনি হয়ে ওঠেন প্রতিরোধের সৈনিক। ছাত্রদের ডাকে যখন রাস্তায় নামে জনতা, তখন পেছনে থাকেননি ইসা। তিনি বুঝেছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো শুধু শিক্ষিত শ্রেণির কাজ নয়; বরং প্রতিটি সৎ মানুষেরই দায়িত্ব। সে উপলব্ধি থেকেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন রাজপথে। পুলিশ যখন গুলি চালায় তখন তাঁর শরীরেও লাগে রক্তাক্ত বিদ্রোহের দাগ। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। তাঁর চোখে তখন একটাই স্বপ্ন; একটা শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।
একজন পিতা হিসেবে তাঁর বুক কেঁপেছিল তাঁর ছোট্ট ছেলের সিমরানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে, বয়স মাত্র সাড়ে চার। সে যেন বড় হয় এক আলোয় ভরা দেশে, যেখানে কেউ গুলি খেয়ে পড়ে না, কেউ ভয়ের রাজত্বে নি:শ্বাস নেয় না।
মো: ইসার জীবন কেবলই ব্যক্তিগত অধ্যায় নয়; এটা এক জাতির অন্তর্গত লড়াইয়ের প্রতীক। তাঁর জন্ম, পরিবার, শ্রমিক জীবন ও সাহসী আত্মত্যাগ মিলেই গড়ে তুলেছে এমন এক জীবনগাঁথা, যা আগামী প্রজন্মের জন্য হতে পারে দীপ্ত এক আলোকবর্তিকা। একজন নিঃশব্দ যোদ্ধা, যিনি না থাকলেও রেখে যান দৃশ্যমান এক ইতিহাস।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ : জুলাই যোদ্ধার মুখে শুনুন এক বাহাদুরের কাহিনী
আমি মো: ইসা, পেশায় রাজমিস্ত্রী,আর পরিচয়ে আমি একজন শ্রমজীবী মানুষ; হাঁড়ভাঙা পরিশ্রম করেই চলে আমার সংসার। কিন্তু এক সময় বুঝে গেছি, শুধু মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পেট ভরলেও, বুকে জমা অন্যায় আর অবিচারের ভারে মানুষ বাঁচতে পারে না। বৈষম্য, দুঃশাসন আর ফ্যাসিবাদের অন্ধকার এতটাই ঘন হয়ে উঠেছিল যে, নিঃশ্বাস নেয়ার জায়গাটুকুও যেন হারিয়ে যাচ্ছিল।
সে কারণে আমিও নেমে এসেছিলাম রাজপথে; ছাত্রদের কণ্ঠে যে প্রতিবাদ উঠেছিল, তা আমার বুকের ভেতরও আগুন ধরিয়েছিল। আমি তো রাজনীতি জানি না, কিন্তু চোখের সামনে যখন দেখি, কিশোরদের গুলি করা হয়, মানুষের ঘরে আগুন লাগে, ভোটের নামে প্রহসন চলে; তখন আর চুপ করে থাকাতে পারি না। ৪ আগস্ট ২০২৪, সকাল থেকেই আমি ছিলাম আন্দোলনের মিছিলে। সহযোদ্ধাদের সাথে একত্রে গলা মিলিয়েছিলাম, “ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন চাই, স্বৈরাচারের অবসান চাই।” কিন্তু সরকার, যাদের কাজ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তারা তখন বন্দুক তাক করেছিল আমাদের বুকের দিকে। হঠাৎই পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। একসময় অনুভব করলাম আমার শরীর ঝাঁঝিয়ে উঠেছে। গুলি লেগেছে। মাটিতে পড়ে গেলাম। রক্তে ভিজে উঠল আমার জামা, আর সে রক্ত যেন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক জ্বলন্ত দলিল হয়ে থাকল।
আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু আমার কথা সেখানেই শেষ হয়নি। আমি বেঁচে ছিলাম বলেই বলতে পারি, এই সরকার শুধু গুলি চালায় না, মানুষকে ভয়ের শিকল পরিয়ে রাখতে চেয়েছিল। তারা চায় না কেউ প্রশ্ন করুক, কেউ প্রতিবাদ করুক। কিন্তু আমরা বিদ্রোহ করেছি,কারণ আমরা বাঁচতে চাই। শুধু রুটি চাই না, আমরা সম্মানও চাই, অধিকার চাই, আর চাই মুক্তির আলো। আমার এই গুলিবিদ্ধ শরীর আজও সাক্ষ্য দেয়, আওয়ামী শাসন কেবলই দুঃশাসনের আর এক নাম। এটা গণতন্ত্র নয়, এটা এক নারকীয় নিপীড়নের নাম, যেখানে মানুষের রক্তে লেখা হয় রাজপথের ইতিহাস।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
আমি এখনো শরীরে ফ্যাসিবাদের গুলি বয়ে বেড়াচ্ছি। জুলাই আন্দোলনের সেই রক্তাক্ত দিনে, ফ্যাসিস্ট সরকারের বর্বর গুলিবর্ষণের শিকার হয়ে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। গুলি লাগার তীব্র আঘাতে আমি সেখানেই অজ্ঞান হয়ে যাই। সহযোদ্ধা আন্দোলনরত ভাইয়েরা তখন আমাকে দ্রুত স্থানীয় এক ফার্মেসিতে নিয়ে যান। সেখানে তড়িঘড়ি করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ডাক্তাররা আমার শরীর থেকে বেশ কিছু ছররা গুলি বের করতে সক্ষম হন। কিন্তু গভীরভাবে ঢুকে যাওয়া অনেক গুলি এখনও শরীরের ভেতর রয়ে গেছে, যেগুলো অপসারণ করলে জীবনহানির আশংকা রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সেই যন্ত্রণা প্রতিদিন আমাকে মনে করিয়ে দেয়; স্বাধীনতার নামে যেসব শাসক দমন—পীড়নের পথ বেছে নেয়, তাদের মুখোশ ছিঁড়ে ফেলা কতটা জরুরি। আজও আমি শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছি ফ্যাসিবাদের নীরব সাক্ষ্য, যেন আন্দোলনের ইতিহাস আমার হাড়ে—মাংসে খোদাই হয়ে আছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
পূর্ণ চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা, অবশিষ্ট গুলিগুলো অপসারণের ব্যবস্থা, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা, চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক সহায়তা, নিয়মিত ফলোআপ ও মেডিকেল মনিটরিং।
পূর্বে কী ধরনের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন
রাজমিস্ত্রী
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
স্থায়ী ও নিরাপদ চাকরির ব্যবস্থা, চাকরির মাধ্যমে চিকিৎসা ও জীবিকা নিশ্চিতকরণ, পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনায় মানবিক সহায়তা।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: ইছা
জন্ম তারিখ : ১০—১২—১৯৯৬
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : রাজমিস্ত্রী
নিজ জেলা : ঠাকুরগাঁও
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: মিলনপুর, ইউনিয়ন: গরেয়া, থানা: সদর, জেলা: ঠাকুরগাঁও
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মরহুম মো: আব্দুর রহমান
মায়ের নাম : মোছা: মালেকা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী
মাসিক আয় : ১০,০০০/—
আয়ের উৎস : দিনমজুর
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫
সন্তানদের বিবরণ
১. সিমরান বয়স: ৪.২ সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : চৌরাস্তা, ঠাকুরগাঁও
আক্রমণকারী : আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মদদপুষ্ট পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট, ২০২৪, দুপুর ২.৩০ মিনিটের দিকে
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍