মো: আবু নোমান
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ছাত্র
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
আবু নোমান একজন স্কুল ছাত্র। ২০২৪ সালে তিনি ছিল এস এস সি পরীক্ষার্থী। তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজপথের সৈনিক। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার বাবা পেশায় একজন রিকসাচালক। রিকসাচালক বাবার মনে আছে সন্তানদের যোগ্য করে তোলার আকাক্সক্ষা।
বড় মেয়ে বিসিএস পাশ করেছেন। ছেলে আবু নোমানও মনোযোগী ছাত্র। ছোট সন্তান তাহিয়ার বয়স মাত্র তিন বছর। বাবার নাম মো: জয়নাল আবেদীন, মায়ের নাম মোছা: মেরিনা আক্তার। তিনি জন্মেছেন ৯ মার্চ ২০০৮ সালে। তার গ্রামের নাম টিকাপাড়া।
টিকাপাড়া গ্রামটি ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও থানার ঠাকুরগাঁও পৌরসভার একটি শহর সংলগ্ন গ্রাম।
জুলাইয়ের এক কিশোরের কথা
আবু নোমান একজন স্কুলপড়–য়া কিশোর। জেলা শহরের বয়েজ স্কুলে পড়াশোনা করেন। জুলাই ২০২৪ তিনি মাত্র দশম শ্রেণীর ছাত্র। জেলা শহরের স্কুলে পড়ালেখা করেন। শহরের রাজনৈতিক বিষয় আশয় সহজেই নজরে পড়ে। জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও তার নজর এড়ায়নি। জুলাইয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন তার শহরকেও নাড়িয়ে দিয়েছিল। কলেজ, ভার্সিটির বড় ভায়েরা আন্দোলন করছে। তার হৃদয় ব্যথিত হয় যখন দেখে, ছাত্রদের নির্মমভাবে হত্যা করছে সরকার ও সরকারি দল। তখন তার মনে হলো আমিও তো ছাত্র। ছাত্র হত্যা তাকে বিদ্রোহী করে তুলল। নোমান আন্দোলনে নাম লেখাল।
আবু সাঈদের শাহাদাত
আবু নোমানের বিভাগ রংপুর। রংপুরের ছেলে আবু সাঈদ শহীদ হলেন। সারা দেশে এই খবর আলোড়ন তৈরি করল। ঠাকুরগাঁও আরও বেশি আন্দোলিত হলো। আবু সাঈদের মৃত্যু আবু নোমানকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করল। সে আন্দোলনে নিয়মিত হয়ে গেল।
এভাবেই দেশের জন্য জীবনবাজি রেখে লড়াই চালিয়ে গেল সাহসী কিশোর আবু নোমান।
ঘটনার দিন
আন্দোলনের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। ফ্যাসিস্ট সরকার আইন—শৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দেয় ছাত্রদের দমন করতে। মাঠে নামায় দলীয় সন্ত্রাসীদের। তারা মিছিলে, সমাবেশে, ছাত্রদের অবস্থানে সশস্ত্র হামলা করে। গুলি করে হত্যা করে ছাত্রদের। আবু সাঈদকে শহীদ করে। তার শহীদ হওয়ার খবর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে নোমানের মতো স্কুল পড়ুয়ারাও। নোমান ১৮ জুলাই ২০২৪—এ ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশ হঠাৎ আক্রমণ করে আন্দোলনকারীদের। বহু লোক আহত হয়।
অনেকের সাথে নোমানও আহত হয়। ছররা গুলি লাগে তার শরীরে। একটি গুলি তার চোখে লাগে।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন চিকিৎসা নেয়া নিরাপদ ছিল না। হাসপাতালেও হামলার ঘটনা ঘটতো অহরহ। আক্রান্তদের চিকিৎসা না করার সরকারি নির্দেশ ছিল। নোমানকে ঠাকুরগাঁও সদরে ‘আমাদের হাসপাতালে ও গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান তার চিকিৎসা করা হয়। অপারেশন করে ছররা গুলি বের করা হয়েছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
আবু নোমান এখন সুস্থ তবে চোখে একটু সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন আছে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
আবু নোমান একজন ছাত্র। তার বাবা একজন রিক্সাচালক। দরিদ্র পরিবার। তার বাবাকে একটি ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেয়া যায়।
তার জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা। পড়ালেখা সমাপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান প্রদান করা জরুরি।
প্রস্তাবিত বাজেট: এককালীন ৩/৪ লাখ টাকা।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: আবু নোমান
জন্ম তারিখ : ০৯—০৩—২০০৮
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : ছাত্র
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: টিকাপাড়া, ইউনিয়ন: ঠাকুরগাঁও পৌরসভা, থানা: ঠাকুরগাঁও, জেলা: ঠাকুরগাঁও
পিতার নাম : মো: জয়নাল আবেদীন
পিতার পেশা ও বয়স : রিক্সাচালক, ৪০
মায়ের নাম : মোছা: মেরিনা আক্তার
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী
পারিবারিক অবস্থা
আয়ের উৎস : বাবা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই—বোনদের তথ্যাদি
১. জহুরা আক্তার, পেশা: ছাত্রী, বিএসসি, সম্পর্ক: বোন
২. তাহিয়া, বয়স: ৩, সম্পর্ক: বোন
আক্রান্ত হওয়ার স্থান : বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও
আক্রমণকারী : পুলিশ, ঠাকুরগাঁও জেলা
আহত হওয়ার সময় : ২৮—০৭—২০২৪, ১২.০৫ মিনিট
বড় মেয়ে বিসিএস পাশ করেছেন। ছেলে আবু নোমানও মনোযোগী ছাত্র। ছোট সন্তান তাহিয়ার বয়স মাত্র তিন বছর। বাবার নাম মো: জয়নাল আবেদীন, মায়ের নাম মোছা: মেরিনা আক্তার। তিনি জন্মেছেন ৯ মার্চ ২০০৮ সালে। তার গ্রামের নাম টিকাপাড়া।
টিকাপাড়া গ্রামটি ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও থানার ঠাকুরগাঁও পৌরসভার একটি শহর সংলগ্ন গ্রাম।
জুলাইয়ের এক কিশোরের কথা
আবু নোমান একজন স্কুলপড়–য়া কিশোর। জেলা শহরের বয়েজ স্কুলে পড়াশোনা করেন। জুলাই ২০২৪ তিনি মাত্র দশম শ্রেণীর ছাত্র। জেলা শহরের স্কুলে পড়ালেখা করেন। শহরের রাজনৈতিক বিষয় আশয় সহজেই নজরে পড়ে। জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও তার নজর এড়ায়নি। জুলাইয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন তার শহরকেও নাড়িয়ে দিয়েছিল। কলেজ, ভার্সিটির বড় ভায়েরা আন্দোলন করছে। তার হৃদয় ব্যথিত হয় যখন দেখে, ছাত্রদের নির্মমভাবে হত্যা করছে সরকার ও সরকারি দল। তখন তার মনে হলো আমিও তো ছাত্র। ছাত্র হত্যা তাকে বিদ্রোহী করে তুলল। নোমান আন্দোলনে নাম লেখাল।
আবু সাঈদের শাহাদাত
আবু নোমানের বিভাগ রংপুর। রংপুরের ছেলে আবু সাঈদ শহীদ হলেন। সারা দেশে এই খবর আলোড়ন তৈরি করল। ঠাকুরগাঁও আরও বেশি আন্দোলিত হলো। আবু সাঈদের মৃত্যু আবু নোমানকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করল। সে আন্দোলনে নিয়মিত হয়ে গেল।
এভাবেই দেশের জন্য জীবনবাজি রেখে লড়াই চালিয়ে গেল সাহসী কিশোর আবু নোমান।
ঘটনার দিন
আন্দোলনের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। ফ্যাসিস্ট সরকার আইন—শৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দেয় ছাত্রদের দমন করতে। মাঠে নামায় দলীয় সন্ত্রাসীদের। তারা মিছিলে, সমাবেশে, ছাত্রদের অবস্থানে সশস্ত্র হামলা করে। গুলি করে হত্যা করে ছাত্রদের। আবু সাঈদকে শহীদ করে। তার শহীদ হওয়ার খবর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে নোমানের মতো স্কুল পড়ুয়ারাও। নোমান ১৮ জুলাই ২০২৪—এ ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশ হঠাৎ আক্রমণ করে আন্দোলনকারীদের। বহু লোক আহত হয়।
অনেকের সাথে নোমানও আহত হয়। ছররা গুলি লাগে তার শরীরে। একটি গুলি তার চোখে লাগে।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন চিকিৎসা নেয়া নিরাপদ ছিল না। হাসপাতালেও হামলার ঘটনা ঘটতো অহরহ। আক্রান্তদের চিকিৎসা না করার সরকারি নির্দেশ ছিল। নোমানকে ঠাকুরগাঁও সদরে ‘আমাদের হাসপাতালে ও গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান তার চিকিৎসা করা হয়। অপারেশন করে ছররা গুলি বের করা হয়েছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
আবু নোমান এখন সুস্থ তবে চোখে একটু সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন আছে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
আবু নোমান একজন ছাত্র। তার বাবা একজন রিক্সাচালক। দরিদ্র পরিবার। তার বাবাকে একটি ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেয়া যায়।
তার জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা। পড়ালেখা সমাপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান প্রদান করা জরুরি।
প্রস্তাবিত বাজেট: এককালীন ৩/৪ লাখ টাকা।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: আবু নোমান
জন্ম তারিখ : ০৯—০৩—২০০৮
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : ছাত্র
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: টিকাপাড়া, ইউনিয়ন: ঠাকুরগাঁও পৌরসভা, থানা: ঠাকুরগাঁও, জেলা: ঠাকুরগাঁও
পিতার নাম : মো: জয়নাল আবেদীন
পিতার পেশা ও বয়স : রিক্সাচালক, ৪০
মায়ের নাম : মোছা: মেরিনা আক্তার
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী
পারিবারিক অবস্থা
আয়ের উৎস : বাবা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই—বোনদের তথ্যাদি
১. জহুরা আক্তার, পেশা: ছাত্রী, বিএসসি, সম্পর্ক: বোন
২. তাহিয়া, বয়স: ৩, সম্পর্ক: বোন
আক্রান্ত হওয়ার স্থান : বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও
আক্রমণকারী : পুলিশ, ঠাকুরগাঁও জেলা
আহত হওয়ার সময় : ২৮—০৭—২০২৪, ১২.০৫ মিনিট
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍