মো: হাসান আলী
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : দিনমজুর
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মো: হাসান আলী একজন সাধারণ কাঠ মিস্ত্রী। এই সাধারণ মানুষই অসাধারণ হয়ে ওঠেন ২০২৪ জুলাইয়ে। জুলাইয়ে যখন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন শুরু হয় তখন স্বৈরাচার হাসিনা নিরস্ত্র ছাত্রদের নির্মমভাবে খুন করে। হাসিনা গণহত্যাকারী, ভোট ডাকাত। হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে কুখ্যাত এক ফ্যাসিস্ট। জুলাইয়ে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে গর্জে ওঠে সারা দেশ। দেশপ্রেমিক মো: হাসান আলীও দ্রোহ করেন হাসিনা শাসনের বিরুদ্ধে।
তিনি নিজের সকল সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে ছাত্রদের পাশে দাঁড়ান। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। তিনি জন্ম গ্রহণ করেন ০৪ জুলাই ১৯৮৮ সালে। ঠাকুরগাঁও জেলার সদর থানার চিলারং ইউনিয়নের চিলারং গ্রামে। তার পিতার নাম সামস উদ্দীন, মাতার নাম রহিমা বেগম। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
জুলাইয়ে এক কাঠমিস্ত্রীর কথা
মো: হাসান আলী একজন কাঠমিস্ত্রী। ফার্নিচারের দোকানে কাজ করেন। নিজে কাজ করেন। দোকানে অর্ডারী কাজও করেন। পড়াশোনা করেন। জেলা শহরের ফার্নিচারের দোকানগুলোতেই কাজের সময় কাটে তার বেশি। শহরের রাজনৈতিক বিষয়—আশয় সহজেই নজরে পড়ে।
জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও তার নজর এড়ায়নি। জুলাইয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন তার শহরকেও নাড়িয়ে দিয়েছিল। কলেজ ভার্সিটির ছেলেরা আন্দোলন করছে। তার হৃদয় ব্যথিত হন যখন দেখে, ছাত্রদের নির্মমভাবে হত্যা করছে সরকার ও সরকারি দল। তখন তার মনে হলো এই মৃত্যুর মিছিলে আমিও তো থাকতে পারতাম । ছাত্র হত্যা তাকে বিদ্রোহী করে তুলল। মো: হাসান আলী আন্দোলনে নাম লেখালেন।
আবু সাঈদের শাহাদাত
মো: হাসান আলীর বিভাগ রংপুর। রংপুরের ছেলে আবু সাঈদ শহীদ হলেন। সারা দেশে এই খবর আলোড়ন তৈরি করল। ঠাকুরগাঁও আরও বেশি আন্দোলিত হলো। আবু সাঈদের মৃত্যু মো: হাসান আলী কে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করল। সে আন্দোলনে নিয়মিত হয়ে গেল।
এভাবেই দেশের জন্য জীবনবাজি রেখে লড়াই চালিয়ে গেল সাহসী যুবক মো: হাসান আলী।
পুরো ঘটনার বিবরণ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাতাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পেশায় কাঠমিস্ত্রী। কিন্তু দেশ নিয়ে ছিল সচেতন ভাবনা। তার চোখের সামনে ঘটছে ইতিহাসের বর্বরতম ঘটনা। সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে নিরীহ ছাত্র—ছাত্রীদের। মধ্য জুলাই থেকে ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের পবিত্র মাটিতে শহীদের রক্তে বন্যা বয়ে যাচ্ছে। জুলাই শেষ হয়নি। আগস্ট মিশে গেছে জুলাইয়ে। মো: হাসান আলী আন্দোলনে যোগ দেন। জীবনের সকল সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করেই মাঠে নামেন তিনি । অন্যান্য দিনের মতো চৌঠা আগস্ট’২৪ হাজির হন ছাত্রদের মিছিলে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা আন্দোলন দমন করতে প্রয়োগ করেন শক্তি। লাঠিয়াল ও পুলিশ হামলা করে মিছিলে। গুলিবিদ্ধ হয় অনেকে। তিনি ছররা গুলিতে আহত হন।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
আহত হওয়ার পর সহযোদ্ধারা তাকে দ্রুত নিয়ে যান সদর হাসপাতালে। সদর হাসপাতালে ও স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। হাসপাতালে নর্মাল সার্জারিতে তার শরীর থেকে ৫/৬ টি গুলি বের করা হয়। অন্যান্য চিকিৎসার পর তিনি এখন সুস্থ।
চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা
গুলিবিদ্ধ হওয়ায় শরীরে নানা রকম জটিলতা অনুভব করেন। ভবিষ্যতে সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।
কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রস্তাবনা
তিনি একজন দরিদ্র কাঠমিস্ত্রী। তাকে একটি ফার্নিচারের দোকান দিয়ে দিলে কর্মজীবন নিরাপদ হবে। কর্মজীবন ও পুনর্বাসন দুটোই হবে। এককালীন অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া দরকার।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: হাসান আলী
জন্ম তারিখ : ০৪—০৭—১৯৮৮
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : দিনমজুর
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: চিলারং, ইউনিয়ন: চিলারং, থানা: সদর, জেলা: ঠাকুরগাঁও
পিতার নাম : মরহুম মো: সামস উদ্দিন
মায়ের নাম : মোছা: রহিমা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : বৃদ্ধ, ৬২
পারিবারিক অবস্থা
মাসিক আয় : ১৫০০০
আয়ের উৎস : কাজ
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. আনহা আক্তার, বয়স ২ বছর, সম্পর্ক: মেয়ে
২. আনাস ইসলাম, বয়স ৭ মাস, সম্পর্ক: ছেলে
আহত হওয়ার স্থান : চৌরাস্তা
আক্রমণকারী : পুলিশ
আহত হওয়ার সময় : ০৪—০৮—২০২৪, দুপুর ২টা
তিনি নিজের সকল সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে ছাত্রদের পাশে দাঁড়ান। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। তিনি জন্ম গ্রহণ করেন ০৪ জুলাই ১৯৮৮ সালে। ঠাকুরগাঁও জেলার সদর থানার চিলারং ইউনিয়নের চিলারং গ্রামে। তার পিতার নাম সামস উদ্দীন, মাতার নাম রহিমা বেগম। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
জুলাইয়ে এক কাঠমিস্ত্রীর কথা
মো: হাসান আলী একজন কাঠমিস্ত্রী। ফার্নিচারের দোকানে কাজ করেন। নিজে কাজ করেন। দোকানে অর্ডারী কাজও করেন। পড়াশোনা করেন। জেলা শহরের ফার্নিচারের দোকানগুলোতেই কাজের সময় কাটে তার বেশি। শহরের রাজনৈতিক বিষয়—আশয় সহজেই নজরে পড়ে।
জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও তার নজর এড়ায়নি। জুলাইয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন তার শহরকেও নাড়িয়ে দিয়েছিল। কলেজ ভার্সিটির ছেলেরা আন্দোলন করছে। তার হৃদয় ব্যথিত হন যখন দেখে, ছাত্রদের নির্মমভাবে হত্যা করছে সরকার ও সরকারি দল। তখন তার মনে হলো এই মৃত্যুর মিছিলে আমিও তো থাকতে পারতাম । ছাত্র হত্যা তাকে বিদ্রোহী করে তুলল। মো: হাসান আলী আন্দোলনে নাম লেখালেন।
আবু সাঈদের শাহাদাত
মো: হাসান আলীর বিভাগ রংপুর। রংপুরের ছেলে আবু সাঈদ শহীদ হলেন। সারা দেশে এই খবর আলোড়ন তৈরি করল। ঠাকুরগাঁও আরও বেশি আন্দোলিত হলো। আবু সাঈদের মৃত্যু মো: হাসান আলী কে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করল। সে আন্দোলনে নিয়মিত হয়ে গেল।
এভাবেই দেশের জন্য জীবনবাজি রেখে লড়াই চালিয়ে গেল সাহসী যুবক মো: হাসান আলী।
পুরো ঘটনার বিবরণ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাতাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পেশায় কাঠমিস্ত্রী। কিন্তু দেশ নিয়ে ছিল সচেতন ভাবনা। তার চোখের সামনে ঘটছে ইতিহাসের বর্বরতম ঘটনা। সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে নিরীহ ছাত্র—ছাত্রীদের। মধ্য জুলাই থেকে ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের পবিত্র মাটিতে শহীদের রক্তে বন্যা বয়ে যাচ্ছে। জুলাই শেষ হয়নি। আগস্ট মিশে গেছে জুলাইয়ে। মো: হাসান আলী আন্দোলনে যোগ দেন। জীবনের সকল সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করেই মাঠে নামেন তিনি । অন্যান্য দিনের মতো চৌঠা আগস্ট’২৪ হাজির হন ছাত্রদের মিছিলে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা আন্দোলন দমন করতে প্রয়োগ করেন শক্তি। লাঠিয়াল ও পুলিশ হামলা করে মিছিলে। গুলিবিদ্ধ হয় অনেকে। তিনি ছররা গুলিতে আহত হন।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
আহত হওয়ার পর সহযোদ্ধারা তাকে দ্রুত নিয়ে যান সদর হাসপাতালে। সদর হাসপাতালে ও স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। হাসপাতালে নর্মাল সার্জারিতে তার শরীর থেকে ৫/৬ টি গুলি বের করা হয়। অন্যান্য চিকিৎসার পর তিনি এখন সুস্থ।
চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা
গুলিবিদ্ধ হওয়ায় শরীরে নানা রকম জটিলতা অনুভব করেন। ভবিষ্যতে সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।
কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রস্তাবনা
তিনি একজন দরিদ্র কাঠমিস্ত্রী। তাকে একটি ফার্নিচারের দোকান দিয়ে দিলে কর্মজীবন নিরাপদ হবে। কর্মজীবন ও পুনর্বাসন দুটোই হবে। এককালীন অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া দরকার।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: হাসান আলী
জন্ম তারিখ : ০৪—০৭—১৯৮৮
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : দিনমজুর
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: চিলারং, ইউনিয়ন: চিলারং, থানা: সদর, জেলা: ঠাকুরগাঁও
পিতার নাম : মরহুম মো: সামস উদ্দিন
মায়ের নাম : মোছা: রহিমা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : বৃদ্ধ, ৬২
পারিবারিক অবস্থা
মাসিক আয় : ১৫০০০
আয়ের উৎস : কাজ
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. আনহা আক্তার, বয়স ২ বছর, সম্পর্ক: মেয়ে
২. আনাস ইসলাম, বয়স ৭ মাস, সম্পর্ক: ছেলে
আহত হওয়ার স্থান : চৌরাস্তা
আক্রমণকারী : পুলিশ
আহত হওয়ার সময় : ০৪—০৮—২০২৪, দুপুর ২টা
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍