মো: আব্দুল লতিফ
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ব্যবসায়ী (সাবেক সেনা সদস্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী)
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
সংগ্রামী সৈনিকের ছোটবেলা
১৯৭৬ সালের এক নিরিবিলি সকালে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী থানার ছোট্ট একটি গ্রাম জন্ম নেয় এক দুরন্ত শিশু, নাম মো: আব্দুল লতিফ। গ্রামটি ছিলো সবুজ—শ্যামল আর শান্তিপূর্ণ, তবে জীবন ছিল সহজ ছিলো না। তার বাবা মৃত আব্দুর রহমান ছিলেন একজন সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। আর মা মোছা: ছালেহা বেগম ছিলেন ঘরের আদর্শ গৃহিণী। লতিফ ছিল তাদের সবচেয়ে আদরের সন্তান।
ছোটবেলা থেকেই লতিফ ছিল দারুণ কর্মঠ ও সাহসী। যখন তার সমবয়সীরা মাঠে খেলাধুলা করতো, লতিফ তখন গ্রামের প্রবীণদের কাছে বসে দেশপ্রেমের গল্প শুনতে ভালোবাসতো। মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সেনাদের গল্প তাকে অনুপ্রাণিত করতো। বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে বন্ধু—বান্ধবদের নিয়ে ‘সেনাখেলা’ খেলতো, যেন সে নিজেই দেশের এক বীর যোদ্ধা।
তার পরিবার খুব ধনী ছিল না, কিন্তু শিক্ষা আর নৈতিকতায় তারা ছিল অনন্য। প্রতিদিন সকালে মক্তবে গিয়ে কোরআন শিখতো লতিফ, তারপর স্কুলে যেতো খালি পায়ে হেঁটে কয়েক মাইল রাস্তা পাড়ি দিয়ে। ক্লাসে সে ছিল মনোযোগী ও কর্তব্যপরায়ণ। শিক্ষকরা তাকে বলতেন, “তুই একদিন দেশের গর্ব হবি লতিফ!”
একদিন স্কুলে একটি বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় লতিফ বলেছিল, “আমি বড় হয়ে দেশের জন্য কিছু করবো। আমি একজন সৈনিক হবো, দেশকে রক্ষা করবো!” সেই কথা যেন তার ভবিষ্যতের পথচিত্র অঁাকিয়ে দেয়।
বয়ঃসন্ধিতে পেঁৗছে যখন অনেকেই বিভ্রান্ত হয়, লতিফ ঠিক তখনই নিজেকে গড়ে তুলেছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী এক তরুণ হিসেবে। কাঁধে গামছা রেখে কৃষিকাজে বাবাকে সাহায্য করতো, আবার সন্ধ্যায় পড়াশুনাতেও মন দিত।
অবশেষে, সেই ছোট্ট গ্রাম থেকে দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে লতিফ যোগ দিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। গ্রামের সবাই গর্বে বুক ফুলিয়ে বললো, “ওই যে আমাদের লতিফ, এখন দেশের সৈনিক!”
ছোটবেলার সেই দুরন্ত ছেলেটি পরিণত হলো এক সংগ্রামী সৈনিকে যার শিকড় গ্রামে, কিন্তু সেবা ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র বাংলাদেশে।
জুলাইয়ের সৈনিক
মো: আব্দুল লতিফ ছিলেন একজন নির্ভীক ও সদা সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন প্রাক্তন সৈনিক হিসেবে তিনি জীবন কাটিয়েছেন শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও ন্যায়ের আদর্শ নিয়ে। সেনা জীবনের দীর্ঘ সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর ব্যক্তিত্বে গড়ে ওঠে এক কঠিন চরিত্র যিনি অন্যায় দেখলে চুপ করে থাকতে পারেন না, যিনি বিশ্বাস করেন, দেশ কেবল জমি আর পতাকা নয়, দেশ মানে মানুষ, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র।
সেনাজীবন শেষে লতিফ ফিরে যান তাঁর নিজ জেলা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর ‘হাসপাতাল মোড়’ নামের ছোট্ট গ্রামে। সেখানে তিনি একজন সৎ ব্যবসায়ী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। দোকানের পাশে ছোট্ট একটি চায়ের আড্ডা ছিল, যেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনি এলাকার যুবকদের নিয়ে দেশের বর্তমান অবস্থা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ আর দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতেন।
তবে দেশ তখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছিল। বিগত ১৫ বছর ধরে দেশ শাসন করছিল এক দল স্বৈরাচারী নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ দেশের প্রতিটি স্তরে সৃষ্টি করেছিল এক ভয়ের পরিবেশ। গুম, খুন, ধর্ষণ, পুলিশি হয়রানি, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এসব ঘটনা যেন জনজীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মানুষ কথা বলতে ভয় পেত, প্রতিবাদ করতে সাহস করত না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত, প্রশাসন সব যেন এক ভয়াবহ দুর্নীতির খাঁচায় বন্দি হয়ে পড়েছিল।
এই অন্ধকার সময়ে আশার আলো হয়ে দেখা দেয় ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ ধীরে ধীরে রূপ নেয় স্বৈরাচারবিরোধী গণ আন্দোলনে। দেশের নানা প্রান্তে ছাত্র—জনতা রাজপথে নেমে আসে।
ভূরুঙ্গামারীর হাসপাতাল মোড়েও ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলনের উত্তাপ। সেখানে ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে মানব বন্ধন করে, পোস্টার লাগায়, মাইকিং করে। লতিফ ছিলেন এই আন্দোলনের এক নীরব সহচর। তিনি খাবার দিয়ে, সাহস দিয়ে, অভিজ্ঞতা দিয়ে ছেলেমেয়েদের পাশে ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল এ যুবকরাই একদিন বাংলাদেশকে মুক্ত করবে অন্যায় আর দুঃশাসনের গ্রাস থেকে। কিন্তু সেই বিশ্বাসের মাশুল তাঁকে দিতে হলো ভয়াবহভাবে।
চার আগস্টের এক দুপুরে, ছাত্রদের একটি মিছিল শেষ করে যখন সবাই হাসপাতাল মোড়ে জড়ো হয়েছিল, তখন হঠাৎই সেখানে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী ও ছাত্রলীগের একদল দুষ্কৃতকারী। তারা জানতো এই এলাকায় লতিফ ভাইয়ের মতো লোক থাকলে আন্দোলন থামানো যাবে না। পরিকল্পনা করে সেদিন তারা লতিফকে তাঁর দোকানের সামনে থেকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তোলে। এরপর রাস্তাতেই তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয় এবং সবার সামনে, ছাত্র—জনতার চোখের সামনে শুরু করে নির্মম নির্যাতন।
হাতুড়ি দিয়ে তার পিঠে, হাঁটুতে, কাঁধে আঘাত করা হয়। একজন বলে, “তুই এত সাহস কোথা থেকে পাইছস রে?” আরেকজন চিৎকার করে “তোকে দিয়ে আর কোনো আন্দোলন হবে না।” রক্তাক্ত লতিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কিন্তু তাঁর চোখে তখনো ভয় নয়, ছিল ঘৃণা আর প্রতিবাদের আগুন।
স্থানীয় কিছু সাহসী যুবক তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাঁটতে পারছেন না, হাত ঠিকভাবে নাড়াতে পারছেন না। কিন্তু তাঁর কণ্ঠ এখনো দৃঢ় “আমার হাড় ভেঙেছে, সাহস না। এই যুদ্ধ শেষ নয়।”
আব্দুল লতিফ এখন কেবল একজন অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক নন, তিনি হয়ে উঠেছেন প্রতিরোধের প্রতীক একজন ‘জুলাইয়ের সৈনিক’। তাঁর রক্তে ভেজা সেই হাসপাতাল মোড় আজও সাক্ষী, কীভাবে একজন নিরস্ত্র মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। এই গল্প শুধু লতিফের নয়, এই গল্প সে সকল মানুষের, যারা ভয়কে জয় করে বলে “এখনই সময়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার।”
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: আব্দুল লতিফ
জন্ম তারিখ : ০৭—০৭—১৯৭৬
পিতার নাম : মৃত মো: আব্দুর রহমান
মাতার নাম : মোছা: ছালেহা বেগম
স্থায়ী ঠিকানা : ২৫ বীর, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম
জাতীয়তা : বাংলাদেশী
ধর্ম : ইসলাম
বৈবাহিক অবস্থা : বিবাহিত
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
পেশা : ব্যবসায়ী (সাবেক সেনা সদস্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী)
বর্তমান মাসিক আয় : ৫০,০০০/=
পুনর্বাসনের প্রস্তাবনা
১. উন্নত চিকিৎসা ও নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নিশ্চিত করা
২. মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও কাউন্সেলিং প্রদান
৩. সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা দেয়া
১৯৭৬ সালের এক নিরিবিলি সকালে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী থানার ছোট্ট একটি গ্রাম জন্ম নেয় এক দুরন্ত শিশু, নাম মো: আব্দুল লতিফ। গ্রামটি ছিলো সবুজ—শ্যামল আর শান্তিপূর্ণ, তবে জীবন ছিল সহজ ছিলো না। তার বাবা মৃত আব্দুর রহমান ছিলেন একজন সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। আর মা মোছা: ছালেহা বেগম ছিলেন ঘরের আদর্শ গৃহিণী। লতিফ ছিল তাদের সবচেয়ে আদরের সন্তান।
ছোটবেলা থেকেই লতিফ ছিল দারুণ কর্মঠ ও সাহসী। যখন তার সমবয়সীরা মাঠে খেলাধুলা করতো, লতিফ তখন গ্রামের প্রবীণদের কাছে বসে দেশপ্রেমের গল্প শুনতে ভালোবাসতো। মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সেনাদের গল্প তাকে অনুপ্রাণিত করতো। বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে বন্ধু—বান্ধবদের নিয়ে ‘সেনাখেলা’ খেলতো, যেন সে নিজেই দেশের এক বীর যোদ্ধা।
তার পরিবার খুব ধনী ছিল না, কিন্তু শিক্ষা আর নৈতিকতায় তারা ছিল অনন্য। প্রতিদিন সকালে মক্তবে গিয়ে কোরআন শিখতো লতিফ, তারপর স্কুলে যেতো খালি পায়ে হেঁটে কয়েক মাইল রাস্তা পাড়ি দিয়ে। ক্লাসে সে ছিল মনোযোগী ও কর্তব্যপরায়ণ। শিক্ষকরা তাকে বলতেন, “তুই একদিন দেশের গর্ব হবি লতিফ!”
একদিন স্কুলে একটি বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় লতিফ বলেছিল, “আমি বড় হয়ে দেশের জন্য কিছু করবো। আমি একজন সৈনিক হবো, দেশকে রক্ষা করবো!” সেই কথা যেন তার ভবিষ্যতের পথচিত্র অঁাকিয়ে দেয়।
বয়ঃসন্ধিতে পেঁৗছে যখন অনেকেই বিভ্রান্ত হয়, লতিফ ঠিক তখনই নিজেকে গড়ে তুলেছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী এক তরুণ হিসেবে। কাঁধে গামছা রেখে কৃষিকাজে বাবাকে সাহায্য করতো, আবার সন্ধ্যায় পড়াশুনাতেও মন দিত।
অবশেষে, সেই ছোট্ট গ্রাম থেকে দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে লতিফ যোগ দিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। গ্রামের সবাই গর্বে বুক ফুলিয়ে বললো, “ওই যে আমাদের লতিফ, এখন দেশের সৈনিক!”
ছোটবেলার সেই দুরন্ত ছেলেটি পরিণত হলো এক সংগ্রামী সৈনিকে যার শিকড় গ্রামে, কিন্তু সেবা ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র বাংলাদেশে।
জুলাইয়ের সৈনিক
মো: আব্দুল লতিফ ছিলেন একজন নির্ভীক ও সদা সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন প্রাক্তন সৈনিক হিসেবে তিনি জীবন কাটিয়েছেন শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও ন্যায়ের আদর্শ নিয়ে। সেনা জীবনের দীর্ঘ সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর ব্যক্তিত্বে গড়ে ওঠে এক কঠিন চরিত্র যিনি অন্যায় দেখলে চুপ করে থাকতে পারেন না, যিনি বিশ্বাস করেন, দেশ কেবল জমি আর পতাকা নয়, দেশ মানে মানুষ, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র।
সেনাজীবন শেষে লতিফ ফিরে যান তাঁর নিজ জেলা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর ‘হাসপাতাল মোড়’ নামের ছোট্ট গ্রামে। সেখানে তিনি একজন সৎ ব্যবসায়ী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। দোকানের পাশে ছোট্ট একটি চায়ের আড্ডা ছিল, যেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনি এলাকার যুবকদের নিয়ে দেশের বর্তমান অবস্থা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ আর দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতেন।
তবে দেশ তখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছিল। বিগত ১৫ বছর ধরে দেশ শাসন করছিল এক দল স্বৈরাচারী নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ দেশের প্রতিটি স্তরে সৃষ্টি করেছিল এক ভয়ের পরিবেশ। গুম, খুন, ধর্ষণ, পুলিশি হয়রানি, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এসব ঘটনা যেন জনজীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মানুষ কথা বলতে ভয় পেত, প্রতিবাদ করতে সাহস করত না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত, প্রশাসন সব যেন এক ভয়াবহ দুর্নীতির খাঁচায় বন্দি হয়ে পড়েছিল।
এই অন্ধকার সময়ে আশার আলো হয়ে দেখা দেয় ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ ধীরে ধীরে রূপ নেয় স্বৈরাচারবিরোধী গণ আন্দোলনে। দেশের নানা প্রান্তে ছাত্র—জনতা রাজপথে নেমে আসে।
ভূরুঙ্গামারীর হাসপাতাল মোড়েও ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলনের উত্তাপ। সেখানে ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে মানব বন্ধন করে, পোস্টার লাগায়, মাইকিং করে। লতিফ ছিলেন এই আন্দোলনের এক নীরব সহচর। তিনি খাবার দিয়ে, সাহস দিয়ে, অভিজ্ঞতা দিয়ে ছেলেমেয়েদের পাশে ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল এ যুবকরাই একদিন বাংলাদেশকে মুক্ত করবে অন্যায় আর দুঃশাসনের গ্রাস থেকে। কিন্তু সেই বিশ্বাসের মাশুল তাঁকে দিতে হলো ভয়াবহভাবে।
চার আগস্টের এক দুপুরে, ছাত্রদের একটি মিছিল শেষ করে যখন সবাই হাসপাতাল মোড়ে জড়ো হয়েছিল, তখন হঠাৎই সেখানে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী ও ছাত্রলীগের একদল দুষ্কৃতকারী। তারা জানতো এই এলাকায় লতিফ ভাইয়ের মতো লোক থাকলে আন্দোলন থামানো যাবে না। পরিকল্পনা করে সেদিন তারা লতিফকে তাঁর দোকানের সামনে থেকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তোলে। এরপর রাস্তাতেই তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয় এবং সবার সামনে, ছাত্র—জনতার চোখের সামনে শুরু করে নির্মম নির্যাতন।
হাতুড়ি দিয়ে তার পিঠে, হাঁটুতে, কাঁধে আঘাত করা হয়। একজন বলে, “তুই এত সাহস কোথা থেকে পাইছস রে?” আরেকজন চিৎকার করে “তোকে দিয়ে আর কোনো আন্দোলন হবে না।” রক্তাক্ত লতিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কিন্তু তাঁর চোখে তখনো ভয় নয়, ছিল ঘৃণা আর প্রতিবাদের আগুন।
স্থানীয় কিছু সাহসী যুবক তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাঁটতে পারছেন না, হাত ঠিকভাবে নাড়াতে পারছেন না। কিন্তু তাঁর কণ্ঠ এখনো দৃঢ় “আমার হাড় ভেঙেছে, সাহস না। এই যুদ্ধ শেষ নয়।”
আব্দুল লতিফ এখন কেবল একজন অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক নন, তিনি হয়ে উঠেছেন প্রতিরোধের প্রতীক একজন ‘জুলাইয়ের সৈনিক’। তাঁর রক্তে ভেজা সেই হাসপাতাল মোড় আজও সাক্ষী, কীভাবে একজন নিরস্ত্র মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। এই গল্প শুধু লতিফের নয়, এই গল্প সে সকল মানুষের, যারা ভয়কে জয় করে বলে “এখনই সময়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার।”
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: আব্দুল লতিফ
জন্ম তারিখ : ০৭—০৭—১৯৭৬
পিতার নাম : মৃত মো: আব্দুর রহমান
মাতার নাম : মোছা: ছালেহা বেগম
স্থায়ী ঠিকানা : ২৫ বীর, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম
জাতীয়তা : বাংলাদেশী
ধর্ম : ইসলাম
বৈবাহিক অবস্থা : বিবাহিত
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
পেশা : ব্যবসায়ী (সাবেক সেনা সদস্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী)
বর্তমান মাসিক আয় : ৫০,০০০/=
পুনর্বাসনের প্রস্তাবনা
১. উন্নত চিকিৎসা ও নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নিশ্চিত করা
২. মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও কাউন্সেলিং প্রদান
৩. সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা দেয়া
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍