হুমায়ুন কবির
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
১৯৭৫ সালে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে জন্ম নেওয়া হুমায়ুন কবির সংগ্রামকে সঙ্গী করেই ঢাকায় ছোট্ট ফার্নিচারের ব্যবসা গড়ে তোলেন। তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ আর দৃষ্টি–প্রতিবন্ধী ছোট ছেলের বিশেষ যত্নের দায় কাঁধে নিয়েই তিনি পরিবারের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী মিছিলে সংহতি জানাতে গিয়ে যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন, বদলে যায় তার জীবনের গতি। দীর্ঘ চিকিৎসা, আর্থিক বিপর্যয় ও অবশ পায়ের যন্ত্রণা তার ব্যবসা ও স্বপ্ন দুটোকেই থামিয়ে দেয়। তবু হুমায়ুনের চোখে এখনো একটি বিশ্বাস জ্বলে—একদিন তিনি আবার দাঁড়াবেন, নিজের পরিবারের জন্য, নিজের স্বপ্নের জন্য।
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
ব্যবসায়ীর সংগ্রামী জীবন
হুমায়ুন কবির
ক্রমিক: ০২৪
আইডি: ঢাকা সিটি ০২৪
জন্ম ও পেশাগত পটভূমি
হুমায়ুন কবির জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি, মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগরে। পিতার নাম মৃত আসালত খাঁ ও মাতার নাম মৃত ফয়জুন নেসা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসবাস করছেন। বর্তমানে ৩১৪ নম্বর বাড়ির ৫ম তলায় পরিবারসহ বসবাস করেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। নিজস্ব ফার্নিচারের দোকান পরিচালনার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। জীবনের বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
পারিবারিক অবস্থা ও দায়িত্বভার
হুমায়ুনের পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। বড় ছেলে মোঃ সালমান (২২) বাবার দোকানে কাজ করেন। দ্বিতীয় ছেলে মোঃ ইমরান (২০) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। ছোট ছেলে ইয়াসিন (১৩) মদিনাতুল উলুম নামে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা না থাকলেও সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খরচ বহন করার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে তার উপরেই বর্তায়। বিশেষ করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সন্তান ইয়াসিনের জন্য আলাদা যত্ন ও খরচ প্রয়োজন হয়, যা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পক্ষে খুবই কষ্টসাধ্য।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে সংহতি জানিয়ে হুমায়ুন কবির যাত্রাবাড়ী মোড়, কলাপট্টি এলাকায় মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। বিকেল ৪টার দিকে, মিছিল যখন উত্তাল, তখন যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ বাহিনী উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি তার পায়ে লাগে এবং সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। রাস্তার মাঝখানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেউ শুরুতে এগিয়ে আসতে সাহস পাননি।
চিকিৎসার দীর্ঘ লড়াই
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই তাকে স্থানীয় আল করিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে একদিন চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি টানা চল্লিশ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময় চিকিৎসা বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, যা তিনি ধার-দেনা করে সংগ্রহ করতে বাধ্য হন।
শারীরিক ক্ষতি ও চলাফেরার সীমাবদ্ধতা
পায়ে গুলির কারণে তার হাঁটা-চলা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ব্যথা, ইনফেকশন ও পায়ের পেশিতে দুর্বলতা তাকে প্রতিদিন সীমিত করে রাখে। চিকিৎসকরা বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদী ফিজিওথেরাপি এবং প্রয়োজন হলে আরও অপারেশন লাগতে পারে। তিনি দোকানে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না, ফলে ব্যবসার গতি থমকে গেছে। বর্তমানে তিনি অনিয়মিত আয় ও আর্থিক দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন পার করছেন।
ব্যবসা বন্ধের শঙ্কা ও সংসারে বিপর্যয়
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দোকান নিয়মিত খোলা রাখা সম্ভব হয়নি। বড় ছেলে সালমান চেষ্টা করলেও দোকান চালানো তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, এবং চিকিৎসা সবকিছুই থমকে আছে। অনেক অর্ডার বাতিল হয়েছে, পুরোনো কাস্টমার হারিয়েছে এবং ধার-দেনা বেড়েই চলেছে।
সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা
তিন ছেলের মধ্যে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। হুমায়ুনের স্বপ্ন ছিল অন্তত ছেলেরা মানুষ হবে, নিজে না পারলেও সন্তানরা তার কষ্টের প্রতিদান দেবে। কিন্তু বর্তমানে তিনি এমন দুরবস্থায় আছেন যে, ছেলেদের পড়ালেখা চালিয়ে নেয়াই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে ঘরের সামান্য যা ছিল তাও বিক্রি করতে। হয়েছে।
মানসিক আঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা
শারীরিক আঘাতের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তার মানসিক যন্ত্রণা। একজন সাধারণ ব্যবসায়ী যিনি শুধু নিজের ও দেশের কল্যাণের চিন্তা করে একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন, তাকেই রাষ্ট্রের বাহিনী উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুলি করেছে। এখনো তিনি আতঙ্কে থাকেন যদি পুনরায় টার্গেট করা হয়, যদি গ্রেফতার বা হয়রানি করা হয়।
লেখক কথন
এই মুহূর্তে হুমায়ুন কবিরের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি পুনর্বাসন সহায়তা। যেখানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে চিকিৎসা সহায়তা, মাসিক ভাতা, ফিজিওথেরাপির খরচ এবং তার দোকান পুনরায় সচল করার জন্য অনুদান। তা না হলে তার পরিবার খুব দ্রুত দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে। তিনি একজন শান্তিপ্রিয় ব্যবসায়ী, একজন বাবা এবং একজন নাগরিক। তার ওপর চালানো গুলি ছিল অন্যায়, তার চিকিৎসা ও জীবনের ভার এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সময় এসেছে এই প্রতিবাদী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।
প্রস্তাবনা
১. চিকিৎসা বাবদ অনুদান: অন্তত ৩ লক্ষ টাকা সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
২. সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি: ইমরান ও ইয়াসিনের জন্য বার্ষিক শিক্ষাবৃত্তি/সহায়তা তহবিল নিশ্চিত করতে হবে।
৩. মানসিক ও আইনি সহায়তা: সঠিক তদন্ত ও ক্ষতিপূরণসহ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
এক নজরে হুমায়ুন কবির
নাম: হুমায়ুন কবির
জন্ম তারিখ: ০১-০১-১৯৭৫
জন্মস্থান: মুন্সিগঞ্জ
পেশা: ব্যবসা (ফার্নিচারের ব্যবসা)
নিজ জেলা: মুন্সিগঞ্জ
স্থায়ী ঠিকানা: শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ
বর্তমান ঠিকানা: বাড়ি-৩১৪, ৫ম তলা, ধলপুর রোড, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম: মৃত আসালত খাঁ
মায়ের নাম: মৃত ফয়জুন নেসা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. মোঃ সালমান, বয়স: ২২, পেশা: ফার্নিচার দোকান কর্মচারী
২. মোঃ ইমরান, বয়স: ২০, পেশা: ছাত্র, শ্রেণি: ১০ম, প্রতিষ্ঠান: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩. মোঃ ইয়াসিন (দৃষ্টি প্রতিবন্ধী), বয়স: ১৩, পেশা: ছাত্র, মদিনাতুল উলুম মাদরাসা, (দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)
আহত হওয়ার বিবরণ
আহত হওয়ার স্থান: যাত্রাবাড়ী মোড়, কলাপট্টি, ঢাকা
আহত হওয়ার সময় : ০৪-০৮-২০২৪: ৪.০০টা
আক্রমণকারী: যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ
হুমায়ুন কবির
ক্রমিক: ০২৪
আইডি: ঢাকা সিটি ০২৪
জন্ম ও পেশাগত পটভূমি
হুমায়ুন কবির জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি, মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগরে। পিতার নাম মৃত আসালত খাঁ ও মাতার নাম মৃত ফয়জুন নেসা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসবাস করছেন। বর্তমানে ৩১৪ নম্বর বাড়ির ৫ম তলায় পরিবারসহ বসবাস করেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। নিজস্ব ফার্নিচারের দোকান পরিচালনার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। জীবনের বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
পারিবারিক অবস্থা ও দায়িত্বভার
হুমায়ুনের পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। বড় ছেলে মোঃ সালমান (২২) বাবার দোকানে কাজ করেন। দ্বিতীয় ছেলে মোঃ ইমরান (২০) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। ছোট ছেলে ইয়াসিন (১৩) মদিনাতুল উলুম নামে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা না থাকলেও সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খরচ বহন করার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে তার উপরেই বর্তায়। বিশেষ করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সন্তান ইয়াসিনের জন্য আলাদা যত্ন ও খরচ প্রয়োজন হয়, যা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পক্ষে খুবই কষ্টসাধ্য।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে সংহতি জানিয়ে হুমায়ুন কবির যাত্রাবাড়ী মোড়, কলাপট্টি এলাকায় মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। বিকেল ৪টার দিকে, মিছিল যখন উত্তাল, তখন যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ বাহিনী উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি তার পায়ে লাগে এবং সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। রাস্তার মাঝখানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেউ শুরুতে এগিয়ে আসতে সাহস পাননি।
চিকিৎসার দীর্ঘ লড়াই
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই তাকে স্থানীয় আল করিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে একদিন চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি টানা চল্লিশ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময় চিকিৎসা বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, যা তিনি ধার-দেনা করে সংগ্রহ করতে বাধ্য হন।
শারীরিক ক্ষতি ও চলাফেরার সীমাবদ্ধতা
পায়ে গুলির কারণে তার হাঁটা-চলা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ব্যথা, ইনফেকশন ও পায়ের পেশিতে দুর্বলতা তাকে প্রতিদিন সীমিত করে রাখে। চিকিৎসকরা বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদী ফিজিওথেরাপি এবং প্রয়োজন হলে আরও অপারেশন লাগতে পারে। তিনি দোকানে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না, ফলে ব্যবসার গতি থমকে গেছে। বর্তমানে তিনি অনিয়মিত আয় ও আর্থিক দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন পার করছেন।
ব্যবসা বন্ধের শঙ্কা ও সংসারে বিপর্যয়
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দোকান নিয়মিত খোলা রাখা সম্ভব হয়নি। বড় ছেলে সালমান চেষ্টা করলেও দোকান চালানো তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, এবং চিকিৎসা সবকিছুই থমকে আছে। অনেক অর্ডার বাতিল হয়েছে, পুরোনো কাস্টমার হারিয়েছে এবং ধার-দেনা বেড়েই চলেছে।
সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা
তিন ছেলের মধ্যে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। হুমায়ুনের স্বপ্ন ছিল অন্তত ছেলেরা মানুষ হবে, নিজে না পারলেও সন্তানরা তার কষ্টের প্রতিদান দেবে। কিন্তু বর্তমানে তিনি এমন দুরবস্থায় আছেন যে, ছেলেদের পড়ালেখা চালিয়ে নেয়াই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে ঘরের সামান্য যা ছিল তাও বিক্রি করতে। হয়েছে।
মানসিক আঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা
শারীরিক আঘাতের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তার মানসিক যন্ত্রণা। একজন সাধারণ ব্যবসায়ী যিনি শুধু নিজের ও দেশের কল্যাণের চিন্তা করে একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন, তাকেই রাষ্ট্রের বাহিনী উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুলি করেছে। এখনো তিনি আতঙ্কে থাকেন যদি পুনরায় টার্গেট করা হয়, যদি গ্রেফতার বা হয়রানি করা হয়।
লেখক কথন
এই মুহূর্তে হুমায়ুন কবিরের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি পুনর্বাসন সহায়তা। যেখানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে চিকিৎসা সহায়তা, মাসিক ভাতা, ফিজিওথেরাপির খরচ এবং তার দোকান পুনরায় সচল করার জন্য অনুদান। তা না হলে তার পরিবার খুব দ্রুত দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে। তিনি একজন শান্তিপ্রিয় ব্যবসায়ী, একজন বাবা এবং একজন নাগরিক। তার ওপর চালানো গুলি ছিল অন্যায়, তার চিকিৎসা ও জীবনের ভার এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সময় এসেছে এই প্রতিবাদী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।
প্রস্তাবনা
১. চিকিৎসা বাবদ অনুদান: অন্তত ৩ লক্ষ টাকা সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
২. সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি: ইমরান ও ইয়াসিনের জন্য বার্ষিক শিক্ষাবৃত্তি/সহায়তা তহবিল নিশ্চিত করতে হবে।
৩. মানসিক ও আইনি সহায়তা: সঠিক তদন্ত ও ক্ষতিপূরণসহ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
এক নজরে হুমায়ুন কবির
নাম: হুমায়ুন কবির
জন্ম তারিখ: ০১-০১-১৯৭৫
জন্মস্থান: মুন্সিগঞ্জ
পেশা: ব্যবসা (ফার্নিচারের ব্যবসা)
নিজ জেলা: মুন্সিগঞ্জ
স্থায়ী ঠিকানা: শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ
বর্তমান ঠিকানা: বাড়ি-৩১৪, ৫ম তলা, ধলপুর রোড, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম: মৃত আসালত খাঁ
মায়ের নাম: মৃত ফয়জুন নেসা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. মোঃ সালমান, বয়স: ২২, পেশা: ফার্নিচার দোকান কর্মচারী
২. মোঃ ইমরান, বয়স: ২০, পেশা: ছাত্র, শ্রেণি: ১০ম, প্রতিষ্ঠান: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩. মোঃ ইয়াসিন (দৃষ্টি প্রতিবন্ধী), বয়স: ১৩, পেশা: ছাত্র, মদিনাতুল উলুম মাদরাসা, (দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)
আহত হওয়ার বিবরণ
আহত হওয়ার স্থান: যাত্রাবাড়ী মোড়, কলাপট্টি, ঢাকা
আহত হওয়ার সময় : ০৪-০৮-২০২৪: ৪.০০টা
আক্রমণকারী: যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍