হোম / আহতদের তালিকা / মো: কাওছার হোসেন
মো:  কাওছার হোসেন

মো: কাওছার হোসেন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

গ্রামের সন্তান থেকে সচেতন নাগরিক
কাওছার হোসেনের জন্ম রংপুর জেলার এক দরিদ্র পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও কাওছার ছিলো প্রচণ্ড জিজ্ঞাসু ও সচেতন। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় এসে একটি ছাপাখানায় কাজ শুরু করেন। শহরের জীবনে পা রাখলেও নিজের শিকড় তিনি ভুলে যাননি। রাজনীতির সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে তার আগ্রহ তাকে ধীরে ধীরে সচেতন নাগরিক ও আন্দোলনের একজন অংশগ্রহণকারী করে তোলেন।
ছাপাখানার কর্মী থেকে আন্দোলনের সৈনিক
কাওছার হোসেন ঢাকার পল্টনে একটি ছাপাখানায় চাকরি করতেন। কাজের ফাঁকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সচেতন ছিলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি তার গভীর সহানুভ‚তি ছিল। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী এই ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন কাওছার। পল্টন মোড়ে অবস্থানকালে একাধিকবার পুলিশ ও সরকারি দলের সন্ত্রাসি হামলার মুখে পড়েন তিনি।
পুলিশের গুলিতে মারাত্মক আহত, চোখ হারানোর পথে
হামলার সময় কাওছার ছররা গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হন। তাঁর শরীর ছররা গুলিতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে পুলিশি ধরপাকড়ের আতঙ্কে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নেন, কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তার একটি চোখ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অর্ধ চিকিৎসা, অন্ধত্ব আর লড়াই এখনো চলছে
চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি রংপুর ও ঢাকার ইস্পাহানি চক্ষু হাসপাতালে যান, তবে এখনো পূর্ণ চিকিৎসা শেষ হয়নি। একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের ভয়ে তিনি একপ্রকার নিঃ¯^ হয়ে পড়েছেন। কাওছার হোসেন আজ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। একজন সাধারণ শ্রমিক, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে নিজেই শিকার হয়েছেন রাষ্ট্রীয় সহিংসতার।
প্রাণে বাঁচলেও যন্ত্রণার শেষ নেই, চিকিৎসা ছিল অসম্পূর্ণ
হামলার পর মারাত্মক আহত কাওছার হোসেনকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর কিছুদিন নিজ বাড়িতে ও নানীর বাড়িতে আত্মগোপনে থাকেন। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রংপুরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে অস্ত্রোপ্রচারের প্রস্তুতি নিলেও ভয় ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। পরে তিনি ঢাকার ইস্পাহানি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, যেখানে তার শরীরে চারটি অপারেশন করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, কাওছারের শরীরে মোট ৭০টি ছররা গুলি বিদ্ধ হয়েছিল। এখনো তার শরীরে অপূর্ণ রয়ে গেছে বহু চিকিৎসাÑ যা প্রতিনিয়ত ব্যথা, অসুবিধা ও ঝুঁকি ডেকে আনছে।
দৃষ্টি রক্ষায় জরুরি উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন
বর্তমানে কাওছার হোসেনের ডান চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বাম চোখটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেহেতু এক চোখ হারিয়ে ফেলেছেন, অন্য চোখটি রক্ষা করা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন উন্নত ও নিয়মিত চিকিৎসা, যা তার আর্থিক অবস্থার কারণে সম্ভব হয়ে উঠছে না। দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না পেলে কাওছার সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তার বাকি চোখটি রক্ষায় রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক সহায়তা এখন অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে প্রয়োজন সহায়তা ও কর্মসংস্থান
কাওছার হোসেন বর্তমানে অসুস্থতা ও অক্ষমতার কারণে কোনো আয়-উপার্জনের কাজে যুক্ত হতে পারছেন না। উন্নত চিকিৎসার জন্য তার প্রয়োজন পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে তাকে ¯^নির্ভর করতে উপযোগী কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি, যাতে তিনি মানবিক ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন। চিকিৎসার পাশাপাশি একটি নিরাপদ পুনর্বাসন পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক সহায়তা পেলে তিনি আবারও সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন।
প্রস্তাবিত বাজেট: চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সহনীয় বরাদ্দ প্রয়োজন
কাওছার হোসেনের চিকিৎসা, ওষুধ, অপারেশন ও চোখের সুরক্ষার জন্য আনুমানিক ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে উন্নত চক্ষু চিকিৎিসা, পরবর্তী অপারেশন, পুনর্বাসন চিকিৎসা, যাতায়াতও দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ খরচ অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি তাকে একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে আরও ২ থেকে ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে, যা দিয়ে তিনি একঠি ক্ষুদ্র ব্যবসা বা কর্মশিক্ষাভিত্তিক উদ্যোগ শুরু করতে পারে। সব মিলিয়ে তার জন্য একটি মানবিক ও কার্যকর সহায়তা প্যাকেজের প্রয়োজন যার পরিমাণ প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। বরাদ্দ করলে তাকে সুস্থ, ¯^াবলম্বী ও সম্মানজনক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : কাওছার হোসেন
জন্ম তারিখ : ১১/১১/২০০৩
জন্মস্থান : বালাপাড়া মোস্তফী ফকিরের তকেয়া, গোকুণ্ডা, লালমনিরহাট সদর, লালমনিরহাট।
পেশা : শিক্ষার্থী
নিজ জেলা : লালমনিরহাট
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: বালাপাড়া, ইউনিয়ন: গোকুণ্ডা, থানা: লালমনিরহাট সদর, জেলা: লালমনিরহাট।
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মোঃ মোন্নাফ আলী
মাতার নাম : মোছাঃ কহিনুর বেগম
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. কাইয়ুম হোসেন, বয়স: ১৪, পেশা: শিক্ষার্থী, সর্ম্পক: ভাই
২. মানছুরা আক্তার মিম, বয়স: ০৯, পেশা: শিক্ষার্থী, সর্ম্পক: বোন
আক্রমণকারী : পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ
আহত হওয়ার সময় : ১৯ জুলাই
ঘটনার স্থান : পল্টন, ঢাকা
আঘাতের ধরণ : চোখে গুলি লাগে
আঘাতের কারণ : মিছিলে অংশগ্রহণ
চিকিৎসা : ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেন
চিকিৎসা ব্যয় : ১ লাখ টাকা (ঋণ করে)
বর্তমান অবস্থা : ডান চোখ অন্ধ






📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍