হোম / আহতদের তালিকা / তাশরিকুল ইসলাম
তাশরিকুল ইসলাম

তাশরিকুল ইসলাম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

তাশরিকুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেছেন ০২ মার্চ ২০০১ সালে, লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলায়। তার পিতা জনাব আবদুল মোতালেব একজন কৃষক আর তার মা আলেকা বেগম একজন গৃহিনী। সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম নেয়া এই তরুণ ছাত্র ছিলেন সংগ্রামী, প্রজ্ঞাবান ও ন্যায়নিষ্ঠ। পেশাগতভাবে তিনি একজন শিক্ষার্থী হলেও সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা তার চরিত্রে গভীরভাবে প্রোথিত ছিল।
জুলাই বিপ্লব ২০২৪: হাতিবান্ধা থেকে প্রতিরোধের এক অধ্যায়
২০২৪ সালের জুলাই মাস, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অথচ বীরত্বপূর্ণ অধ্যায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা কিংবা রংপুরÑপ্রত্যেকটি অঞ্চলে তরুণ প্রজন্ম গর্জে উঠেছিল অধিকার ও ন্যায়ের দাবিতে। সেই উত্তাল সময়ে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হোস্টেল বন্ধ করে দেয়। ফলে তাশরিক রংপুর থেকে নিজ গ্রাম হাতিবান্ধার মেডিকেল মোড়ে ফিরে আসেন।
কিন্তু আন্দোলন থেকে দূরে থাকেননি তিনি। বরং গ্রামের মাটিতেই তিনি ছাত্র-জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে যুক্ত হন। প্রতিদিন সকালে মেডিকেল মোড়ে জড়ো হতে থাকেন শত শত প্রতিবাদী মানুষ, যারা বৈষম্য, দমন-পীড়ন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কন্ঠ মিলিয়েছিলেন। সেখানে তরুণদের কন্ঠে ধ্বনিত হতো ¯েøাগান, “বৈষম্যের শেষ চাই”, “ছাত্রের রক্তের ঋণ শোধ হবে ন্যায়বিচারে।” আন্দোলন চলছিল শান্তিপূর্ণভাবে। কিন্তু হঠাৎ করেই ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায় অবস্থানরত ছাত্র-জনতার ওপর। এই বর্বর হামলায় তিনি মাথায় ও দুই হাতে গুরুতররূপে জখম হন। পরে তাকে গোপনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়, যেখান থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান ১৮ জুলাই।
আহত অবস্থায়ও তাঁর মনোবল অটুট ছিল। আত্মগোপনে থেকেও সতর্কতার সাথে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় ছিল, এই বৈষম্যে বিরুদ্ধে লড়াই থেমে যেতে দেয়া যাবে না। এরই ধারাবাহিকতায়, ০৪ আগস্ট ও ০৫ আগস্ট ২০২৪Ñএই দুই দিন তিনি আবারও মাঠে নামেন। দেশের উত্তরাঞ্চলের বহু তরুণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও ¯েøাগানে মুখর হয় হাতিবান্ধা। এই প্রতিরোধই শেখ হাসিনার সরকারকে পিছু হটতে বাধ্য করে। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, এই দেশ কারো পারিবারিক সম্পত্তি নয়, এটা জনগণের।
হামলা ও আহত হওয়া
১৮ জুলাই ২০২৪, ছিল আন্দোলনের একটি ভয়াবহ দিন। আন্দোলন চলছিল শান্তিপূর্ণভাবে, কিন্তু হঠাৎ করেই ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায় অবস্থানরত ছাত্র-জনতার ওপর বাঁশ, লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর চালানো হয়।
এই বর্বর হামলায় তাশরিকুল ইসলাম গুরুতররূপে আহত হন। মাথায় চারটি সেলাই ও দুই হাতে আঘাত নিয়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা হলেও গ্রেফতার আতঙ্কে কোন সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেয়া সম্ভব হয়নি। অবশেষে গোপনে স্থানীয় এক চিকিৎসকের চেম্বারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এ অবস্থাতেই তিনি আত্মগোপনে চলে যায়।
সুস্থ জীবনে ফেরার আর্তি
তাশরিকুল ইসলাম একজন ছাত্র, যিনি আওয়ামী লীগ কর্মীদের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হন। এই হামলার ফলে তার শরীরে মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাশরিকের বাবা একজন সাধারণ কৃষক, যার আয়ের সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে ছেলের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে শারীরিক অসুস্থতা, অন্যদিকে আর্থিক সংকট তাশরিকের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে যথাযথ আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা প্রদান প্রয়োজন।
একজন ছাত্রের জীবনের জন্য সহানুভূতির আহŸান
তাশরিক হচ্ছে এক ¯^প্নবাজ ছাত্র। চোখে ছিল দেশ গড়ার অদম্য ইচ্ছা আর হৃদয়ে ছিল ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস। ২০২৪ সালের জুলাই যখন ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলন শুরু হয়, তাশরিক নিজের জীবনের পরোয়া না করে তখন রাজপথে নেমেছিলো। সে চেয়েছিলো শোষণমুক্ত, সুবিচারভিত্তিক সমাজ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই আন্দোলনের এক ভয়াবহ দিনে সে গুরুতররূপে আহত হয়। তার ¯^াভাবিক জীবনযাত্রা থমকে যায়। এখন সে আগের মতো ক্লাসে যেতে পারে না, বইয়ের পাতাই হারিয়ে যেতে পারে না। তবুও তার ¯^প্ন আজও জীবিত। তাশরিকের মতো সাহসী তরুণদের জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের উচিত মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। তাই তাশরিকের জন্য একটি উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন, যাতে সে আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে এবং সমাজে অবদান রাখতে পারে এক নতুনভাবে।
নতুন শুরুর জন্য প্রস্তাবিত ব্যয়
তাশরিকের মতো একজন আহত ছাত্রের পুনর্বাসন ও ভবিস্যতের নিশ্চয়তার জন্য একটি বাস্তবসম্মত মানবিক বাজেট নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। তার চিকিৎসার খরচ হিসেবে শুরুতে উন্নতমানের হাসপাতাল ও থেরাপি সেবার জন্য প্রায় ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা প্রথমে প্রয়োজন হতে পারে, যাতে তার শারীরিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনা যায়। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যদি তাকে কোনো প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে তার জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বাবদ প্রাথমিকভাবে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বাজেট নির্ধারণ করা যেতে পারে। সব মিলিয়ে চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রাথমিকভাবে মোট ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকার একটি মানবিক বাজেট বরাদ্দ করলে তাশরিক নিজেকে আবার সমাজের মূলধারায় গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : তাশরিকুল ইসলাম
জন্মতারিখ : ০১-০৩-২০০১
জন্মস্থান : লালমনিরহাট
পেশা : শিক্ষার্থী
নিজ জেলা : লালমনিরহাট
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিম বেজগ্রাম, ইউনিয়ন: হাতিবান্ধা, থানা: হাতিবান্ধা, জেলা: পাটগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : আবদুল মোতালেব
মাতার নাম : আলেকা বেগম
পিতার পেশা : কৃষক
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. আরিফুল ইসলাম, বয়স: ২৯, পেশা: শিক্ষক, সর্ম্পক: ভাই
২. শরিফুল ইসলাম, বয়স: ২৭, পেশা: শিক্ষক, সর্ম্পক: ভাই
৩. তারিকুল ইসলাম, বয়স: ২০, পেশা: ছাত্র, সর্ম্পক: ভাই
৪. রিনা বেগম, বিবাহিত, সর্ম্পক: বোন
৫. খালেদা বেগম, বিবাহিত, সর্ম্পক: বোন
৬. হাবিবা বেগম, পেশা: ছাত্রী, সর্ম্পক: বোন
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ
আহত হওয়ার সময় : ১৮-৭-২০২৪
ঘটনার স্থান : মেডিকেল মোড়, হাতিবান্ধা
আঘাতের ধরন : মাথায় ও দুই হাতে গুরুতর জখম হন
আঘাতের কারণ : মিছিলে অংশগ্রহণ
চিকিৎসা : স্থানীয় এক চিকিৎসকের চেম্বারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়
চিকিৎসা ব্যয় : ৫০ হাজার
বর্তমান অবস্থা : সুস্থ আছেন

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍