হোম / আহতদের তালিকা / মিজানুর রহমান বাদল
মিজানুর রহমান বাদল

মিজানুর রহমান বাদল

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ড্রাইভার

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মিজানুর রহমান বাদল একজন সাধারণ পরিবারের সন্তান, যিনি অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতা প্রদর্শন করেছেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেন জনাব মো: আলতাফ হোসেন ও মোছা: হামিদা বেগমের ঘরে। পিতার পেশা কৃষিকাজ এবং মাতা একজন গৃহিণী। একটি সংগ্রামী ও পরিশ্রমী পরিবারের সন্তান হয়ে বড় হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালে বাংলাদেশে যে অভ‚তপূর্ব বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হয় সেটিই জুলাই বিপ্লব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ২০২৪ সালের ৫ জুন বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারের জারি করা কোটা সংক্রান্ত পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। আর এর প্রতিক্রিয়ায় নতুন করে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলন একপর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী অসহযোগ আন্দোলনে রূপ নেয়। এ আন্দোলন সারা দেশের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঢাকাসহ সারা দেশে আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠে। এ আন্দোলন ক্রমাš^য়ে গণ অভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়। পুরো জুলাই মাসজুড়ে আন্দোলন চললেও চূড়ান্ত পরিণতি আসে ৫ আগস্ট ২০২৪। সরকার পতনের মাধ্যমে এই আন্দোলন শেষ হয়।
রাজপথে প্রতিরোধ শুরু
কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেষ পর্যন্ত শুধু ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ অত্যাচারে অতিষ্ঠ সর্বস্তরের জনতাও ছাত্রদের সাথে একাকার হয়ে যায়। ফলে দেশব্যাপী অসংখ্য শিশু, যুবক, নারী-পুরুষ, ছাত্র, বৃদ্ধসহ নানা বয়স ও শ্রেণী পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে একজন হচ্ছেন বাদল, তিনি পেশায় একজন ড্রাইভার। এ আন্দোলনের শুরু থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। আন্দোলনের শুরু হতে আওয়ামী লীগের হামলা থেকে রক্ষা পেলেও আন্দোলনের শেষে ৫ আগস্টের দিন তাদের হামলা থেকে রক্ষা পাননি। ৫ আগস্ট জনতা বিজয়োল্লাসে নেচে ওঠে রাজপথে। তখনও হাসিনার পালিত গুণ্ডারা অনুগত দাসের মতো লেগে থাকে। মিরপুর ২ মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা ৫ আগস্ট বিকেলে আচমকা ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে। কিছু বুঝে উঠার আগেই বাদল গুলিতে আহত হন। অসংখ্য গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়। চোখ, মুখ, মাথা, কপালে গুলি লাগে। পথচারীদের সহায়তায় তিনি ভর্তি হন হাসপাতালে।
প্রাণে বাঁচলেও যন্ত্রণার শেষ নেই, চিকিৎসা ছিল অসম্পূর্ণ
বাদল আহত হওয়ার পর অনেক হাসপাতালে নেয়া হয় কিন্তু তিনি চিকিৎসা পান না। পরবর্তীতে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে শেষে ঢাকা মেডিকেল, চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতাল ও সিএমএইচে তিনি চিকিৎসা নেন। সিএমএইচে তার অপারেশন হয়েছে। এখন তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেয়া হয়েছে, কিন্তু অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।
দৃষ্টি রক্ষায় জরুরি উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন
মিজানুর রহমান বাদল একজন ¯^ল্প মজুরির ড্রাইভার। তাঁর পরিবারে তিনি একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। তার পরিবারের খরচ বহন করা তার পক্ষে এখন কষ্টকর, তাও শত কষ্টের মাঝেও তার পরিবার চলছে কিন্তু এ হামলায় তিনি অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা এবং পরিবারের খরচ বহন করা তার কাছে অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই দেশের বাইরে যাতে চিকিৎসা গ্রহণ করা যায় সে অনুযায়ি তার অনুদান প্রয়োজন।
চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে প্রয়োজন সহায়তা ও কর্মসংস্থান
মিজানুর রহমান বাদলের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪ জন। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। মাদ্রাসা পড়–য়া ২ মেয়ে আছে, তাদের পড়াশোনার খরচ, দৈনন্দিন সাংসারিক খরচ চালানো তার জন্য এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ছোটখাটো কোনো ব্যবসা করার জন্য কিছু অনুদান প্রয়োজন। থাকার জন্য বাসস্থান প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত বাজেট: চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সহনীয় বরাদ্দ প্রয়োজন
মিজানুর রহমান বাদলের চিকিৎসা, ওষুধ, অপারেশন ও চোখের সুরক্ষার জন্য আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে উন্নত চক্ষু চিকিৎিসা, পরবর্তী অপারেশন, পুনর্বাসন চিকিৎসা, যাতায়াত ও দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ খরচ অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, তাকে একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে আরও ২ থেকে ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে, যা দিয়ে তিনি একঠি ক্ষুদ্র ব্যবসা বা কর্মশিক্ষাভিত্তিক উদ্যোগ শুরু করতে পারেন। সব মিলিয়ে তার জন্য একটি মানবিক ও কার্যকর সহায়তা প্যাকেজ প্রয়োজন। প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ করলে তাকে সুস্থ, সবলম্বী ও সম্মানজনক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মিজানুর রহমান বাদল
জন্মতারিখ : ১২-০১-১৯৮৪
জন্মস্থান : লালমনিরহাট
পেশা : ড্রাইভার
নিজ জেলা : লালমনিরহাট
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: ঢাকনাই, ইউনিয়ন: মহেন্দ্র নগর, থানা: লালমনিরহাট, জেলা: লালমনিরহাট
পিতার নাম : মো: আলতাফ হোসেন
মাতার নাম : মোছা: হামিদা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৬৫ বছর
আয়ের উৎস : ড্রাইভার
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
সন্তানদের পরিচয়
১. মারিয়াম, বয়স: ১৪, পেশা: ছাত্রী, সম্পর্ক: মেয়ে
২. লামিয়া, বয়স: ৭, পেশা: ছাত্রী, সম্পর্ক: মেয়ে
আক্রমণকারী : পুলিশ
আহত হওয়ার সময় : ০৫-০৮-২০২৪
আক্রমণকারী ঘটনার স্থান : মরপুর মডেল থানার সামনে
আঘাতের ধরণ : চোখ, মুখ, মাথা, কপালে গুলি লাগে
আঘাতের কারণ : মিছিলে অংশগ্রহণ
চিকিৎসা : মেডিকেল, চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতাল ও সিএমএইচে চিকিৎসা নেন
চিকিৎসা ব্যয় : ৩ লাখ টাকা (ঋণ করে)
বর্তমান অবস্থা : সিএমএইচে তার অপারেশন হয়েছে, এখন তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার
পরামর্শ দেয়া হয়েছে, কিন্তু অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍