মেরাজ হোসেন
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শিক্ষার্থী (১০ম শ্রেণি)
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
১ জানুয়ারি ২০১০ সালে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কলেজপাড়ায় জন্ম নেয় এক শিশু মেরাজ হোসেন। বাবা মোন্নাফ একজন সিএনজি ড্রাইভার, যিনি প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তায় থাকেন পরিবারের মুখে দু’মুঠো আহার তুলে দিতে। মা মোমেনা বেগম গৃহিণী, ঘর সামলানো আর সন্তানদের দেখাশোনাই তার বড় দায়িত্ব। গ্রামের নাম কলেজপাড়া হলেও, এখানকার অধিকাংশ মানুষ শিক্ষার চেয়ে জীবিকার পেছনে ছুটতে বেশি ব্যস্ত। দারিদ্রতাই যেন তাদের সঙ্গি। তবে এসব প্রতিক‚লতার মাঝেও ছোট্ট মেরাজ নিজের এক স্বপ্নপথ তৈরি করছিল।
মেরাজ ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় আগ্রহী ছিল। মা যখন রান্নাঘরে ব্যস্ত, বাবা তখন গাড়ি নিয়ে রাস্তায়, সেই সময় মেরাজ খাতা-কলম হাতে বইয়ে ডুবে থাকত। তার ছোট বোন মিম এখন ২য় শ্রেণিতে পড়ে, তবে দু’জনেই যখন সন্ধ্যাবেলা পড়ার টেবিলে বসত, পুরো ঘর যেন নতুন আলোয় ভরে উঠত।
জলঢাকা পাইলট স্কুলের ছাত্র ও জাগ্রত বিবেক
মেরাজ এখন জলঢাকা পাইলট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে, সে চারপাশের সমাজ, দেশের অবস্থা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শিখেছে। সময়ের সাথে সাথে সে বুঝতে শুরু করে শুধু নিজের ভালো না, সমাজের সবার ভালো নিয়ে ভাবাই শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য।
২০২৪ সালে যখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের ঢেউ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন মেরাজও দূর থেকে বিষয়গুলো অনুসরণ করতে শুরু করে। বড়দের আলোচনা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর এসবের মধ্য দিয়ে তার ভেতরে একটা আলাদা চেতনা জেগে ওঠে। একদিন স্কুলে গিয়ে দেখে কিছু বড় ভাই আন্দোলন নিয়ে আলোচনা করছে। মেরাজ চুপচাপ সব শুনে, নিজের ভেতরে সাহস সঞ্চয় করে। স্কুলের এক শিক্ষক তাকে বলেন, সঠিক কথা বলার সাহসই একজন প্রকৃত শিক্ষার্থীর পরিচয়। সেই বাক্য যেন মেরাজের হৃদয়ে গেঁথে যায়।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০১৮ সালে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা বৈষম্য দূর করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ও মাঠে নামে। শিক্ষার্থীরদের দাবি ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার করা। কিন্তু সৈরাচারী সরকার যৌক্তিক সংস্কার না করে বরং ছাত্রদের উপর দলীয় বাহিনী দিয়ে নির্যাতন চালায়। কিন্তু ছাত্রদের প্রচন্ড কোন আন্দোলনের মুখে সরকার কোটা সংস্কার তখন মেনে নিলেও এটার স্থায়ী কোন সমাধান দেননি। হাইকোর্ট রিট করার পরিপ্রেক্ষিতে কোটা ব্যবস্থা আবার পুনর্বাহাল করা হয়।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্রসমাজ কোটা সংস্কারের দাবিতে আবারো রাজপথে নামে। আবারো সেই অন্যায় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় দেশের শিক্ষার্থীরা। শুরুতে আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন, সমাবেশ আর মিছিল। কিন্তু এবারও সৈরাচারী সরকার তার পুলিশ বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে। জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রীদের ওপরেও নির্মম নির্যাতন চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীরা। এই নির্মম নির্যাতনের বিরুদ্ধে সারা দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল হয়। বিশেষ করে সবাই ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ সরাসরি গুলি করে হত্যা করলে সারা দেশব্যাপী আন্দোলনের দানা বেঁধে উঠে। মেরাজ তার মতো আরও অনেক কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে জলঢাকায় ছোট ছোট কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করে। সে বুঝেছিল, পরিবর্তন হঠাৎ করে আসে না, ধাপে ধাপে লড়াই করতে হয়। তাদের এক দফা দাবি ছিল মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এই দাবিকে কেন্দ্র করে ৪ আগস্ট ২০২৪ সালের দুপুরে একটি বড় মিছিলের আয়োজন করা হয় জলঢাকা পেট্রোল পাম্পের সামনে। মেরাজ সেই মিছিলের একদম সামনের সারিতে ছিল।
রক্তাক্ত দুপুর ও সাহসিকতার পরিণতি
৪ আগস্ট ২০২৪, সময় তখন দুপুর ১২টা। জলঢাকার পেট্রোল পাম্পের সামনের রাস্তায় শত শত শিক্ষার্থী একত্রিত হয় এক দফা দাবির মিছিল নিয়ে। মেরাজ ছিল সেই তরুণ কণ্ঠস্বরের একজন, যাদের চোখে ছিল পরিবর্তনের স্বপ্ন। কিন্তু হঠাৎ করেই আকাশ যেন কালো হয়ে এলো। আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী স্থানীয় ছাত্রলীগ নামধারী দুর্বৃত্তরা লাঠিসোঁটা, রড, ইট নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চারপাশে কান্না, চিৎকার, দৌড়ঝাঁপ সবকিছু মুহূর্তেই পাল্টে গেল এক বিভীষিকায়। মেরাজ পালানোর চেষ্টা করলেও পিছন থেকে লোহার রডে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পায়। মাথা ফেটে যায়, রক্ত ঝরতে থাকে। সেই কিশোর তবুও লুটিয়ে পড়ে না। জীবন নিয়ে পালানোর চেষ্টায়, বৃষ্টির মত রক্ত ঝরাতে ঝরাতে দৌড়াতে থাকে। নিরাপদ দূরত্ব এ গেলে শি¶ার্থীরা তাকে ধরে নিয়ে যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
হাসপাতালের বিছানায় এক নতুন যাত্রা
আহত অবস্থায় ছাত্র জনতার সহায়তায় মেরাজকে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা দ্রুত তার মাথায় সেলাই দেন। মোট আটটি গভীর সেলাই লাগে ক্ষত স্থান সামলাতে। জীবন তখন থেমে গিয়েছিল কয়েক মুহূর্তের জন্য। কিন্তু হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও মেরাজের চোখে ভয় ছিল না ছিল জেদ, সাহস আর আরও বড় হওয়ার স্বপ্ন। তার ক্ষত আজ সারলেও, মনে গেঁথে গেছে প্রতিবাদের চিহ্ন।
সেই রক্তাক্ত দুপুর মেরাজকে বদলে দিয়েছে সে এখন কেবল একজন ছাত্র নয়, বরং একটি প্রশ্নবোধক চেতনার নাম। ছোট একটি জেলা শহরের কলেজপাড়ায় জন্ম নেওয়া মেরাজ আজ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যে বয়স যতই ছোট হোক না কেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হলে কণ্ঠ¯^র তুলতেই হয়।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মেরাজ হোসেন
জন্ম তারিখ : ১ জানুয়ারি ২০১০
জন্মস্থান : নীলফামারী
পেশা : শিক্ষার্থী (১০ম শ্রেণি)
প্রতিষ্ঠান : জলঢাকা পাইলট স্কুল
নিজ জেলা : নীলফামারী
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: কলেজপাড়া, ইউনিয়ন: জলঢাকা, থানা: জলঢাকা, জেলা: নীলফামারী
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মোন্নাফ
মায়ের নাম : মোমেনা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : ড্রাইভার, ৪০
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৩৫
মাসিক আয় : ১৫ হাজার
আয়ের উৎস : ড্রাইভিং
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. মিম, বয়স: ৮ বছর, পেশা: শিক্ষার্থী (সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়), শ্রেণি: ২য়, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : পেট্রোল পাম্পের সামনে, জলঢাকা
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২টা
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা : শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া
মেরাজ ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় আগ্রহী ছিল। মা যখন রান্নাঘরে ব্যস্ত, বাবা তখন গাড়ি নিয়ে রাস্তায়, সেই সময় মেরাজ খাতা-কলম হাতে বইয়ে ডুবে থাকত। তার ছোট বোন মিম এখন ২য় শ্রেণিতে পড়ে, তবে দু’জনেই যখন সন্ধ্যাবেলা পড়ার টেবিলে বসত, পুরো ঘর যেন নতুন আলোয় ভরে উঠত।
জলঢাকা পাইলট স্কুলের ছাত্র ও জাগ্রত বিবেক
মেরাজ এখন জলঢাকা পাইলট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে, সে চারপাশের সমাজ, দেশের অবস্থা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শিখেছে। সময়ের সাথে সাথে সে বুঝতে শুরু করে শুধু নিজের ভালো না, সমাজের সবার ভালো নিয়ে ভাবাই শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য।
২০২৪ সালে যখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের ঢেউ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন মেরাজও দূর থেকে বিষয়গুলো অনুসরণ করতে শুরু করে। বড়দের আলোচনা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর এসবের মধ্য দিয়ে তার ভেতরে একটা আলাদা চেতনা জেগে ওঠে। একদিন স্কুলে গিয়ে দেখে কিছু বড় ভাই আন্দোলন নিয়ে আলোচনা করছে। মেরাজ চুপচাপ সব শুনে, নিজের ভেতরে সাহস সঞ্চয় করে। স্কুলের এক শিক্ষক তাকে বলেন, সঠিক কথা বলার সাহসই একজন প্রকৃত শিক্ষার্থীর পরিচয়। সেই বাক্য যেন মেরাজের হৃদয়ে গেঁথে যায়।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০১৮ সালে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা বৈষম্য দূর করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ও মাঠে নামে। শিক্ষার্থীরদের দাবি ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার করা। কিন্তু সৈরাচারী সরকার যৌক্তিক সংস্কার না করে বরং ছাত্রদের উপর দলীয় বাহিনী দিয়ে নির্যাতন চালায়। কিন্তু ছাত্রদের প্রচন্ড কোন আন্দোলনের মুখে সরকার কোটা সংস্কার তখন মেনে নিলেও এটার স্থায়ী কোন সমাধান দেননি। হাইকোর্ট রিট করার পরিপ্রেক্ষিতে কোটা ব্যবস্থা আবার পুনর্বাহাল করা হয়।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্রসমাজ কোটা সংস্কারের দাবিতে আবারো রাজপথে নামে। আবারো সেই অন্যায় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় দেশের শিক্ষার্থীরা। শুরুতে আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন, সমাবেশ আর মিছিল। কিন্তু এবারও সৈরাচারী সরকার তার পুলিশ বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে। জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রীদের ওপরেও নির্মম নির্যাতন চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীরা। এই নির্মম নির্যাতনের বিরুদ্ধে সারা দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল হয়। বিশেষ করে সবাই ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ সরাসরি গুলি করে হত্যা করলে সারা দেশব্যাপী আন্দোলনের দানা বেঁধে উঠে। মেরাজ তার মতো আরও অনেক কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে জলঢাকায় ছোট ছোট কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করে। সে বুঝেছিল, পরিবর্তন হঠাৎ করে আসে না, ধাপে ধাপে লড়াই করতে হয়। তাদের এক দফা দাবি ছিল মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এই দাবিকে কেন্দ্র করে ৪ আগস্ট ২০২৪ সালের দুপুরে একটি বড় মিছিলের আয়োজন করা হয় জলঢাকা পেট্রোল পাম্পের সামনে। মেরাজ সেই মিছিলের একদম সামনের সারিতে ছিল।
রক্তাক্ত দুপুর ও সাহসিকতার পরিণতি
৪ আগস্ট ২০২৪, সময় তখন দুপুর ১২টা। জলঢাকার পেট্রোল পাম্পের সামনের রাস্তায় শত শত শিক্ষার্থী একত্রিত হয় এক দফা দাবির মিছিল নিয়ে। মেরাজ ছিল সেই তরুণ কণ্ঠস্বরের একজন, যাদের চোখে ছিল পরিবর্তনের স্বপ্ন। কিন্তু হঠাৎ করেই আকাশ যেন কালো হয়ে এলো। আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী স্থানীয় ছাত্রলীগ নামধারী দুর্বৃত্তরা লাঠিসোঁটা, রড, ইট নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চারপাশে কান্না, চিৎকার, দৌড়ঝাঁপ সবকিছু মুহূর্তেই পাল্টে গেল এক বিভীষিকায়। মেরাজ পালানোর চেষ্টা করলেও পিছন থেকে লোহার রডে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পায়। মাথা ফেটে যায়, রক্ত ঝরতে থাকে। সেই কিশোর তবুও লুটিয়ে পড়ে না। জীবন নিয়ে পালানোর চেষ্টায়, বৃষ্টির মত রক্ত ঝরাতে ঝরাতে দৌড়াতে থাকে। নিরাপদ দূরত্ব এ গেলে শি¶ার্থীরা তাকে ধরে নিয়ে যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
হাসপাতালের বিছানায় এক নতুন যাত্রা
আহত অবস্থায় ছাত্র জনতার সহায়তায় মেরাজকে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা দ্রুত তার মাথায় সেলাই দেন। মোট আটটি গভীর সেলাই লাগে ক্ষত স্থান সামলাতে। জীবন তখন থেমে গিয়েছিল কয়েক মুহূর্তের জন্য। কিন্তু হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও মেরাজের চোখে ভয় ছিল না ছিল জেদ, সাহস আর আরও বড় হওয়ার স্বপ্ন। তার ক্ষত আজ সারলেও, মনে গেঁথে গেছে প্রতিবাদের চিহ্ন।
সেই রক্তাক্ত দুপুর মেরাজকে বদলে দিয়েছে সে এখন কেবল একজন ছাত্র নয়, বরং একটি প্রশ্নবোধক চেতনার নাম। ছোট একটি জেলা শহরের কলেজপাড়ায় জন্ম নেওয়া মেরাজ আজ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যে বয়স যতই ছোট হোক না কেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হলে কণ্ঠ¯^র তুলতেই হয়।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মেরাজ হোসেন
জন্ম তারিখ : ১ জানুয়ারি ২০১০
জন্মস্থান : নীলফামারী
পেশা : শিক্ষার্থী (১০ম শ্রেণি)
প্রতিষ্ঠান : জলঢাকা পাইলট স্কুল
নিজ জেলা : নীলফামারী
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: কলেজপাড়া, ইউনিয়ন: জলঢাকা, থানা: জলঢাকা, জেলা: নীলফামারী
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মোন্নাফ
মায়ের নাম : মোমেনা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : ড্রাইভার, ৪০
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৩৫
মাসিক আয় : ১৫ হাজার
আয়ের উৎস : ড্রাইভিং
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. মিম, বয়স: ৮ বছর, পেশা: শিক্ষার্থী (সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়), শ্রেণি: ২য়, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : পেট্রোল পাম্পের সামনে, জলঢাকা
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২টা
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা : শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍