মো: সেলিম রানা
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
নেকবক্তের ছেলে সেলিম
নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার একটি নিভৃত গ্রাম পশ্চিম নেকবক্ত। ধানক্ষেত, কাঁচা পথ আর খোলা আকাশে ভরা এই গ্রামেই ১৯৯৮ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন মো: সেলিম রানা। তাঁর বাবা আজিজুল হক ছিলেন একজন কৃষক, বয়স এখন ৬২। মাটি আর ফসলের ওপর নির্ভর করেই চলত তাদের সংসার। মা লতিফা বেগম, একজন গৃহিণী, বয়স ৫০। মা হিসেবে তিনি শুধু সন্তানদের দেখাশোনা করেননি, ছিলেন তাদের সাহসের প্রেরণাও। তিন ভাইবোনের মধ্যে সেলিম ছিলেন মেজো। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা হলেও তাঁর চিন্তাভাবনা ছিল আধুনিক। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভালো ছিলেন। নেকবক্ত ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষে, স্থানীয় হাইস্কুল হয়ে ভর্তি হন নীলফামারী সরকারি কলেজে। সেখানে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স শুরু করেন এবং বর্তমানে তিনি ৪র্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। গ্রামের উঠোনে হেঁটে যাওয়া ছেলেটির স্বপ্ন ছিল একদিন মানুষের মত মানুষ হবে।
অভাবের ভিতরেও শিক্ষার দীপ্তি
সেলিম রানা শুধু একজন ছাত্রই ছিলেন না, তিনি একজন সংগ্রামী পারিবারিক মানুষ। কৃষক বাবার আয়ে পুরো সংসার চলে না। এমন অবস্থায়ও তিনি বিয়ে করেন, কারণ পরিবারের চাপ ও সামাজিক বাস্তবতা তাঁকে তাড়িয়ে নিয়ে যায় সংসারের দিকে। সংসার শুরু হয় সীমিত আয় ও সীমাহীন স্বপ্ন নিয়ে। বর্তমানে তাঁর একমাত্র কন্যা সিনহা মাত্র ৭ মাস বয়স। মেয়ের নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে নতুন করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেন তিনি।
ভর্তি, বই, ক্লাস ফি, মেয়ের খরচ, ওষুধ সবকিছু সামলাতে গিয়ে তাঁর সংসার চলে গেছে চরম টানাপোড়েনে। তবুও সেলিম তাঁর শিক্ষা বন্ধ করেননি। কারণ, তিনি বিশ্বাস করেন একদিন এই শিক্ষাই হবে পরিবারের ভাগ্য ফেরানোর চাবিকাঠি।
আবারও রাজপথে, আবারও কোটা সংস্কারের ডাক
২০১৮ সালের সেই আন্দোলন অনেকেই ভুলে গেলেও সেলিম ভুলে যাননি। সেই সময়ের আন্দোলনের মুখে সরকার সাময়িকভাবে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলেও কোনো স্থায়ী আইন বা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। আর সেই ফাঁকফোকর দিয়েই আবার ফিরে আসে বৈষম্যমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা। ২০২৪ সালে আদালতে হাইকোর্টে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা ব্যবস্থা আবার পুনর্বহাল করা হয়। দেশের তরুণ ছাত্ররা সবসময় ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মেধাবী ছাত্ররা মূল্যায়ন পেতনা। যার ফলে সরকারের প্রতিটি সেক্টর ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত। শিক্ষার্থীরা এই অন্যায় মেনে নিতে পারেনি তাই তারা আবার নতুন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন করে তোলে। ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা হয় সোচ্চার। কিন্তু সৈরাচারী সরকার ন্যায্য দাবি মানতে রাজি ছিল না। বিগত সকল আন্দোলনে সৈরাচারী সরকার তার পুলিশ বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দমিয়ে দিয়েছিল। তারা ভেবেছিল এই আন্দোলন ও দমিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু এটাই ছিল তাদের ভুল ধারণা। শিক্ষার্থীরা ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য তৎপর। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবে না এই প্রত্যয় নিয়ে তারা মাঠে নামে। তখন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্যে স্পষ্ট ঘোষণা ছিল যার যা আছে তাই নিয়ে ছাত্রদের দমন কর। সেদিন ছাত্রলীগ, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ এবং সন্ত্রাসী গুন্ডাবাহিনীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। অনেকেই আহত করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানেও ছাত্রলীগের গুন্ডারা নিরাপদে চিকিৎসা নিতে বাধাগ্রস্থ করে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি সারা বাংলাদেশের সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি সারা বাংলাদেশের সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি সারা বাংলাদেশের সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি সারা বাংলাদেশের সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি সারা বাংলাদেশের সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি সারা বাংলাদেশের সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা মাঠে নামে। সবাই মাঠে নামে। সবাই মাঠে নামে। সবাই মাঠে নামে। সবাই মাঠে নামে। সবারা মাঠে নামে। সবার মুখে একটি কথা ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার চাই। সেলিমও ছিলেন তাদের একজন। পদার্থবিজ্ঞান নয়, সেদিন তাঁর হাতে ছিল একটি প্ল্যাকার্ড মেধার মূল্য দাও, বৈষম্য থামাও। এটি শুধু একটি আন্দোলন ছিল না এটি ছিল নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রাম।
জলঢাকার রক্তাক্ত দুপুর
আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। নীলফামারীতেও ছাত্ররা সক্রিয় হয়। সেখানে নিয়মিত পেট্রোল পাম্পের সামনে ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২:৩০। নীলফামারী সরকারি কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী পেট্রোল পাম্পের সামনে, জলঢাকায় অবস্থান নেয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছিল। হঠাৎ, স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাসা থেকে বেরিয়ে আসে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তারা হাতে নেয় লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ছাত্রবঙ্গ শিক্ষার্থীদের ওপর তারা চাপাতি রামদা কিরিচ এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। সেলিম রানা ছিলেন সামনে সারিতে। তাঁর বা হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। তার বা হাতের অনেকটা অংশ কেটে যায়। হাত থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। তবুও নিজের জীবন বাঁচাতে তিনি পিছনের দিকে দৌড় দেন। নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পর অন্য ছাত্ররা তাঁকে তুলে ধরে নিয়ে যায় স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সেদিন অনেকেই আহত হন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যান।
চিকিৎসা
সেলিমের বা হাতের আঙ্গুলে শরীর আঘাতে কেটে যায়। প্রথমে স্থানীয় ফার্মেসিতে নিয়ে ৮টা সেলাই দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রংপুর প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়মিত ড্রেসিং করা হয়। দীর্ঘদিন ঔষধ খেতে হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন, তবে পারিবারিকভাবে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে যেটা ধার করে নিতে হয়েছে।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: সেলিম রানা
জন্ম তারিখ : ২৮ এপ্রিল ১৯৯৮
জন্মস্থান : নীলফামারী
পেশা : শিক্ষার্থী (পদার্থবিজ্ঞান, অনার্স ৪র্থ বর্ষ)
প্রতিষ্ঠান : নীলফামারী সরকারি কলেজ
নিজ জেলা : নীলফামারী
স্থায়ী বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিম নেকবক্ত, ইউনিয়ন: নেকবক্ত, থানা: জলঢাকা, জেলা: নীলফামারী
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : আজিজুল হক
মায়ের নাম : লতিফা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৬২
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫০
আয়ের উৎস : কৃষি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. সিনহা, বয়স: ৭ মাস, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : পেট্রোল পাম্পের সামনে, জলঢাকা
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২:৩০টা
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা : চাকরির ক্ষেত্রে সাহায্য করা
নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার একটি নিভৃত গ্রাম পশ্চিম নেকবক্ত। ধানক্ষেত, কাঁচা পথ আর খোলা আকাশে ভরা এই গ্রামেই ১৯৯৮ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন মো: সেলিম রানা। তাঁর বাবা আজিজুল হক ছিলেন একজন কৃষক, বয়স এখন ৬২। মাটি আর ফসলের ওপর নির্ভর করেই চলত তাদের সংসার। মা লতিফা বেগম, একজন গৃহিণী, বয়স ৫০। মা হিসেবে তিনি শুধু সন্তানদের দেখাশোনা করেননি, ছিলেন তাদের সাহসের প্রেরণাও। তিন ভাইবোনের মধ্যে সেলিম ছিলেন মেজো। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা হলেও তাঁর চিন্তাভাবনা ছিল আধুনিক। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভালো ছিলেন। নেকবক্ত ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষে, স্থানীয় হাইস্কুল হয়ে ভর্তি হন নীলফামারী সরকারি কলেজে। সেখানে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স শুরু করেন এবং বর্তমানে তিনি ৪র্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। গ্রামের উঠোনে হেঁটে যাওয়া ছেলেটির স্বপ্ন ছিল একদিন মানুষের মত মানুষ হবে।
অভাবের ভিতরেও শিক্ষার দীপ্তি
সেলিম রানা শুধু একজন ছাত্রই ছিলেন না, তিনি একজন সংগ্রামী পারিবারিক মানুষ। কৃষক বাবার আয়ে পুরো সংসার চলে না। এমন অবস্থায়ও তিনি বিয়ে করেন, কারণ পরিবারের চাপ ও সামাজিক বাস্তবতা তাঁকে তাড়িয়ে নিয়ে যায় সংসারের দিকে। সংসার শুরু হয় সীমিত আয় ও সীমাহীন স্বপ্ন নিয়ে। বর্তমানে তাঁর একমাত্র কন্যা সিনহা মাত্র ৭ মাস বয়স। মেয়ের নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে নতুন করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেন তিনি।
ভর্তি, বই, ক্লাস ফি, মেয়ের খরচ, ওষুধ সবকিছু সামলাতে গিয়ে তাঁর সংসার চলে গেছে চরম টানাপোড়েনে। তবুও সেলিম তাঁর শিক্ষা বন্ধ করেননি। কারণ, তিনি বিশ্বাস করেন একদিন এই শিক্ষাই হবে পরিবারের ভাগ্য ফেরানোর চাবিকাঠি।
আবারও রাজপথে, আবারও কোটা সংস্কারের ডাক
২০১৮ সালের সেই আন্দোলন অনেকেই ভুলে গেলেও সেলিম ভুলে যাননি। সেই সময়ের আন্দোলনের মুখে সরকার সাময়িকভাবে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলেও কোনো স্থায়ী আইন বা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। আর সেই ফাঁকফোকর দিয়েই আবার ফিরে আসে বৈষম্যমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা। ২০২৪ সালে আদালতে হাইকোর্টে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা ব্যবস্থা আবার পুনর্বহাল করা হয়। দেশের তরুণ ছাত্ররা সবসময় ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মেধাবী ছাত্ররা মূল্যায়ন পেতনা। যার ফলে সরকারের প্রতিটি সেক্টর ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত। শিক্ষার্থীরা এই অন্যায় মেনে নিতে পারেনি তাই তারা আবার নতুন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন করে তোলে। ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা হয় সোচ্চার। কিন্তু সৈরাচারী সরকার ন্যায্য দাবি মানতে রাজি ছিল না। বিগত সকল আন্দোলনে সৈরাচারী সরকার তার পুলিশ বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দমিয়ে দিয়েছিল। তারা ভেবেছিল এই আন্দোলন ও দমিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু এটাই ছিল তাদের ভুল ধারণা। শিক্ষার্থীরা ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য তৎপর। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবে না এই প্রত্যয় নিয়ে তারা মাঠে নামে। তখন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্যে স্পষ্ট ঘোষণা ছিল যার যা আছে তাই নিয়ে ছাত্রদের দমন কর। সেদিন ছাত্রলীগ, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ এবং সন্ত্রাসী গুন্ডাবাহিনীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। অনেকেই আহত করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানেও ছাত্রলীগের গুন্ডারা নিরাপদে চিকিৎসা নিতে বাধাগ্রস্থ করে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি সারা বাংলাদেশের সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি সারা বাংলাদেশের সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি সারা বাংলাদেশের সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি সারা বাংলাদেশের সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি সারা বাংলাদেশের সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি সারা বাংলাদেশের সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা মাঠে নামে। সবাই মাঠে নামে। সবাই মাঠে নামে। সবাই মাঠে নামে। সবাই মাঠে নামে। সবারা মাঠে নামে। সবার মুখে একটি কথা ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার চাই। সেলিমও ছিলেন তাদের একজন। পদার্থবিজ্ঞান নয়, সেদিন তাঁর হাতে ছিল একটি প্ল্যাকার্ড মেধার মূল্য দাও, বৈষম্য থামাও। এটি শুধু একটি আন্দোলন ছিল না এটি ছিল নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রাম।
জলঢাকার রক্তাক্ত দুপুর
আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। নীলফামারীতেও ছাত্ররা সক্রিয় হয়। সেখানে নিয়মিত পেট্রোল পাম্পের সামনে ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২:৩০। নীলফামারী সরকারি কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী পেট্রোল পাম্পের সামনে, জলঢাকায় অবস্থান নেয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছিল। হঠাৎ, স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাসা থেকে বেরিয়ে আসে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তারা হাতে নেয় লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ছাত্রবঙ্গ শিক্ষার্থীদের ওপর তারা চাপাতি রামদা কিরিচ এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। সেলিম রানা ছিলেন সামনে সারিতে। তাঁর বা হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। তার বা হাতের অনেকটা অংশ কেটে যায়। হাত থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। তবুও নিজের জীবন বাঁচাতে তিনি পিছনের দিকে দৌড় দেন। নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পর অন্য ছাত্ররা তাঁকে তুলে ধরে নিয়ে যায় স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সেদিন অনেকেই আহত হন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যান।
চিকিৎসা
সেলিমের বা হাতের আঙ্গুলে শরীর আঘাতে কেটে যায়। প্রথমে স্থানীয় ফার্মেসিতে নিয়ে ৮টা সেলাই দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রংপুর প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়মিত ড্রেসিং করা হয়। দীর্ঘদিন ঔষধ খেতে হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন, তবে পারিবারিকভাবে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে যেটা ধার করে নিতে হয়েছে।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: সেলিম রানা
জন্ম তারিখ : ২৮ এপ্রিল ১৯৯৮
জন্মস্থান : নীলফামারী
পেশা : শিক্ষার্থী (পদার্থবিজ্ঞান, অনার্স ৪র্থ বর্ষ)
প্রতিষ্ঠান : নীলফামারী সরকারি কলেজ
নিজ জেলা : নীলফামারী
স্থায়ী বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিম নেকবক্ত, ইউনিয়ন: নেকবক্ত, থানা: জলঢাকা, জেলা: নীলফামারী
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : আজিজুল হক
মায়ের নাম : লতিফা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৬২
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫০
আয়ের উৎস : কৃষি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. সিনহা, বয়স: ৭ মাস, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : পেট্রোল পাম্পের সামনে, জলঢাকা
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২:৩০টা
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা : চাকরির ক্ষেত্রে সাহায্য করা
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍