হোম / আহতদের তালিকা / মো: আবেদুল ইসলাম
মো: আবেদুল ইসলাম

মো: আবেদুল ইসলাম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: কাঁচামাল ব্যবসায়ী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জনযুদ্ধের নীরব যোদ্ধা

শেকড়ের প্রতিধ্বনি
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গাবরুল মাঝাপাড়া গ্রামটি যেন বাংলার এক নিঃশব্দ প্রতিচ্ছবি নদী, ধানক্ষেত আর শিশিরভেজা সকালে ঘুমভাঙা গ্রামের প্রতিটি ছেলেমেয়ের মতোই একদিন জন্ম নেন মোঃ আবেদুল ইসলাম। ১৯৬৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। পিতা মোঃ জবান উদ্দিন ও মাতা মোছাঃ আবেদা খাতুন দু’জনই ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী, আদর্শবান মানুষ।
ছেলেবেলায় আবেদুল ছিলেন শান্ত স্বভাবের, কিন্তু ভিতরে ছিল এক অদৃশ্য দীপ্তি। খেলাধুলার ফাঁকে মায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে বড় হতে থাকেন। স্কুলের বইয়ের পাতায় লেখা ছিল ‘দেশ’, আর মায়ের মুখে শোনা ছিল ‘মাটি’। এই দুই মিলেই গড়ে ওঠে তার মননের ভিত।

সংসারের চাপে পড়াশুনার পাট কিছুটা কমলেও জীবনের পাঠ চলছিল অনবরত। বড় হয়ে কাঁচামালের ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। গাড়ি চালিয়ে দিন পার করতেন, ঘামে ভেজা শার্টে লুকিয়ে রাখতেন শত সংগ্রামের বেদনা। সাত সদস্যের পরিবার, পাঁচ কন্যার জনক তবু কখনো ভাঙেননি, হার মানেননি।
জুলাই বিপ্লবের রক্তাক্ত ক্যানভাস
অন্যায়ের প্রতি আপোষহীন আবেদুল ইসলাম শুধু জুলাই চব্বিশের আন্দোলন-ই নয় তারও বহু আগে থেকেই ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের শুরু থেকে বিভিন্ন বিষয়ে রাজপথে প্রতিবাদ করে আসছেন। তিনি ২০১৩ সালে আব্দুল কাদের মোল্লা সাহেবের প্রহসণমূলক রায় ফাঁসির বিরুদ্ধে ‘বিচার নয় মুক্তি চাই’-এ প্রতিবাদ করেন এবং প্রহসনমূলক বিচার প্রত্যাখান করে আব্দুল কাদের মোল্লার মুক্তিার দাবীতে রাজপথে আন্দোলনের সময়ে পুলিশের হাতে মির্মম নির্যাতনের স্বীকার হয়ে ঢাকা ধোলাইপাড় ময়লার ভাগাড়ে পড়ে থাকেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি এক পাক্ষিক নির্বাচন প্রত্যাখান করে জলঢাকা উপজেলা জামায়াতের আমীরের নেতৃত্বে প্রতিবাদ করার সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়, পুলিশের গুলিতে ওনার বাম পায়ে পর পর দুটো গুলি লাগে এবং পুলিশ আন্দোলনকারী ৫১ জনের বিরুদ্ধে খুন ও বিস্ফোরণের মিথ্যা মামলা দেয় এবং আবেদুল ইসলামকে ১নং আসামী করে এবং সেখান থেকে বিভিন্ন সময়ে আরো মিথ্যা মামলার স্বীকার হন তিনি। ২০১৭ সালে ফ্যাসিবাদী সরকারে বিচার বহির্ভূত গুম, খুন এর প্রতিবাদমূলক পোস্টারিং এর সময় পুলিশের হাতে নির্মম নির্যাতনের স্বীকার হন। তারই ধারাবাহিকতায় চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে আন্দোলন করেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে জ্বলন্ত এক পৃষ্ঠা। রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বিষদাঁত হয়ে দাঁড়ায় মুক্তিযুদ্ধের নামে প্রতিষ্ঠিত ৫৬% কোটাব্যবস্থা। জনতার ঘৃণা, ছাত্রসমাজের জ্বালা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা চারদিক তখন উত্তাল, একটাই দাবি : বৈষম্যের অবসান চাই!
এই আন্দোলনের প্রথম দিকেই শহীদ হন দুই সাহসী ছাত্র : আবু সাঈদ ও মুগ্ধ। তাদের রক্তের ছাপ লেগে যায় জাতির বিবেকের দরজায়। মিছিলে প্রতিধ্বনি তোলে হাজার কণ্ঠস্বর: “এক দফা এক দাবি স্বৈরাচার নিপাত যাক!”
এই আন্দোলন আর কেবল ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। গ্রাম-শহরের মানুষ, শ্রমজীবী, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, কৃষক সবাই একত্রিত হয়। সেই উত্তাল মুহূর্তে আবেদুল ইসলাম নিজে থেকে দাঁড়ান ছাত্র-জনতার পাশে।
যাত্রাবাড়ীর মোড়ে জনতা যখন এক দফা দাবিতে বিক্ষোভে মুখর, ঠিক তখনই আসে পুলিশী হামলা। লাঠিচার্জ আর টিয়ারশেলের সঙ্গে শুরু হয় গুলি। আতঙ্কে মানুষ দিগি¦দিক ছুটছে, আর সেই মুহূর্তে আবেদুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পুলিশের ছোঁড়া লাঠিতে তার মাজার হাড় চূর্ণ হয়।
তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসাব্যয়ে ধীরে ধীরে বিক্রি হয় সংসারের সমস্ত সম্বল ভিটে-মাটি, গরু, স্ত্রীর গয়না। প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করে চিকিৎসা হলেও, পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি তিনি। আজ তিনি পঙ্গুত্বের জীবনযাপন করছেন কিন্তু মাথা উঁচু করে।
তার কণ্ঠে এখনো স্পষ্ট উচ্চারণ: “আমি ছাত্র ছিলাম না, তবু ছাত্রদের পক্ষে ছিলাম। কারণ তারাই জাতির ভবিষ্যৎ।”
আবেদুল ইসলাম এই নামটি শুধু একটি মানুষকে নির্দেশ করে না, এটি নির্দেশ করে একজন সংগ্রামী পিতাকে, একজন সাহসী নাগরিককে এবং একজন প্রত্যক্ষ বিপ্লবীকে, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে জীবনকে বাজি রেখেছিলেন।
তার জীবনের প্রতিটি ক্ষত আজকের বাংলাদেশের জন্য এক মূল্যবান শিক্ষার নিদর্শন
যেখানে ন্যায়বিচার নেই, সেখানেই জন্ম নেয় বিপ্লব।শেকড়ের প্রতিধ্বনি
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গাবরুল মাঝাপাড়া গ্রামটি যেন বাংলার এক নিঃশব্দ প্রতিচ্ছবি নদী, ধানক্ষেত আর শিশিরভেজা সকালে ঘুমভাঙা গ্রামের প্রতিটি ছেলেমেয়ের মতোই একদিন জন্ম নেন মোঃ আবেদুল ইসলাম। ১৯৬৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। পিতা মোঃ জবান উদ্দিন ও মাতা মোছাঃ আবেদা খাতুন দু’জনই ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী, আদর্শবান মানুষ।
ছেলেবেলায় আবেদুল ছিলেন শান্ত স্বভাবের, কিন্তু ভিতরে ছিল এক অদৃশ্য দীপ্তি। খেলাধুলার ফাঁকে মায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে বড় হতে থাকেন। স্কুলের বইয়ের পাতায় লেখা ছিল ‘দেশ’, আর মায়ের মুখে শোনা ছিল ‘মাটি’। এই দুই মিলেই গড়ে ওঠে তার মননের ভিত।

একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি

নাম : মোঃ আবেদুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৭
জন্মস্থান : গ্রাম: গাবরুল মাঝাপাড়া, উপজেলা: জলঢাকা, জেলা: নীলফামারী
পিতার নাম : মোঃ জবান উদ্দিন
মাতার নাম : মোছাঃ আবেদা খাতুন
বর্তমান ঠিকানা : যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
পেশা : ক্ষুদ্র কাঁচামাল ব্যবসায়ী ও গাড়িচালক (বর্তমানে পঙ্গু)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
সন্তানের সংখ্যা : ৫ জন কন্যা সন্তান

চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ৫টি প্রস্তাবনা
১. সরকারি খরচে উন্নত চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপি সেবার ব্যবস্থা করা।
২. বিনামূল্যে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।
৩. তার চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে পূর্ণ স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
৪. মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করে তার পরিবারের ন্যূনতম জীবনমান নিশ্চিত করা।
৫. তার পরিবারের জন্য সরকারি হাউজিং প্রকল্পে বাসস্থান এবং পাঁচ কন্যা সন্তানের শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍