হোম / আহতদের তালিকা / মো: আবু সুফিয়ান
 মো: আবু সুফিয়ান

মো: আবু সুফিয়ান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী, ইসলামি শিক্ষা, ৪র্থ বর্ষ, রংপুর কারমাইকেল কলেজ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম পরিচয়
আবু সুফিয়ান, পিতার নাম মোঃ নুরুজ্জামান ও মাতার নাম মোছা: নাসরিন আক্তার। তিনি ২০০১ সালের ১ মে নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার বাহালিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মস্থানই বর্তমানে তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা: ইউনিয়ন: রামনগর, উপজেলা: নীলফামারী সদর, জেলা: নীলফামারী।

তিনি রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজে ইসলাম শিক্ষা বিভাগে ৪র্থ বর্ষের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়নরত রয়েছেন। পারিবারিকভাবে তারা মধ্যবিত্ত শ্রেণির। পিতা নুরুজ্জামান একজন চাকরিজীবী (বয়স ৫১ বছর) এবং মাতা নাসরিন আক্তার (বয়স ৪৫ বছর) একজন গৃহিণী। পরিবারে মোট সদস্য সংখ্যা ৫ জন।
আবু সুফিয়ান একজন স্বাধীনচেতা, আদুরে সন্তান হিসেবে পরিবারে বড় হয়েছেন। তিনি শুধু একজন শিক্ষার্থীই নন বরং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে তিনি একজন প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী, একজন সাহসী "জুলাই যোদ্ধা" হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দেশপ্রেম, ন্যায়বোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী এই তরুণ নিজ গ্রাম ও সমাজে একজন সচেতন, কর্তব্যপরায়ণ যুবক হিসেবে পরিচিত।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
জুলাই মাসের তপ্ত রোদে, যখন সারা দেশে আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন উত্তরের এক কোণে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে এক সাহসী যুবক, আবু সুফিয়ান, হয়ে উঠেছিলেন প্রতিবাদের এক জ্বলন্ত প্রতীক। ১৬ জুলাই শহীদ আবু সাঈদের বুক ঝাঁঝরা করে যখন রংপুরের পথে ছড়িয়ে পড়ে শহীদের রক্ত, তখন তার পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন আবু সুফিয়ান। সেদিনের মতো উত্তাল আর কোনো দিন ছিল না। চারদিক থেকে ধেয়ে আসছিল ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পুলিশের লাঠি আর বিজেপির তাণ্ডব। কিন্তু তাতে দমে যাননি আবু সুফিয়ান। সাহসের সাথে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তিনি ু পিছু হটেননি, বরং লড়েছেন বুক চিতিয়ে, গর্জে উঠেছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে।
এই আন্দোলন শুধু রাস্তায় গর্জন নয়, ছিল আত্মত্যাগের এক বেদনাভরা অধ্যায়ও। সে দিন অসংখ্য গুলি তার বুকে, হাতে, শরীরে লাগে। আন্দোলন শেষে চিকিৎসা তো দূরের কথা, পুলিশি হয়রানির ভয়ে দিনের পর দিন লুকিয়ে থাকতে হয়েছে আবু সুফিয়ানকে। মামলা, গ্রেফতার আতঙ্ক, সামাজিক নিপীড়ন—কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। তার চোখে ছিল শুধুই একটি দৃশ্য— ন্যায়ের বিজয়। এমন হাজারো ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীর, মাঠ, এবং রক্তাক্ত স্লোগানে ভেসে থাকা বাতাস। যে সাহসিকতায় আবু সুফিয়ান আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাতে স্পষ্ট হয় যে, তিনি ছিলেন সময়ের এক নির্ভীক সৈনিক—অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রজ্বলিত আগুন।
চিকিৎসার অবস্থা: ১৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নিয়ে যখন রাজপথে নেমে এসেছিলেন, তখন তিনি জানতেন না যে, এই পথ তাকে শুধু সংগ্রামে নয়, রক্ত, যন্ত্রণা আর আত্মগোপনের এক কঠিন অধ্যায়ে নিয়ে যাবে।
সেদিনের সেই হিংস্র আক্রমণে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পুলিশের লাঠি আর দেশি অস্ত্রের আঘাতে তার মুখ, হাত ও পায়ে পড়ে গুরুতর আঘাত। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়া আবু সুফিয়ানকে কোনো সরকারি হাসপাতালে নেয়ার সুযোগ ছিল না। বরং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন আর হামলা-মামলার ভয়ে তাকে নিয়ে যেতে হয়েছিল গোপনে এক প্রাইভেট ক্লিনিকে।
চিকিৎসা পেতে হয়েছে গোপনে, পরিচয় লুকিয়ে। কারণ সরকারিভাবে আহতদের সাহায্য তো আসেইনি, বরং উল্টো আহত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেই জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি চলতে থাকে আত্মগোপনের জীবন। রংপুরের একাধিক জায়গায় বারবার স্থান পরিবর্তন করে চিকিৎসা নিতে হয় তাকে।
মুখে ছিল গভীর ক্ষত, হাত ভাঙা, আর পায়ে এমন আঘাত যে, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাও ছিল কষ্টকর। ব্যথা ছিল অসহ্য, কিন্তু এর চেয়েও বেশি ছিল ভয়ের সাথে যুদ্ধ—যে কোনো সময় পুলিশ হানা দিতে পারে, আবারও হামলা হতে পারে।
তবুও থেমে যাননি আবু সুফিয়ান। তাঁর এই চিকিৎসার কাহিনী শুধু একজন আহত আন্দোলনকারীর গল্প নয়, এটি হলো রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সাহসিকতার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠা এক তরুণের লড়াইয়ের প্রমাণ।
প্রস্তাবনা: চিকিৎসা করাতে অনেক খরচ হয়েছে। শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষাবৃত্তি দেয়া যেতে পারে। যাতে পড়াশোনা চলমান থাকে।

নাম : মো: আবু সুফিয়ান
জন্মতারিখ : ০১/০৫/২০০১
জন্মস্থান : বাহালিপাড়া, নীলফামারী
পেশা : শিক্ষার্থী, ইসলামি শিক্ষা, ৪র্থ বর্ষ, রংপুর কারমাইকেল কলেজ
নিজ জেলা : নীলফামারী
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: বাহালিপাড়া, ইউনিয়ন: রামনগর, নীলফামারি সদর, জেলা: নীলফামারী
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : নুরুজ্জামান
পেশা ও বয়স : চাকুরি -৫১
মায়ের নাম : নাসরিন আক্তার
পেশা ও বয়স : গৃহীনি- ৪৫
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
আয়ের উৎস : চাকুরি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৮ জন

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍