সজীব আহমেদ সাকিব
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
একটি পরিচয়
সজীব আহমেদ সাকিব, নীলফামারী জেলার এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার পিতা শাহাদাত হোসেন একজন পেশাদার ইলেকট্রিশিয়ান এবং মাতা শাহনাজ পারভীন মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। সজীব বর্তমানে ঢাকা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি একজন সচেতন তরুণ নাগরিক হিসেবে দেশ ও সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ছিল বরাবরই গভীর।
ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থেকেও, যখন সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জোরদার হতে থাকে, তখন তিনিও নিজ এলাকা নীলফামারী থেকে আন্দোলনের খোঁজখবর রাখতে থাকেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে থাকেন। একজন শিক্ষার্থীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি বুঝেছিলেন, এই আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক নয় এটি ছিল আত্মমর্যাদার, অধিকারের এবং বেঁচে থাকার লড়াই।
হামলার মুহূর্তে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস
তারিখ ছিল ৪ আগস্ট ২০২৪। সে দিন ঢাকা উপজেলার ছাত্র ও জনতার যৌথ সিদ্ধান্ত ছিল একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করা। কিন্তু এই গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতিবাদে প্রস্তুত হয়ে ছিল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী। ছাত্র- জনতার অবস্থান জানার পর তারা আগেই একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে জড়ো হয়, হাতে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে।
যে মুহূর্তে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে সামনে এগিয়ে আসে, ঠিক তখনই শুরু হয় বেপরোয়া হামলা। চারদিকে ছুটে চলে রড, লাঠি, চাপাতির আঘাত। মুহূর্তেই আহত হন শত শত মানুষ। সজীব আহমেদ সাকিবও সেই বীভৎস হামলার শিকার হন। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেও তিনি এই দমন-পীড়নের শিকার হন।
আহত হওয়ার পর একটি যুবকের জীবনে থেমে যাওয়া শুরু
সজীবের আঘাত শুধু শারীরিক নয়, এটি ছিল একটি স্বপ্নবান তরুণের আত্মায় আঘাত। হামলার পর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। দেহে একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল, বাহুতে মারাত্মকভাবে ব্যথা পান তিনি। চিকিৎসা শুরু হলেও তার শরীর ও মনে যে ক্ষতের জন্ম হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা সহজ নয়।
সজীব এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনেও ফিরে আসা তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও একটি নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া সজীবের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রক্তাক্ত শরীর, গ্রামীণ চিকিৎসা আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম
হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর সজীব আহমেদ সাকিবকে তড়িঘড়ি করে প্রথমে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধ করা হয় এবং গভীর ক্ষতগুলো প্রাথমিকভাবে পরিষ্কার করা হয়। দ্রুত চিকিৎসাসেবা না পেলে তাঁর অবস্থা আরও সংকটজনক হতে পারত।
তবে সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায়, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি গ্রামে থেকেই চিকিৎসা নিতে থাকেন যেখানে নেই উন্নত চিকিৎসা, পর্যাপ্ত ওষুধ কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান। গ্রামের সাধারণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেই তাঁকে নিজের ক্ষত নিয়ে ধীরে ধীরে সেরে ওঠার চেষ্টা করতে হয়েছে। কিন্তু একজন তরুণ শিক্ষার্থীর জীবনে এভাবে চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা গভীর সংকটের জন্ম দেয়।
অপ্রতুল চিকিৎসা থেকে উন্নত চিকিৎসার পথে সজীবের জন্য প্রয়োজন জরুরি সহায়তা
সজীব আহমেদ সাকিবের আহত হওয়ার পর যে চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু হয়, তা ছিল অত্যন্ত সীমিত ও প্রাথমিক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার পর গ্রামে থেকে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয় তাঁকে। কিন্তু তাঁর যে শারীরিক অবস্থা, তা শুধু প্রাথমিক সেবা কাটিয়ে ওঠার মতো ছিল না।
বর্তমানে সজীবের শরীরে এখনো বেশ কয়েকটি জখমের চিহ্ন রয়েছে এবং আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ব্যথা, দুর্বলতা এবং শারীরিক অস্বস্তি রয়ে গেছে। উন্নতমানের চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান, নিয়মিত ফিজিওথেরাপি এবং মানসিক পুনর্বাসন তার জন্য অত্যাবশ্যক।
তাই সজীবের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য একটি বিস্তারিত ও ধারাবাহিক চিকিৎসা পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। এই চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য তাকে সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা, বিশেষ তহবিল অথবা চিকিৎসা সংক্রান্ত দাতব্য সংস্থার সহায়তার আওতায় নিয়ে আসার প্রস্তাব দেয়া হলো।
পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকার লড়াই: কর্মসংস্থানই ভবিষ্যতের ভরসা
আহতের পর সজীব আহমেদ সাকিবের স্বাভাবিক ছাত্রজীবন ব্যাহত হয়েছে। তার চিকিৎসাজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক দুর্বলতা ভবিষ্যতে কর্মজীবনে প্রবেশ করাকে কঠিন করে তুলছে। এ অবস্থায় শুধু চিকিৎসা নয়, তাকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করা জরুরি।
যেহেতু তিনি এখনো একজন শিক্ষার্থী, তাই তার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য এমন একটি উদ্যোগ প্রয়োজন যা তার শারীরিক সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেমন: একটি ক্ষুদ্র অনলাইন ব্যবসা, বই বিক্রির স্টল, মোবাইল সার্ভিসিং/ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকান কিংবা গ্রাম পর্যায়ে টিউশন/শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া। এর জন্য প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ও পুঁজি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া, শিক্ষাজীবন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে একটি স্থায়ী মাসিক ভাতা বা আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা দরকার যাতে তিনি চিকিৎসা, পড়ালেখা ও ন্যূনতম পারিবারিক দায়িত্ব নির্বাহ করতে পারেন।
সজীবের পুনর্বাসনে প্রস্তাবিত বাজেট পরিকল্পনা
আহত শিক্ষার্থী সজীব আহমেদ সাকিবের চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান পুনর্বাসনের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক বাজেট পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হচ্ছে। প্রথমেই তাঁর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, ওষুধপত্র এবং ফলো-আপ বাবদ আনুমানিক ১,৫০,০০০ টাকা ব্যয় হতে পারে।
মানসিকভাবে পুনরুদ্ধার, শারীরিক রিহ্যাব ও দীর্ঘমেয়াদী স্বস্তি প্রদানের জন্য কাউন্সেলিং ও থেরাপি মিলিয়ে প্রায় ৫০,০০০ টাকার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি যেহেতু এখনো শিক্ষার্থী, তাই তার পড়াশোনাকে সচল রাখতে শিক্ষা উপকরণ, টিউশন ফি ও প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকার সহায়তা জরুরি।
অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হতে একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা বা দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান উদ্যোগ শুরু করতে প্রাথমিকভাবে ১,০০,০০০ টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পুরো সময় জুড়ে ন্যূনতম জীবনধারণের জন্য প্রতি মাসে ৮,০০০ টাকা হারে এক বছরের জন্য মোট ৯৬,০০০ টাকা মাসিক ভাতার প্রস্তাব দেয়া হলো।
সব মিলিয়ে সজীব আহমেদের চিকিৎসা, শিক্ষা এবং পুনর্বাসনের জন্য মোট প্রস্তাবিত বাজেট আনুমানিক ৪,৪৬,০০০ টাকা, যা কেবল সংখ্যার হিসাব নয় বরং একজন তরুণের জীবনের দ্বিতীয় সুযোগের বাস্তব পথনির্দেশ।
নাম : সজীব আহমেদ সাকিব
জন্ম তারিখ : ০৩-০১-২০০৪
জন্মস্থান : নীলফামারী
নিজ জেলা : নীলফামারী
পেশা : শিক্ষার্থী
কর্মরত প্রতিষ্ঠান : ঢাকা কলেজ সম্মান ১ম বর্ষ
স্থানীয় ঠিকানা : গ্রাম: দক্ষিণদেশী, ইউনিয়ন: কাঠালী, থানা: জলঢাকা, জেলা: নীলফামারী
বর্তমান ঠিকানা : ঐ
পিতা : শাহাদাত হোসেন
মাতা : শাহনাজ পারভীন
মাসিক আয় : ১৫ হাজার
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ
স্থান : জলঢাকা উপজেলা
আহত হওয়ার তারিখ সময় : ০৪-০৮-২০২৪ দুপুর ২.৩০ মিনিট
সজীব আহমেদ সাকিব, নীলফামারী জেলার এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার পিতা শাহাদাত হোসেন একজন পেশাদার ইলেকট্রিশিয়ান এবং মাতা শাহনাজ পারভীন মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। সজীব বর্তমানে ঢাকা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি একজন সচেতন তরুণ নাগরিক হিসেবে দেশ ও সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ছিল বরাবরই গভীর।
ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থেকেও, যখন সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জোরদার হতে থাকে, তখন তিনিও নিজ এলাকা নীলফামারী থেকে আন্দোলনের খোঁজখবর রাখতে থাকেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে থাকেন। একজন শিক্ষার্থীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি বুঝেছিলেন, এই আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক নয় এটি ছিল আত্মমর্যাদার, অধিকারের এবং বেঁচে থাকার লড়াই।
হামলার মুহূর্তে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস
তারিখ ছিল ৪ আগস্ট ২০২৪। সে দিন ঢাকা উপজেলার ছাত্র ও জনতার যৌথ সিদ্ধান্ত ছিল একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করা। কিন্তু এই গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতিবাদে প্রস্তুত হয়ে ছিল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী। ছাত্র- জনতার অবস্থান জানার পর তারা আগেই একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে জড়ো হয়, হাতে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে।
যে মুহূর্তে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে সামনে এগিয়ে আসে, ঠিক তখনই শুরু হয় বেপরোয়া হামলা। চারদিকে ছুটে চলে রড, লাঠি, চাপাতির আঘাত। মুহূর্তেই আহত হন শত শত মানুষ। সজীব আহমেদ সাকিবও সেই বীভৎস হামলার শিকার হন। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেও তিনি এই দমন-পীড়নের শিকার হন।
আহত হওয়ার পর একটি যুবকের জীবনে থেমে যাওয়া শুরু
সজীবের আঘাত শুধু শারীরিক নয়, এটি ছিল একটি স্বপ্নবান তরুণের আত্মায় আঘাত। হামলার পর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। দেহে একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল, বাহুতে মারাত্মকভাবে ব্যথা পান তিনি। চিকিৎসা শুরু হলেও তার শরীর ও মনে যে ক্ষতের জন্ম হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা সহজ নয়।
সজীব এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনেও ফিরে আসা তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও একটি নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া সজীবের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রক্তাক্ত শরীর, গ্রামীণ চিকিৎসা আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম
হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর সজীব আহমেদ সাকিবকে তড়িঘড়ি করে প্রথমে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধ করা হয় এবং গভীর ক্ষতগুলো প্রাথমিকভাবে পরিষ্কার করা হয়। দ্রুত চিকিৎসাসেবা না পেলে তাঁর অবস্থা আরও সংকটজনক হতে পারত।
তবে সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায়, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি গ্রামে থেকেই চিকিৎসা নিতে থাকেন যেখানে নেই উন্নত চিকিৎসা, পর্যাপ্ত ওষুধ কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান। গ্রামের সাধারণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেই তাঁকে নিজের ক্ষত নিয়ে ধীরে ধীরে সেরে ওঠার চেষ্টা করতে হয়েছে। কিন্তু একজন তরুণ শিক্ষার্থীর জীবনে এভাবে চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা গভীর সংকটের জন্ম দেয়।
অপ্রতুল চিকিৎসা থেকে উন্নত চিকিৎসার পথে সজীবের জন্য প্রয়োজন জরুরি সহায়তা
সজীব আহমেদ সাকিবের আহত হওয়ার পর যে চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু হয়, তা ছিল অত্যন্ত সীমিত ও প্রাথমিক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার পর গ্রামে থেকে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয় তাঁকে। কিন্তু তাঁর যে শারীরিক অবস্থা, তা শুধু প্রাথমিক সেবা কাটিয়ে ওঠার মতো ছিল না।
বর্তমানে সজীবের শরীরে এখনো বেশ কয়েকটি জখমের চিহ্ন রয়েছে এবং আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ব্যথা, দুর্বলতা এবং শারীরিক অস্বস্তি রয়ে গেছে। উন্নতমানের চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান, নিয়মিত ফিজিওথেরাপি এবং মানসিক পুনর্বাসন তার জন্য অত্যাবশ্যক।
তাই সজীবের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য একটি বিস্তারিত ও ধারাবাহিক চিকিৎসা পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। এই চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য তাকে সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা, বিশেষ তহবিল অথবা চিকিৎসা সংক্রান্ত দাতব্য সংস্থার সহায়তার আওতায় নিয়ে আসার প্রস্তাব দেয়া হলো।
পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকার লড়াই: কর্মসংস্থানই ভবিষ্যতের ভরসা
আহতের পর সজীব আহমেদ সাকিবের স্বাভাবিক ছাত্রজীবন ব্যাহত হয়েছে। তার চিকিৎসাজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক দুর্বলতা ভবিষ্যতে কর্মজীবনে প্রবেশ করাকে কঠিন করে তুলছে। এ অবস্থায় শুধু চিকিৎসা নয়, তাকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করা জরুরি।
যেহেতু তিনি এখনো একজন শিক্ষার্থী, তাই তার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য এমন একটি উদ্যোগ প্রয়োজন যা তার শারীরিক সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেমন: একটি ক্ষুদ্র অনলাইন ব্যবসা, বই বিক্রির স্টল, মোবাইল সার্ভিসিং/ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকান কিংবা গ্রাম পর্যায়ে টিউশন/শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া। এর জন্য প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ও পুঁজি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া, শিক্ষাজীবন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে একটি স্থায়ী মাসিক ভাতা বা আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা দরকার যাতে তিনি চিকিৎসা, পড়ালেখা ও ন্যূনতম পারিবারিক দায়িত্ব নির্বাহ করতে পারেন।
সজীবের পুনর্বাসনে প্রস্তাবিত বাজেট পরিকল্পনা
আহত শিক্ষার্থী সজীব আহমেদ সাকিবের চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান পুনর্বাসনের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক বাজেট পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হচ্ছে। প্রথমেই তাঁর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, ওষুধপত্র এবং ফলো-আপ বাবদ আনুমানিক ১,৫০,০০০ টাকা ব্যয় হতে পারে।
মানসিকভাবে পুনরুদ্ধার, শারীরিক রিহ্যাব ও দীর্ঘমেয়াদী স্বস্তি প্রদানের জন্য কাউন্সেলিং ও থেরাপি মিলিয়ে প্রায় ৫০,০০০ টাকার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি যেহেতু এখনো শিক্ষার্থী, তাই তার পড়াশোনাকে সচল রাখতে শিক্ষা উপকরণ, টিউশন ফি ও প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকার সহায়তা জরুরি।
অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হতে একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা বা দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান উদ্যোগ শুরু করতে প্রাথমিকভাবে ১,০০,০০০ টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পুরো সময় জুড়ে ন্যূনতম জীবনধারণের জন্য প্রতি মাসে ৮,০০০ টাকা হারে এক বছরের জন্য মোট ৯৬,০০০ টাকা মাসিক ভাতার প্রস্তাব দেয়া হলো।
সব মিলিয়ে সজীব আহমেদের চিকিৎসা, শিক্ষা এবং পুনর্বাসনের জন্য মোট প্রস্তাবিত বাজেট আনুমানিক ৪,৪৬,০০০ টাকা, যা কেবল সংখ্যার হিসাব নয় বরং একজন তরুণের জীবনের দ্বিতীয় সুযোগের বাস্তব পথনির্দেশ।
নাম : সজীব আহমেদ সাকিব
জন্ম তারিখ : ০৩-০১-২০০৪
জন্মস্থান : নীলফামারী
নিজ জেলা : নীলফামারী
পেশা : শিক্ষার্থী
কর্মরত প্রতিষ্ঠান : ঢাকা কলেজ সম্মান ১ম বর্ষ
স্থানীয় ঠিকানা : গ্রাম: দক্ষিণদেশী, ইউনিয়ন: কাঠালী, থানা: জলঢাকা, জেলা: নীলফামারী
বর্তমান ঠিকানা : ঐ
পিতা : শাহাদাত হোসেন
মাতা : শাহনাজ পারভীন
মাসিক আয় : ১৫ হাজার
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ
স্থান : জলঢাকা উপজেলা
আহত হওয়ার তারিখ সময় : ০৪-০৮-২০২৪ দুপুর ২.৩০ মিনিট
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍