ওমর ফারুক
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ব্যবসা
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জীবনের টানাপোড়েনে হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষ
ওমর ফারুক, নীলফামারীর একজন সাধারণ মানুষ। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমাতে হয়েছিল তাঁকে, কারণ গ্রামে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করলেও তাঁর আয়ের তেমন কোনো নিশ্চিত উৎস ছিল না। ঢাকার বাইপাইল এলাকায় ফুটপাতে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেই চলতো তাঁর সংসার। গ্রামে পিতৃসূত্রে পাওয়া জমিতে গাঁজা গাছ লাগিয়েছিলেন, যেন একদিন বাড়ি নির্মাণের জন্য বিক্রি করে কিছু অথ যোগাড় করতে পারেন। কিন্তু জীবনের সব হিসাব বদলে যায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে, দুপুর ১২:৩০ মিনিটে, যখন তিনি নিজের কাজ ফেলে ছুটে যান ছাত্র-জনতার আন্দোলনে।
আন্দোলনের মাঠে আহত এক কর্মী
৫ আগস্টের উত্তাল দুপুরে আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন পুলিশের আকস্মিক ছররা গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন ওমর ফারুক। তিনি নিজে আন্দোলনে যুক্ত থাকলেও সে সময় তিনি সহযোগিতা করছিলেন আহতদের ভ্যানে তুলে দিতে। কিন্তু হঠাৎ করেই ছররা গুলি এসে বিদ্ধ করে তাঁর হাত, মুখ, মাথা ও শরীর। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসার লড়াই। হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে হয় তাকে। চিকিৎসা চালিয়ে যেতে তিনি বিক্রি করে দেন গ্রামের সেই গাছ, যা ছিল তাঁর ভবিষ্যতের একমাত্র স্বপ্ন ও ভরসা।
এখন শুধুই থেমে থাকা : পুনর্বাসনের অনুপস্থিতি
আজও ওমর ফারুকের শরীর ও মাথায় ছররা গুলির টুকরোগুলো রয়ে গেছে। এই অবস্থায় তিনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে অক্ষম। তাঁর আর কোনো আয়-উপার্জনের পথ নেই, কারণ শারীরিকভাবে কিছু করতে গেলে প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হয়। বর্তমানে তিনি শ্বশুরবাড়িতে সপরিবারে বসবাস করছেন সেই গ্রামে, যেখান থেকে একদিন স্বপ্ন নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এখন শুধুই নির্ভরশীলতা, নিঃসঙ্গতা আর অনিশ্চয়তা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন সংগ্রামী মানুষ, যিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যদের সহায়তা করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন, আজ তিনি নিজেই রাষ্ট্র ও সমাজের করুণ অনাদরে পড়ে আছেন।
গুলির যন্ত্রণায় জর্জরিত এক আহত মানুষের চিকিৎসাযুদ্ধ
ওমর ফারুক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে ভর্তি হন গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে পরবর্তীতে সাভার সিএমএইচ-এ ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি প্রায় ৭ থেকে ৮ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার শরীরে যে ছররা গুলিগুলো ঢুকেছিল, তার কিছু অপারেশনের মাধ্যমে বের করে ফেলা হলেও এখনো ৫ থেকে ৭টি গুলি শরীরে রয়ে গেছে, যা প্রতিনিয়ত ব্যথা, জ্বালা ও অক্ষমতার কারণ হয়ে আছে।
এই চিকিৎসার পেছনে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা, যা যোগাড় করতে তাকে বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হয় গ্রামের সেই গাঁজা গাছ, যা একদিন বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন বয়ে এনেছিল। বর্তমানে সে গুলির যন্ত্রণা নিয়ে জীবন যাপন করছে একটা থেমে যাওয়া শরীর ও পঙ্গু ভবিষ্যতের সাথে মানিয়ে নেয়ার চরম বাস্তবতায়। রাষ্ট্রীয় সহায়তা কিংবা সমাজের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে তিনি আজ নিঃস্ব, নিঃসঙ্গ ও নির্ভরশীল হয়ে শ্বশুরবাড়িতে সপরিবারে বসবাস করছেন।
এখনো শরীরে গুলি, প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা
ওমর ফারুকের মাথা, হাত ও শরীরজুড়ে ছররা গুলির পাঁচ থেকে সাতটি টুকরো রয়ে গেছে, যা প্রতিনিয়ত তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে তিনি তিনটি স্থানে তীব্র ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভব করেন যা চিকিৎসকদের মতে, স্নায়ুবিক জটিলতা বা ভবিষ্যতে সংক্রমণের কারণ হতে পারে। চিকিৎসা চললেও তা সীমিত পর্যায়ের এবং আর্থিক অক্ষমতার কারণে থেমে গেছে অনেক আগেই।
এই অবস্থায় তাঁর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, যেখানে পূর্ণ স্ক্যানিং, অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদি রিহ্যাবিলিটেশন সেবার ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে যেহেতু তাঁর মাথা ও হস্তমূলে গুলি রয়ে গেছে, তাই তা অপসারণ না হলে শারীরিক অক্ষমতা আরও স্থায়ী হয়ে উঠতে পারে। এই চিকিৎসায় এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই; বরং এটি তাঁর বেঁচে থাকার জন্য একটি ন্যূনতম সহায়তা, একটি মানবিক দায়িত্ব।
ক্ষতবিক্ষত জীবনের পুনরায় দাঁড়াবার প্রয়োজন : কর্মসংস্থান প্রস্তাবনা
ওমর ফারুকের শরীরে এখনো ছররা গুলির অসংখ্য টুকরো রয়ে গেছে, যার কারণে তিনি আর শারীরিক পরিশ্রম করতে সক্ষম নন। ফুটপাতে ছোটখাটো ব্যবসার মাধ্যমে যেভাবে পরিবার চালাতেন, সেই সক্ষমতা তিনি হারিয়েছেন। তার হাত, মাথা ও শরীরের ওপর ভারী ব্যথা থাকায় স্বাভাবিক কোনো শ্রমনির্ভর কাজ করাও এখন তাঁর পক্ষে অসম্ভব। এই বাস্তবতায়, তাঁর জন্য একটি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি, ন্যায্য অধিকার এবং মানবিক দায়িত্ব।
বর্তমানে তিনি পরিবারসহ শ্বশুরবাড়িতে থাকছেন, যেখানে অর্থনৈতিক সহায়তা নেই বললেই চলে। একজন আহত ও অসমর্থ মানুষ হিসেবে তাঁকে পুনরায় জীবনের পথে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা কিংবা অল্প পরিশ্রমে আয়ের উপযোগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক বা সৃজনশীল উদ্যোগের সুযোগ। তিনি চাইলে ঘরে বসে পরিচালনা করতে পারেন ক্ষুদ্র পণ্য প্যাকেটজাতকরণ, মুদি দোকান কিংবা বাড়িভিত্তিক হালকা কোনো উদ্যোগ যা তাঁকে আত্মমর্যাদার সঙ্গে জীবনধারণ করতে সহায়তা করবে। সেই সঙ্গে তাঁর জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে বা সমাজভিত্তিক উদ্যোগে একটি নিয়মিত ভাতা চালুর কথাও চিন্তা করা যেতে পারে, যাতে ন্যূনতম মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ নিশ্চিত হয়।
একজন আহত মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রস্তাবিত বাজেট
ওমর ফারুকের আহত হওয়ার পর থেকে তাঁর চিকিৎসা, পরিবার চালানো, কর্মহীনতা ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত খরচ মিলিয়ে একটি সুপরিকল্পিত বাজেট প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়েছে চিকিৎসার পেছনে, যা যোগাড় করতে তাঁকে বিক্রি করতে হয়েছে পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্ন গ্রামের সেই গাছগুলো, যা দিয়ে তিনি একদিন বাড়ি নির্মাণের আশা করেছিলেন।
বর্তমানে তাঁর উন্নত চিকিৎসা, যেমন শরীরে অবশিষ্ট ছররা গুলি অপসারণ, নিয়মিত থেরাপি, ওষুধ এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের ফলোআপের জন্য আনুমানিক ২ লক্ষ টাকার মতো খরচ হতে পারে। এর পাশাপাশি একটি ক্ষুদ্র কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে প্রায় ১ লক্ষ টাকা মূলধন সহায়তা প্রয়োজন, যাতে তিনি আবার আয় করতে পারেন। নিরাপদ বসবাসের জন্য বাড়ি ভাড়া বা নিজস্ব ঘর মেরামতের খরচ হিসেবে ধরা যায় ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা। এছাড়া অন্তত এক বছরের জন্য মাসিক ন্যূনতম জীবনধারণ সহায়তা হিসেবে দরকার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা (প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে)।
সব মিলিয়ে, ওমর ফারুকের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য মোট প্রস্তাবিত বাজেট প্রায় ৫ থেকে ৫.৫ লক্ষ টাকা, যা কিস্তিভিত্তিক সহায়তা বা সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় বাস্তবায়নযোগ্য।
নাম : মো: ওমর ফারুক
জন্ম তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ১৯৯০
জন্মস্থান : নীলফামারী
পেশা : ব্যবসা
কর্মরত প্রতিষ্ঠান : ফুটপাতে বিভিন্ন ব্যবসা করতো
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: খারিজা গোলনা, ইউনিয়ন: ময়দানের ডাঙ্গা, থানা: জলঢাকা, জেলা: নীলফামারী
পিতা : মৃত আজিজার রহমান
মাতা : মৃত নুরজাহান বেগম
সন্তানদের পরিচয়
১. সিয়াম ইসলাম, বয়স: ১৩, পেশা: ছাত্র, সম্পর্ক: ছেলে
২. মারজানা, বয়স: ১৫ মাস, সম্পর্ক: মেয়ে
আক্রমণকারী : পুলিশ
আহত হওয়ার তারিখ সময় : ০৫-০৮-২০২৪ দুপুর ১২টা
ওমর ফারুক, নীলফামারীর একজন সাধারণ মানুষ। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমাতে হয়েছিল তাঁকে, কারণ গ্রামে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করলেও তাঁর আয়ের তেমন কোনো নিশ্চিত উৎস ছিল না। ঢাকার বাইপাইল এলাকায় ফুটপাতে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেই চলতো তাঁর সংসার। গ্রামে পিতৃসূত্রে পাওয়া জমিতে গাঁজা গাছ লাগিয়েছিলেন, যেন একদিন বাড়ি নির্মাণের জন্য বিক্রি করে কিছু অথ যোগাড় করতে পারেন। কিন্তু জীবনের সব হিসাব বদলে যায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে, দুপুর ১২:৩০ মিনিটে, যখন তিনি নিজের কাজ ফেলে ছুটে যান ছাত্র-জনতার আন্দোলনে।
আন্দোলনের মাঠে আহত এক কর্মী
৫ আগস্টের উত্তাল দুপুরে আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন পুলিশের আকস্মিক ছররা গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন ওমর ফারুক। তিনি নিজে আন্দোলনে যুক্ত থাকলেও সে সময় তিনি সহযোগিতা করছিলেন আহতদের ভ্যানে তুলে দিতে। কিন্তু হঠাৎ করেই ছররা গুলি এসে বিদ্ধ করে তাঁর হাত, মুখ, মাথা ও শরীর। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসার লড়াই। হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে হয় তাকে। চিকিৎসা চালিয়ে যেতে তিনি বিক্রি করে দেন গ্রামের সেই গাছ, যা ছিল তাঁর ভবিষ্যতের একমাত্র স্বপ্ন ও ভরসা।
এখন শুধুই থেমে থাকা : পুনর্বাসনের অনুপস্থিতি
আজও ওমর ফারুকের শরীর ও মাথায় ছররা গুলির টুকরোগুলো রয়ে গেছে। এই অবস্থায় তিনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে অক্ষম। তাঁর আর কোনো আয়-উপার্জনের পথ নেই, কারণ শারীরিকভাবে কিছু করতে গেলে প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হয়। বর্তমানে তিনি শ্বশুরবাড়িতে সপরিবারে বসবাস করছেন সেই গ্রামে, যেখান থেকে একদিন স্বপ্ন নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এখন শুধুই নির্ভরশীলতা, নিঃসঙ্গতা আর অনিশ্চয়তা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন সংগ্রামী মানুষ, যিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যদের সহায়তা করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন, আজ তিনি নিজেই রাষ্ট্র ও সমাজের করুণ অনাদরে পড়ে আছেন।
গুলির যন্ত্রণায় জর্জরিত এক আহত মানুষের চিকিৎসাযুদ্ধ
ওমর ফারুক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে ভর্তি হন গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে পরবর্তীতে সাভার সিএমএইচ-এ ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি প্রায় ৭ থেকে ৮ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার শরীরে যে ছররা গুলিগুলো ঢুকেছিল, তার কিছু অপারেশনের মাধ্যমে বের করে ফেলা হলেও এখনো ৫ থেকে ৭টি গুলি শরীরে রয়ে গেছে, যা প্রতিনিয়ত ব্যথা, জ্বালা ও অক্ষমতার কারণ হয়ে আছে।
এই চিকিৎসার পেছনে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা, যা যোগাড় করতে তাকে বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হয় গ্রামের সেই গাঁজা গাছ, যা একদিন বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন বয়ে এনেছিল। বর্তমানে সে গুলির যন্ত্রণা নিয়ে জীবন যাপন করছে একটা থেমে যাওয়া শরীর ও পঙ্গু ভবিষ্যতের সাথে মানিয়ে নেয়ার চরম বাস্তবতায়। রাষ্ট্রীয় সহায়তা কিংবা সমাজের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে তিনি আজ নিঃস্ব, নিঃসঙ্গ ও নির্ভরশীল হয়ে শ্বশুরবাড়িতে সপরিবারে বসবাস করছেন।
এখনো শরীরে গুলি, প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা
ওমর ফারুকের মাথা, হাত ও শরীরজুড়ে ছররা গুলির পাঁচ থেকে সাতটি টুকরো রয়ে গেছে, যা প্রতিনিয়ত তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে তিনি তিনটি স্থানে তীব্র ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভব করেন যা চিকিৎসকদের মতে, স্নায়ুবিক জটিলতা বা ভবিষ্যতে সংক্রমণের কারণ হতে পারে। চিকিৎসা চললেও তা সীমিত পর্যায়ের এবং আর্থিক অক্ষমতার কারণে থেমে গেছে অনেক আগেই।
এই অবস্থায় তাঁর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, যেখানে পূর্ণ স্ক্যানিং, অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদি রিহ্যাবিলিটেশন সেবার ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে যেহেতু তাঁর মাথা ও হস্তমূলে গুলি রয়ে গেছে, তাই তা অপসারণ না হলে শারীরিক অক্ষমতা আরও স্থায়ী হয়ে উঠতে পারে। এই চিকিৎসায় এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই; বরং এটি তাঁর বেঁচে থাকার জন্য একটি ন্যূনতম সহায়তা, একটি মানবিক দায়িত্ব।
ক্ষতবিক্ষত জীবনের পুনরায় দাঁড়াবার প্রয়োজন : কর্মসংস্থান প্রস্তাবনা
ওমর ফারুকের শরীরে এখনো ছররা গুলির অসংখ্য টুকরো রয়ে গেছে, যার কারণে তিনি আর শারীরিক পরিশ্রম করতে সক্ষম নন। ফুটপাতে ছোটখাটো ব্যবসার মাধ্যমে যেভাবে পরিবার চালাতেন, সেই সক্ষমতা তিনি হারিয়েছেন। তার হাত, মাথা ও শরীরের ওপর ভারী ব্যথা থাকায় স্বাভাবিক কোনো শ্রমনির্ভর কাজ করাও এখন তাঁর পক্ষে অসম্ভব। এই বাস্তবতায়, তাঁর জন্য একটি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি, ন্যায্য অধিকার এবং মানবিক দায়িত্ব।
বর্তমানে তিনি পরিবারসহ শ্বশুরবাড়িতে থাকছেন, যেখানে অর্থনৈতিক সহায়তা নেই বললেই চলে। একজন আহত ও অসমর্থ মানুষ হিসেবে তাঁকে পুনরায় জীবনের পথে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা কিংবা অল্প পরিশ্রমে আয়ের উপযোগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক বা সৃজনশীল উদ্যোগের সুযোগ। তিনি চাইলে ঘরে বসে পরিচালনা করতে পারেন ক্ষুদ্র পণ্য প্যাকেটজাতকরণ, মুদি দোকান কিংবা বাড়িভিত্তিক হালকা কোনো উদ্যোগ যা তাঁকে আত্মমর্যাদার সঙ্গে জীবনধারণ করতে সহায়তা করবে। সেই সঙ্গে তাঁর জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে বা সমাজভিত্তিক উদ্যোগে একটি নিয়মিত ভাতা চালুর কথাও চিন্তা করা যেতে পারে, যাতে ন্যূনতম মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ নিশ্চিত হয়।
একজন আহত মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রস্তাবিত বাজেট
ওমর ফারুকের আহত হওয়ার পর থেকে তাঁর চিকিৎসা, পরিবার চালানো, কর্মহীনতা ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত খরচ মিলিয়ে একটি সুপরিকল্পিত বাজেট প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়েছে চিকিৎসার পেছনে, যা যোগাড় করতে তাঁকে বিক্রি করতে হয়েছে পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্ন গ্রামের সেই গাছগুলো, যা দিয়ে তিনি একদিন বাড়ি নির্মাণের আশা করেছিলেন।
বর্তমানে তাঁর উন্নত চিকিৎসা, যেমন শরীরে অবশিষ্ট ছররা গুলি অপসারণ, নিয়মিত থেরাপি, ওষুধ এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের ফলোআপের জন্য আনুমানিক ২ লক্ষ টাকার মতো খরচ হতে পারে। এর পাশাপাশি একটি ক্ষুদ্র কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে প্রায় ১ লক্ষ টাকা মূলধন সহায়তা প্রয়োজন, যাতে তিনি আবার আয় করতে পারেন। নিরাপদ বসবাসের জন্য বাড়ি ভাড়া বা নিজস্ব ঘর মেরামতের খরচ হিসেবে ধরা যায় ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা। এছাড়া অন্তত এক বছরের জন্য মাসিক ন্যূনতম জীবনধারণ সহায়তা হিসেবে দরকার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা (প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে)।
সব মিলিয়ে, ওমর ফারুকের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য মোট প্রস্তাবিত বাজেট প্রায় ৫ থেকে ৫.৫ লক্ষ টাকা, যা কিস্তিভিত্তিক সহায়তা বা সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় বাস্তবায়নযোগ্য।
নাম : মো: ওমর ফারুক
জন্ম তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ১৯৯০
জন্মস্থান : নীলফামারী
পেশা : ব্যবসা
কর্মরত প্রতিষ্ঠান : ফুটপাতে বিভিন্ন ব্যবসা করতো
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: খারিজা গোলনা, ইউনিয়ন: ময়দানের ডাঙ্গা, থানা: জলঢাকা, জেলা: নীলফামারী
পিতা : মৃত আজিজার রহমান
মাতা : মৃত নুরজাহান বেগম
সন্তানদের পরিচয়
১. সিয়াম ইসলাম, বয়স: ১৩, পেশা: ছাত্র, সম্পর্ক: ছেলে
২. মারজানা, বয়স: ১৫ মাস, সম্পর্ক: মেয়ে
আক্রমণকারী : পুলিশ
আহত হওয়ার তারিখ সময় : ০৫-০৮-২০২৪ দুপুর ১২টা
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍