হোম / আহতদের তালিকা / মো. রাফি উল্লাহ
মো. রাফি উল্লাহ

মো. রাফি উল্লাহ

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

স্বপ্ন দেখে যে ছাত্র, গুলির মুখে পড়ে সে
মো. রাফি উল্লাহ, নীলফামারীর সন্তান, পেশায় একজন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। একজন সাধারণ ছাত্র হিসেবেই তিনি যুক্ত ছিলেন দেশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতো রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যখন শহীদ হন আবু সাঈদ, তখন উত্তরের শহর সৈয়দপুরে আন্দোলন আরও দানা বাঁধে। সেই আন্দোলনের অগ্রভাগের যোদ্ধা ছিলেন রাফি। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে মিছিল, মানব বন্ধন ও প্রতিবাদে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। তার চোখে ছিল স্বপ্ন একটা বৈষম্যহীন দেশের।

ছররা গুলির ক্ষত, একটি জীবন থমকে যায়
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, দুপুর প্রায় একটার দিকে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। সৈয়দপুরে চলমান ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশের আচমকা গুলিবর্ষণে রাফি উল্লাহ ছররা গুলির আঘাতে গুরুতর আহত হন। বন্ধুরা ত্বরিৎ গতিতে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। শরীরের একাধিক জায়গায় ছররা গুলির ক্ষত এখনো রয়ে গেছে। চিকিৎসা চলছে, কিন্তু সে দিনটির মানসিক ও শারীরিক ক্ষত তাঁকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা ও অধিকার চাওয়ার মূল্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
একজন শিক্ষার্থীর জীবনে থেমে যাওয়া সূর্য
রাফি উল্লাহর গল্পটা শুধু একজন আহত ছাত্রের নয় এটি একটি প্রজন্মের স্বপ্নভঙ্গের গল্প। যিনি হয়তো হতে পারতেন একজন শিক্ষক, গবেষক কিংবা সমাজের আলোকিত মানুষ, সেই রাফি আজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাঁচার সংগ্রাম করছেন। পিতা মো. মুরাদ একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর মা রানী বেগম একজন গৃহিণী। তাঁদের পক্ষে উন্নত চিকিৎসা বা দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন খরচ বহন করা কঠিন। অথচ রাফির জীবন শুরুই হয়েছিল আলো ও সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে। এখন সেই জীবন থেমে গেছে একটি রক্তাক্ত বিকেলে।
অপারেশন শেষে গুলির ভারে আজও নত এক তরুণের জীবন
আহত হওয়ার পর মো. রাফি উল্লাহকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর শরীর থেকে ছররা গুলি অপারেশনের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা চালান। অনেক চেষ্টার পরও তাঁর শরীর থেকে সমস্ত গুলি অপসারণ সম্ভব হয়নি। এখনও তাঁর দেহে ছররা গুলির কণা বিদ্যমান যা প্রতিনিয়ত ব্যথা, ঝুঁকি এবং জীবন সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন তরুণ, যার জীবন ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর, আজ প্রতিটি দিন কাটাচ্ছেন গুলির যন্ত্রণা নিয়ে। এই স্থায়ী ক্ষত শুধু তাঁর শারীরিক সক্ষমতাকেই কমিয়ে দেয়নি, তার মানসিক শক্তিও প্রতিনিয়ত ক্ষয়ে যাচ্ছে। উন্নত চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ ছাড়া রাফির স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব।
আলো দেখার আশায় চিকিৎসা চাই একজন ছাত্রের
মো. রাফি উল্লাহর শরীরে মোট ১৬টি ছররা গুলি বিদ্ধ হয়েছিল। দীর্ঘচিকিৎসা ও অপারেশনের পর তার দেহ থেকে অধিকাংশ গুলি বের করে ফেলা সম্ভব হলেও, একটি ছররা গুলি এখনও রয়ে গেছে তার বাম চোখে। এই গুলি প্রতিনিয়ত তাঁর চোখের দৃষ্টিশক্তিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং যে কোনো সময় স্থায়ী অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।
চোখের মতো স্পর্শকাতর অঙ্গে অস্ত্রোপচার অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত উন্নতমানের চক্ষু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। কিন্তু পরিবারটির অর্থনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এই চিকিৎসা বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে।
তাই প্রস্তাব করা হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় সহায়তা বা সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে রাফির উন্নত চক্ষু চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের ব্যবস্থা করা হোক। একজন সম্ভাবনাময় তরুণের দৃষ্টিশক্তি বাঁচানো কেবল একজন ব্যক্তিকে নয় বরং একটি সচেতন প্রজন্মকে রক্ষা করার সমান।
আহতের জীবনে স্থিতি ফেরাতে কর্মসংস্থানের প্রয়োজন
মো. রাফি উল্লাহ একজন শিক্ষার্থী, যিনি আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে শিক্ষা ও ভবিষ্যতের কর্মজীবন থেকে ছিটকে পড়েছেন। শরীরে এখনো একটি ছররা গুলি রয়ে গেছে, যা তার দৈনন্দিন চলাফেরা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করছে।
এই অবস্থায় তার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তায় ঘেরা এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্ন উঠে এসেছে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে। একজন তরুণের জীবন যেন সহানুভূতির অপেক্ষায় থেমে না থাকে, তাই প্রয়োজন একটি নিরাপদ ও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।
প্রস্তাব করা হচ্ছে, রাফিকে তার শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী একটি সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়া হোক, যেমন সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সহায়তামূলক দায়িত্ব বা শিক্ষা-সহায়ক কাজ। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে তার জন্য মাসিক ভাতা অথবা শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ নিশ্চিত করা যেতে পারে, যাতে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
একটি স্বপ্নকে বাঁচাতে প্রস্তাবিত বাজেট পরিকল্পনা
রাফি উল্লাহর চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও পুনঃ স্থাপনের জন্য একটি মানবিক বাজেট পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপারেশনের মাধ্যমে ১৬টি ছররা গুলির অধিকাংশ বের করা গেলেও একটি গুলি এখনো রয়ে গেছে বাম চোখে, যা তাঁর জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। উন্নত চক্ষু চিকিৎসা এবং স্নায়ু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান ব্যয়বহুল হওয়ায় একটি আর্থিক সহায়তা পরিকল্পনা ছাড়া এ চিকিৎসা অসম্ভব।
চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, ফলোআপ এবং ওষুধের জন্য প্রাথমিকভাবে ২ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। চোখের উন্নত অপারেশনের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির খরচ প্রায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি বাসস্থান ভাড়া বা পুনর্বাসন, দৈনন্দিন খরচ, পুষ্টি ও নিরাপত্তার জন্য ১ লক্ষ টাকা এবং অন্তত এক বছরের জন্য মাসিক ভাতা (১০,০০০ টাকা হারে) ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে মোট প্রস্তাবিত বাজেট প্রায় ৯ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, যা বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা গেলে একজন তরুণের জীবন, শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এই বাজেট শুধু অর্থের হিসাব নয় বরং এটি একজন সম্ভাবনাময় তরুণকে ফিরে পাওয়ার বিনিয়োগ। এটি ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য একটি বার্তা, আন্দোলনের মিছিলে কেউ যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, সমাজ-রাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়াবে।

নাম : মো. রাফি উল্লাহ
জন্ম তারিখ : ১৮-১০-২০০৫
জন্মস্থান : নীলফামারী
নিজ জেলা : নীলফামারী
পেশা : শিক্ষার্থী
স্থানীয় ঠিকানা : গ্রাম: হাওলাদারপাড়া, ইউনিয়ন: পৌরসভা, থানা: সৈয়দপুর, জেলা: নীলফামারী
বর্তমান ঠিকানা : ঐ
পিতা : মোঃ মুরাদ
মাতা : রাণী
ভাই-বোনদের পরিচয়
১. রিমন, বয়স: ১৮, পেশা: শিক্ষার্থী, সম্পর্ক: ভাই
২. মুসকান, বয়স: ১৭, পেশা: শিক্ষার্থী, সম্পর্ক: বোন
৩. মাঈশা, বয়স: ০৭, পেশা: শিক্ষার্থী, সম্পর্ক: বোন
আক্রমণকারী : পুলিশ
আহত হওয়ার তারিখ সময় : ১৮-০৭-২০২৪ দুপুর ১টা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍