সাকিব মাহমুদউল্লাহ
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ছাত্র
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্ম পরিচয়
সাকিব মাহমুদউল্লাহ ১৮ জানুয়ারি ২০০৪ সালে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানার কাজীপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করত। তার পিতা মৃত মো: আকবর আলী ও মাতা আম্বিয়া খাতুন একজন গৃহিণী। পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। তার বড় দুই ভাই আক্তার এবং সাজু ব্যবসা করেন। ছোট দুই বোন রানী ও মনি বিবাহিত। বর্তমানে তার ভাইয়েরা তাকে দেখাশুনা করেন।
পাঁচমাথার রক্তঝরা দুপুর
সৈয়দপুর শহর যেন এক টুকরো আগুন হয়ে উঠেছিল ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তখন তুঙ্গে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বৈষম্য, রাজনৈতিক অনাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি শহরে তরুণরা গর্জে উঠছিল। এই আন্দোলনের প্রথম সারির একজন যোদ্ধা ছিল সাকিব মাহমুদউল্লাহ একজন সাহসী, সচেতন, আর আত্মবিশ্বাসী কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী। সাকিব ছাত্র রাজনীতির কেউ ছিল না। ছিল এক সাধারণ শিক্ষার্থী, যার বুকজুড়ে স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায্য, মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার। ১৮ জুলাই ২০২৪, দিনটি ছিল শুক্রবার। সাকিব মাহমুদউল্লাহ সকাল থেকেই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ধীরে ধীরে ছাত্র-জনতা পাঁচ মাথায় জড়ো হতে শুরু করে। বেলা গড়াতেই ছাত্র-জনতা এবং স্বৈরাচারী পুলিশ বাহিনীর সাথে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দুপুর ২টা বাজে। সৈয়দপুরের ব্যস্ত পাঁচমাথা মোড় এবং ফুলবাগান এলাকা তখন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর। শ্লোগান উঠছিল “শিক্ষায় বৈষম্য চলবে না! “অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও!”
চারপাশে ব্যানার, পোস্টার, পতাকা, হাজারো কণ্ঠে ছিল প্রতিবাদের ঝড়। সাকিবও শ্লোগান দিচ্ছিল,”বঞ্চনার বাংলাদেশ চাই না!” ঠিক তখনই পরিস্থিতি ঘনিয়ে ওঠে। স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী, আওয়ামী যুববাহিনী দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদের উপর হামলা করে। পরক্ষণেই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। কান ফাটানো শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে। ছাত্ররা দৌড়াতে শুরু করে, কেউ রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সাকিব সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এক পুলিশ সদস্য সোজা তাক করে গুলি চালালে তা বিদ্ধ হয় সাকিবের বাম চোখে। তার সারা শরীরে ছররা গুলি লাগে। এক চিৎকারে সে মাটিতে পড়ে যায়। তখন ছাত্র জনতা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হসপিটালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্ণনা
আহত হওয়ার সাথে সাথে ছাত্র-জনতা তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হসপিটালে ভর্তি করে। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই তিন অবস্থান করেন। চিকিৎসার অভাবে সেখান থেকে তাকে বাংলাদেশ আই হসপিটাল মালিবাগে নিয়ে যাওয়া হয়। দু’দিন পর ডাক্তার তার চোখ থেকে এবং সারা শরীর থেকে গুলি বের করে। কিন্তু তিনি তার বাম চোখ রক্ষা করতে পারেননি। তার বাম চোখে আলো হারিয়ে যায় চিরদিনের জন্য । তাকে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে যাতে ডান চোখটি ভালো থাকে। তার চিকিৎসা বাবদ প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয় যেটা তার পরিবার বহন করে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
ডান চোখ যেন ভালো থাকে সে জন্য উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
এককালীন সহায়তা করা যেতে পারে।
নাম : সাকিব মাহমুদউল্লাহ
জন্ম তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০০৪
জন্মস্থান : নীলফামারী
পেশা : ছাত্র
প্রতিষ্ঠান : রংপুর কারমাইকেল কলেজ
নিজ জেলা : নীলফামারী
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: কাজীপাড়া, ইউনিয়ন : সৈয়দপুর পৌরসভা, থানা: সৈয়দপুর, জেলা : নীলফামারী
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মৃত মো: আকবর আলী
মায়ের নাম : আছিয়া খাতুন
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৬৫
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. আক্তার, বয়স : ৪২ , পেশা: ব্যবসা, সম্পর্ক : ভাই
২. সাজু, বয়স : ৩১ , পেশা: ব্যবসা, সম্পর্ক : ভাই
৩. রানী, বয়স :২৬ , বিবাহিত, সম্পর্ক: বোন
৪. মনি, বয়স: ২৪, বিবাহিত, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : পাঁচ মাথা মোড়, ফুলবাগান, সৈয়দপুর
আহত হওয়ার সময় : ১৮ জুলাই ২০২৪, বৃহস্পতিবার, দুপুর ২:৩০
আক্রমণকারী : পুলিশ
সাকিব মাহমুদউল্লাহ ১৮ জানুয়ারি ২০০৪ সালে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানার কাজীপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করত। তার পিতা মৃত মো: আকবর আলী ও মাতা আম্বিয়া খাতুন একজন গৃহিণী। পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। তার বড় দুই ভাই আক্তার এবং সাজু ব্যবসা করেন। ছোট দুই বোন রানী ও মনি বিবাহিত। বর্তমানে তার ভাইয়েরা তাকে দেখাশুনা করেন।
পাঁচমাথার রক্তঝরা দুপুর
সৈয়দপুর শহর যেন এক টুকরো আগুন হয়ে উঠেছিল ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তখন তুঙ্গে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বৈষম্য, রাজনৈতিক অনাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি শহরে তরুণরা গর্জে উঠছিল। এই আন্দোলনের প্রথম সারির একজন যোদ্ধা ছিল সাকিব মাহমুদউল্লাহ একজন সাহসী, সচেতন, আর আত্মবিশ্বাসী কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী। সাকিব ছাত্র রাজনীতির কেউ ছিল না। ছিল এক সাধারণ শিক্ষার্থী, যার বুকজুড়ে স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায্য, মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার। ১৮ জুলাই ২০২৪, দিনটি ছিল শুক্রবার। সাকিব মাহমুদউল্লাহ সকাল থেকেই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ধীরে ধীরে ছাত্র-জনতা পাঁচ মাথায় জড়ো হতে শুরু করে। বেলা গড়াতেই ছাত্র-জনতা এবং স্বৈরাচারী পুলিশ বাহিনীর সাথে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দুপুর ২টা বাজে। সৈয়দপুরের ব্যস্ত পাঁচমাথা মোড় এবং ফুলবাগান এলাকা তখন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর। শ্লোগান উঠছিল “শিক্ষায় বৈষম্য চলবে না! “অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও!”
চারপাশে ব্যানার, পোস্টার, পতাকা, হাজারো কণ্ঠে ছিল প্রতিবাদের ঝড়। সাকিবও শ্লোগান দিচ্ছিল,”বঞ্চনার বাংলাদেশ চাই না!” ঠিক তখনই পরিস্থিতি ঘনিয়ে ওঠে। স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী, আওয়ামী যুববাহিনী দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদের উপর হামলা করে। পরক্ষণেই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। কান ফাটানো শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে। ছাত্ররা দৌড়াতে শুরু করে, কেউ রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সাকিব সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এক পুলিশ সদস্য সোজা তাক করে গুলি চালালে তা বিদ্ধ হয় সাকিবের বাম চোখে। তার সারা শরীরে ছররা গুলি লাগে। এক চিৎকারে সে মাটিতে পড়ে যায়। তখন ছাত্র জনতা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হসপিটালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্ণনা
আহত হওয়ার সাথে সাথে ছাত্র-জনতা তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হসপিটালে ভর্তি করে। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই তিন অবস্থান করেন। চিকিৎসার অভাবে সেখান থেকে তাকে বাংলাদেশ আই হসপিটাল মালিবাগে নিয়ে যাওয়া হয়। দু’দিন পর ডাক্তার তার চোখ থেকে এবং সারা শরীর থেকে গুলি বের করে। কিন্তু তিনি তার বাম চোখ রক্ষা করতে পারেননি। তার বাম চোখে আলো হারিয়ে যায় চিরদিনের জন্য । তাকে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে যাতে ডান চোখটি ভালো থাকে। তার চিকিৎসা বাবদ প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয় যেটা তার পরিবার বহন করে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
ডান চোখ যেন ভালো থাকে সে জন্য উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
এককালীন সহায়তা করা যেতে পারে।
নাম : সাকিব মাহমুদউল্লাহ
জন্ম তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০০৪
জন্মস্থান : নীলফামারী
পেশা : ছাত্র
প্রতিষ্ঠান : রংপুর কারমাইকেল কলেজ
নিজ জেলা : নীলফামারী
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: কাজীপাড়া, ইউনিয়ন : সৈয়দপুর পৌরসভা, থানা: সৈয়দপুর, জেলা : নীলফামারী
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মৃত মো: আকবর আলী
মায়ের নাম : আছিয়া খাতুন
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৬৫
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. আক্তার, বয়স : ৪২ , পেশা: ব্যবসা, সম্পর্ক : ভাই
২. সাজু, বয়স : ৩১ , পেশা: ব্যবসা, সম্পর্ক : ভাই
৩. রানী, বয়স :২৬ , বিবাহিত, সম্পর্ক: বোন
৪. মনি, বয়স: ২৪, বিবাহিত, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : পাঁচ মাথা মোড়, ফুলবাগান, সৈয়দপুর
আহত হওয়ার সময় : ১৮ জুলাই ২০২৪, বৃহস্পতিবার, দুপুর ২:৩০
আক্রমণকারী : পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍