হোম / আহতদের তালিকা / সানাউল্লাহ আহমেদ
সানাউল্লাহ আহমেদ

সানাউল্লাহ আহমেদ

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা


জন্ম ও বেড়ে ওঠা
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শহরের অফিসার্স কলোনিতে জন্ম নেয় এক পরিশ্রমী, মেধাবী ও শান্তশিষ্ট শিশু সানাউল্লাহ আহমেদ। তার জন্ম ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর। ছোটবেলা থেকেই সে ছিলো প্রচণ্ড জিজ্ঞাসু আর বইপোকা। বাবা নাফিজ আহমেদ একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আর মা রুপা পারভিন গৃহিণী হলেও ছিলেন সানাউল্লাহর প্রথম শিক্ষক। পাঁচ সদস্যের পরিবারে বড় বোন নুরজাহান সৈয়দপুর সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছোট ভাই আতাউল্লাহ সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
সানাউল্লাহ সৈয়দপুর বি এম কলেজে পড়াশুনা করত। লেখাপড়ার পাশাপাশি দেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি তার দায়িত্ববোধ ছিল প্রবল। বড় হয়ে সে দেশের জন্য কিছু করতে চেয়েছিল। প্রতিবাদী মনোভাব আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার সাহস সে পেয়েছিল বাবা-মায়ের শিক্ষা আর বড় বোনের আদর্শ থেকে।
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের জুলাই মাস বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি রক্তাক্ত এবং প্রতিবাদে উত্তাল সময়। কোটা সংস্কার ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে। দিন যত গড়াতে থাকে, সরকারের প্রতিক্রিয়া ততই হিংস্র হয়ে ওঠে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলিবর্ষণ, লাঠিচার্জ আর ধরপাকড় ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। সানাউল্লাহ তখনও মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর। তবু তার মনে ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের স্পষ্ট প্রতিজ্ঞা। বড় বোন নুরজাহানের মাধ্যমে সে আন্দোলনের খোঁজখবর রাখত, জানত কোথায় কী হচ্ছে। স্কুল-কলেজের বড় ভাই-বোনদের দেখে তার ভিতরেও জন্ম নেয় দেশপ্রেমের আগুন। ১৮ জুলাই ২০২৪ সালে দুপুরে পাঁচমাথা মোড়ে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের খবর শুনে সে সাহস করে সেখানে চলে যায়।
পাঁচমাথা মোড়ের লোমহর্ষক ঘটনা
১৮ জুলাই, ২০২৪। সৈয়দপুর শহরের পাঁচমাথা মোড় যেন রণক্ষেত্র। দুপুর দু’টার দিকে হাজারো ছাত্র, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ জড়ো হয়েছিল অন্যায়ের প্রতিবাদে। তারা প্ল্যাকার্ড হাতে শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল । হঠাৎ করেই স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী, আওয়ামী যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ বেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে ছাত্র জনতার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সানাউল্লাহ, সবেমাত্র দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। কিন্তু তার কন্ঠে ছিল অন্যায়ের প্রতিবাদ। সে চিৎকার করে বলছিল, “ভাইয়া, অন্যায় মেনে নেয়া যায় না!” কিন্তু কিছু বোঝার আগেই পেছন থেকে ছররা গুলি এসে তার সারা শরীরে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। রক্তে ভেসে যেতে থাকে তার পায়ের নিচের রাস্তা। চারপাশে শুধু আর্তনাদ, কান্না আর বিশৃঙ্খলা।
হাসপাতালের লড়াই ও ভোগান্তি
আহত সানাউল্লাহকে স্থানীয় কিছু সাহসী যুবক দ্রুত সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু হাসপাতাল তখন পুলিশী চাপ আর ভয়ে কার্যত অচল। “এই আন্দোলনকারীদের দেখবো না” এমন কথাও কেউ কেউ বলেছিল।
চিকিৎসকের অভাবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা মেলেনি। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে রংপুর মেডিকেলে কিছুদিন চিকিৎসা নেন। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে তিনি গ্রীন লাইফ ঢাকা হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার শরীর থেকে অপারেশন করে ছররাগুলি বের করা হয়। এখনো প্রায় ৮-৯ টার মতো ছররাগুলি তার শরীরে রয়ে গেছে। বর্তমানে তার কাজকর্ম এবং হাঁটা-চলায় কষ্ট হয়।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তার বাকি ছররাগুলি বের করার ব্যবস্থা করা।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
তার পড়ালেখার জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা। তার পিতার জন্য স্থায়ী ব্যবসার ব্যবস্থা করা।

নাম : সানাউল্লাহ আহমেদ
জন্ম তারিখ : ১১ নভেম্বর ২০১০
জন্মস্থান : নীলফামারী
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : সৈয়দপুর বি এম কলেজ
নিজ জেলা : নীলফামারী
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: অফিসার্স কলোনি, ইউনিয়ন: সৈয়দপুর পৌরসভা, থানা: সৈয়দপুর, জেলা: নীলফামারী
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : নাফিজ আহমেদ
মায়ের নাম : রুপা পারভিন
পিতার পেশা ও বয়স : ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ৫০
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. নুরজাহান, বয়স: ১৮, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: অনার্স প্রথম বর্ষ, সম্পর্ক: বোন
২. আতাউল্লাহ, বয়স: ৯ বছর, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: পঞ্চম শ্রেণী, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : পাঁচমাথা মোড়, সৈয়দপুর
আহত হওয়ার সময় : ১৮ জুলাই ২০২৪, দুপুর দুটো
আক্রমণকারী : পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍