হোম / আহতদের তালিকা / মো: রাহিমুল ইসলাম মাহিন
মো: রাহিমুল ইসলাম মাহিন

মো: রাহিমুল ইসলাম মাহিন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ফ্যাসিস্ট সরকার একজন
রাজমিস্ত্রীকেও ভয় পায়

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম পরিচয়
নীলফামারির সৈয়দপুর উপজেলাধীন নতুন বাবুপাড়া গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম রাহিমুল ইসলাম মাহিনের। তার জন্ম ২০০৫ সালের ৪ এপ্রিল, নীলফামারির কোলে। ছোটবেলা থেকেই জীবন ছিল সংগ্রামের। বাবা ইউসুফ আলী একজন রাজমিস্ত্রী, বয়স ৪৮; দিন এনে দিন খাওয়া সংসারে প্রতিদিন কাঁধে তুলে নেন ইঁট-বালুর বোঝা। মা মজিদা বেগম, বয়স ৪৫, গার্মেন্টসে কাজ করেন, কখনো সেলাই মেশিন, কখনো সুতা কেটে রুটি-রুজির ব্যবস্থা করেন।

পরিবারে ছয়জন সদস্য। বড় ভাই রবিউল ইসলাম (বয়স ২৫) রেইল মাস্টার (টিটি) হিসেবে কাজ করেন। ছোট বোন ইশরাত জাহান মাইশা বর্তমানে নবম শ্রেণির ছাত্রী। এই পরিবারটিই ছিল মাহিনের বেঁচে থাকার প্রেরণা, শক্তি আর ভালোবাসার আশ্রয়। অর্থনৈতিক চাপের কারণে লেখাপড়ার সেভাবে সুযোগ হয়নি মাহিনের। কৈশোরেই রাজমিস্ত্রির কাজ বেছে নিতে হয়। বাবার পাশে দাঁড়াতে গিয়েই হারিয়ে যায় শৈশব। তারুণ্য পায় দায়িত্বের ভার। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মানসিকতা তার ছিল বরাবর। আর সেই মানসিকতাই তাকে টেনে নেয় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে।
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুঁসে ওঠে প্রতিবাদের আগুন। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক নিয়োগ ও ক্ষমতাসীনদের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে। এই আন্দোলন পরে পরিচিত হয় “জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান” নামে।
সৈয়দপুর, রংপুর, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের শহরগুলোতে তরুণদের ঢল নামে। সাধারণ শ্রমিক, ছাত্র, বেকার যুবক সবাই মিলে গড়ে তোলে গণপ্রতিরোধ। মাহিনও ছিলেন এ আন্দোলনের অগ্রভাগে। রাজমিস্ত্রির কাজে দিন কাটালেও দেশের প্রতি ভালোবাসা আর সামাজিক ন্যায়ের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ছিল প্রবল। তাই পরিবারে ছোট বোন ও মায়ের উদ্বেগ উপেক্ষা করেও তিনি যোগ দেন শহরের বুকে সংগঠিত বিক্ষোভে। ১৮ জুলাই দুপুর ২টার দিকে পাঁচমাথা মোড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে মাহিন অংশ নেন।
পুলিশের তাণ্ডব ও আহত মাহিন
১৮ জুলাই ২০২৪, ঠিক দুপুর ২টা। সৈয়দপুরের পাঁচমাথা মোড় হয়ে ওঠে রণক্ষেত্র। ব্যানার, পোস্টার, প্রতিবাদী স্লোগানে মুখর ছিল চারপাশ। হঠাৎ করেই বিক্ষোভকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশ বাহিনী। প্রথমে লাঠিচার্জ, তারপর কাঁদানে গ্যাস শেষমেশ শুরু হয় ছররা গুলির বর্ষণ।
মাহিন তখন মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন, আচমকা গুলির শব্দে থেমে যান। পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে। কয়েকটা ছররা গুলি তার ডান চোখে বিদ্ধ হয়। সাথে সাথেই চোখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। চোখ রক্তে রঞ্জিত হয়। এছাড়াও তার শরীরের পিঠজুড়ে বেশ কিছু ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। রক্তে ভিজে যায় জামা-কাপড়, আর পাঁচমাথা মোড়ের পিচঢালা রাস্তাও। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা পুলিশকে প্রতিহত করে মাহিনকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্ণনা
সৈয়দপুর উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু তার চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়। তারপর তাকে সাথে সাথে ঢাকায় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো হয়। সেই সময়ে স্বৈরাচারী সরকারের দোসর বাহিনী আহতদেরকে হয়রানি করছিল। হাসপাতালগুলোতেও তারা তাণ্ডবলীলা চালায়। ফলত বেশিরভাগ আহতরাই সঠিক চিকিৎসা পাননি। সঠিক চিকিৎসার অভাবে অনেকেই তাদের হাত-পা এবং চোখ হারান। মাহিনও তার ডান চোখে আর আলো ফেরাতে পারেনি। হারানো মাহিন তার জীবনে যে ক্ষতির সম্মুখীন হয় তা কখনো পূরণ হবে না। এই ঘটনা শুধু মাহিনের নয় এটা ছিল গোটা দেশের গণআন্দোলনের প্রতিচ্ছবি। এক তরুণ রাজমিস্ত্রী, যার জীবনে ছিল কেবল হাড়ভাঙা পরিশ্রম, সে-ই হয়ে ওঠে গণআন্দোলনের এক প্রতীক।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
একটি ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেয়া।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍