হোম / আহতদের তালিকা / মো. জুবায়ের হোসেন
মো. জুবায়ের হোসেন

মো. জুবায়ের হোসেন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

পরিচিতি
মো. জুবায়ের হোসেন ৩ আগস্ট ২০০৪ সালে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার নতুন বাবুপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিনাজপুর আদর্শ কলেজের ম্যানেজমেন্টের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মেধাবী ছাত্র জুবায়ের হোসেন ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন।

তার বাবা মো. নূর আলম একজন ব্যবসায়ী এবং মা রোজী গৃহিণী। তার বাবা ব্যবসা করে যে টাকা ইনকাম করতেন তা দিয়েই তাদের সংসারের ব্যয়ভার বহন করেন।
জুলাই আন্দোলনের ঢেউয়ে আহত জুবায়ের
জুলাই ২০২৪ দেশজুড়ে তখন অস্থিরতা। ছাত্র-যুবসমাজ চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে চলমান বৈষম্যের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুরসহ দেশের প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে। এই আন্দোলনই ইতিহাসে পরিচিত হয় ‘জুলাই আন্দোলন’ নামে। আন্দোলনের সূচনা ঘটে ১ জুলাই তারিখে, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার ও চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নামে। কয়েকদিনের মধ্যে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে জেলা পর্যায়ে। নীলফামারির সৈয়দপুর ছিল সেই জেলাগুলোর অন্যতম, যেখানে শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে ১৮ জুলাই ২০২৪ থেকেই আন্দোলন চলতে থাকে, দুপুর ২টার দিকে পুলিশ অতর্কিত আক্রমণ করে এবং গুলি চালায়। ওইদিন আন্দোলনে ৩০০০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
১৮ জুলাই ২০২৪, দুপুর ২টা
সৈয়দপুর শহরের পাঁচ মাথা মোড়ে জড়ো হয় শতাধিক শিক্ষার্থী। প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন তারা “বৈষম্যের অবসান চাই!”, “আমরা ছাত্র, আমরা সন্ত্রাসী না!”। বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ, ছাত্রদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, ছিল শুধু প্রতিবাদ আর স্বপ্ন। কিন্তু আচমকাই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পুলিশ সদস্যরা বিনা উস্কানিতে লাঠিচার্জ শুরু করে। হঠাৎ হামলায় অনেকেই সরে যায়। কেউ কেউ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। সে সাহায্যের জন্য অনেক আকুতি জানায়। তার আকুতি শুনে জুবায়ের হোসেন বসে থাকতে পারেননি। তিনি তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যান। এই সুযোগকে স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ কাজে লাগায়। জুবায়ের হোসেনকে খুব কাছ থেকে পুলিশ গুলি মারে। ছররাগুলিগুলো তার দুই পায়ে লেগে পা ঝাঁঝরা হয়ে যায়। রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন জুবায়ের। অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্ণনা
ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্থি করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে গ্রীন লাইফ ঢাকা মেডিকেল হসপিটালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকা সিএমএইচ হসপিটালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার বেশ কিছু ছররাগুলি বের করা হয়। তার শরীরে এখনো প্রায় ৮০ টার মতো ছররাগুলি রয়ে গেছে। তার সারা শরীর ব্যথা করে। চলাফেরা করতে এবং ঘুমাতে সমস্যা হয়। তার চিকিৎসা করাতে পরিবারের প্রায় এক লক্ষ টাকা ঋণ হয়।

নাম : মো. জুবায়ের হোসেন
জন্ম তারিখ : ৩ আগস্ট ২০০৪
জন্মস্থান : নীলফামারি
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : দিনাজপুর আদর্শ কলেজ
নিজ জেলা : নীলফামারি
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: নতুন বাবুপাড়া, ইউনিয়ন: সৈয়দপুর পৌরসভা, থানা: সৈয়দপুর, জেলা: নীলফামারি
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো. নুর আলম
মায়ের নাম : রোজি
পিতার পেশা ও বয়স : ব্যবসা,৫৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫২
মাসিক আয় : ৩০ হাজার
আয়ের উৎস : পাইকারি ব্যবসা (প্রসাধনী)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৩ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. সাগুপ্তা, বয়স: ২৫, বিবাহিত, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : পাঁচ মাথা মোড়, সৈয়দপুর
আহত হওয়ার সময় : ১৮ জুলাই ২০২৪, দুপুর ২ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍