হোম / আহতদের তালিকা / নূর আলম
নূর আলম

নূর আলম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শ্রমিক

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

পরিচিতি
বাবা আরিফুর রহমান মারা যাওয়ার পর অসহায় হয়ে পড়েন আরিফুর রহমানের পরিবার। নিজে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। কাজ করেই পড়ালেখা করেন। দুই বোন ও মাকে নিয়ে তার সংসার। তিনি জন্মগ্রহণ করেন দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার বিনোদপুর ইউনিয়নের তর্জনঘাট গ্রামে।
বাবা আরিফুর রহমান মারা গেছেন, মা নুরবানু। তিনি জুলাইয়ের একজন সক্রিয় সৈনিক। ময়দানে আহত হয়েছেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ২০০৭ সালের ১০ জুলাই।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
নুর আলম স্কুলের গণ্ডি পার হননি। তার আগেই সংসারের জোয়াল পড়েছে কাঁধে। বাবা মারা যাওয়ায় এই দায় তার বহন করতে হয়। নিজে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। সাথে চালিয়ে যান নিজের পড়ালেখা। বয়স কম হলেও বুদ্ধি তার দিগন্ত প্রসারিত। এ বয়সেই তার উপলব্ধি হয় দেশ আছে সংকটকালে। জুলাইয়ে যখন আন্দোলন শুরু হয় তখন সে আন্দোলনে শরিক হয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে।
জুলাইয়ের আন্দোলন শুধু আন্দোলন ছিল না। ছিল একটি বিপ্লব। এই বিপ্লব একটি ভোট ডাকাত সরকারের বিরুদ্ধে দ্রোহ প্রকাশ। পনেরো বছর কথা বলতে না পারার ক্ষোভ, হত্যা, গুমের বিরুদ্ধে দ্রোহ, কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। দেশের সর্বস্তরের জনতা দেখে আসছে কেউ কথা বললে কী ভয়াবহ পরিণতি করতো আওয়ামী লীগ। মানুষকে হামলা, মামলায় বীতশ্রদ্ধ করে রেখেছিল। বিরোধী মত বিরোধী রাজনৈতিক দল, ভিন্ন মত কাউকেই কথা বলতে দেয়নি।
তাই জুলাইয়ে যখন আন্দোলন শুরু হলো তা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র জনে জনে। মানুষ নেমে আসে রাজপথে। শ্রেণিপেশার সকল মানুষ আন্দোলনে অংশ নেয়। নুর আলম একজন কিশোর ছাত্র। তার মনেও আন্দোলন দানা বাঁধে। তিনিও অংশ নেন এই আন্দোলনে। তার শহরেও আন্দোলনের উষ্ণ বাতাস বইতে থাকে। প্রতিদিন কাজ শেষে তিনি যোগ দেন আন্দোলনে।
সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করে আন্দোলনকারীদের দমন করতে। প্রকাশ্য রাজপথে সরাসরি গুলি করে হত্যা করতে থাকে ছাত্রদের। দেশের পবিত্র মাটি মুক্তিকামী জনতার তরতাজা রক্তে রঞ্জিত হয়। প্রতিদিন বাড়তে থাকে আহত, নিহতের সংখ্যা। আন্দোলনকারীরা ইস্পাতদৃঢ় হয়। সাথীদের রক্তের শপথে চালিয়ে যায় আন্দোলন। জুলাই গড়িয়ে আগস্ট আসে। আগস্ট হয়ে যায় জুলাই। বিপ্লবের ৩৬ জুলাই হাসিনা পালাতে বাধ্য হয়। লজ্জাজনক পন্থায় পলায়ন করে।
৫ আগস্ট, তার আগেই সারা দেশ থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী মাঠ ছেড়ে দেয়। সকাল থেকেই ময়দান আন্দোলনকারীদের দখলে। মিছিলে ক্ষুব্ধ জনতা সন্ত্রাসী লীগের স্থাপনা ভাঙচুর করে। নবাবগঞ্জ বাজারে তখন ভাংচুর হয়। হঠাৎ জানালার একটি কাচ এসে তার পায়ে মারাত্মক ক্ষত তৈরি করে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রিক বর্ণনা
৫ আগস্ট বেলা ১১ টায় তারা একত্রিত হয়ে নবাবগঞ্জ বাজারে বিক্ষোভ করেন। ক্ষুব্ধ জনতা ভাংচুর করে। একটি স্থাপনার জানালার কাচ ভেঙে তার পায়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। সাথে সাথে তাকে নবাবগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হয়। তার পায়ে যে ক্ষত হয় তাতে তারা তার চিকিৎসা করতে সাহস করে না। গভীর ক্ষতের কারণে পায়ের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হয়। তাকে নবাবগঞ্জ হাসপাতাল থেকে দিনাজপুর মেডিকেলে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে প্রায় দেড় মাস রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। তবু তিনি সুস্থ হননি। পরে রংপুর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন। এখনো তাকে চিকিৎসকের পরামর্শে চলতে হয়। তিনি রংপুর মেডিকেলে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন অর্থাৎ এখনো নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ খেতে হয়। আগের মতো পায়ে শক্তি পাননি। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর এখন একটু সুস্থ।
চিকিৎসা প্রস্তাব
তিনি এখনো পূর্ণ সুস্থ হননি। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া দরকার। পায়ে শক্তি পান না। এজন্য ফিজিওথেরাপি দেয়া দরকার।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাব
নুর আলম সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী। মুদী দোকান করে দিলে উপকৃত হবে। পর্যাপ্ত মালামাল উঠিয়ে দিলে ব্যবসা থেকে আয় রোজকার করার পাশাপাশি লেখাপড়াও শুরু করতে পারবে।
মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা
এককালীন আর্থিক অনুদান দিয়ে স্বাবলম্বী করা যেতে পারে।
আহত হওয়ার সংক্ষিপ্ত চিত্র
নবাবগঞ্জ বাজারে ০৫-০৮-২৪ তারিখে আন্দোলনের সময় একটি বিল্ডিংয়ের কাচ ভেঙে তার পায়ে ক্ষত হয়।

নাম : নূর আলম
জন্ম তারিখ : ১০-০৭-২০০৭
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শ্রমিক
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: তর্জনঘাট, ইউনিয়ন: বিনোদপুর, থানা: নবাবগঞ্জ, জেলা: দিনাজপুর
পিতার নাম : আরিফুর রহমান, মৃত
মায়ের নাম : নুরবানু
মায়ের পেশা : গৃহিণী
আয়ের পরিমাণ : ৪০০ টাকা দৈনিক হাজিরার কাজ।
আয়ের উৎস : দিনমজুর
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍