হোম / আহতদের তালিকা / মোঃ সৈকত জাহান
মোঃ সৈকত জাহান

মোঃ সৈকত জাহান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ছাত্র, দিনাজপুর সরকারি কলেজ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম পরিচিতি
মোঃ সৈকত জাহান ১০ মার্চ ১৯৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন দিনাজপুর জেলার শওগুন খোলা গ্রামে। এই গ্রামটি দিনাজপুর সদরের নবাবগঞ্জ ইউনিয়নের একটি গ্রাম। যা দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত। তিনি মৃত মো: সামসুল হকের ছেলে। তার মায়ের মোছা: নাম আসমা বেগম। মোঃ সৈকত জাহান দুই ভাই কাঠমিস্ত্রী। এক ভাই এক বোন প্রকৌশলী। সৈকত সদ্য অনুষ্ঠিত মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে ফলাফল প্রত্যাশী। তিনি জুলাই বিপ্লবের একজন শুরুর দিকের সক্রিয় কর্মী।

মেস ছাড়তে বাধ্য হন:
জুলাইয়ে তিনি মেসে থাকতেন। আন্দোলন শুরু হলে তিনিও তার দায় থেকে মিলিত হন আন্দোলনকারীদের সাথে। নিয়মিত অংশ গ্রহণ করতে থাকেন। প্রথম আন্দোলনের সূত্রপাত ঢাকা ভার্সিটি থেকে। হল থেকে ছাত্ররা বের হয়ে টিএসসি, রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়ে নিজেদের দাবী পেশ করতে থাকে। তাদের দাবী ছিল আরোপিত সিস্টেমের বিরুদ্ধে। কোটা প্রথার কারণে মেধাবীরা বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন দীর্ঘ দিন যাবৎ। তারা কোটার মূল্যায়ন দাবী করে সোচ্চার হচ্ছিলেন। সরকার তাদের আওয়াজ থামিয়ে দিতে চাইল। খুব অন্যায়ভাবে আক্রমণ করা হল তাদের। দলীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা চরমভাবে আক্রান্ত হলেন। ছাত্রছাত্রীরা আহত হলেন, মেয়েরা নির্যাতিত হলেন। ছাত্ররা আরও ক্ষিপ্ত হল। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ল প্রাইভেট ভার্সিটিতে। সরকার পুলিশ নামিয়ে গুলি চালায়। নিরীহ,নিরস্ত্র ছাত্ররা নির্মম মৃত্যু মুখে পতিত হল। সরকার প্রধান ফ্যাসিস্ট হাসিনা ছাত্রদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সাব্যস্ত করতে অপচেষ্টা চালায়। তাদের ‘রাজাকার' বলে গালি দেয়। সারাদেশের ছাত্ররা রাজপথে নামে। যোগ দেয় অভিভাবক মহল। দেশ রক্তস্নাত হতে থাকে। জারি করা হয় কার্ফিউ। মেস বন্ধ হয়ে যায়। সৈকত চলে আসেন বাড়িতে।
নবাবগঞ্জ থেকেই আন্দোলনে অংশ নেন:
সারাদেশ অগ্নিগর্ভ। দ্রোহ, ক্ষোভ, শিকল ভাঙার তপ্ত বাতাস দেশের সর্বত্র। নবাবগঞ্জ শহরেও এই আগুনের বাতাসে তপ্ত হয়ে আছে পরিবেশ। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবীর প্রতি অনঢ়। লীগ দলীয় সন্ত্রাসীরাও ছড়াও হয় প্রতিদিন।
সৈকত মেস ছেড়ে বাসায় চলে আসছেন। আন্দোলনের আগুন তার বুকের ভেতর জ্বলছে। তিনি প্রতিদিন যোগ দেন স্থানীয় ছাত্র জমায়েতে। ১৩ জুলাই ছাত্রদের মিছিলে হামলা করে আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ, যুবলীগের সম্মিলিত গুণ্ডা বাহিনী। সৈকত আক্রান্ত হন। আহত হয়েও উদ্যম হারাননি। চিকিৎসা করে পরদিন পূর্ণ উদ্যমে অংশ নেন আন্দোলনে।
১৪ জুলাই থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ভার্সিটির সকল হল থেকে উচ্ছেদ করা হয় সন্ত্রাসী লীগের ছাত্র সদস্যদের। পনের বছর তারা হত্যা, চাঁদাবাজি,দখলদারী চালিয়ে গেছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সবাই। জুলাইয়ে তাদের প্রথমেই ভার্সিটির হলগুলো থেকে উৎখাত করা হয়।
১৬ জুলাই ছাত্র হত্যা করে আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢালে সরকার। আওয়ামী সরকারকে ঘৃণা জানায় দেশের জনগণ। আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সরকার তখন অস্ত্রের জোরে টিকে থাকে। প্রতিদিন লাশের সারি দীর্ঘ হতে থাকে।সরকার সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে। ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ বৃদ্ধি করতে থাকে। জারি করে কার্ফিও। নির্দেশ দেয় দেখা মাত্র গুলির।
মুক্তির নেশায় মানুষ বোদ হয়ে আছে। মানুষ কার্ফিও উপেক্ষা করে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও আন্দোলনে নামে।
হাসিনা কেড়ে নিয়েছিল মানুষের ভোটের অধিকার। স্বৈরতন্ত্র কায়েম করে বাংলাদেশে। ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়। হাসিনা বিশ্বের শীর্ষ স্বৈরাচার হয়ে পরিচিত হতে থাকে।
বিচারহীনতার বাংলাদেশ করে তুলে দেশকে।
মানুষ তাই জীবন বাজি রেখে আন্দোলন চালিয়ে যায়।
মোঃ সৈকত উচ্চ শিক্ষিত সচেতন নাগরিক। দেশকে মুক্ত করতে তিনি নিয়মিত অংশ নেম আন্দোলনে। ১৩ জুলাই আহত হয়েও থেমে যাননি।
আন্দোলন বিপ্লবে রূপ নেয়।
এক দফায় লক্ষ্য স্থির হয়।
হাসিনার পতন হতেই হবে।
সৈকত সামনের সারিতে থেকে লিড দেয়।
৩ আগস্ট আবার আহত হন। শরীরে ছররা গুলি লাগে। গুলি বের করে আবার যোগ দেন আন্দোলনে।
৪ আগস্ট নবাবগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তারা একত্রিত হন নবাবগঞ্জ জজকোর্টের সামনে।
পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আগে থেকেই সশস্ত্র অবস্থান নেয়। মিছিলের হাজার হাজার জনতা অবস্থান নেয় জজকোর্টের সামনে। পুলিশ অতর্কিতে বিনা উস্কানিতে গুলি ছুঁড়ে। মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সৈকত গুলিবিদ্ধ হন। গুলি শরীরের বিভিন্ন অংশে লাগে।মাথায়, চোখের নিচে গুলি লাগে। অল্পের জন্য চোখের ভিতর গুলি লাগেনি। টিয়ারশেলের আঘাতেও আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায়, টিয়ারশেলের ধোঁয়ায় পরিবেশ খুব খারাপ হতে থাকে। পরে তিনি এখান থেকে কোন রকমে সরে হাসপাতালে যান।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রিক বর্ণনা :
আহত হওয়ার পর তাকে নবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি দিনাজপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেখানে ৩/৪ দিন ভর্তি ছিলেন। কয়েকটি
গুলি বের করা হয়। অবশিষ্ট গুলি শরীরে মাংশের গভীরে রয়ে যায়। ডাক্তার বলেছেন ঠিক হয়ে যাবে।
প্রস্তাব:
বর্তমানে তিনি সুস্থ। তবে আহত হওয়ায় শরীরে মাঝে মাঝে জটিলতা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এ বিষয়ে পরামর্শ দিলে তার পরবর্তী স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকবে না।
কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সামগ্রিক বর্ণনা :
তিনি একজন শিক্ষিত ব্যক্তি।
তাকে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসিত করা যায়।
ব্যবসার ইচ্ছা থাকলে পুঁজি দিয়ে স্বনির্ভর করে তোলা।
আহত হওয়ার সংক্ষিপ্ত চিত্র :
তিন দফায় তিনি আহত হন।
প্রথম ১৩ আগস্ট আহত হন।
পরে ৩ আগস্ট ও ৪ আগস্ট আবার আহত হন।
ছররা গুলি তার শরীর,মাথায়,চোখের অতি কাছে গুলি লাগে।
টিয়ারশেলেও তিনি আহত হন।
স্থান: নবাবগঞ্জ জজকোর্টের সামনে।
তারিখ: ১৩ জুলাই, ৩ আগস্ট ও ৪ আগস্ট সকাল ১১ টায়।
আক্রমণকারী: পুলিশ, নবাবগঞ্জ জেলা।
নাম : মো: সৈকত জাহান
জন্ম তারিখ : ১০-০৩-১৯৯৯
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : ছাত্র, দিনাজপুর সরকারি কলেজ
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: শওগুন খোলা, ইউনিয়ন: নবাবগঞ্জ, থানা: নবাবগঞ্জ, জেলা: দিনাজপুর
পিতার নাম : মৃত মো: সামসুল হক
মায়ের নাম : মোছা: আমেনা বেগম
মায়ের পেশা : গৃহিণী।
পারিবারিক অবস্থা
আয়ের পরিমাণ : নিজস্ব আয় নাই
আয়ের উৎস : ভাইদের আয় থেকে চলতে হয়
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : দুই ভাই, আব্দুল হক, শাহেজানুল কাঠমিস্ত্রী
ভাই প্রকৌশলী এবং বোন হাইস্কুলের শিক্ষিকা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍