হোম / আহতদের তালিকা / মো: আবরার জাওয়াদ
মো: আবরার জাওয়াদ

মো: আবরার জাওয়াদ

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

আবরার জাওয়াদ: জন্ম ও বেড়ে ওঠা
দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার পুরাতন বাজার এলাকায় ২০০৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন আবরার জাওয়াদ। বাবা মো: এনামুল ইসলাম একজন কৃষক এবং মা মোছা: উম্মে কুলছুমা একজন গৃহিণী। পরিবারটি পাঁচ সদস্যের। আবরারের দুই ছোট ভাই কিবরিয়া আজম নবম শ্রেণির ছাত্র এবং আল আরাফ প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। ছোটবেলা থেকেই আবরার ছিল মেধাবী ও স্নেহভাজন।
গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে বর্তমানে তিনি বিরামপুর সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র। কৃষক পিতার সাদামাটা আয়ে চলা পরিবারটি ছিল পরিশ্রমী ও আত্মমর্যাদাশীল। আবরার সবসময় নিজের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছে এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও ঘটনার শুরু
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সারা দেশে চলছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন। চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে অব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। আবরারও এই আন্দোলনের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হয়ে ওঠেন। কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে মিলে তিনি বিরামপুর পৌর এলাকায় সচেতনতামূলক মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, এই আন্দোলনই পারে তাদের মতো মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবার থেকে আসা তরুণদের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে। কিন্তু ৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সেই স্বপ্ন ভয়ংকর বাস্তবতায় রূপ নেয়।
বিরামপুর থানার সামনে লোমহর্ষক হামলা
৪ আগস্ট দুপুর ১:৩০ মিনিট। আবরার এবং আরও অনেক শিক্ষার্থী বিরামপুর থানার সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁরা “বৈষম্য নিপাত যাক”, “চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য মানিনা মানবো না” ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই পুলিশ এবং আওয়ামী ছাত্রলীগ ও যুবলীগের গুণ্ডাবাহিনীরা সংঘবদ্ধভাবে লাঠিচার্জ শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা ছররা গুলি চালায়। পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ হয় যে, অনেক শিক্ষার্থী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে যায়। রাস্তার ধারে পড়ে থাকে রক্তাক্ত শরীর, ভয়ে কাঁপতে থাকে চারপাশ।
আবরার পুলিশের বেরিকেডের মধ্যে আটকে যায়। তখনই এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। পুলিশের ছোড়া ছররা গুলি আবরারের পুরো শরীরে আঘাত হানে। তার শরীরে প্রায় আড়াইশোর বেশি ছররা গুলি ঢুকে গেছে। সে মুহূর্তে আবরার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, রক্তে ভেসে যায় আশপাশের মাটি। তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। স্থানীয় ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ ক্লিনিকে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা
স্থানীয় ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৫ দিন অবস্থান করে অপারেশন করে কিছু গুলি বের করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, গুলিগুলোর বেশিরভাগ পিঠ, হাত, বুক ও পায়ের বিভিন্ন স্থানে বিদ্ধ হয়েছে। অপারেশন করে কিছু গুলি বের করা গেলেও অনেক গুলি শরীরেই থেকে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার দাবি রাখে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে বাকি গুলিগুলো বের করার ব্যবস্থা করা।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা: স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা।

নাম : আবরার জাওয়াদ
জন্ম তারিখ : ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৬
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (একাদশ শ্রেণি)
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পুরাতন বাজার, ইউনিয়ন: বিরামপুর পৌরসভা, থানা: বিরামপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: এনামুল ইসলাম
মায়ের নাম : মোছা: উম্মে কুলছুমা
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৫৪
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫০
আয়ের উৎস : কৃষি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : পাঁচ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. কিবরিয়া আজম, বয়স : ১৪, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: নবম শ্রেণী, সম্পর্ক: ভাই
২. আল আরাফ, বয়স: ৮ বছর, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: প্রথম শ্রেণী, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : বিরামপুর থানার সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪ , দুপুর ১:৩০
আক্রমণকারী : পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍