হোম / আহতদের তালিকা / মো: আবিদ হাসান
 মো: আবিদ হাসান

মো: আবিদ হাসান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

পরিচয়
আবিদ হাসান জন্ম নেয় ২০১১ সালের ১১ আগস্ট, দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার শিমুলতলী গ্রামে। সে একটি শিক্ষিত পরিবারে বড় হতে থাকে। তার বাবা মো: জাকির হোসেন মণ্ডল একজন স্কুলশিক্ষক, মা আফরোজা বেগমও একজন শিক্ষিকা। ছোটবেলা থেকেই আবিদ ছিল শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং ভীষণ স্নেহের পাত্র। পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে সে সবার ছোট।

বড় ভাই আতিক হাসান জিম তখন বিরামপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। আবিদ পড়াশোনায় ভালো, আদর্শ হাই স্কুলের নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। বাবা-মায়ের আদর আর শাসনে তার শৈশবটা কেটেছে আনন্দে। শিক্ষক বাবা-মা সবসময়ই চাইতেন ছেলে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী থাকুক। ভালো রেজাল্ট করুক।
উত্তাল সময়ের আবহ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশ জুড়ে শুরু হয় এক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। সরকারবিরোধী ন্যায্য দাবিতে স্কুল-কলেজের ছাত্ররা রাস্তায় নামে। পুলিশের বর্বরতা, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, দুর্নীতি, সরকারি চাকরির এর ক্ষেত্রে বৈষম্য এসবের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ ফুঁসে ওঠে। সংবাদ মাধ্যমে যখন ছড়িয়ে পড়ে “প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন” সেই খবরে হাজারো মানুষ রাজপথে নেমে আসে। ছোট আবিদ সেদিন বাবা-মায়ের তীব্রভাবে বিরোধিতা সত্ত্বেও দেশের মানচিত্র আর্ট করে বিজয় উদযাপনের মিছিলে অংশগ্রহণ করার জন্য শহরের দিকে রওনা দেয়। ৫ আগস্ট ২০২৪। বিরামপুর থানার সামনে দুপুর ১:৩০ মিনিট। হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছিল। উদ্দেশ্য একটাই বিজয় মিছিল উদযাপন করা। হঠাৎ করেই শুরু হয় পুলিশ এবং আওয়ামীপন্থী গুণ্ডাদের হামলা। রাবার বুলেট, টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ কোনো কিছুই বাদ যায়নি। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও রেহাই পায়নি। আবিদ তখন মিছিলের একপ্রান্তে, হঠাৎ পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছুঁড়ে মারে। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ও শরীর রক্তে ভিজে যায়। পাশেই থাকা কয়েকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। যে ছেলেটিকে তার মা-বাবা স্নেহে আগলে রেখেছিলেন, যে স্কুলছাত্রটি বই-খাতা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল, তাকেই আহত হতে হয় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে। আবিদের গায়ে একাধিক ছররা গুলি ঢুকে যায়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্ণনা
ছাত্র-জনতা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে দিনাজপুর মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার অপারেশন করে ছররা গুলি বের করা হয়। এখনো তার শরীরে কিছু ছররা গুলি রয়ে গেছে। বর্তমানে কিছুটা সুস্থ আছেন।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা।

নাম : মো: আবিদ হাসান
জন্ম তারিখ : ১১ আগস্ট ২০১১
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : আদর্শ হাই স্কুল (৯ম শ্রেণি)
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : দিনাজপুর, গ্রাম: শিমুলতলী, ইউনিয়ন : বিরামপুর পৌরসভা, থানা: বিরামপুর, জেলা : দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: জাকির হোসেন মন্ডল
মায়ের নাম : আফরোজা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : শিক্ষক, ৪৯
মায়ের পেশা ও বয়স : শিক্ষিকা, ৪৮
মাসিক আয় : ৩৫ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : বেতন
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. আতিক হাসান জিম, বয়স: ১৯, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: একাদশ, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : বিরামপুর থানার সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১:৩০
আক্রমণকারী : পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍