মো: জাহান বাবু
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মো: জাহান বাবু ২০১২ সালের ২৭ জুলাই দিনাজপুর জেলার বিরামপুরে জন্মগ্রহণ করে। সে বর্তমানে কল্যাণপুর দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট্ট জাহান বাবু বেড়ে উঠছে এক সাদাসিধে পরিবারের ছায়ায়। তার পিতা মো: জাহাঙ্গীর একজন দিনমজুর, বয়স ৪০। প্রতিদিন সকালে কাজের সন্ধানে বের হয়ে যান শহরের অলিগলিতে। মা মোছা: স্বপ্না একজন গৃহিণী, যিনি বয়সে কেবল ৩০। তাদের পরিবারে চারজন সদস্য জাহান বাবু, তার মা-বাবা এবং ছোট বোন মারজিয়া আক্তার জেবা, যার বয়স মাত্র ৪ বছর।
অভাবের সংসারে থেকেও জাহান বাবুর চোখে ছিল বড় স্বপ্ন। সে নিয়মিত মাদ্রাসায় যায়, ইসলামি শিক্ষা আর সাধারণ জ্ঞান আয়ত্তে আনতে চায়। তার বাবা কষ্ট করে হলেও ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা বন্ধ করেননি। কারণ, তিনি চান তার সন্তানরা একদিন অভাব-অনটনের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।
জুলাই-আগস্টের উত্তাল প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসজুড়ে বাংলাদেশে ঘটে যায় এক ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। বৈষম্য, নিপীড়ন, রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। শিক্ষার্থীরা শুরু করে আন্দোলন, যেখানে সাধারণ মানুষও যোগ দেয়। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদের আগুন। বিরামপুর থানা এলাকাও সেই উত্তাপের বাইরে ছিলনা। পুলিশের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ, নির্বিচার গ্রেপ্তার ও গুলি চালনার ঘটনা মানুষের মাঝে আরও ক্ষোভ বাড়িয়ে তোলে।
এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল মূলত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। তাদের সকলের দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে বৈষম্য দূর করা। তাদের আরো দাবি ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নিপীড়নের অবসান এবং শিক্ষার অধিকারের সুরক্ষা।
জাহান বাবুর আহত হওয়ার করুণ ঘটনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল একটি কালো দিন। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পলায়নের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সেদিন বিকাল ৪:৩০ মিনিটে বিরামপুর থানার সামনে চলছিল ছাত্র-জনতার এক বিশাল মিছিল। ওইদিন জাহান বাবুর বাবা শহরে কাজ করছিলেন। মা দুপুরের খাবার রান্না করে তাকে বললেন, “বাবাকে দিয়ে আয় খাবারটা।” বাবার প্রতি ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ থেকে জাহান বাবু খাবার হাতে বের হয়ে পড়ে। ফিরে আসার পথে সে দেখে বিরামপুর থানার সামনে জনতার ভীড়, মিছিলের স্লোগান। উৎসাহভরে সেও একটু এগিয়ে যায়, কিশোর মনে কৌতূহল দানা বাঁধে। হঠাৎ পুলিশ গুলি চালায় জনতার দিকে। ছররা গুলির কয়েকটি জাহান বাবুর শরীরে এসে লাগে। সে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে।
চিৎকারে মানুষ ছুটে আসে। ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক ক্লিনিকে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা
স্থানীয় লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিকভাবে তার চিকিৎসা করা হয়। তার শরীর ও মাথা থেকে অপারেশন করে ছড়াগুলি বের করা হয় । জাহান বাবু এখনো সেই ঘটনার মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণায় ভোগে। তার পরিবার দরিদ্র : বাবার দিনমজুরির আয়ে চিকিৎসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এখনো কিছু ছররা গুলি তার শরীরে আছে। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ আছেন তবে রাতে ঘুমাতে গেলে যন্ত্রণা হয়।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে দেয়া।
নাম : মো: জাহান বাবু
জন্ম তারিখ : ২৭ জুলাই ২০১২
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : কল্যাণপুর দাখিল মাদ্রাসা (৬ষ্ঠ শ্রেণি)
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: চকপাড়া, ইউনিয়ন: বিরামপুর পৌরসভা, থানা: বিরামপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: জাহাঙ্গীর
মায়ের নাম : মোছা: স্বপ্না
পিতার পেশা ও বয়স : শ্রম, ৪০
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৩০
আয়ের উৎস : দিনমজুর
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. মারজিয়া আক্তার জেবা, বয়স: ৪ বছর, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : বিরামপুর থানার সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, বিকাল ৪:৩০মিনিট
আক্রমণকারী : পুলিশ
অভাবের সংসারে থেকেও জাহান বাবুর চোখে ছিল বড় স্বপ্ন। সে নিয়মিত মাদ্রাসায় যায়, ইসলামি শিক্ষা আর সাধারণ জ্ঞান আয়ত্তে আনতে চায়। তার বাবা কষ্ট করে হলেও ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা বন্ধ করেননি। কারণ, তিনি চান তার সন্তানরা একদিন অভাব-অনটনের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।
জুলাই-আগস্টের উত্তাল প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসজুড়ে বাংলাদেশে ঘটে যায় এক ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। বৈষম্য, নিপীড়ন, রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। শিক্ষার্থীরা শুরু করে আন্দোলন, যেখানে সাধারণ মানুষও যোগ দেয়। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদের আগুন। বিরামপুর থানা এলাকাও সেই উত্তাপের বাইরে ছিলনা। পুলিশের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ, নির্বিচার গ্রেপ্তার ও গুলি চালনার ঘটনা মানুষের মাঝে আরও ক্ষোভ বাড়িয়ে তোলে।
এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল মূলত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। তাদের সকলের দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে বৈষম্য দূর করা। তাদের আরো দাবি ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নিপীড়নের অবসান এবং শিক্ষার অধিকারের সুরক্ষা।
জাহান বাবুর আহত হওয়ার করুণ ঘটনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল একটি কালো দিন। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পলায়নের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সেদিন বিকাল ৪:৩০ মিনিটে বিরামপুর থানার সামনে চলছিল ছাত্র-জনতার এক বিশাল মিছিল। ওইদিন জাহান বাবুর বাবা শহরে কাজ করছিলেন। মা দুপুরের খাবার রান্না করে তাকে বললেন, “বাবাকে দিয়ে আয় খাবারটা।” বাবার প্রতি ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ থেকে জাহান বাবু খাবার হাতে বের হয়ে পড়ে। ফিরে আসার পথে সে দেখে বিরামপুর থানার সামনে জনতার ভীড়, মিছিলের স্লোগান। উৎসাহভরে সেও একটু এগিয়ে যায়, কিশোর মনে কৌতূহল দানা বাঁধে। হঠাৎ পুলিশ গুলি চালায় জনতার দিকে। ছররা গুলির কয়েকটি জাহান বাবুর শরীরে এসে লাগে। সে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে।
চিৎকারে মানুষ ছুটে আসে। ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক ক্লিনিকে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা
স্থানীয় লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিকভাবে তার চিকিৎসা করা হয়। তার শরীর ও মাথা থেকে অপারেশন করে ছড়াগুলি বের করা হয় । জাহান বাবু এখনো সেই ঘটনার মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণায় ভোগে। তার পরিবার দরিদ্র : বাবার দিনমজুরির আয়ে চিকিৎসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এখনো কিছু ছররা গুলি তার শরীরে আছে। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ আছেন তবে রাতে ঘুমাতে গেলে যন্ত্রণা হয়।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে দেয়া।
নাম : মো: জাহান বাবু
জন্ম তারিখ : ২৭ জুলাই ২০১২
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : কল্যাণপুর দাখিল মাদ্রাসা (৬ষ্ঠ শ্রেণি)
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: চকপাড়া, ইউনিয়ন: বিরামপুর পৌরসভা, থানা: বিরামপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: জাহাঙ্গীর
মায়ের নাম : মোছা: স্বপ্না
পিতার পেশা ও বয়স : শ্রম, ৪০
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৩০
আয়ের উৎস : দিনমজুর
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. মারজিয়া আক্তার জেবা, বয়স: ৪ বছর, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : বিরামপুর থানার সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, বিকাল ৪:৩০মিনিট
আক্রমণকারী : পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍