হোম / আহতদের তালিকা / তহিদুল ইসলাম
তহিদুল ইসলাম

তহিদুল ইসলাম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

সংগ্রামের ছায়ায় বেড়ে ওঠা তহিদুল
তহিদুল ইসলামের জন্ম ২০০৫ সালের ৭ অক্টোবর দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে। শৈশব থেকেই তার জীবন অন্যদের চেয়ে ভিন্ন প্রকৃতির। তার পিতা মো: আলম পেশায় একজন কৃষক হলেও বহু বছর আগে অন্যত্র বিবাহ করে সেখানে বসবাস করতে শুরু করেন। ফলে পিতার স্নেহ-ভালোবাসা বা সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হয় তহিদুল ও তার পরিবার। মাতা ফহিনুর বেগম একজন গৃহিণী, যিনি বয়সে ৪৫, কিন্তু বাস্তবে একা হাতে সন্তানদের মানুষ করছেন অনেক কষ্টে।

তহিদুলের পরিবারে চারজন সদস্য মা, ছোট ভাই দবিরুল ইসলাম (আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থী), তহিদুল এবং বাস্তব জীবনের অগণিত দুঃখ। সংসারের মূল দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে তহিদুলকেই। পড়াশুনার পাশাপাশি সে ইন্টারনেট সংযোগ, ক্যাবল লাইন, ছোটখাটো ইলেকট্রিক মেরামতের কাজ করে। একজন উনিশ-বিশ বছরের কিশোর যখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম, তখন বোঝা যায় সে কী ভীষণ বাস্তবতায় বড় হচ্ছে। সে বিরামপুর চাঁদপুর ফাজিল মাদ্রাসায় পগে। ক্লাস, কাজ, সংসার এই তিনটি জগতে প্রতিনিয়ত ব্যালান্স করে সে এগিয়ে যায়। সে তার মা ও ভাইয়ের মুখে হাসি দেখতে চায়, সেই স্বপ্নেই সে নিজের স্বপ্নগুলোকে প্রতিদিন একটু একটু করে পেছনে ফেলে।
উত্তাল জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের জোয়ার
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে এক বিশাল গণজাগরণ সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। বৈষম্য, পুলিশের দমননীতি, শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি, বেকারত্ব আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করে। এই গণ আন্দোলন শুধু রাজধানী নয়, ছড়িয়ে পড়ে প্রত্যন্ত জেলা-উপজেলায়ও। দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকায়ও তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। মাদ্রাসা, কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে। “বৈষম্যের অবসান চাই”, হত্যার বিচার চাই” এমন নানা শ্লোগানে মুখর হয় থানার সামনের রাস্তা। সরকার বিরোধী অবস্থান নেয়া ছাত্রদের ওপর শুরু হয় পুলিশি হামলা। ছাত্রদের দমন করতে মাঠে নামে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ও তাদের লাঠিয়াল বাহিনী। সাধারণ ছাত্র, দিনমজুরের সন্তান, গৃহবধূর ছেলে-মেয়েরা এভাবেই দেশের ভবিষ্যতের জন্য রক্ত দিতে শুরু করে। তৌহিদুল ইসলাম শুরু থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে তিনি বিরামপুর থানা সামনে আন্দোলনরত অবস্থায় ছিলেন। হঠাৎ শুরু হয় সংঘর্ষ। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকেরা একযোগে হামলা চালায়। লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং ইট-পাটকেল ও কাচের টুকরা ছোঁড়া শুরু হয়। কাচের একটি ভাঙা টুকরো এসে সোজা লেগে যায় তহিদুলের পায়ের গোড়ালির নিচে। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হতে থাকে। সে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে।
চিকিৎসা
ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার ক্ষতের গভীরতা দেখে ডাক্তার আটটি সেলাই করে। দীর্ঘদিন ওষুধ খাওয়ার পর বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।


কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
তার ও তার ছোট ভাইয়ের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে দেয়া।


নাম : তহিদুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ৭ অক্টোবর ২০০৫
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : বিরামপুর চাঁদপুর ফাজিল মাদ্রাসা
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: চাঁদপুর, ইউনিয়ন: বিরামপুর পৌরসভা, থানা: বিরামপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: আলম
মায়ের নাম : ফহিনুর বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৫০
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. দবিরুল ইসলাম, বয়স: ১৮, পেশা: মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, শ্রেণি: আলিম, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : বিরামপুর থানার সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২টা
আক্রমণকারী : পুলিশ ও আওয়ামী লীগ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍