মো: আবু তাহের সিদ্দিক
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শিক্ষক
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
এক শিক্ষকের গড়ে ওঠা
দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানার জংলিপীর গ্রামের একটি সহজ-সরল পরিবারে ১৯৯৭ সালের পহেলা মে জন্ম নেন মো: আবু তাহের সিদ্দিক। তাঁর পিতা মো: ওয়াজেদ আলী একজন বৃদ্ধ মানুষ, বয়স ৭৮ বছর; মা মোছা: ছাবেখা খাতুন একজন গৃহিণী। সংসারে মোট তিন জন সদস্য। দুই বোন সুরাইয়া ও বিউটি পারভিন দু’জনেই বিবাহিত।
তাহের শৈশব থেকেই পড়াশুনায় মনোযোগী ছিলেন। গ্রামের স্কুল থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত তার যাত্রা ছিল সংগ্রামী কিন্তু প্রতিশ্রুতিশীল। তাঁর স্বপ্ন ছিল শিক্ষকতা। আর সে স্বপ্ন পূরণ হয় রেজিয়াম কোচিং সেন্টারে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে। কোচিং ক্লাসে ছাত্রদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর তাঁর নিজস্ব শিক্ষাদান পদ্ধতির কারণে তিনি অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি শুধু শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সচেতন নাগরিক ও আদর্শ মানুষ, যিনি নিজের ছাত্রদের শুধু পাঠ্যবই নয়, জীবনের পাঠও শেখাতেন।
আন্দোলনের আগুনে এক সাহসী কণ্ঠ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যখন চরমে পৌঁছায়, তখন আবু তাহের সিদ্দিক নীরব থাকতে পারেননি। বিশেষ করে আবু সাঈদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ফুঁসে ওঠেন। প্রতিদিন কোচিংশেষে তিনি শহরে আন্দোলনের মঞ্চে গিয়ে দাঁড়াতেন, বক্তৃতা করতেন, সাহস যোগাতেন অন্যদের।
৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২টা। দিনাজপুর শহরের জোড়া ব্রিজ এলাকায় হাজারো মানুষ জড়ো হয়। ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ করছিল। সেখানে প্রথম সারিতে নেতৃত্বে ছিলেন তাহের সিদ্দিক। আচমকা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা চারদিক থেকে ছররা গুলি চালাতে থাকে। বারবার লক্ষ্য করে তাহের সিদ্দিককে টার্গেট করা হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, তাঁর শরীরের একাধিক স্থানে ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। চারপাশে রক্ত আর আর্তনাদ। শহরের বুকে যেন এক বর্বর ইতিহাস লেখা হচ্ছিল সেদিন। একাধিক ছাত্র প্রাণ হারায়, অনেকে চিরতরে পঙ্গু হয়ে পড়ে।
গুলিবিদ্ধ শিক্ষক ও গোপন চিকিৎসা
আবু তাহের সিদ্দিককে রক্তাক্ত অবস্থায় সহযোদ্ধারা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় সেখান থেকেই। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই পুলিশ সিভিল পোশাকে খোঁজ নিতে শুরু করে তাঁর বেডে। তাঁকে ভয় দেখানো হয়, মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা চলছিল না পুলিশের চাপে। আতঙ্কে পরিবার তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানেও ছিল অনিরাপত্তা, তাই পরিচিত কিছু স্থানীয় ডাক্তার আর গ্রাম্য চিকিৎসকের সহযোগিতায় তিনি গোপনে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। এত কিছুর পরও তাহের সিদ্দিক হার মানেননি। তাঁর গুলিবিদ্ধ শরীর এখনো সেই ভয়াল দিনের সাক্ষী। তবে তাঁর মুখে এখনো সাহসের ভাষা, “এই দেশটা ছাত্রদের, সাধারণ মানুষের। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা মাথা নত করবো না।”
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
এককালীন সহযোগিতা করা।
নাম : মো: আবু তাহের সিদ্দিক
জন্ম তারিখ : পহেলা মে ১৯৯৭
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষক
প্রতিষ্ঠান : রেজিয়াম কোচিং সেন্টার
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: জংলিপীর, ইউনিয়ন: ৫ নং ছাতাইল, থানা: বোচাগঞ্জ, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: ওয়াজেদ আলী
মায়ের নাম : মোছা: ছাবেখা খাতুন
পিতার পেশা ও বয়স : বৃদ্ধ, ৭৮
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৬০
মাসিক আয় : ২০ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : কোচিং
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৩ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. সুরাইয়া, বিবাহিত, সম্পর্ক: বোন
২. বিউটি পারভিন, বিবাহিত, সম্পর্ক : বোন
ঘটনার স্থান : জোড়া ব্রিজ, দিনাজপুর
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানার জংলিপীর গ্রামের একটি সহজ-সরল পরিবারে ১৯৯৭ সালের পহেলা মে জন্ম নেন মো: আবু তাহের সিদ্দিক। তাঁর পিতা মো: ওয়াজেদ আলী একজন বৃদ্ধ মানুষ, বয়স ৭৮ বছর; মা মোছা: ছাবেখা খাতুন একজন গৃহিণী। সংসারে মোট তিন জন সদস্য। দুই বোন সুরাইয়া ও বিউটি পারভিন দু’জনেই বিবাহিত।
তাহের শৈশব থেকেই পড়াশুনায় মনোযোগী ছিলেন। গ্রামের স্কুল থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত তার যাত্রা ছিল সংগ্রামী কিন্তু প্রতিশ্রুতিশীল। তাঁর স্বপ্ন ছিল শিক্ষকতা। আর সে স্বপ্ন পূরণ হয় রেজিয়াম কোচিং সেন্টারে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে। কোচিং ক্লাসে ছাত্রদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর তাঁর নিজস্ব শিক্ষাদান পদ্ধতির কারণে তিনি অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি শুধু শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সচেতন নাগরিক ও আদর্শ মানুষ, যিনি নিজের ছাত্রদের শুধু পাঠ্যবই নয়, জীবনের পাঠও শেখাতেন।
আন্দোলনের আগুনে এক সাহসী কণ্ঠ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যখন চরমে পৌঁছায়, তখন আবু তাহের সিদ্দিক নীরব থাকতে পারেননি। বিশেষ করে আবু সাঈদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ফুঁসে ওঠেন। প্রতিদিন কোচিংশেষে তিনি শহরে আন্দোলনের মঞ্চে গিয়ে দাঁড়াতেন, বক্তৃতা করতেন, সাহস যোগাতেন অন্যদের।
৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২টা। দিনাজপুর শহরের জোড়া ব্রিজ এলাকায় হাজারো মানুষ জড়ো হয়। ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ করছিল। সেখানে প্রথম সারিতে নেতৃত্বে ছিলেন তাহের সিদ্দিক। আচমকা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা চারদিক থেকে ছররা গুলি চালাতে থাকে। বারবার লক্ষ্য করে তাহের সিদ্দিককে টার্গেট করা হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, তাঁর শরীরের একাধিক স্থানে ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। চারপাশে রক্ত আর আর্তনাদ। শহরের বুকে যেন এক বর্বর ইতিহাস লেখা হচ্ছিল সেদিন। একাধিক ছাত্র প্রাণ হারায়, অনেকে চিরতরে পঙ্গু হয়ে পড়ে।
গুলিবিদ্ধ শিক্ষক ও গোপন চিকিৎসা
আবু তাহের সিদ্দিককে রক্তাক্ত অবস্থায় সহযোদ্ধারা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় সেখান থেকেই। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই পুলিশ সিভিল পোশাকে খোঁজ নিতে শুরু করে তাঁর বেডে। তাঁকে ভয় দেখানো হয়, মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা চলছিল না পুলিশের চাপে। আতঙ্কে পরিবার তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানেও ছিল অনিরাপত্তা, তাই পরিচিত কিছু স্থানীয় ডাক্তার আর গ্রাম্য চিকিৎসকের সহযোগিতায় তিনি গোপনে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। এত কিছুর পরও তাহের সিদ্দিক হার মানেননি। তাঁর গুলিবিদ্ধ শরীর এখনো সেই ভয়াল দিনের সাক্ষী। তবে তাঁর মুখে এখনো সাহসের ভাষা, “এই দেশটা ছাত্রদের, সাধারণ মানুষের। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা মাথা নত করবো না।”
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
এককালীন সহযোগিতা করা।
নাম : মো: আবু তাহের সিদ্দিক
জন্ম তারিখ : পহেলা মে ১৯৯৭
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষক
প্রতিষ্ঠান : রেজিয়াম কোচিং সেন্টার
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: জংলিপীর, ইউনিয়ন: ৫ নং ছাতাইল, থানা: বোচাগঞ্জ, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: ওয়াজেদ আলী
মায়ের নাম : মোছা: ছাবেখা খাতুন
পিতার পেশা ও বয়স : বৃদ্ধ, ৭৮
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৬০
মাসিক আয় : ২০ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : কোচিং
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৩ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. সুরাইয়া, বিবাহিত, সম্পর্ক: বোন
২. বিউটি পারভিন, বিবাহিত, সম্পর্ক : বোন
ঘটনার স্থান : জোড়া ব্রিজ, দিনাজপুর
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍