মো: শামীম রেজা
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মেধাবী শিক্ষার্থী শামীম রেজার বেড়ে ওঠা
দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলার শংকরপুর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্ম নেয় মো: শামীম রেজা। ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো: আব্দুল করিম একজন কৃষক (বয়স ৪৮), আর মা মোছা: শাহানাজ পারভীন গৃহিণী (বয়স ৪৪)। সাত সদস্যের পরিবারে বড় ভাই শাকিল শ্রমজীবী আর ছোট বোন কর্নিকা অনার্সের প্রথম বর্ষে পড়ছেন।
ছোটবেলা থেকেই শামীম মেধাবী ছিলেন। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠলেও তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অগ্রসর। শিক্ষা ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। সেই মনোভাব থেকেই ভর্তি হন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখন তিনি এমএসসি করছেন। পড়ালেখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং এক শিশু সন্তানের পিতা। সন্তানের নাম আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ, যার বয়স মাত্র ৩ বছর। পরিবার, সন্তান, স্বপ্ন সব কিছুর মাঝেও শামীম ছিলেন সমাজ সচেতন। এই মনমানসিকতাই একদিন তাঁকে রাজপথে নামিয়ে আনে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ
২০২৪ সালের মাঝামাঝি দেশে এক গভীর সংকট তৈরি হয়। বৈষম্য, নিপীড়ন আর শিক্ষাক্ষেত্রে দলীয়করণের বিরুদ্ধে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একের পর এক যুক্ত হয় এই আন্দোলনে। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে ছিল না। শামীম রেজা প্রথম থেকেই প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তিনি জানতেন, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রতিবাদ করাটাও এক ধরনের শিক্ষা। সহপাঠীদের সংগঠিত করে তিনি রাজপথে দাঁড়ান শুধু নিজের সন্তানের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও।
দিনাজপুর শহরের ভয়াবহ সংঘর্ষ
৪ আগস্ট ২০২৪। দিনাজপুর শহরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। সকাল থেকেই ছাত্র-জনতা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর দেড়টার দিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে হাজারো ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ করছিল। শান্তিপূর্ণ মিছিলের মধ্যে হঠাৎ চারদিক থেকে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে এসে হামলা চালায়। একদিকে ছাত্রদের হাতে ছিল মিছিলের ব্যানার আর স্লোগান, অন্যদিকে রাবার বুলেট, শর্টগান, ছররা গুলি, টিয়ারগ্যাস। সহিংসতার কেন্দ্রস্থলে ছিলেন শামীম রেজা। তিনি জনতার সঙ্গে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তাকে টার্গেট করে গুলি ছোঁড়া হয়। তাঁর শরীরে ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, রক্তে ভেসে যায় শরীর। চারপাশে ছড়ায় চিৎকার, আতঙ্ক, আর মৃত্যু-ভয়।
চিকিৎসার লড়াই ও হুমকির ছায়া
ছাত্র-জনতা আহত শামীম রেজাকে তড়িঘড়ি করে দিনাজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। হাসপাতালজুড়ে ছিল পুলিশি নজরদারি। সিভিল পোশাকে ঘোরাফেরা করছিল গোয়েন্দারা। তারা শামীমের চিকিৎসায় বাধা দিতে চায়, প্রশ্ন তোলে কীভাবে আহত হয়েছেন। হাসপাতালে থেকে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তার অবস্থা ও সংকটময় হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা সি এম এইচএ ভর্তি করানো হয়। সেখানে তার অপারেশন করে গুলি বের করা হয়। বর্তমানে কিছুটা সুস্থ আছেন তবে শরীরে এখনো অনেকগুলো গুলি ভিতরে রয়ে গেছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শরীরের বাকি গুলিগুলো বের করার ব্যবস্থা করা।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা : একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়া।
নাম : মো: শামীম রেজা
জন্ম তারিখ : ১ জানুয়ারি ১৯৯৮
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গংপ)
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: শংকরপুর, ইউনিয়ন: জালীলপুর, থানা: দিনাজপুর সদর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: আব্দুল করিম
মায়ের নাম : মোছা: শাহানাজ পারভীন
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৪৮
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৪
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ, বয়স : ৩ বছর, সম্পর্ক: ছেলে
ভাই-বোনদের বিবরণ
২. শাকিল ইসলাম, বয়স : ২২, পেশা: শ্রমিক, সম্পর্ক: ভাই
৩. কর্নিকা আক্তার, বয়স: ১৯, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: অনার্স ১ম বর্ষ, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : দিনাজপুর সদর হাসপাতালের সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর দেড়টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলার শংকরপুর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্ম নেয় মো: শামীম রেজা। ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো: আব্দুল করিম একজন কৃষক (বয়স ৪৮), আর মা মোছা: শাহানাজ পারভীন গৃহিণী (বয়স ৪৪)। সাত সদস্যের পরিবারে বড় ভাই শাকিল শ্রমজীবী আর ছোট বোন কর্নিকা অনার্সের প্রথম বর্ষে পড়ছেন।
ছোটবেলা থেকেই শামীম মেধাবী ছিলেন। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠলেও তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অগ্রসর। শিক্ষা ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। সেই মনোভাব থেকেই ভর্তি হন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখন তিনি এমএসসি করছেন। পড়ালেখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং এক শিশু সন্তানের পিতা। সন্তানের নাম আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ, যার বয়স মাত্র ৩ বছর। পরিবার, সন্তান, স্বপ্ন সব কিছুর মাঝেও শামীম ছিলেন সমাজ সচেতন। এই মনমানসিকতাই একদিন তাঁকে রাজপথে নামিয়ে আনে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ
২০২৪ সালের মাঝামাঝি দেশে এক গভীর সংকট তৈরি হয়। বৈষম্য, নিপীড়ন আর শিক্ষাক্ষেত্রে দলীয়করণের বিরুদ্ধে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একের পর এক যুক্ত হয় এই আন্দোলনে। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে ছিল না। শামীম রেজা প্রথম থেকেই প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তিনি জানতেন, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রতিবাদ করাটাও এক ধরনের শিক্ষা। সহপাঠীদের সংগঠিত করে তিনি রাজপথে দাঁড়ান শুধু নিজের সন্তানের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও।
দিনাজপুর শহরের ভয়াবহ সংঘর্ষ
৪ আগস্ট ২০২৪। দিনাজপুর শহরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। সকাল থেকেই ছাত্র-জনতা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর দেড়টার দিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে হাজারো ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ করছিল। শান্তিপূর্ণ মিছিলের মধ্যে হঠাৎ চারদিক থেকে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে এসে হামলা চালায়। একদিকে ছাত্রদের হাতে ছিল মিছিলের ব্যানার আর স্লোগান, অন্যদিকে রাবার বুলেট, শর্টগান, ছররা গুলি, টিয়ারগ্যাস। সহিংসতার কেন্দ্রস্থলে ছিলেন শামীম রেজা। তিনি জনতার সঙ্গে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তাকে টার্গেট করে গুলি ছোঁড়া হয়। তাঁর শরীরে ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, রক্তে ভেসে যায় শরীর। চারপাশে ছড়ায় চিৎকার, আতঙ্ক, আর মৃত্যু-ভয়।
চিকিৎসার লড়াই ও হুমকির ছায়া
ছাত্র-জনতা আহত শামীম রেজাকে তড়িঘড়ি করে দিনাজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। হাসপাতালজুড়ে ছিল পুলিশি নজরদারি। সিভিল পোশাকে ঘোরাফেরা করছিল গোয়েন্দারা। তারা শামীমের চিকিৎসায় বাধা দিতে চায়, প্রশ্ন তোলে কীভাবে আহত হয়েছেন। হাসপাতালে থেকে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তার অবস্থা ও সংকটময় হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা সি এম এইচএ ভর্তি করানো হয়। সেখানে তার অপারেশন করে গুলি বের করা হয়। বর্তমানে কিছুটা সুস্থ আছেন তবে শরীরে এখনো অনেকগুলো গুলি ভিতরে রয়ে গেছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শরীরের বাকি গুলিগুলো বের করার ব্যবস্থা করা।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা : একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়া।
নাম : মো: শামীম রেজা
জন্ম তারিখ : ১ জানুয়ারি ১৯৯৮
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গংপ)
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: শংকরপুর, ইউনিয়ন: জালীলপুর, থানা: দিনাজপুর সদর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: আব্দুল করিম
মায়ের নাম : মোছা: শাহানাজ পারভীন
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৪৮
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৪
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ, বয়স : ৩ বছর, সম্পর্ক: ছেলে
ভাই-বোনদের বিবরণ
২. শাকিল ইসলাম, বয়স : ২২, পেশা: শ্রমিক, সম্পর্ক: ভাই
৩. কর্নিকা আক্তার, বয়স: ১৯, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: অনার্স ১ম বর্ষ, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : দিনাজপুর সদর হাসপাতালের সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর দেড়টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍