হোম / আহতদের তালিকা / শেখ নুরতাজ হোসেন রাতুল
শেখ নুরতাজ হোসেন রাতুল

শেখ নুরতাজ হোসেন রাতুল

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

স্বপ্নভঙ্গ ঢাবি চারুকলায় চান্স পেয়েও ফিরে যাওয়া
দিনাজপুরের ছোট্ট গ্রাম কাজীপাড়ার ছেলে শেখ নুরতাজ হোসেন রাতুল ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও দায়িত্ববান ছিলেন। তার চোখে ছিল এক বিশাল স্বপ্ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে পড়াশুনা করে বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করবে। ২০১৯-২০ সেশনে সে স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দেয়। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ঘটে সেই সময়ই, রাতুলের মা-বাবা এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন।
চিকিৎসার খরচ, সংসারের দায়, ছোট ভাই-বোনের পড়াশোনা সবকিছু রাতুলের কাঁধে এসে পড়ে। স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সে গ্রামে ফিরে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রঙিন ক্যাম্পাস ছেড়ে বাস্তব জীবনের কঠিন লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
জীবনযুদ্ধ : ভাইবোনের জন্য সংগ্রাম
রাতুলের পিতা মো: রবিউল ইসলাম একজন কৃষক, তখন আর আয় করতে পারতেন না। মা জাহানারা বেগম ছিলেন গৃহিণী। ছোট ভাই রাকিব পার্বতীপুর ক্যান্টনমেন্টের এইচএসসির ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বোন মিথিলা বিরল পাবলিক স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তাদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে হয় রাতুলকেই। সে টিউশনি করে, কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেয়, মাঝে মাঝে দিনমজুরির কাজও করে। নিজে দিনাজপুর সরকারি কলেজে পড়া চালিয়ে যেতে থাকে। একেবারে শূন্য থেকে জীবন গড়ে তোলার লড়াই সে চালিয়ে যায় অদম্য সাহসে।
প্রত্যয়ের আগুন গ্রাম থেকে রাজপথে
২০২৪ সালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন ঢাকায় শুরু হয়, রাতুল তা নজরে রাখছিল। কিছুদিন পর আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জেলা শহরে। দিনাজপুরে আন্দোলন শুরু হলে রাতুল সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে থাকে।
সে ছাত্রদের একত্র করে মিছিল, অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রলীগের চোখে সে “টার্গেট” হয়ে যায়। আওয়ামী সন্ত্রাসী এবং ছাত্রলীগ তাকে টার্গেট করে আঘাত করে, তার চোখের নিচ এবং ঘাড়ে গুলি লাগে। বারবার হুমকি দেয়া হয়। একবার গ্রেফতারও করা হয়। কিন্তু রাতুল থেমে যায় না।
তার ভাষায় আমার স্বপ্ন ভাঙলেও অন্যদের স্বপ্ন যেন না ভাঙে, এই জন্যই এ লড়াই।
রক্তাক্ত আগস্ট গুলিতে ঝরে পড়া সাহস
৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১টা। দিনাজপুর সরকারি কলেজের সামনে শত শত ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়। হঠাৎ পুলিশ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী অতর্কিতে হামলা চালায়। টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, শর্টগান সব ব্যবহার করা হয়। সেই হামলায় রাতুলকে সরাসরি লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। তার চোখ ও মাথায় গুলি লাগে। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মুহূর্তে চারপাশে রক্ত আর চিৎকারে রাজপথ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বন্ধুরা ও আন্দোলনকারীরা জীবনবাজি রেখে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা
দিনাজপুর সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয় রাতুল। তারপর বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিতে শুরু করে। সেখানেও ছাত্রলীগ হামলা চালায় এবং হুমকি দেয়। তার পায়ে এবং চোখের আশেপাশে বেশ কিছু ছররাগুলি লাগে। অপারেশন করে তার গুলি বের করা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। তবে চোখে মাঝেমধ্যে সমস্যা দেখা দেয় এজন্যে চোখে চশমা পড়তে হয়। চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়।
কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা : একটি ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেয়া হোক।
নাম : শেখ নুরতাজ হোসেন রাতুল
জন্ম তারিখ : ১১ মার্চ ২০০০
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : দিনাজপুর সরকারি কলেজ
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: কাজীপাড়া, ইউনিয়ন: রানীপুকুর, থানা: বিরল, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: রবিউল ইসলাম
মায়ের নাম : মোছা: জাহানারা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৫৭
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৪
আয়ের উৎস : কৃষি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. রাকিব হোসেন, বয়স: ২১, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: এইচএসসি ২য় বর্ষ, সম্পর্ক: ভাই
২. রুখসানা ইসলাম মিথিলা, বয়স: ১৬, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: এসএসসি পরীক্ষার্থী, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : দিনাজপুর সরকারি কলেজ
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১টা
আক্রমণকারী : পুলিশ ও ছাত্রলীগ।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍