হোম / আহতদের তালিকা / মো: মেহেদী হাসান নিশান
মো: মেহেদী হাসান নিশান

মো: মেহেদী হাসান নিশান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

গ্রামে জন্ম, স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় যাত্রা
মো: মেহেদী হাসান নিশান, দিনাজপুর জেলার পিপল্যা গ্রামের এক শান্ত-সরল পরিবারে ২০০৫ সালের ১৪ মে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো: মকবুল হোসেন একজন ব্যবসায়ী, মা মোছা: লাকী বেগম একজন গৃহিণী। পরিবারটি ছিল ছোট, কিন্তু ভালোবাসা আর স্বপ্নে পরিপূর্ণ। বাবা-মা দুই ছেলেকে ভালোভাবে মানুষ করার জন্য সারা জীবন পরিশ্রম করে গেছেন। নিশান ছোট থেকেই মেধাবী, ভদ্র এবং দায়িত্বশীল ছিল।

গ্রামের মাটির গন্ধ, পাখির ডাক আর ধানক্ষেতের সবুজ তার শৈশবকে রঙিন করে তুলেছিল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় সবসময় ভালো ফল করেছে। তাঁর বড় ভাই লোকমান হোসেন লিখনও লেখাপড়ায় আগ্রহী। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী। এসএসসি ও এইচএসসি পাস করার পর নিশান ঢাকায় সরকারি তিতুমীর কলেজে ভর্তি হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য গ্রামের সেই ছেলে একদিন ব্যাগ কাঁধে নিয়ে পাড়ি জমায় ঢাকা শহরের দিকে। রাজধানীর ব্যস্ততা, জ্যাম আর ইট-কাঠের শহর তাকে কখনো দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং এখানে এসে সে বুঝতে শিখে সমাজ, রাষ্ট্র আর নাগরিক অধিকার বলতে কী বোঝায়। রাজনীতি ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শেখে।
আন্দোলনের উত্তাল প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতা বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, নিয়োগে অনিয়ম, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য আর দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ যেন বিস্ফোরিত হয়ে পড়ে। সেই সময় তিতুমীর কলেজসহ ঢাকার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে এক সুবিশাল ছাত্র আন্দোলনের সূচনা করে।
নিশান এই আন্দোলনের একদম শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন। কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি নিজ জেলা দিনাজপুরে ফিরে আসেন। তিনি দিনাজপুরের ছাত্রদের সাথে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। সদর হাসপাতালের সামনে প্রতিদিন মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেন, তাঁর চোখে ছিল স্পষ্ট স্বপ্ন, একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।
৪ আগস্টের বিভীষিকা
তারিখটি ছিল ৪ আগস্ট ২০২৪। দুপুর ১টা। দিনাজপুর সদর হাসপাতালের সামনে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা জড়ো হয়েছিল। প্রতিবাদ ছিল শান্তিপূর্ণ। তাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান, হৃদয়ে ছিল সাহস। কিন্ত হঠাৎ করেই শুরু হয় বিভীষিকাময় হামলা। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র গুণ্ডাবাহিনী দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে নিরস্ত্র ছাত্রদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চারদিকে ধোঁয়া, কান ফাটানো শব্দ, ছররা গুলির আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মিছিলের সারি। নিশানও সেদিন সবার সাথে সামনে ছিল। পুলিশের ছোঁড়া ছররা গুলি তার শরীরে লাগে। তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। চারপাশে সহপাঠীদের কান্না, চিৎকার সবকিছু এক বীভৎস দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।
আহত নিশান ও তার চিকিৎসার যুদ্ধ
আহত অবস্থায় ছাত্ররা মেহেদী হাসান নিশানকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থার ভয়াবহতা দেখে দিনাজপুর মেডিকেলের ডাক্তাররা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার পরদিনই তার অপারেশন করে গুলি বের করা হয়। বেশ কিছুদিন তিনি ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে অবস্থান করেন এবং ওষুধপত্র নেন। বর্তমানে তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন। তবে তার শরীর ব্যথা করে এখনো। তবু নিশান থেমে যাননি। শারীরিকভাবে দুর্বল থাকলেও তার চোখে আগের মতোই দীপ্ত সাহসের আলো। পরিবারের আদরের সন্তান হয়েও তিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে জনগণের পক্ষে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন। তার এ সাহস আমাদের নতুন প্রজন্মকে পথ দেখায়।

নাম : মো: মেহেদী হাসান নিশান
জন্ম তারিখ : ১৪ মে ২০০৫
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : সরকারি তিতুমীর কলেজ (১ম বর্ষ)
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পিপল্যা, ইউনিয়ন: ধামইর, ডাকঘর: বাজনাহার, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: মকবুল হোসেন
মায়ের নাম : মোছা: লাকী বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : ব্যবসা,৬০
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
আয়ের উৎস : ব্যবসা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. লোকমান হোসেন লিখন, বয়স: ২৪, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ফাইনাল ইয়ার, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : দিনাজপুর সদর হাসপাতালের সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১টা
আক্রমণকারী : পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍