মো: ইরফাত আলী
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ড্রাইভার
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
দারিদ্র্য ঘরে বেড়ে ওঠা ও সংগ্রামী জীবন
মো: ইরফাত আলী দিনাজপুর জেলার মাশিমপুর গ্রামের একজন সাধারণ পরিবারের সন্তান। তার জন্ম ১৭ আগস্ট ১৯৯৪ সালে। পিতা মো: হামিদুর রহমান বর্তমানে বৃদ্ধ, বয়স ৭০ বছর এবং মা ফরিদা বেগম মৃত। দারিদ্র্য ছিল ইরফাত আলীর শৈশবের নিত্য সঙ্গী। সংসারে ছিল অভাব-অনটন কিন্তু সে দারিদ্র্য তাকে থামাতে পারেনি।
ইরফাত ছোটবেলা থেকেই শ্রমজীবী মানুষের জীবনের কষ্ট দেখেছে অল্প বয়সেই। লেখাপড়া তেমন করতে পারেনি, তার বদলে জীবিকার সন্ধানে নামতে হয়। শুরু করেন বিভিন্ন ছোট কাজ, পরে নিজের দক্ষতা ও চেষ্টায় হয়ে ওঠেন একজন ড্রাইভার। বর্তমানে তিনি দিনাজপুর সদর হাসপাতালের একজন নিয়মিত অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত। তার পরিবারে পাঁচজন সদস্য। বড় মেয়ে ইসরাত জাহান ইরা প্রথম শ্রেণিতে পড়ে, ছোট মেয়ে ইবনাত জাহান ইফা মাত্র আড়াই বছর বয়সী। পরিবার, সমাজ এবং দায়িত্বের প্রতি দায়িত্ববান একজন সৎ ও মানবিক মানুষ ইরফাত, যিনি দিন-রাত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
আন্দোলনের উত্তাল সময় ও ইরফাতের ভূমিকা
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জ্বলে ওঠে দিনাজপুরসহ সারা দেশে। দিনাজপুরে হাজারো ছাত্র-জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নেয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ওপর পুলিশি গুলির ঘটনা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তরুণ-তরুণীদের মধ্যে জেগে ওঠে তীব্র ক্ষোভ। ইরফাত আলী সাধারণ একজন ড্রাইভার হলেও তিনি শুধু পেশার মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি। তিনি ছিলেন মানবিক ও প্রতিবাদী। তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন আন্দোলনের সময়, আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কাজে সাহায্য করেছেন।
সদর হাসপাতালের ভেতরে পুলিশের নির্মমতা
৪ আগস্ট ২০২৪, দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকায় চলছিল উত্তেজনা। একদিকে স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ এবং আওয়ামী দোসররা দেশ-বিদেশে অস্ত্র নিয়ে অন্যদিকে নিরস্ত্র ছাত্র জনতা। উভয়ের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়া চলছিল। তখন স্বৈরাচারী পুলিশ সরাসরি ছাত্র জনতার উপর গুলি চালায়। অনেকেই হতাহত হয়। আহত ছাত্ররা তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য হাসপাতালে ঢুকলে পুলিশ তাদের পিছন পিছন ঢুকে যায় হাসপাতালে ভেতরে, যেখানে কারো প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা হওয়ার কথা, সেখানেই শুরু হয় গুলির ঝড়।
ইরফাত তখন এম্বুলেন্স চালিয়ে এক আহত ছাত্রকে নামিয়ে দিচ্ছিলেন। হঠাৎ তার সামনে গুলি বিস্ফোরিত হয়। চারদিকে আতঙ্ক ও বিভীষিকা। পুলিশ হাসপাতালের পরিবেশ উপেক্ষা করে ছররা গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় জায়গাটিকে। ইরফাতের হাত, পেট এবং সারা শরীরে ছররা গুলি ঢুকে পড়ে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি, শরীর রক্তে ভেসে যায়। তখনো কেউ বুঝে উঠতে পারছিল না, মানুষ বাঁচাতে গিয়ে একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক নিজেই মৃত্যুর মুখে চলে যাচ্ছেন।
শরীরের ভয়াবহ ক্ষত ও অপারেশনের সময়
ছররা গুলি তার পিত্তথলি এবং পাকিস্থলিতে আঘাত করে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রথমে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে চলে অপারেশন, চিকিৎসা ও পরিচর্যা। ছররা গুলিগুলো শরীর থেকে বের করা হয় অপারেশনের মাধ্যমে। পরে আরও সাত দিন দিনাজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। এই ঘটনার পর তার শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি রয়ে যায়। বিশেষ করে তার বাম হাতে শক্তি ফিরে আসেনি। বর্তমানে মোটামুটি সুস্থ থাকলেও এখনও শরীরে অনেকগুলো ছররা গুলি আছে। একটা স্বাধীন শরীর আজ পরনির্ভর হয়ে উঠেছে।
নাম : মো: ইরফাত আলী
জন্ম তারিখ : ১৭ আগস্ট ১৯৯৪
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : ড্রাইভার
প্রতিষ্ঠান : দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এম্বুলেন্স ড্রাইভার
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: মাছিমপুর, ইউনিয়ন: সদর, থানা: দিনাজপুর সদর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: হামিদুর রহমান
মায়ের নাম : ফরিদা বেগম, মৃত
পিতার পেশা ও বয়স : বৃদ্ধ, ৭০
আয়ের উৎস : বেতন
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. ইসরাত জাহান ইরা, বয়স: ৮, পেশা: শিক্ষার্থ, শ্রেণি: ১ম শ্রেণী, সম্পর্ক: মেয়ে
২. ইবনাত জাহান ইফা, বয়স: ২.৫ বছর, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : সদর হাসপাতালের ভিতরে
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
মো: ইরফাত আলী দিনাজপুর জেলার মাশিমপুর গ্রামের একজন সাধারণ পরিবারের সন্তান। তার জন্ম ১৭ আগস্ট ১৯৯৪ সালে। পিতা মো: হামিদুর রহমান বর্তমানে বৃদ্ধ, বয়স ৭০ বছর এবং মা ফরিদা বেগম মৃত। দারিদ্র্য ছিল ইরফাত আলীর শৈশবের নিত্য সঙ্গী। সংসারে ছিল অভাব-অনটন কিন্তু সে দারিদ্র্য তাকে থামাতে পারেনি।
ইরফাত ছোটবেলা থেকেই শ্রমজীবী মানুষের জীবনের কষ্ট দেখেছে অল্প বয়সেই। লেখাপড়া তেমন করতে পারেনি, তার বদলে জীবিকার সন্ধানে নামতে হয়। শুরু করেন বিভিন্ন ছোট কাজ, পরে নিজের দক্ষতা ও চেষ্টায় হয়ে ওঠেন একজন ড্রাইভার। বর্তমানে তিনি দিনাজপুর সদর হাসপাতালের একজন নিয়মিত অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত। তার পরিবারে পাঁচজন সদস্য। বড় মেয়ে ইসরাত জাহান ইরা প্রথম শ্রেণিতে পড়ে, ছোট মেয়ে ইবনাত জাহান ইফা মাত্র আড়াই বছর বয়সী। পরিবার, সমাজ এবং দায়িত্বের প্রতি দায়িত্ববান একজন সৎ ও মানবিক মানুষ ইরফাত, যিনি দিন-রাত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
আন্দোলনের উত্তাল সময় ও ইরফাতের ভূমিকা
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জ্বলে ওঠে দিনাজপুরসহ সারা দেশে। দিনাজপুরে হাজারো ছাত্র-জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নেয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ওপর পুলিশি গুলির ঘটনা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তরুণ-তরুণীদের মধ্যে জেগে ওঠে তীব্র ক্ষোভ। ইরফাত আলী সাধারণ একজন ড্রাইভার হলেও তিনি শুধু পেশার মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি। তিনি ছিলেন মানবিক ও প্রতিবাদী। তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন আন্দোলনের সময়, আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কাজে সাহায্য করেছেন।
সদর হাসপাতালের ভেতরে পুলিশের নির্মমতা
৪ আগস্ট ২০২৪, দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকায় চলছিল উত্তেজনা। একদিকে স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ এবং আওয়ামী দোসররা দেশ-বিদেশে অস্ত্র নিয়ে অন্যদিকে নিরস্ত্র ছাত্র জনতা। উভয়ের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়া চলছিল। তখন স্বৈরাচারী পুলিশ সরাসরি ছাত্র জনতার উপর গুলি চালায়। অনেকেই হতাহত হয়। আহত ছাত্ররা তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য হাসপাতালে ঢুকলে পুলিশ তাদের পিছন পিছন ঢুকে যায় হাসপাতালে ভেতরে, যেখানে কারো প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা হওয়ার কথা, সেখানেই শুরু হয় গুলির ঝড়।
ইরফাত তখন এম্বুলেন্স চালিয়ে এক আহত ছাত্রকে নামিয়ে দিচ্ছিলেন। হঠাৎ তার সামনে গুলি বিস্ফোরিত হয়। চারদিকে আতঙ্ক ও বিভীষিকা। পুলিশ হাসপাতালের পরিবেশ উপেক্ষা করে ছররা গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় জায়গাটিকে। ইরফাতের হাত, পেট এবং সারা শরীরে ছররা গুলি ঢুকে পড়ে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি, শরীর রক্তে ভেসে যায়। তখনো কেউ বুঝে উঠতে পারছিল না, মানুষ বাঁচাতে গিয়ে একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক নিজেই মৃত্যুর মুখে চলে যাচ্ছেন।
শরীরের ভয়াবহ ক্ষত ও অপারেশনের সময়
ছররা গুলি তার পিত্তথলি এবং পাকিস্থলিতে আঘাত করে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রথমে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে চলে অপারেশন, চিকিৎসা ও পরিচর্যা। ছররা গুলিগুলো শরীর থেকে বের করা হয় অপারেশনের মাধ্যমে। পরে আরও সাত দিন দিনাজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। এই ঘটনার পর তার শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি রয়ে যায়। বিশেষ করে তার বাম হাতে শক্তি ফিরে আসেনি। বর্তমানে মোটামুটি সুস্থ থাকলেও এখনও শরীরে অনেকগুলো ছররা গুলি আছে। একটা স্বাধীন শরীর আজ পরনির্ভর হয়ে উঠেছে।
নাম : মো: ইরফাত আলী
জন্ম তারিখ : ১৭ আগস্ট ১৯৯৪
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : ড্রাইভার
প্রতিষ্ঠান : দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এম্বুলেন্স ড্রাইভার
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: মাছিমপুর, ইউনিয়ন: সদর, থানা: দিনাজপুর সদর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: হামিদুর রহমান
মায়ের নাম : ফরিদা বেগম, মৃত
পিতার পেশা ও বয়স : বৃদ্ধ, ৭০
আয়ের উৎস : বেতন
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. ইসরাত জাহান ইরা, বয়স: ৮, পেশা: শিক্ষার্থ, শ্রেণি: ১ম শ্রেণী, সম্পর্ক: মেয়ে
২. ইবনাত জাহান ইফা, বয়স: ২.৫ বছর, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : সদর হাসপাতালের ভিতরে
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍