হোম / আহতদের তালিকা / মো: আলাউদ্দীন
মো: আলাউদ্দীন

মো: আলাউদ্দীন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

উত্তরপাড়ায় একটি জীবনের শুরু
মো: আলাউদ্দীনের জন্ম ২০০৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, দিনাজপুর জেলার কাহারোল থানার উত্তরপাড়া গ্রামে। একটি অতি সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে আলাউদ্দিনের শৈশব কেটেছে মাটির গন্ধ, ধানের শীষ আর সন্ধ্যার আগুনপোড়া আলোয়। তার পিতা মো: সুকুদ্দি আলী পেশায় একজন কৃষক, বয়স ৪৭, আর মা মোছা: দুলালি বেগম একজন গৃহিণী, বয়স ৪০।

তিন ভাইবোনের মধ্যে আলাউদ্দীন বড়। তার ছোট ভাই নইমউদ্দিন এখন ১৮ বছর বয়সী, সেও একজন শিক্ষার্থী। ছোট বোন সুফিয়া খাতুন, বয়স ১৬, সংসার জীবন শুরু করেছে। আর সবার ছোট, পরিবারের আদরের ফুল সামিয়া আক্তার, যার বয়স মাত্র ৪ বছর। আলাউদ্দিনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পড়াশুনার প্রতি তার ছিল প্রবল আগ্রহ। দিনাজপুর আনোয়ারা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছেন, বর্তমানে তিনি ৫ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তার স্বপ্ন ছিল একজন সফল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে পরিবারের অবস্থার পরিবর্তন আনা।
আন্দোলনের আগুন ও সদর হাসপাতালের সামনে বিভীষিকা
২০২৪ সালের আগস্ট মাস ছিল উত্তাল। সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল অধিকার, ন্যায্য দাবি ও সম্মানজনক জীবনের জন্য। পাবলিক, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল এবং পলিটেকনিক সবার কণ্ঠে ছিল একসুর। আলাউদ্দীন ছিলেন এই আন্দোলনের সক্রিয় অংশ। প্রতিদিন ক্লাসশেষে মিছিলে যোগ দিতেন। ৪ আগস্ট ২০২৪, দিনাজপুর সদর হাসপাতালের সামনে ছিল আন্দোলনের এক ভয়াবহ দিন। দুপুর ১টা। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হঠাৎ পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। ছাত্রদের দমাতে শুরু হয় গুলিবর্ষণ। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, অনেকে দৌড় দেয় প্রাণ বাঁচাতে। আর ঠিক তখনই আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকা আলাউদ্দিনের চোখে এসে লাগে একটি গুলি। চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে।
রক্ত, কান্না আর অন্ধকার
চোখে গুলিবিদ্ধ আলাউদ্দীন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সহপাঠীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর তিনি দিনমজুর এম এ আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানেও তিনি বেশ কিছুদিন চিকিৎসা নেন। কিন্তু চোখের অবস্থার উন্নতি না পেয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরেও চোখের উন্নতি না হলে তিনি প্রাইভেট হসপিটাল রেটিনা গ্লুকোমা সেন্টারে ভর্তি হন। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তিনি চোখে ঝাপসা দেখতে পান। বর্তমানে ছয় মাস পরপর চোখের চেকআপ করাতে হয়। চিকিৎসকরা তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চিকিৎসা অব্যাহত রাখলে উন্নতি সম্ভব।

নাম : মো: আলাউদ্দীন
জন্ম তারিখ : ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৫
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : দিনাজপুর আনোয়ারা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ৫ম সেমিস্টার)
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : দিনাজপুর, গ্রাম: উত্তরপাড়া, থানা: কাহারোল, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: সুকুদ্দি আলী
মায়ের নাম : মোছা: দুলালি বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৪৭
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪০
আয়ের উৎস : কৃষি
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. নইমুউদ্দিন, বয়স: ১৮, পেশা: কৃষক, সম্পর্ক: ভাই
২. সুফিয়া খাতুন, বয়স: ১৬, বিবাহিত, সম্পর্ক: বোন
৩. সামিয়া আক্তার, বয়স: ৪ বছর, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : দিনাজপুর সদর হাসপাতালের সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍