হোম / আহতদের তালিকা / মো: সাকিব ইসলাম
মো: সাকিব ইসলাম

মো: সাকিব ইসলাম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

সাকিবের বেড়ে ওঠা ও দায়বদ্ধতা
মো: সাকিব ইসলাম, দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার নওপাড়া গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে ২০০২ সালের ২৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: জাহেদুল ইসলাম একজন কৃষক এবং মা মোছা: বেগম আক্তার একজন গৃহিণী। পরিবারে পাঁচ সদস্য দুই ভাই ও এক বোনসহ মধ্যম শ্রেণির একটি জীবনযাত্রা। সাকিবের বড় বোন জুই বিবাহিত, বড় ভাই বাধন ইসলাম একটি চাকরিতে নিযুক্ত এবং ছোট ভাই রাফি দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

শৈশবেই সাকিব বুঝতে শেখেন জীবনের কঠিন বাস্তবতা। গ্রামের সাধারণ স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে তিনি বোদা পাথরাজ সরকারি কলেজে ভর্তি হন। তবে শুধু শিক্ষার্থী পরিচয়ে থেমে থাকেননি তিনি। পরিবারের আর্থিক অচলাবস্থায় কাঁধে তুলে নেন দায়িত্ব। ঢাকায় গিয়ে একটি বায়িং হাউসে কাজ নেন। এই অল্প বয়সেই তিনি পরিবারের হাল ধরেন। মায়ের হাতে রান্না করা খাবার থেকে দূরে, পরিবারের ভালোবাসা থেকে আলাদা হয়ে, ভবিষ্যতের জন্য একটি পথ নির্মাণ করছিলেন তিনি। সাকিবের মতো হাজারো তরুণের জীবন আজও প্রেরণার বাতিঘর হয়ে আছে।
উত্তাল জুলাই-আগস্ট সংগ্রামের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাস ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি টার্নিং পয়েন্ট। শিক্ষা ব্যবস্থা, দুর্নীতি, পণ্যদ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি, এবং একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে শুরু করে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা প্রতিটি শহরে আন্দোলনের আগুন জ্বলে ওঠে। ছাত্ররা চেয়েছিল চেয়েছিল সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যহীনতা, ন্যায্য অধিকার, গণতন্ত্র, চেয়েছিল ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। কিন্তু সরকার প্রতিটি আন্দোলনকে দমন করতে মাঠে নামায় পুলিশ, র‍্যাব এবং শাসক দলের ক্যাডার বাহিনী। বিশেষ করে ৪ ও ৫ আগস্ট, এই দুই দিন পুরো বাংলাদেশ জুড়ে ছিল আতঙ্ক, কান্না আর প্রতিরোধের ছবি। উত্তরার র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের সামনে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ করছিল শান্তিপূর্ণভাবে। কিন্তু বেলা ২টার দিকে শুরু হয় অমানবিক দমন-পীড়ন। গুম, গ্রেপ্তার আর ছররা গুলিতে রক্তাক্ত হয় রাস্তা। সেই ঘটনারই শিকার হন সাকিব।
৫ আগস্ট ২০২৪-রক্তে লেখা দিন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো দিন। এই দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান ছাত্র-আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের দমননীতির এক ভয়াবহ রূপ প্রকাশ পায়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকায় র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের সামনের সড়কে ঘটে যায় নির্মম এক ঘটনা, যা বহু তরুণের স্বপ্নকে থামিয়ে দেয় চিরদিনের মতো। সেদিন দুপুরে উত্তরা র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের পাশে সহকর্মীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করছিলেন সাকিব। দুপুর ১টা ৫০ মিনিট। র‍্যাব ও পুলিশ একত্রে জনতার ওপর শুরু করে গুলিবর্ষণ, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল। আকাশে ধোঁয়ার ঘনচাপ, কান ফাটানো শব্দ আর ছুটোছুটি চারপাশে নেমে আসে এক যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা।
সবাই প্রাণভয়ে ছুটতে থাকে এদিক সেদিক।সাকিবও দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে একটি গুলি এসে লেগে তাঁর পিঠের বা দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। তিনি অজ্ঞান পড়ে যান রাস্তায়। একজন লেগুলা চালক তাকে দেখে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। তাকে কোলে করে নিয়ে হাটতে থাকেন সামনের রাস্তায়। তার শরীর ছিল রক্তাক্ত। লেগুলা চালকের শরীর ও রক্তে ভিজে যাচ্ছিলো। তিনি উপায় না পেয়ে পাশের কয়েকটি বিল্ডিং এর গেটের সামনে গেলে তারা তালা মেরে দেয়। তার অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। পরবর্তীতে একটা রিক্সায় তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসা
উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে প্রায় মাসখানেক অবস্থান করেন। সেখানেই তার অপারেশন করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে তার ক্ষত শুকিয়েছে তবে হাটাচলায় সমস্যা দেখা দেয়।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া।

নাম : মো: সাকিব ইসলাম
জন্ম তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০০২
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : বোদা পাথরাজ গার্মেন্ট কলেজ
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: নওপাড়া, ইউনিয়ন: নওপাড়া, থানা: বীরগঞ্জ, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: জাহেদুল ইসলাম
মায়ের নাম : মোছা: বেগম আক্তার
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৫৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪২
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. জুই, বয়স: ২৮, বিবাহিত, সম্পর্ক: বোন
২. বাধন ইসলাম, বয়স: ২৬ পেশা : চাকরি, সম্পর্ক: ভাই
৩. রাফি ইসলাম, বয়স: ১৭, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ১০ম, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : উত্তরা র‌্যাব হেডকোয়ার্টার
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍