হোম / আহতদের তালিকা / মো: লাবু আহমেদ লেবু
মো: লাবু আহমেদ লেবু

মো: লাবু আহমেদ লেবু

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শ্রমিক

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

লাবুর জীবন যুদ্ধের সূচনা
মো: লাবু আহমেদ লেবুর জন্ম ১৯৯২ সালের ২ ডিসেম্বর, দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার বড় ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। পাঁচ সদস্যের এক দরিদ্র পরিবারে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। পিতা মো: ফেরদৌস হাসান একজন লেবার, বয়স এখন ৫৫। মাতা মোছা: ফেরদৌসী বেগম, একজন গৃহিণী। পরিবারে অভাব-অনটনের ছাপ ছিল শুরু থেকেই। ছোটবেলা থেকেই লাবু জীবনের কঠিন বাস্তবতা উপলব্ধি করে।
বিদ্যালয়ের গণ্ডি খুব একটা পেরোতে পারেনি সে। জীবিকার তাগিদে অল্প বয়সেই শ্রমজীবনে ঢুকে পড়ে। পরবর্তীতে বড় ডাঙ্গাপাড়া জুট মিলসে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে। মাসিক আয় মাত্র ৬ হাজার টাকা। এই অল্প আয়ের মধ্যেই পরিবার চালাতো সে। তার মেয়ে লাবনী এখন ১০ বছর বয়সী, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ঢেউ
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে সারা দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন আবারও মাথা-চাড়া দিয়ে ওঠে। চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক কোটার বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্র ও তরুণ সমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত এলাকায়।
৪ আগস্ট ২০২৪, হিলি স্থলবন্দরে একটি বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি আহ্বান করা হয়। সেখানে শ্রমজীবী মানুষেরাও অংশগ্রহণ করে। লাবুও ছিলেন সেই সাহসী কণ্ঠগুলোর একজন। হিলি প্রেসক্লাবের সামনে যখন মিছিল জড়ো হয়, তখনই ছাত্রলীগের একটি সশস্ত্র বাহিনী আন্দোলনে হামলা চালায়।
উত্তাল ছাত্র-জনতা বনাম স্বৈরাচারী বাহিনী
৪ আগস্ট বিকেলে হিলি স্থলবন্দর চত্বর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ছাত্র ও জনতা একজোট হয়ে সরকারের স্বৈরাচারী শাসন, পুলিশি নির্যাতন এবং ছাত্রলীগের বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিল। কিন্তু সরকারি মদদপুষ্ট পুলিশ ও আওয়ামী দোসরদের দমন-পীড়ন ছিল পৈশাচিক।
ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা লাঠি, রড ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্রদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের উপর টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট ছোঁড়া হয়। জনতার রক্তে রঞ্জিত হয় হিলির মাটি। সেই ভয়াবহ দিনেই লাবুকে মিছিল থেকে ধরে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের একদল ক্যাডার।
অগ্নিকুণ্ডে লাবুর নির্মম অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসা
লাবুকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ছাত্রলীগ নেতা চলন্তের বাড়িতে। সেখানেই সারা রাত তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। লাঠি, লোহার রড দিয়ে মারা হয় শরীরের বিভিন্ন অংশে। নির্যাতনে নেতৃত্ব দেয় ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ এবং উপজেলা চেয়ারম্যান জামিল হোসেন।
পরদিন, ৫ আগস্ট ২০২৪ যখন আন্দোলন তীব্রতর হয় এবং শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালায়। তখন আতঙ্কিত হয়ে তারা লাবুসহ আরও কয়েকজন আহতকে একটি ঘরে বন্ধ করে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। আগুনে দগ্ধ হতে থাকে লাবু। তার আর্তনাদে কেঁপে উঠে আশপাশ। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনতা এসে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গা আগুনে পুড়ে যায় ু হাত, পা ও পিঠের চামড়া কিছুটা ঝলসে যায়। তখন তাকে দ্রুত হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরে বর্তমান তিনি সুস্থ আছেন। কিন্তু তার শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা আজও বহন করে যাচ্ছে সে।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
একটি গরুর খামার করে দেওয়া।

নাম : মো: লাবু আহমেদ লেবু
জন্ম তারিখ : ২ ডিসেম্বর ১৯৯২
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শ্রমিক
প্রতিষ্ঠান : বড় ডাঙ্গাপাড়া জুট মিলস
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: বড় ডাঙ্গাপাড়া, ইউনিয়ন: হাকিমপুর সদর, থানা: হাকিমপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: ফেরদৌস হাসান
মায়ের নাম : মোছা: ফেরদৌসী বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : লেবার, ৫৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
মাসিক আয় : ৬ হাজার
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. লাবনী, বয়স: ১০, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৪র্থ, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : হিলি স্থলবন্দর
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍