মো: সানজিদুল মিনহাজ
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শিক্ষার্থী (এইচএসসি পরীক্ষার্থী)
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
শেকড়ের গল্প একটি নিঃশব্দ গড়ে ওঠা
৫ মার্চ ২০০৭ সালে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ গ্রামে জন্ম নেয় এক স্বপ্নবাজ শিশু, নাম তার সানজিদুল মিনহাজ। গ্রামের মেঠোপথ, খোলা মাঠ আর শান্ত পরিবেশেই তার শৈশব কেটেছে। পরিবারে সদস্য মাত্র তিনজন। বাবা মোসাদ্দেক হোসেন, মা মোছা: মমতাজ বেগম এবং বড় বোন ইসরাত জাহান। বাবা পেশায় একজন ফার্মেসী ব্যবসায়ী, গ্রামের একটি ছোট ফার্মেসী চালিয়ে সংসার চালান। বয়স ৪৫ হলেও তার কাঁধে সংসারের পুরো দায়ভার।
মা একজন গৃহিণী, যিনি ভালোবাসা আর শৃঙ্খলায় পরিবারটিকে আগলে রাখেন। বড় বোন ইসরাত জাহান বর্তমানে বিবাহিত, বয়স ২৬। সানজিদুল ছোটবেলা থেকেই মেধাবী, নির্লোভ, আত্মপ্রত্যয়ী এক ছাত্র। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হয় মাধ্যমিক স্কুলে। সেই সময় থেকেই তার স্বপ্ন ছিল একদিন সে মানুষের জন্য কিছু করবে, সমাজের অবিচার দূর করার জন্য কিছু করবে। বর্তমানে সে কাঞ্চন বি এম কলেজের একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
তার চোখে ছিল এক নতুন দিনের স্বপ্ন, যেখানে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না, কেউ কোটা বা পরিচয়ের কারণে পিছিয়ে পড়বে না।
আন্দোলনের আগুন কোটা সংস্কার ২০১৮ থেকে ২০২৪
২০১৮ সালে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে কোটা সংস্কার আন্দোলন। তরুণ সমাজ চেয়েছিল সরকারি চাকরিতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হোক। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার কিছু পরিবর্তন আনলেও বাস্তবে সমস্যাগুলো থেকেই যায়। ২০২৪ সালে আবারও সে দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন। এবার আন্দোলনের ধরন আরও সুসংগঠিত ও ব্যাপক। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তোলে “কোটা থাকতে পারে, কিন্তু তা যেন সীমিত ও যৌক্তিক হয়।” সানজিদুল মিনহাজও এই আন্দোলনের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হয়ে ওঠে। কলেজ ও এলাকার ছাত্রদের সংগঠিত করে সে অংশ নেয় মিছিল, মানববন্ধন এবং গণস্বাক্ষরে। তার কণ্ঠে ছিল সাহসের সুর-“চাকরি চাই যোগ্যতার ভিত্তিতে, পরিচয়ের নয়!” তরুণ এই শিক্ষার্থী মনে করত, সমাজ বদলাতে হলে প্রশ্ন করতে জানতে হবে। আর প্রশ্ন করলেই যদি নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাও সে প্রস্তুত।
পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও ছাত্রলীগের হামলা
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, দিনটি ছিল এক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরিণত হয় ভয়ংকর এক গণ নিপীড়নের চিত্রে। দিনাজপুর সদর হাসপাতালের সামনের রাস্তায় তখন জড়ো হয়েছিল শত শত ছাত্র, সাধারণ জনগণ কোটা সংস্কার ও নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে। মিছিলে ছিল একজন তরুণ, যার নাম সানজিদুল মিনহাজ। সে তখন কাঞ্চন বি.এম. কলেজের এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী। বয়স মাত্র ১৭, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, কিন্তু সে রাজপথে নেমেছিল একটি ন্যায্য সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন নিয়ে। তার মতো আরও অনেক ছাত্র-জনতা সেদিন একত্র হয়েছিল। তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিল। অন্যদিকে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বিত হামলা শুরু হয়। তারা বিদেশি অস্ত্র, দেশি অস্ত্র, রড, লাঠি সব কিছু নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ছাত্রদের উপর। কারও মাথা ফেটে যাচ্ছে, কেউ রাস্তায় লুটিয়ে পড়ছে। চারপাশে শুধু রক্ত আর কান্না। রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল জুতা, ব্যাগ, ভাঙা মোবাইল ফোন। অনেকে আহত হয়ে ছটফট করছিল, কেউ কেউ নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল।
পুলিশের মুখে দেখা যায় নির্মমতা, ছাত্রদের চোখে ভয় ও ঘৃণা। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে হুমকি দেয়া হয়, অনেকেই ফোন দিয়ে ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য হয়। সদর হাসপাতালের সামনে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক রক্তাক্ত মৃত্যুকূপে।
এ ঘটনা কেবল পুলিশের নির্মমতা নয়, এটি ছিল একটি প্রজন্মকে দমন করার চেষ্টা। মিনহাজের শরীরকে লক্ষ্য করে গুলি করলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছররা গুলি লাগে। চোখ-মুখ রক্তে রঞ্জিত হয়।
চিকিৎসা
গুলি লেগে মিনহাজ রাস্তায় পড়ে যায়। তার শরীর রক্তে ভিজে যায়। ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় কারণ হাসপাতালের ভিতরও তখন ছিল নিরাপত্তাহীনতা। এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দিনাজপুর মেডিকেল হাসপাতালে তিনি ভর্তি হন। সেখানে অপারেশন করে কিছু গুলি বের করা হয়। তবে তিনি বাম কানে কম শুনতে পান এখন। কান দিয়ে মাঝে মাঝে রক্ত আসে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
কানের জন্য উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানে প্রস্তাবনা
স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে দেয়া।
নাম : সানজিদুল মিনহাজ
জন্ম তারিখ : ৫ মার্চ ২০০৭
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী (এইচএসসি পরীক্ষার্থী)
প্রতিষ্ঠান : কাঞ্চন বি এম কলেজ
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: ফরক্কাবাদ, থানা: বিরল, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: মোসাদ্দেক হোসেন
মায়ের নাম : মোছা: মমতাজ বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : ব্যবসা (ফার্মেসী), ৪৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪০
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৩ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. ইসরাত জাহান, বয়স: ২৬, বিবাহিত, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : সদর হাসপাতালের সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১টা
আক্রমণকারী : পুলিশ/ ছাত্রলীগ
৫ মার্চ ২০০৭ সালে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ গ্রামে জন্ম নেয় এক স্বপ্নবাজ শিশু, নাম তার সানজিদুল মিনহাজ। গ্রামের মেঠোপথ, খোলা মাঠ আর শান্ত পরিবেশেই তার শৈশব কেটেছে। পরিবারে সদস্য মাত্র তিনজন। বাবা মোসাদ্দেক হোসেন, মা মোছা: মমতাজ বেগম এবং বড় বোন ইসরাত জাহান। বাবা পেশায় একজন ফার্মেসী ব্যবসায়ী, গ্রামের একটি ছোট ফার্মেসী চালিয়ে সংসার চালান। বয়স ৪৫ হলেও তার কাঁধে সংসারের পুরো দায়ভার।
মা একজন গৃহিণী, যিনি ভালোবাসা আর শৃঙ্খলায় পরিবারটিকে আগলে রাখেন। বড় বোন ইসরাত জাহান বর্তমানে বিবাহিত, বয়স ২৬। সানজিদুল ছোটবেলা থেকেই মেধাবী, নির্লোভ, আত্মপ্রত্যয়ী এক ছাত্র। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হয় মাধ্যমিক স্কুলে। সেই সময় থেকেই তার স্বপ্ন ছিল একদিন সে মানুষের জন্য কিছু করবে, সমাজের অবিচার দূর করার জন্য কিছু করবে। বর্তমানে সে কাঞ্চন বি এম কলেজের একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
তার চোখে ছিল এক নতুন দিনের স্বপ্ন, যেখানে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না, কেউ কোটা বা পরিচয়ের কারণে পিছিয়ে পড়বে না।
আন্দোলনের আগুন কোটা সংস্কার ২০১৮ থেকে ২০২৪
২০১৮ সালে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে কোটা সংস্কার আন্দোলন। তরুণ সমাজ চেয়েছিল সরকারি চাকরিতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হোক। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার কিছু পরিবর্তন আনলেও বাস্তবে সমস্যাগুলো থেকেই যায়। ২০২৪ সালে আবারও সে দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন। এবার আন্দোলনের ধরন আরও সুসংগঠিত ও ব্যাপক। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তোলে “কোটা থাকতে পারে, কিন্তু তা যেন সীমিত ও যৌক্তিক হয়।” সানজিদুল মিনহাজও এই আন্দোলনের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হয়ে ওঠে। কলেজ ও এলাকার ছাত্রদের সংগঠিত করে সে অংশ নেয় মিছিল, মানববন্ধন এবং গণস্বাক্ষরে। তার কণ্ঠে ছিল সাহসের সুর-“চাকরি চাই যোগ্যতার ভিত্তিতে, পরিচয়ের নয়!” তরুণ এই শিক্ষার্থী মনে করত, সমাজ বদলাতে হলে প্রশ্ন করতে জানতে হবে। আর প্রশ্ন করলেই যদি নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাও সে প্রস্তুত।
পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও ছাত্রলীগের হামলা
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, দিনটি ছিল এক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরিণত হয় ভয়ংকর এক গণ নিপীড়নের চিত্রে। দিনাজপুর সদর হাসপাতালের সামনের রাস্তায় তখন জড়ো হয়েছিল শত শত ছাত্র, সাধারণ জনগণ কোটা সংস্কার ও নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে। মিছিলে ছিল একজন তরুণ, যার নাম সানজিদুল মিনহাজ। সে তখন কাঞ্চন বি.এম. কলেজের এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী। বয়স মাত্র ১৭, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, কিন্তু সে রাজপথে নেমেছিল একটি ন্যায্য সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন নিয়ে। তার মতো আরও অনেক ছাত্র-জনতা সেদিন একত্র হয়েছিল। তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিল। অন্যদিকে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বিত হামলা শুরু হয়। তারা বিদেশি অস্ত্র, দেশি অস্ত্র, রড, লাঠি সব কিছু নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ছাত্রদের উপর। কারও মাথা ফেটে যাচ্ছে, কেউ রাস্তায় লুটিয়ে পড়ছে। চারপাশে শুধু রক্ত আর কান্না। রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল জুতা, ব্যাগ, ভাঙা মোবাইল ফোন। অনেকে আহত হয়ে ছটফট করছিল, কেউ কেউ নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল।
পুলিশের মুখে দেখা যায় নির্মমতা, ছাত্রদের চোখে ভয় ও ঘৃণা। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে হুমকি দেয়া হয়, অনেকেই ফোন দিয়ে ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য হয়। সদর হাসপাতালের সামনে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক রক্তাক্ত মৃত্যুকূপে।
এ ঘটনা কেবল পুলিশের নির্মমতা নয়, এটি ছিল একটি প্রজন্মকে দমন করার চেষ্টা। মিনহাজের শরীরকে লক্ষ্য করে গুলি করলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছররা গুলি লাগে। চোখ-মুখ রক্তে রঞ্জিত হয়।
চিকিৎসা
গুলি লেগে মিনহাজ রাস্তায় পড়ে যায়। তার শরীর রক্তে ভিজে যায়। ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় কারণ হাসপাতালের ভিতরও তখন ছিল নিরাপত্তাহীনতা। এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দিনাজপুর মেডিকেল হাসপাতালে তিনি ভর্তি হন। সেখানে অপারেশন করে কিছু গুলি বের করা হয়। তবে তিনি বাম কানে কম শুনতে পান এখন। কান দিয়ে মাঝে মাঝে রক্ত আসে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
কানের জন্য উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানে প্রস্তাবনা
স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে দেয়া।
নাম : সানজিদুল মিনহাজ
জন্ম তারিখ : ৫ মার্চ ২০০৭
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী (এইচএসসি পরীক্ষার্থী)
প্রতিষ্ঠান : কাঞ্চন বি এম কলেজ
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: ফরক্কাবাদ, থানা: বিরল, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: মোসাদ্দেক হোসেন
মায়ের নাম : মোছা: মমতাজ বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : ব্যবসা (ফার্মেসী), ৪৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪০
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৩ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. ইসরাত জাহান, বয়স: ২৬, বিবাহিত, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : সদর হাসপাতালের সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১টা
আক্রমণকারী : পুলিশ/ ছাত্রলীগ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍