মো: আকরাম হোসেন
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ব্যবসা
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জীবনপথের শুরু আকরাম হোসেনের বেড়ে ওঠা ও সংগ্রাম
দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর পৌরসভার রডতারা গ্রামে ১৯৮১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মো: আকরাম হোসেন। পিতা মো: রমজান আলী মৃত আর মাতা মোছা: হাজেরা বিবি একজন গৃহিণী, বয়স বর্তমানে ৪৪ বছর। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারের হাল ধরতে হয় আকরামকে। ছোট থেকেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। একদিকে সংসারের অভাব, অন্যদিকে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এই দুইয়ের মাঝেই ধৈর্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। পরিশ্রম আর সততার ভিত্তিতে তিনি জীবন গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যান।
পরিবারে পাঁচজন সদস্য মা, স্ত্রী, বড় মেয়ে রাবেয়া (বিবাহিতা), এবং একমাত্র ছেলে আরিফ হোসেন, যিনি বর্তমানে পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি শ্রেণির শিক্ষার্থী। আকরাম হোসেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এই ব্যবসার আয়ে তিনি তার পরিবার চালান, সন্তানের পড়ালেখার খরচ জোগান এবং মায়ের সেবা করেন। তার জীবনটা হয়তো বড় শহরের চাকচিক্যময় নয়, কিন্তু কঠোর পরিশ্রম আর পরিবারের প্রতি ভালোবাসায় গড়া একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ সংগ্রামের গল্প।
কোটা সংস্কার আন্দোলন- গ্রামের মাটিতে গর্জে ওঠা প্রতিবাদ
২০১৮ সালে শুরু হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ছাত্র-আন্দোলন কোটা সংস্কার আন্দোলন। সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটানীতির সংস্কার দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
আন্দোলনের এই গতি থেমে থাকেনি। ২০২৪ সালে আবার নতুন করে আন্দোলনের আগুন জ্বলে ওঠে। দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও শিক্ষার্থীরা জেগে ওঠে। এবার আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল শুধুই ঢাকার রাজপথে সীমাবদ্ধ নয় বরং গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে ছাত্রদের প্রতিবাদ। হাকিমপুর, রডতারা, হিলি এসব ছোট ছোট এলাকাতেও ছাত্র ও সচেতন মানুষদের মধ্যে আলোচনা বাড়তে থাকে। সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এক ধরনের ন্যায্যতার দাবি। আকরাম হোসেনও এই সময় শুধু একজন ব্যবসায়ী ছিলেন না তিনি ছিলেন একজন চিন্তাশীল বাবা ও সমাজ সচেতন নাগরিক। তিনি দেখছিলেন কিভাবে তার নিজের ছেলের ভবিষ্যৎ, হাজারো গ্রামের সন্তানের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে।
৫ আগস্ট ২০২৪ হিলি চারমাথা মোড়ে রক্তাক্ত দুপুর
জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকেই ছাত্রদের ওপর চলে গণহত্যা। বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ কে প্রকাশ্যে পুলিশ গুলি করে হত্যা করলে সারা দেশে প্রতিবাদ ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তখন খবর আসছিল দমন-পীড়নের। এই হত্যাকাণ্ড সারা দেশের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। হিলির ছাত্ররাও ব্যানার হাতে দাঁড়ায়, প্রতিবাদ জানায়। তারিখটা ছিল ৫ আগস্ট ২০২৪। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেও বাতাসে চাপা উত্তেজনা। হিলি চারমাথা মোড়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়েছিল শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অংশ হিসেবে।
একদিকে ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিল অন্যদিকে পুলিশ এবং আওয়ামী দোসররা অস্ত্র হাতে মহড়া দিচ্ছিল। স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হাতের লাঠি, রড, হকিস্টিক, বাঁশ আর রক্তগরম ভাষা নিয়ে তারা আক্রমণ চালায় নিরস্ত্র ছাত্র ও সাধারণ জনতার ওপর। মাথায়, পিঠে, হাতে যেদিকে সুযোগ পেয়েছে, সেদিকেই চালিয়েছে আঘাত। মো: আকরাম হোসেন সেদিন একজন অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর এই বর্বরতা সহ্য করতে পারেননি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকেও ঘিরে ধরে ছাত্রলীগ ও পুলিশ সদস্যরা। তাকে মাথায় ও হাতে আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তাকে আহত অবস্থায় রেখে যায়।
চিকিৎসা
আহত অবস্থায় মো: আকরাম হোসেনকে ছাত্রজনতা দ্রুত নিকটস্থ হিলির সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। মাথায় ফাটা জখম ও হাতে গভীর আঘাত। চিকিৎসকরা দ্রুত সেলাই দেন, ব্যথানাশক ওষুধ দেন। এখন তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন, কিন্তু সেদিনের যন্ত্রণা আজও শরীর ও মনে স্পষ্টভাবে অনুভব করেন। আকরাম হোসেনের গল্প হাজারো মানুষের গল্প। তিনি একজন বাবা, ব্যবসায়ী, সমাজ সচেতন মানুষ এবং একজন নির্যাতিত যোদ্ধা, যিনি রক্ত দিয়ে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
নাম : মো: আকরাম হোসেন
জন্ম তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮১
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : ব্যবসা
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: রডতাড়া, ইউনিয়ন: হাকিমপুর পৌরসভা, থানা: হাকিমপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: রমজান আলী, মৃত
মায়ের নাম : মোছা: হাজেরা বিবি
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৫
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. রাবেয়া, বিবাহিত, সম্পর্ক: মেয়ে
২. আরিফ হোসেন, বয়স : ১৮ পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: এইচএসসি, সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : হিলি চারমাথা মোড়
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২ টা
আক্রমণকারী : আওয়ামী লীগ ও পুলিশ
দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর পৌরসভার রডতারা গ্রামে ১৯৮১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মো: আকরাম হোসেন। পিতা মো: রমজান আলী মৃত আর মাতা মোছা: হাজেরা বিবি একজন গৃহিণী, বয়স বর্তমানে ৪৪ বছর। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারের হাল ধরতে হয় আকরামকে। ছোট থেকেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। একদিকে সংসারের অভাব, অন্যদিকে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এই দুইয়ের মাঝেই ধৈর্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। পরিশ্রম আর সততার ভিত্তিতে তিনি জীবন গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যান।
পরিবারে পাঁচজন সদস্য মা, স্ত্রী, বড় মেয়ে রাবেয়া (বিবাহিতা), এবং একমাত্র ছেলে আরিফ হোসেন, যিনি বর্তমানে পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি শ্রেণির শিক্ষার্থী। আকরাম হোসেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এই ব্যবসার আয়ে তিনি তার পরিবার চালান, সন্তানের পড়ালেখার খরচ জোগান এবং মায়ের সেবা করেন। তার জীবনটা হয়তো বড় শহরের চাকচিক্যময় নয়, কিন্তু কঠোর পরিশ্রম আর পরিবারের প্রতি ভালোবাসায় গড়া একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ সংগ্রামের গল্প।
কোটা সংস্কার আন্দোলন- গ্রামের মাটিতে গর্জে ওঠা প্রতিবাদ
২০১৮ সালে শুরু হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ছাত্র-আন্দোলন কোটা সংস্কার আন্দোলন। সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটানীতির সংস্কার দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
আন্দোলনের এই গতি থেমে থাকেনি। ২০২৪ সালে আবার নতুন করে আন্দোলনের আগুন জ্বলে ওঠে। দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও শিক্ষার্থীরা জেগে ওঠে। এবার আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল শুধুই ঢাকার রাজপথে সীমাবদ্ধ নয় বরং গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে ছাত্রদের প্রতিবাদ। হাকিমপুর, রডতারা, হিলি এসব ছোট ছোট এলাকাতেও ছাত্র ও সচেতন মানুষদের মধ্যে আলোচনা বাড়তে থাকে। সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এক ধরনের ন্যায্যতার দাবি। আকরাম হোসেনও এই সময় শুধু একজন ব্যবসায়ী ছিলেন না তিনি ছিলেন একজন চিন্তাশীল বাবা ও সমাজ সচেতন নাগরিক। তিনি দেখছিলেন কিভাবে তার নিজের ছেলের ভবিষ্যৎ, হাজারো গ্রামের সন্তানের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে।
৫ আগস্ট ২০২৪ হিলি চারমাথা মোড়ে রক্তাক্ত দুপুর
জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকেই ছাত্রদের ওপর চলে গণহত্যা। বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ কে প্রকাশ্যে পুলিশ গুলি করে হত্যা করলে সারা দেশে প্রতিবাদ ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তখন খবর আসছিল দমন-পীড়নের। এই হত্যাকাণ্ড সারা দেশের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। হিলির ছাত্ররাও ব্যানার হাতে দাঁড়ায়, প্রতিবাদ জানায়। তারিখটা ছিল ৫ আগস্ট ২০২৪। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেও বাতাসে চাপা উত্তেজনা। হিলি চারমাথা মোড়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়েছিল শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অংশ হিসেবে।
একদিকে ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিল অন্যদিকে পুলিশ এবং আওয়ামী দোসররা অস্ত্র হাতে মহড়া দিচ্ছিল। স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হাতের লাঠি, রড, হকিস্টিক, বাঁশ আর রক্তগরম ভাষা নিয়ে তারা আক্রমণ চালায় নিরস্ত্র ছাত্র ও সাধারণ জনতার ওপর। মাথায়, পিঠে, হাতে যেদিকে সুযোগ পেয়েছে, সেদিকেই চালিয়েছে আঘাত। মো: আকরাম হোসেন সেদিন একজন অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর এই বর্বরতা সহ্য করতে পারেননি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকেও ঘিরে ধরে ছাত্রলীগ ও পুলিশ সদস্যরা। তাকে মাথায় ও হাতে আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তাকে আহত অবস্থায় রেখে যায়।
চিকিৎসা
আহত অবস্থায় মো: আকরাম হোসেনকে ছাত্রজনতা দ্রুত নিকটস্থ হিলির সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। মাথায় ফাটা জখম ও হাতে গভীর আঘাত। চিকিৎসকরা দ্রুত সেলাই দেন, ব্যথানাশক ওষুধ দেন। এখন তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন, কিন্তু সেদিনের যন্ত্রণা আজও শরীর ও মনে স্পষ্টভাবে অনুভব করেন। আকরাম হোসেনের গল্প হাজারো মানুষের গল্প। তিনি একজন বাবা, ব্যবসায়ী, সমাজ সচেতন মানুষ এবং একজন নির্যাতিত যোদ্ধা, যিনি রক্ত দিয়ে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
নাম : মো: আকরাম হোসেন
জন্ম তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮১
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : ব্যবসা
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: রডতাড়া, ইউনিয়ন: হাকিমপুর পৌরসভা, থানা: হাকিমপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: রমজান আলী, মৃত
মায়ের নাম : মোছা: হাজেরা বিবি
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৫
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. রাবেয়া, বিবাহিত, সম্পর্ক: মেয়ে
২. আরিফ হোসেন, বয়স : ১৮ পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: এইচএসসি, সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : হিলি চারমাথা মোড়
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২ টা
আক্রমণকারী : আওয়ামী লীগ ও পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍