হোম / আহতদের তালিকা / মো: মাহে আলম প্রধান
মো: মাহে আলম প্রধান

মো: মাহে আলম প্রধান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : কৃষক

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

এক কৃষকের অদম্য নেতৃত্ব
মো: মাহে আলম প্রধান, জন্মেছিলেন ১৯৭২ সালের ২৮ আগস্ট, দিনাজপুর জেলার হাকিমপুরের মুহাড়াপাড়া গ্রামে। পিতা মো: রমজান আলী প্রধান ও মাতা মোছা: ছালেহা বিবি। কৃষিকাজই ছিল তার আয়ের প্রধান উৎস, কিন্তু এই পেশার সীমাবদ্ধতা কখনোই তাকে সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে দেয়নি। মাঠে-ঘাটে কাজ করেও তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে। স্থানীয় মোটর শ্রমিক সংগঠনের সেক্রেটারী হিসেবে তার পরিচিতি ছিল সাহসী এক সংগঠক হিসেবে।
২০১৩, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে তিনি রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার হন ও জেল খাটেন। প্রতিটি গ্রেফতারের পেছনেই ছিল একটিমাত্র কারণ “সত্যের পক্ষে থাকা।” তিনি চাষ করতেন ধান, চালাতেন কৃষি সংসার, পাশাপাশি লড়তেন মানুষের অধিকার আদায়ে। তার চোখে ছিল দৃঢ়তা, কণ্ঠে ছিল প্রতিবাদ।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ৫৬ শতাংশ কোটা চালু ছিল। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য আলাদা সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, মেধা তালিকায় উচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরা কোটা ব্যবস্থার কারণে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই অসন্তোষ থেকেই জন্ম নেয় “কোটা সংস্কার আন্দোলন”।
কোটা সংস্কার করার দাবিতে ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে ওঠে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্কুল-কলেজের ছাত্ররা হয়তো অংশগ্রহণ করে। প্রচণ্ড চাপের মুখে সরকার কোটা সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি দেয়। সাময়িকভাবে কোটা সংস্কার হলেও এটার স্থায়ী কোনো সমাধান তখন দেয়নি। যার ফলে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল রাখা হয়। ছাত্রদের মাঝে আবার ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে চাকরির বাজারে আবার দেখা দেয় ভয়াবহ বৈষম্য। বেকার সমস্যা তীব্র হলেও নিয়োগে দেখা দেয় পক্ষপাতিত্ব ও কোটা-বঞ্চনার পুরনো সমস্যা। সরকার নতুন করে কোটা সংস্কারে উদ্যোগ না নেয়ায় আগুনের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে। যেটা ছড়িয়ে পড়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার কোটা সংস্কার করার পরিবর্তে তার পুলিশ বাহিনী এবং আওয়ামী দোসরদেরকে ছাত্রদের দমনের জন্য আহ্বান জানায়। আওয়ামী গুণ্ডা সন্ত্রাসীরা দেশি-বিদেশী অস্ত্র নিয়ে নিরীহ ছাত্রদের উপর আক্রমণ চালায়। পুলিশ আবু সাঈদকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করলে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়ে দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে।
চার মাথা মোড়ে রক্তাক্ত সকাল
সরকার বাহিনীর মদদপুষ্ট পুলিশ যখন ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি করে তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দরা এক দফার ডাক দেয়। দফা এক, দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ। সরকার পতনের ডাক দিলে সাধারণ ছাত্র জনতা সবাই সহমত পোষণ করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। সকাল থেকেই সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় লংমার্স টু ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই আন্দোলন গড়ে তোলে। দিনাজপুরের চার মাথাও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সকাল ১০টা। হিলির চারমাথা মোড়ে এক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন মাহে আলম প্রধান। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা হাতে পোস্টার, গলায় শ্লোগান নিয়ে রাস্তায় নামছিলো। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হকিস্টিক, লোহার রড, রড বাঁশ আর পুলিশের রাবার বুলেট, টিয়ারশেল মিলে জনতা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সেই ভয়ে অনেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু মাহে আলম পিছু হটেন না। ছাত্রদের পাশে থেকে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশের উপর উপর্যুপরি গুলির কারণে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তখনই একদল আওয়ামী সন্ত্রাসী তাকে একা পেয়ে তার সারা শরীর, হাত, পা ও মাথায় রড, হকিস্টিক ও চাপাতি দিয়ে আঘাত করে। রক্তে ভেসে যায় তার গাল, মুখ, শার্ট। পায়ে লাঠির আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
চিকিৎসা
ছাত্র-জনতা তাকে রক্তাক্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিকটস্থ সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রথমে সেবা দিতে চায়নি। কারণ স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগের হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু দুপুর বেলাতেই যখন শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার খবর পেল তখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। এবার ডায়াগনস্টিকে কিছুদিন চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা: তার সন্তানদের জন্য স্কলারশিপ এর ব্যবস্থা করা।

নাম : মো: মাহে আলম প্রধান
জন্ম তারিখ : ২৮ আগস্ট ১৯৭২
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : কৃষক
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: মুহাড়াপাড়া, ইউনিয়ন: হাকিমপুর পৌরসভা, থানা: হাকিমপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: রমজান আলী প্রধান
মায়ের নাম : মোছা: ছালেহা বিবি
আয়ের উৎস : কৃষি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. রেজোয়ান প্রধান রিমন, বয়স: ২৫, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: মাস্টার্স, সম্পর্ক: ছেলে
২. শাহরিয়ার প্রধান রিফাত, বয়স : ২১, পেশা: ব্যবসা, সম্পর্ক: ছেলে
৩. মায়া, বয়স: ১৬, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ১০ম, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : চার মাথা মোড়, হিলি
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, সকাল ১০ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ ও আওয়ামী লীগ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍