হোম / আহতদের তালিকা / মো: তারিকুজ্জামান
মো: তারিকুজ্জামান

মো: তারিকুজ্জামান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ব্যবসা (স্টেশনারি)

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মাটি থেকে উঠে আসা তারিকুজ্জামান
২০ ডিসেম্বর ১৯৮৯ সালে দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার ছাতনী গ্রামে জন্ম নেন মো: তারিকুজ্জামান। বাবা ছিলেন মৃত আব্দুল কাদের মন্ডল এবং মা মোছা: সখিনা বেওয়া একজন সাধারণ গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই দরিদ্র সংসারে বেড়ে ওঠা তারিকুজ্জামান জীবনের প্রতিটি ধাপে সংগ্রাম করে সামনে এগিয়েছেন। তার জীবন শুরু হয়েছিল ফাঁকা হাতে, আর প্রতিটি দিন ছিল বেঁচে থাকার জন্য এক যুদ্ধ। অল্প বয়সে বাবাকে হারানোর পর পুরো পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। সংসারের হাল ধরতে স্টেশনারী ব্যবসা শুরু করেন স্থানীয় হাকিমপুর বাজারে।

মায়ের মুখে হাসি ফোটানো আর নিজের ছোট্ট সংসারটা টিকিয়ে রাখাই ছিল তার স্বপ্ন। তার স্ত্রী, এক ছেলে তাহমিদ (৪ বছর বয়স) এবং এক বছরের কন্যা মরিয়মকে নিয়ে ছিল তার শান্তি আর জীবনের পূর্ণতা। কিন্তু শান্ত এই জীবনে ঝড় এসে দাঁড়ায় যখন তিনি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েন। তিনি জানতেন, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ না খুললে তার ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে যাবে।
আন্দোলনের আগুন হিলির চার মাথা মোড়ে
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু হয়ে অল্প সময়েই ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলাদেশে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে মফস্বলের প্রত্যন্ত জনপদও গর্জে ওঠে এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে। দিনাজপুর জেলার হিলি বন্দর ছিল এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। হিলি স্থলবন্দরের পাশে থাকা চারমাথা মোড় হয়ে ওঠে স্থানীয় ছাত্র ও জনতার মিলনস্থল। প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীরা “চাকরি চাই, কোটা নয়” স্লোগানে মুখর করে তোলে এলাকা। মো: তারিকুজ্জামান সেদিন সকালে তার দোকান বন্ধ করে দাঁড়ান ছাত্রদের পাশে। তিনি ছিলেন না কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য, ছিলেন না কোনো নেতা, তবুও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পিছপা হননি। তবে সেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা লাঠি, হকিস্টিক, রড, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনীকে সাথে নিয়ে মিছিলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশ চতুর্দিক থেকে টিয়ারসেল, রাবার বুলেট, ছররা গুলি ছাড়লে ছাত্ররা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তখন আওয়ামী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী গুন্ডারা সন্ত্রাসী কায়দায় ছাত্রদের উপর আক্রমণ করে।
চারমাথা মোড় হয়ে উঠে রক্ত আর আর্তনাদের হাহাকার। তারিকুজ্জামান দৌড়ে পালাতে গেলে তাকে ঘিরে ধরে একদল আওয়ামী সন্ত্রাসী গুণ্ডারা।
তারা কোনো কথা না বলে চাপাতি, রড, হকিস্টিক ও বাঁশ দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে তার শরীরে। এক পর্যায়ে তার ডান হাত অনেকখানি কেটে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভয়ানক জখম হয়, মাথায় আঘাত লেগে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার রক্তে চারমাথার রাস্তাও যেন রক্তাক্ত হয়ে উঠেছিল। স্থানীয় ছাত্র-জনতা ছুটে এসে তাকে রিকশায় তুলে দ্রুত হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানেও তিনি হয়রানির শিকার হন। সন্ত্রাসী আওয়ামীরা কাউকেই ঠিকমতো চিকিৎসা করতে দিচ্ছিল না। বারবার হুমকি দিচ্ছিল মামলা হামলার। বিকেল গড়াতেই যখন স্বৈরাচারী হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালো তখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলো। তার হাতে প্রায় আট দশটা সেলাই দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা
সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে দেয়া।

নাম : মো: তারিকুজ্জামান
জন্ম তারিখ : ২০ ডিসেম্বর ১৯৮৯
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : ব্যবসা (স্টেশনারি)
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: ছাতনী, ইউনিয়ন: পৌরসভা, থানা: হাকিমপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মৃত আব্দুল কাদের মন্ডল
মায়ের নাম : মোছা: সখিনা বেওয়া
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী
আয়ের উৎস : ব্যবসা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. তাহমিদ, বয়স: ৪, সম্পর্ক: ছেলে
২. মরিয়ম, বয়স: ১, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : চারমাথা মোড়, হিলি
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, সকাল ১১ টা
আক্রমণকারী : আওয়ামী লীগ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍