মো: শাহারুল ইসলাম
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শ্রমিক
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্ম পরিচয়
২০০৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে জন্ম নেয় মো: শাহারুল ইসলাম। ছোট্ট এক কুঁড়েঘরে, অভাবের মাঝেও ভালোবাসা ও স্বপ্নে ভরা ছিল তার শৈশব। পিতা মো: আজীম উদ্দিন একজন ভ্যানচালক, বয়স ৪৫, দিনমান রোদে-ঘামে ভ্যান চালিয়ে সামান্য যা আয় করেন তা দিয়েই চলে তার সংসার। মা শিরিনা বেগম, বয়স ৪০, একজন গৃহিণী। চার সদস্যের এই পরিবারে বড় বোন শাহানাজ আফরোজ রিফা, বয়স ২৬, বিবাহিত। শাহারুল ছিল মায়ের স্নেহের আদরে বড় হওয়া এক নির্লোভ যুবক। লেখাপড়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু দারিদ্র্যতার কারণে মাধ্যমিকের পর আর এগোতে পারেনি। জীবনের তাগিদে পেশা হিসেবে বেছে নেয় অটো রিকশা চালানো। দিনাজপুরের রাস্তা, মানুষের কষ্ট, পুলিশের চাহনি, সবকিছুই তার কাছে ছিল পরিচিত। কিন্তু ২০২৪ সাল এই বছরটাই ছিল ভিন্ন।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও এক দফা দাবি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাস ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। কোটা সংস্কার আন্দোলন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ, শিক্ষার্থীদের উপর অন্যায়, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার সব কিছু মিলিয়ে চারপাশ যেন আগুনে পুড়ছিল। বিশেষ করে, এক দফা দাবির পক্ষে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গণআন্দোলন। গণহত্যার প্রতিবাদে সরকার পতনের দাবি নিয়ে ঢাকার রাজপথে যেমন ছাত্ররা, তেমনি মফস্বলের শহরগুলোতেও মানুষ জড়ো হচ্ছিল। বিরামপুরেও উত্তাল হয়ে ওঠে আন্দোলন। অটোচালক শাহারুল প্রথমে শুধু দেখছিল, পরে নিজেও যোগ দেন মানববন্ধনে, তারপর সমাবেশে। সে জানত গরিবদের জন্য এই লড়াই দরকার। তবে সরকার পক্ষ এবং পুলিশের দমন-পীড়ন শুরু হয় খুব দ্রুত। জেল, গুম, হুমকি আর গুলি করে লাশের উপর দিয়ে সরকারে থাকাই যেন উদ্দেশ্য।
৫ আগস্টের ভয়াবহতা ও পুলিশের ছোরা-গুলি
সেই ভয়াল দিন, ৫ আগস্ট ২০২৪, দিনটি ছিল সোমবার। বিকেল ৩টা বাজে। বিরামপুর থানার সামনে স্থানীয় জনগণ ও হাজার হাজার শিক্ষার্থী এক শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি করছিলেন। থানার সামনের রাস্তাটি ছিল তখন উত্তেজনায় টগবগে। শত শত মানুষ দাঁড়িয়েছিল এক দফা দাবিতে, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের দাবি নিয়ে। চারপাশে ছড়িয়ে ছিল ছাত্র, শ্রমিক, চাকরি প্রত্যাশী ও সাধারণ মানুষ। তাদের কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট প্রতিবাদ, চোখে ছিল প্রতিজ্ঞার আগুন। মো: শাহারুল ইসলাম, একজন নিরীহ অটোচালক, সেদিনও প্রতিদিনের মতো রিকশা নিয়ে বেরিয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনের ঢেউ তার ভেতরেও নাড়া দিয়েছিল। তাই সে দাঁড়িয়েছিল এক পাশে, কিছু না বলেও অনেক কিছু বলছিল তার উপস্থিতি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ভয়াল পরিস্থিতিতেও বুকে অদম্য সাহস নিয়ে দঁঁঁঁাঁড়িয়েছিলো স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে। ছত্রভঙ্গ করার নামে হঠাৎ করে পুলিশ শুরু করে লাঠিচার্জ। তারপর মুহূর্তেই ছোরা চালায়, টিয়ার গ্যাস ছোড়ে, এরপর গুলিও চালায়। শাহারুল গুলিবিদ্ধ হয় তার পায়ে। রক্তাক্ত হয় তার শরীর। রক্তে ভেসে যায় রাস্তা। চারদিকে শুধু হাহাকার। একজন গরিব রিকশাচালকও এই রাষ্ট্রীয় দমন নীতির শিকার হয়, শুধু কিছু সত্য কথা বলার কারণে।
চিকিৎসা
তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্র-জনতা উদ্ধার করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। পরবর্তীতে অপারেশন করে ছররা গুলি বের করা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
নাম : মো: শাহারুল ইসলাম
জন্মতারিখ : ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৩
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শ্রমিক
প্রতিষ্ঠান : অটোরিকশা চালক
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: কেশবপুর, ইউনিয়ন: মুকুন্দপুর, থানা: বিরামপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: আজীম উদ্দিন
মায়ের নাম : শিরিনা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : ভ্যানচালক, ৪৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪০
আয়ের উৎস : ভ্যান চালানো
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. শাহানাজ আফরোজ রিফা, বয়স: ২৬, পেশা: বিবাহিত, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : বিরামপুর থানার সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, বিকাল ৩ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
একটা অটোরিক্সার ব্যবস্থা করে দেয়া।
২০০৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে জন্ম নেয় মো: শাহারুল ইসলাম। ছোট্ট এক কুঁড়েঘরে, অভাবের মাঝেও ভালোবাসা ও স্বপ্নে ভরা ছিল তার শৈশব। পিতা মো: আজীম উদ্দিন একজন ভ্যানচালক, বয়স ৪৫, দিনমান রোদে-ঘামে ভ্যান চালিয়ে সামান্য যা আয় করেন তা দিয়েই চলে তার সংসার। মা শিরিনা বেগম, বয়স ৪০, একজন গৃহিণী। চার সদস্যের এই পরিবারে বড় বোন শাহানাজ আফরোজ রিফা, বয়স ২৬, বিবাহিত। শাহারুল ছিল মায়ের স্নেহের আদরে বড় হওয়া এক নির্লোভ যুবক। লেখাপড়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু দারিদ্র্যতার কারণে মাধ্যমিকের পর আর এগোতে পারেনি। জীবনের তাগিদে পেশা হিসেবে বেছে নেয় অটো রিকশা চালানো। দিনাজপুরের রাস্তা, মানুষের কষ্ট, পুলিশের চাহনি, সবকিছুই তার কাছে ছিল পরিচিত। কিন্তু ২০২৪ সাল এই বছরটাই ছিল ভিন্ন।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও এক দফা দাবি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাস ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। কোটা সংস্কার আন্দোলন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ, শিক্ষার্থীদের উপর অন্যায়, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার সব কিছু মিলিয়ে চারপাশ যেন আগুনে পুড়ছিল। বিশেষ করে, এক দফা দাবির পক্ষে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গণআন্দোলন। গণহত্যার প্রতিবাদে সরকার পতনের দাবি নিয়ে ঢাকার রাজপথে যেমন ছাত্ররা, তেমনি মফস্বলের শহরগুলোতেও মানুষ জড়ো হচ্ছিল। বিরামপুরেও উত্তাল হয়ে ওঠে আন্দোলন। অটোচালক শাহারুল প্রথমে শুধু দেখছিল, পরে নিজেও যোগ দেন মানববন্ধনে, তারপর সমাবেশে। সে জানত গরিবদের জন্য এই লড়াই দরকার। তবে সরকার পক্ষ এবং পুলিশের দমন-পীড়ন শুরু হয় খুব দ্রুত। জেল, গুম, হুমকি আর গুলি করে লাশের উপর দিয়ে সরকারে থাকাই যেন উদ্দেশ্য।
৫ আগস্টের ভয়াবহতা ও পুলিশের ছোরা-গুলি
সেই ভয়াল দিন, ৫ আগস্ট ২০২৪, দিনটি ছিল সোমবার। বিকেল ৩টা বাজে। বিরামপুর থানার সামনে স্থানীয় জনগণ ও হাজার হাজার শিক্ষার্থী এক শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি করছিলেন। থানার সামনের রাস্তাটি ছিল তখন উত্তেজনায় টগবগে। শত শত মানুষ দাঁড়িয়েছিল এক দফা দাবিতে, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের দাবি নিয়ে। চারপাশে ছড়িয়ে ছিল ছাত্র, শ্রমিক, চাকরি প্রত্যাশী ও সাধারণ মানুষ। তাদের কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট প্রতিবাদ, চোখে ছিল প্রতিজ্ঞার আগুন। মো: শাহারুল ইসলাম, একজন নিরীহ অটোচালক, সেদিনও প্রতিদিনের মতো রিকশা নিয়ে বেরিয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনের ঢেউ তার ভেতরেও নাড়া দিয়েছিল। তাই সে দাঁড়িয়েছিল এক পাশে, কিছু না বলেও অনেক কিছু বলছিল তার উপস্থিতি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ভয়াল পরিস্থিতিতেও বুকে অদম্য সাহস নিয়ে দঁঁঁঁাঁড়িয়েছিলো স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে। ছত্রভঙ্গ করার নামে হঠাৎ করে পুলিশ শুরু করে লাঠিচার্জ। তারপর মুহূর্তেই ছোরা চালায়, টিয়ার গ্যাস ছোড়ে, এরপর গুলিও চালায়। শাহারুল গুলিবিদ্ধ হয় তার পায়ে। রক্তাক্ত হয় তার শরীর। রক্তে ভেসে যায় রাস্তা। চারদিকে শুধু হাহাকার। একজন গরিব রিকশাচালকও এই রাষ্ট্রীয় দমন নীতির শিকার হয়, শুধু কিছু সত্য কথা বলার কারণে।
চিকিৎসা
তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্র-জনতা উদ্ধার করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। পরবর্তীতে অপারেশন করে ছররা গুলি বের করা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
নাম : মো: শাহারুল ইসলাম
জন্মতারিখ : ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৩
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শ্রমিক
প্রতিষ্ঠান : অটোরিকশা চালক
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: কেশবপুর, ইউনিয়ন: মুকুন্দপুর, থানা: বিরামপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: আজীম উদ্দিন
মায়ের নাম : শিরিনা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : ভ্যানচালক, ৪৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪০
আয়ের উৎস : ভ্যান চালানো
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. শাহানাজ আফরোজ রিফা, বয়স: ২৬, পেশা: বিবাহিত, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : বিরামপুর থানার সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, বিকাল ৩ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
একটা অটোরিক্সার ব্যবস্থা করে দেয়া।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍