হোম / আহতদের তালিকা / মো: মসফিকুর রহমান
মো: মসফিকুর রহমান

মো: মসফিকুর রহমান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শ্রমিক

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

রেমিট্যান্স যোদ্ধার ঘরে ফেরা
১৯৮৬ সালের ৭ অক্টোবর দিনাজপুর জেলার পলিরাম কৃষ্ণপুর গ্রামে জন্ম নেন মো: মসফিকুর রহমান। বাবা মো: মজিবর রহমান সরকার কৃষিকাজ করতেন, বয়স এখন ৬৫। মা আনোয়ারা বেগম গৃহিণী। অভাবের সংসার, কিন্তু তাতে ভালোবাসার ঘাটতি ছিল না। ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী, একরোখা ও মাটির গন্ধে বড় হয়ে ওঠা এই যুবক কর্মসংস্থানের আশায় পাড়ি জমান বিদেশে।

চলে যান নেদারল্যান্ডে। শুরুটা ছিল কষ্টকর। দিন রাত কষ্ট করে করা, ভাষার ভিন্নতা, সংস্কৃতির সংঘাত তবুও তিনি টিকে আছেন। অবশেষে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে। পরপর ৮ বছর কাটে দেশ থেকে দূরে। প্রতি মাসেই টাকা পাঠাতেন ছেলেমেয়ের পড়াশুনা, পিতামাতার চিকিৎসা ও ঘরের খরচের জন্য। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি দেশে ফিরে আসেন ছুটি কাটাতে। বাড়িতে ফিরেই লক্ষ্য করেন, চারদিকে চাপা গর্জন একটা ভয় আর ক্ষোভ। স্কুলপড়ুয়া ছেলে প্রিন্স মাহমুদ মুগ্ধ (১৪) আর মেয়ে রুমি (৯)-কে বুকের মাঝে চেপে ধরেই শুনছিলেন চারপাশের কথা। চারপাশের অন্যায়, জুলুম, নির্যাতন, গুম, হত্যা, খুন এসব দেখে তিনিও রাজপথে নেমে আসেন।
২০১৮ থেকে ২০২৪ দীর্ঘ অন্যায়ের ধারাবাহিকতা
২০১৮ সালে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ “কোটা সংস্কার আন্দোলন” শুরু করে। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে রাজপথে নামে হাজারো শিক্ষার্থী। সরকার তখন সাময়িকভাবে কোটাব্যবস্থার সামরিক রূপে কিছুটা পরিবর্তন আনলেও কোনো স্থায়ী, সাংবিধানিক বা নীতিগত সমাধান করেনি। বরং শিক্ষার্থীদের উপর চলে দমন-পীড়ন, হুমকি, গুম, ও মামলা। এই অসম্পূর্ণতার আগুন ক্রমশ জমে থাকে শিক্ষার্থীদের অন্তরে। ২০২৪ সালের শুরুতেই আবার গর্জে ওঠে ছাত্র-জনতা। এবার তাদের মূল দাবি কোটা সংস্কারের স্থায়ী সমাধান। কিন্তু তখনও সরকার চালায় দমন-পীড়ন।
কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এক প্রবাসীর রক্তাক্ত বিকেল
৫ আগস্ট ২০২৪ বিরামপুর থানার সামনে সেদিন ছিল যেন যুদ্ধক্ষেত্র। শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে ছিল শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী, শ্রমিক আর সাধারণ জনগণ। সকলের কণ্ঠে ছিল এক আওয়াজ: “কোটা বৈষম্য বন্ধ করো! ন্যায্য মেধার মূল্য দাও!” ২০১৮ সালে সরকার বলেছিল “কোটা সংস্কার করা হয়েছে”, কিন্তু বাস্তবে কোনো নীতিগত সমাধান আসেনি। একাংশ এখনো অন্যদের মাথায় চেপে বসে আছে। গরিব ঘরের মেধাবীরা রয়ে গেছে বঞ্চিত, হেলাফেলার শিকার। মো: মসফিকুর রহমান একজন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা, ছুটিতে দেশে এসে যখন এই আন্দোলন দেখলেন, তখন আর চুপ থাকতে পারলেন না। তিনি জানতেন, “আজ ছাত্ররা কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, কাল আমার সন্তান মুগ্ধও এই অবিচারের শিকার হবে।” তাই তিনি বললেন “আমি গুলি খেতেও রাজি, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো।” দুপুর ৩টার দিকে আন্দোলন চলছিল, হঠাৎ করেই পুলিশ অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, আর রাবার বুলেট ও ছররা গুলির বর্ষণ। ছাত্ররা শুধু বলেছিল: “কোটা প্রথা বাতিল করো, মেধার মর্যাদা দাও।”
কিন্তু সরকার চেয়েছিল এই আওয়াজ চিরতরে স্তব্ধ করতে। আর সেই নিঃশব্দ করার প্রক্রিয়ায় আহত হন প্রবাসী মসফিকুর। ছররা গুলি ও রাবার বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হয় তার পা ও পিঠ। তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। চারদিকে শুধু ধোঁয়া, রক্ত আর ছাত্রদের আর্তনাদ।
চিকিৎসা
তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে ছাত্র-জনতা উদ্ধার করে নিকটস্থ বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। একদিন পরে তার অপারেশন করে গুলি বের করা হয়। এখনো মাঝে মাঝে কিছুটা যন্ত্রণা হয়। তবে তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন। বেশ কিছুদিন পূর্বে তিনি আবার প্রবাস জীবন নেদারল্যান্ডে চলে গেছেন।

নাম : মো: মসফিকুর রহমান
জন্মতারিখ : ৭ অক্টোবর ১৯৮৬
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শ্রমিক
প্রতিষ্ঠান : প্রবাসী (নেদারল্যান্ড)
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পলিরাম কৃষ্ণপুর, ইউনিয়ন: মুকুন্দপুর, থানা: বিরামপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: মজিবর রহমান সরকার
মায়ের নাম : মোছা: আনোয়ারা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষি, ৬৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৫
আয়ের উৎস : বেতন
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. প্রিন্স মাহমুদ মুগ্ধ, বয়স: ১৪, পেশা: শিক্ষার্থী, সম্পর্ক: ছেলে
২. রুমি, বয়স: ৯, পেশা: শিক্ষার্থী, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : বিরামপুর থানার সামনে
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, বিকাল ৩টা
আক্রমণকারী : পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍