মো: আবু জুবায়ের
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মেধাবী ছাত্রের জন্ম ও বেড়ে ওঠা
দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার লাটেরহাট ইউনিয়নের এক শান্ত গ্রাম ভগিরপাড়ায় জন্ম নেয় এক সম্ভাবনাময় ছাত্র মো: আবু জুবায়ের। তার জন্ম হয় ২০০৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের বিজয়ের দিনে। তার জন্মটাই যেন ছিল প্রতীকী একটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, আশা এবং দেশের জন্য নিবেদিত জীবনের সূচনা। পিতা মো: আবুল কালাম আজাদ একজন কৃষক। মাটির সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই তিনি পরিবার চালান। মা মোছা: জহুরা বেগম একজন গৃহিণী। তাদের ছোট্ট সংসারে স্বপ্ন ছিল বড় সন্তানদের শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা। আবু জুবায়ের ছিল অত্যন্ত মেধাবী ও আত্মপ্রত্যয়ী। গ্রামের স্কুলে পড়ালেখা করেও সে সবসময় ক্লাসে ভালো করতো। পরে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হয় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন ও বিচার বিভাগে। আইন নিয়ে পড়ার স্বপ্ন তার ছোটবেলা থেকেই। সে চেয়েছিল বিচারহীনতার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ২০১৮ থেকে ২০২৪
২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন দেশব্যাপী আলোড়ন তোলে। ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় নামে কয়েক দফা দাবি নিয়ে। সরকার সাময়িকভাবে কিছু প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সে সময় আন্দোলন দমনে পুলিশ ও শাসকদলের বাহিনী যেভাবে দমন-পীড়ন চালিয়েছিল তা জাতি ভোলেনি। এই অন্যায় ও বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে ছাত্রসমাজ মনেপ্রাণে চেয়েছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা।
২০২৪ সালে সে অসমাপ্ত আন্দোলন আবার দানা বাঁধে এবং “কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম” নতুন রূপ নেয়। এ প্রজন্ম, যাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত তারা রাজপথে নামে। চাকরি পরীক্ষায় মেধার অপমান, বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দখলদারিত্ব সব মিলিয়ে দেশজুড়ে ছাত্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। আবু জুবায়েরও এই আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত করে। সে বুঝে গেছে, ন্যায়ের জন্য কথা না বললে অন্যায় আরও দৃঢ়ভাবে গেড়ে বসবে। ছাত্র লীগের হামলার সময় শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে যখন ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে তখন আরবি ডিপার্টমেন্ট এর সামনে এসে দাঁড়ালে আমাকে ও কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে আরবি ডিপার্টমেন্ট এর বিল্ডিং-এ ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে অনেক কষ্টে উদ্ধার হই।
ঢাকা থেকে রংপুর আন্দোলনের বিস্তার
১৪ জুলাই ২০২৪ এই দিনটি ছিল ছাত্র আন্দোলনের এক মোড় ঘুরানো দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের টোকাই বাহিনী, সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, রড, লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে। সে দিন আহত হয় শতাধিক শিক্ষার্থী। আবু জুবায়েরও সেদিন ঢাকায় ছিল। তিনিও আহত হন। গায়ে জখমের আঘাত নিয়েও সে আন্দোলন চালিয়ে যায়। দিনাজপুর জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে ফেসবুক পেইজ এবং গ্রুপ খুলে সেখানেও শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে সহযোগিতা করি। স্ব-শরীরে বিভিন্ন জেলায় আন্দোলনে যুক্ত হলেও অনলাইনের মাধ্যমে আন্দোলন সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখি। সারাদেশের সাথে বিশেষ করে দিনাজপুর জেলায়। ক্যান্টনমেন্ট-এর মতো সামরিক বাহিনীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আন্দোলন সংগঠিত করি, যেহেতু ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ বীরউত্তম শহীদ মাহবুব সেনানিবাস, পার্বতীপুর দিনাজপুর থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করি এবং বিতর্কসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমে সামনের সারিতে থাকায় ভালো পরিচিতি ও অ্যাঙ্গেজমেন্ট ছিলো তাই সেখানে সহজেই অনুজদের দিয়ে আন্দোলন সংগঠিত করতে পারি। ১৮ জুলাই রংপুরে ছাত্রনেতা আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হলে জুবায়ের আর স্থির থাকতে পারে না। সে কারফিউ উপেক্ষা করে রংপুর যায় ও ছাত্রদের নিয়ে প্রতিবাদ করে। ঢাকায় ফেরার সব রাস্তা বন্ধ থাকায় সে নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে গিয়ে স্থানীয় ছাত্রদের সংগঠিত করে। সেখানেও আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। মিছিল, মানববন্ধন, সমাবেশ চলতে থাকে। আবু জুবায়ের সেখানে নিয়মিত আন্দোলন চালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ আহত ছাত্রনেতা ও মানসিক ট্রমা
৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২টা। ঠাকুরগাঁও কোর্টের সামনে চলছিল এক বিশাল ছাত্র মিছিল। হঠাৎ করেই পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে মিছিলের ওপর হামলা চালায়। রাবার বুলেট, গুলি, টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আবু জুবায়ের পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন। তার শরীরে গুলি লাগে, চোখে টিয়ারগ্যাসের প্রভাব পড়ে। আহত অবস্থায় তাকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের ভিতরেও নিরাপত্তার অভাব ছিল। আহতদের চিকিৎসা না দিয়ে পুলিশ নজরদারির বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে মানসিকভাবে সে ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে তাকে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দেখাতে হয়। এখনো মাঝে মাঝে ঘুমের মধ্যে সেই বিভীষিকাময় চিত্র ভেসে ওঠে। ৪ আগস্টের স্মৃতি তাকে তাড়া করে ফেরে। তবে সে দমে যায়নি। আইনের ছাত্র হিসেবে সে আজও বিশ্বাস করে ন্যায় একদিন প্রতিষ্ঠা হবেই।
নাম : মো: আবু জুবায়ের
জন্ম তারিখ : ১৬ ডিসেম্বর ২০০৪
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : মাধ্যমিক-বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
উচ্চ মাধ্যমিক- ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ
বীর উত্তম শহীদ মাহবুব সেনানিবাস, পার্বতীপুর, দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: ভগিরপাড়া, ইউনিয়ন: লাটেরহাট, থানা: বীরগঞ্জ, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: আবুল কালাম আজাদ
মায়ের নাম : মোছা: জহুরা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৫২
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৪
আয়ের উৎস : কৃষিকাজ
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. জুনাইদ, বয়স: ১৩, শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৬ষ্ঠ , সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : কোর্টের সামনে (ঠাকুরগাঁও)
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২ টা
আক্রমণকারী : আওয়ামী পুলিশ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ
দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার লাটেরহাট ইউনিয়নের এক শান্ত গ্রাম ভগিরপাড়ায় জন্ম নেয় এক সম্ভাবনাময় ছাত্র মো: আবু জুবায়ের। তার জন্ম হয় ২০০৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের বিজয়ের দিনে। তার জন্মটাই যেন ছিল প্রতীকী একটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, আশা এবং দেশের জন্য নিবেদিত জীবনের সূচনা। পিতা মো: আবুল কালাম আজাদ একজন কৃষক। মাটির সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই তিনি পরিবার চালান। মা মোছা: জহুরা বেগম একজন গৃহিণী। তাদের ছোট্ট সংসারে স্বপ্ন ছিল বড় সন্তানদের শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা। আবু জুবায়ের ছিল অত্যন্ত মেধাবী ও আত্মপ্রত্যয়ী। গ্রামের স্কুলে পড়ালেখা করেও সে সবসময় ক্লাসে ভালো করতো। পরে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হয় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন ও বিচার বিভাগে। আইন নিয়ে পড়ার স্বপ্ন তার ছোটবেলা থেকেই। সে চেয়েছিল বিচারহীনতার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ২০১৮ থেকে ২০২৪
২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন দেশব্যাপী আলোড়ন তোলে। ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় নামে কয়েক দফা দাবি নিয়ে। সরকার সাময়িকভাবে কিছু প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সে সময় আন্দোলন দমনে পুলিশ ও শাসকদলের বাহিনী যেভাবে দমন-পীড়ন চালিয়েছিল তা জাতি ভোলেনি। এই অন্যায় ও বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে ছাত্রসমাজ মনেপ্রাণে চেয়েছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা।
২০২৪ সালে সে অসমাপ্ত আন্দোলন আবার দানা বাঁধে এবং “কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম” নতুন রূপ নেয়। এ প্রজন্ম, যাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত তারা রাজপথে নামে। চাকরি পরীক্ষায় মেধার অপমান, বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দখলদারিত্ব সব মিলিয়ে দেশজুড়ে ছাত্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। আবু জুবায়েরও এই আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত করে। সে বুঝে গেছে, ন্যায়ের জন্য কথা না বললে অন্যায় আরও দৃঢ়ভাবে গেড়ে বসবে। ছাত্র লীগের হামলার সময় শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে যখন ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে তখন আরবি ডিপার্টমেন্ট এর সামনে এসে দাঁড়ালে আমাকে ও কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে আরবি ডিপার্টমেন্ট এর বিল্ডিং-এ ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে অনেক কষ্টে উদ্ধার হই।
ঢাকা থেকে রংপুর আন্দোলনের বিস্তার
১৪ জুলাই ২০২৪ এই দিনটি ছিল ছাত্র আন্দোলনের এক মোড় ঘুরানো দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের টোকাই বাহিনী, সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, রড, লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে। সে দিন আহত হয় শতাধিক শিক্ষার্থী। আবু জুবায়েরও সেদিন ঢাকায় ছিল। তিনিও আহত হন। গায়ে জখমের আঘাত নিয়েও সে আন্দোলন চালিয়ে যায়। দিনাজপুর জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে ফেসবুক পেইজ এবং গ্রুপ খুলে সেখানেও শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে সহযোগিতা করি। স্ব-শরীরে বিভিন্ন জেলায় আন্দোলনে যুক্ত হলেও অনলাইনের মাধ্যমে আন্দোলন সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখি। সারাদেশের সাথে বিশেষ করে দিনাজপুর জেলায়। ক্যান্টনমেন্ট-এর মতো সামরিক বাহিনীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আন্দোলন সংগঠিত করি, যেহেতু ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ বীরউত্তম শহীদ মাহবুব সেনানিবাস, পার্বতীপুর দিনাজপুর থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করি এবং বিতর্কসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমে সামনের সারিতে থাকায় ভালো পরিচিতি ও অ্যাঙ্গেজমেন্ট ছিলো তাই সেখানে সহজেই অনুজদের দিয়ে আন্দোলন সংগঠিত করতে পারি। ১৮ জুলাই রংপুরে ছাত্রনেতা আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হলে জুবায়ের আর স্থির থাকতে পারে না। সে কারফিউ উপেক্ষা করে রংপুর যায় ও ছাত্রদের নিয়ে প্রতিবাদ করে। ঢাকায় ফেরার সব রাস্তা বন্ধ থাকায় সে নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে গিয়ে স্থানীয় ছাত্রদের সংগঠিত করে। সেখানেও আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। মিছিল, মানববন্ধন, সমাবেশ চলতে থাকে। আবু জুবায়ের সেখানে নিয়মিত আন্দোলন চালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ আহত ছাত্রনেতা ও মানসিক ট্রমা
৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২টা। ঠাকুরগাঁও কোর্টের সামনে চলছিল এক বিশাল ছাত্র মিছিল। হঠাৎ করেই পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে মিছিলের ওপর হামলা চালায়। রাবার বুলেট, গুলি, টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আবু জুবায়ের পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন। তার শরীরে গুলি লাগে, চোখে টিয়ারগ্যাসের প্রভাব পড়ে। আহত অবস্থায় তাকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের ভিতরেও নিরাপত্তার অভাব ছিল। আহতদের চিকিৎসা না দিয়ে পুলিশ নজরদারির বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে মানসিকভাবে সে ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে তাকে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দেখাতে হয়। এখনো মাঝে মাঝে ঘুমের মধ্যে সেই বিভীষিকাময় চিত্র ভেসে ওঠে। ৪ আগস্টের স্মৃতি তাকে তাড়া করে ফেরে। তবে সে দমে যায়নি। আইনের ছাত্র হিসেবে সে আজও বিশ্বাস করে ন্যায় একদিন প্রতিষ্ঠা হবেই।
নাম : মো: আবু জুবায়ের
জন্ম তারিখ : ১৬ ডিসেম্বর ২০০৪
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : মাধ্যমিক-বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
উচ্চ মাধ্যমিক- ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ
বীর উত্তম শহীদ মাহবুব সেনানিবাস, পার্বতীপুর, দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: ভগিরপাড়া, ইউনিয়ন: লাটেরহাট, থানা: বীরগঞ্জ, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: আবুল কালাম আজাদ
মায়ের নাম : মোছা: জহুরা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৫২
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৪
আয়ের উৎস : কৃষিকাজ
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. জুনাইদ, বয়স: ১৩, শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৬ষ্ঠ , সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : কোর্টের সামনে (ঠাকুরগাঁও)
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২ টা
আক্রমণকারী : আওয়ামী পুলিশ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍