মো: নূরনবী ইসলাম
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ব্যবসা
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
সবুজ গ্রামে ব্যবসার অঙ্কুরোদগম
দিনাজপুর জেলার ছোট্ট একটি গ্রাম “চাপাপাড়া”। এখানকার মানুষের জীবন সরল ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেঘেরা। চাপাশে ধানক্ষেত, পাখির কুজন, গ্রামের কাঁচা রাস্তায় গরুর গাড়ির শব্দ, মেঠো হাওয়ার ছোঁয়ায় প্রতিটি সকাল শুরু হয় নতুন আশায়। এই শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশেই জন্মগ্রহণ করেন মো: নূরনবী ইসলাম। ১৯৯১ সালের ২০ এপ্রিল তাঁর জন্ম হয় কৃষক পিতা মো: সালাউদ্দিন ও গৃহিণী মা মোছা: নূরনেহার বেগমের ঘরে। শৈশব থেকেই তার মধ্যে ব্যবসার প্রতি একটা আকর্ষণ ছিল। স্কুলে খুব বেশি পড়াশুনা করতে পারেননি।
সংসারের হাল ধরতে তিনি স্থানীয় বাজারে কাপড়ের ছোট একটি দোকান দিয়ে শুরু করেন নিজের জীবনের যাত্রা। ব্যবসার পাশাপাশি তিন কন্যা সন্তানের একজন দায়িত্ববান পিতা হিসেবেও তিনি নিজেকে গড়েন। নুসরাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। নাসরিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী এবং ছোট্ট নাজিফা এখনো শিশু। সংসার, ব্যবসা, সমাজ সব কিছুতেই তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আগুনে
২০১৮ সাল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় কোটা সংস্কার ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। “বৈষম্যের বিরুদ্ধে তারুণ্য” এই শ্লোগানে একত্রিত হয় হাজারো ছাত্র-জনতা। তখন নুরনবী ইসলাম শুধু একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ছিলেন, কিন্তু তার মনেও সেই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জন্ম নেয়।
বছর ঘুরে আসে ২০২৪। আন্দোলনের ঢেউ আবারও জাগে তবে এবার আরও বৃহৎ, আরও বিস্ফোরক। সারা দেশের তরুণ সমাজ একসাথে রাস্তায় নামে। সরকারব্যবস্থার দুর্নীতি, বিচারহীনতা ও একদলীয় দমননীতি বিরোধী প্রতিবাদ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। “সবার জন্য ন্যায্যতা, সবার জন্য সমান অধিকার” এই স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে জনপদ। নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে অতিষ্ঠ জনগণ এবার আর চুপ থাকে না। একসময় এই আন্দোলন রূপ নেয় গণবিপ্লবে এবং অবশেষে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে; শেখ হাসিনার সরকার পতন ঘটে। এক নতুন প্রত্যাশার সূচনা হয় দেশের প্রতিটি জনপদে।
আঘাতের বিনিময়ে প্রতিবাদের দীপ্তিতে
নুরনবী ইসলামের গ্রাম চাপা পাড়া ঠাকুরগাঁও শহরের খুব কাছে হওয়ায় শহরের আন্দোলনে তিনি নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন। যদিও তিনি একজন ব্যবসায়ী, তবুও নিজের মেয়েদের ভবিষ্যৎ, সমাজের ন্যায্যতার জন্য তিনি আন্দোলনে শরিক হন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, বিকেল ২টা। ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা মোড়ে দফায় দফায় ছাত্র-জনতা ও পুলিশ-আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে সময় নুরনবী ইসলাম আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং আন্দোলনে দীপ্ত কন্ঠে শরিক হন। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী ও সন্ত্রাস বাহিনী ন্যায়ের গলা চেপে ধরার জন্য ছাত্র-জনতার উপর টিয়ারশেল এবং ছররা গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে ছাত্র-জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। হঠাৎই একটি রাবার বুলেট এসে তার ডান হাতের বৃদ্ধাঙুলে লাগে। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ছাত্র-জনতা তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়, কারণ তিনি ‘আন্দোলনকারী’। বাধ্য হয়ে গ্রামে ফিরে তিনি এক গ্রাম্য ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন। কিন্তু এই আঘাতেও তার মনোবল ভাঙেনি। আগস্টের ৫ তারিখে যখন আন্দোলনের জোয়ারে সরকার পালিয়ে যায়, তখন নুরনবী ইসলাম তাঁর আঘাত সত্ত্বেও বিজয়ের মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। ব্যান্ডেজ পট্টিতে মোড়া হাত নিয়ে তিনি গলা ফাটিয়ে স্লোগান দেন, আমাদের রক্ত বৃথা যায়নি, আমরা এবার মাথা উঁচু করে বাঁচব!”
নাম : মো: নূরনবী ইসলাম
জন্মতারিখ : ২০ এপ্রিল ১৯৯১
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : ব্যবসা
প্রতিষ্ঠান : স্থানীয় বাজারে কাপড়ের ব্যবসা
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: চাপাপাড়া, ইউনিয়ন: পলাশবাড়ী, থানা: বিরামপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: সালাউদ্দিন
মায়ের নাম : মোছা: নূরনেহার বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৬০
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৭
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. নুসরাত, বয়স: ১৩, শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৫ম, সম্পর্ক: মেয়ে
২. নাসরিন আক্তার, বয়স: ১০, শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৩য়, সম্পর্ক: মেয়ে
৩. নাজিফা আক্তার, বয়স: ২, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, বিকেল ২ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
দিনাজপুর জেলার ছোট্ট একটি গ্রাম “চাপাপাড়া”। এখানকার মানুষের জীবন সরল ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেঘেরা। চাপাশে ধানক্ষেত, পাখির কুজন, গ্রামের কাঁচা রাস্তায় গরুর গাড়ির শব্দ, মেঠো হাওয়ার ছোঁয়ায় প্রতিটি সকাল শুরু হয় নতুন আশায়। এই শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশেই জন্মগ্রহণ করেন মো: নূরনবী ইসলাম। ১৯৯১ সালের ২০ এপ্রিল তাঁর জন্ম হয় কৃষক পিতা মো: সালাউদ্দিন ও গৃহিণী মা মোছা: নূরনেহার বেগমের ঘরে। শৈশব থেকেই তার মধ্যে ব্যবসার প্রতি একটা আকর্ষণ ছিল। স্কুলে খুব বেশি পড়াশুনা করতে পারেননি।
সংসারের হাল ধরতে তিনি স্থানীয় বাজারে কাপড়ের ছোট একটি দোকান দিয়ে শুরু করেন নিজের জীবনের যাত্রা। ব্যবসার পাশাপাশি তিন কন্যা সন্তানের একজন দায়িত্ববান পিতা হিসেবেও তিনি নিজেকে গড়েন। নুসরাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। নাসরিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী এবং ছোট্ট নাজিফা এখনো শিশু। সংসার, ব্যবসা, সমাজ সব কিছুতেই তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আগুনে
২০১৮ সাল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় কোটা সংস্কার ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। “বৈষম্যের বিরুদ্ধে তারুণ্য” এই শ্লোগানে একত্রিত হয় হাজারো ছাত্র-জনতা। তখন নুরনবী ইসলাম শুধু একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ছিলেন, কিন্তু তার মনেও সেই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জন্ম নেয়।
বছর ঘুরে আসে ২০২৪। আন্দোলনের ঢেউ আবারও জাগে তবে এবার আরও বৃহৎ, আরও বিস্ফোরক। সারা দেশের তরুণ সমাজ একসাথে রাস্তায় নামে। সরকারব্যবস্থার দুর্নীতি, বিচারহীনতা ও একদলীয় দমননীতি বিরোধী প্রতিবাদ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। “সবার জন্য ন্যায্যতা, সবার জন্য সমান অধিকার” এই স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে জনপদ। নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে অতিষ্ঠ জনগণ এবার আর চুপ থাকে না। একসময় এই আন্দোলন রূপ নেয় গণবিপ্লবে এবং অবশেষে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে; শেখ হাসিনার সরকার পতন ঘটে। এক নতুন প্রত্যাশার সূচনা হয় দেশের প্রতিটি জনপদে।
আঘাতের বিনিময়ে প্রতিবাদের দীপ্তিতে
নুরনবী ইসলামের গ্রাম চাপা পাড়া ঠাকুরগাঁও শহরের খুব কাছে হওয়ায় শহরের আন্দোলনে তিনি নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন। যদিও তিনি একজন ব্যবসায়ী, তবুও নিজের মেয়েদের ভবিষ্যৎ, সমাজের ন্যায্যতার জন্য তিনি আন্দোলনে শরিক হন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, বিকেল ২টা। ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা মোড়ে দফায় দফায় ছাত্র-জনতা ও পুলিশ-আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে সময় নুরনবী ইসলাম আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং আন্দোলনে দীপ্ত কন্ঠে শরিক হন। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী ও সন্ত্রাস বাহিনী ন্যায়ের গলা চেপে ধরার জন্য ছাত্র-জনতার উপর টিয়ারশেল এবং ছররা গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে ছাত্র-জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। হঠাৎই একটি রাবার বুলেট এসে তার ডান হাতের বৃদ্ধাঙুলে লাগে। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ছাত্র-জনতা তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়, কারণ তিনি ‘আন্দোলনকারী’। বাধ্য হয়ে গ্রামে ফিরে তিনি এক গ্রাম্য ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন। কিন্তু এই আঘাতেও তার মনোবল ভাঙেনি। আগস্টের ৫ তারিখে যখন আন্দোলনের জোয়ারে সরকার পালিয়ে যায়, তখন নুরনবী ইসলাম তাঁর আঘাত সত্ত্বেও বিজয়ের মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। ব্যান্ডেজ পট্টিতে মোড়া হাত নিয়ে তিনি গলা ফাটিয়ে স্লোগান দেন, আমাদের রক্ত বৃথা যায়নি, আমরা এবার মাথা উঁচু করে বাঁচব!”
নাম : মো: নূরনবী ইসলাম
জন্মতারিখ : ২০ এপ্রিল ১৯৯১
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : ব্যবসা
প্রতিষ্ঠান : স্থানীয় বাজারে কাপড়ের ব্যবসা
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: চাপাপাড়া, ইউনিয়ন: পলাশবাড়ী, থানা: বিরামপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: সালাউদ্দিন
মায়ের নাম : মোছা: নূরনেহার বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৬০
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৭
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. নুসরাত, বয়স: ১৩, শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৫ম, সম্পর্ক: মেয়ে
২. নাসরিন আক্তার, বয়স: ১০, শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৩য়, সম্পর্ক: মেয়ে
৩. নাজিফা আক্তার, বয়স: ২, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, বিকেল ২ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍