মো: আসাদুল্লাহ আল গালিব
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
ছোট শহরের স্বপ্নজয়ী গালিব
দিনাজপুর জেলার ছোট্ট এক গ্রাম, জগদীশপুর। এখানেই ২০০৪ সালের ২৫ মে জন্ম নেয় এক নিঃশব্দ লড়াকু, মো: আসাদুল্লাহ আল গালিব। পিতা মো: খিতাব আলী একজন কৃষক, যিনি প্রতিদিনের কষ্টে ফসল ফলিয়ে চালাতেন ছয় সদস্যের পরিবার। মা রেখা বানু একজন গৃহিণী, যার হাতে তৈরি ভাত আর ভর্তা ছিল গালিবের শৈশবের স্বাদ। দারিদ্র ছিল এই পরিবারের নিত্যসঙ্গী। মাসিক আয় মাত্র ৩ হাজার টাকা। এই সামান্য আয়ে জীবন চলে না, চলে শুধু সংগ্রাম। কিন্তু এই অভাব গালিবকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেঞ্চ থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত গালিব সবসময় মেধাবী ছিল। তার চোখে ছিল স্বপ্ন, শুধু নিজের নয়, পুরো সমাজকে বদলানোর। সেই স্বপ্ন নিয়ে সে ভর্তি হয় দিনাজপুর সরকারি কলেজে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে।
১৮ জুলাই পাটকেল ও লাঠির রক্তাক্ত সাক্ষী
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, দিনাজপুর কলেজ মোড়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে হাজারো শিক্ষার্থী রাস্তায়। তারা শুধু চেয়েছিলো সাম্য ও ন্যায়ের দাবি। শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিল গালিবও। কিন্তু হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে আসে লাঠি আর পাটকেল।
ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা হামলা চালায় আন্দোলনকারীদের ওপর। শুরু হয় নির্মম মারধর। একদল পুলিশ এসে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে শিক্ষার্থীদের, সাথে টিয়ারশেল ও ছররা গুলি ছোড়ে। গালিবও সেই বর্বরতার শিকার হয়। পুলিশসহ ছাত্রলীগ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর নির্মমভাবে আঘাত করলে অনেকেই হতাহত হয়। পরের দিন রাতে চালানো হয় প্রত্যেক মেসে মেসে অভিযান। হাজার হাজার ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। গালিব মেসে থাকতো। তার মেচসহ আশেপাশের মেসে প্রায় সবাই বাড়িতে চলে যায়। কিন্তু গালিব ও তার কিছু বন্ধু রয়ে যায় আন্দোলনের জন্য। এরপর একদিন মাইকে ঘোষণা আসে যে, যারা মেসে আছে তারা যেন দ্রুত বাসায় চলে যায়। তখন তারা গোপনে থাকা শুরু করে। বাড়ি থেকে তখন বারবার কল আসছিল এবং তাদেরকে বাড়ি যাওয়ার আহ্বান করছিল। কিন্তু তারা অনড়। তারা ছাত্র হত্যার প্রতিশোধ চায়। তাদের ন্যায্য দাবি নিয়েই তারা বাড়ি ফিরবে এই দৃঢ় প্রত্যায় ছিল তাদের মধ্যে।
টিয়ার গ্যাসে অন্ধকার নামলো চোখ
দিনটা ছিল ৪ আগস্ট। আবারও গালিব দাঁড়ায় আন্দোলনে, আবারও সেই কলেজ মোড়েই। কিন্তু এদিন পরিস্থিতি হয় আরও ভয়ংকর। পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আগে থেকেই অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছিল। পুলিশ ছুঁড়ে দেয় একের পর এক টিয়ার গ্যাস শেল। হাওয়ার গতি বাড়ায় বিষাক্ত ধোঁয়া। হঠাৎ একটি শেল এসে পড়ে গালিবের পাশে, সোজা তার চোখে আঘাত করে। চোখে প্রচণ্ড জ্বালা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়। সে পড়ে যায় মাটিতে, কান্না জড়ানো গলায় বলে, ভাই, আমি তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না! ছাত্র বন্ধুরা তাকে তুলে নেয় হাসপাতালে।
চিকিৎসা
প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে নেয়া হয় ইসলামি ব্যাংক হাসপাতাল কমিউনিটিতে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, টিয়ার গ্যাসের কারণে চোখে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। তার অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে আমেনা আই কেয়ার প্রাইভেট হসপিটালে চিকিৎসা নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। তবে বয়ে বেড়াচ্ছেন চোখের যন্ত্রণা। গালিবের এই জীবনচিত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ন্যায়বিচারের দাবি করতে গিয়ে কত তরুণকে দিতে হয় তাদের অমূল্য স্বপ্নের মূল্য। তাদের গল্প যেন হারিয়ে না যায় বাতাসে।
কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা
শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে দেয়া।
নাম : মো: আসাদুল্লাহ আল গালিব
জন্ম তারিখ : ২৫ মে ২০০৪
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : দিনাজপুর সরকারি কলেজ (অনার্স ২য় বর্ষ, উদ্ভিদ বিজ্ঞান)
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: জগদীশপুর, ইউনিয়ন: মুকুন্দপুর, থানা: বিরামপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: খিতাব আলী
মায়ের নাম : রেখা বানু
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৫৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
মাসিক আয় : ৩ হাজার
আয়ের উৎস : কৃষি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. রাজু আহমেদ, বয়স: ৩০, পেশা: কৃষক, সম্পর্ক: ভাই
২. রাফিকুন্নাহার, বয়স: ২৬, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : কলেজ মোড়, দিনাজপুর সদর
আহত হওয়ার সময় : ১৮ জুলাই (মডার্ণ মোড়) এবং ৪ আগস্ট
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনী
দিনাজপুর জেলার ছোট্ট এক গ্রাম, জগদীশপুর। এখানেই ২০০৪ সালের ২৫ মে জন্ম নেয় এক নিঃশব্দ লড়াকু, মো: আসাদুল্লাহ আল গালিব। পিতা মো: খিতাব আলী একজন কৃষক, যিনি প্রতিদিনের কষ্টে ফসল ফলিয়ে চালাতেন ছয় সদস্যের পরিবার। মা রেখা বানু একজন গৃহিণী, যার হাতে তৈরি ভাত আর ভর্তা ছিল গালিবের শৈশবের স্বাদ। দারিদ্র ছিল এই পরিবারের নিত্যসঙ্গী। মাসিক আয় মাত্র ৩ হাজার টাকা। এই সামান্য আয়ে জীবন চলে না, চলে শুধু সংগ্রাম। কিন্তু এই অভাব গালিবকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেঞ্চ থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত গালিব সবসময় মেধাবী ছিল। তার চোখে ছিল স্বপ্ন, শুধু নিজের নয়, পুরো সমাজকে বদলানোর। সেই স্বপ্ন নিয়ে সে ভর্তি হয় দিনাজপুর সরকারি কলেজে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে।
১৮ জুলাই পাটকেল ও লাঠির রক্তাক্ত সাক্ষী
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, দিনাজপুর কলেজ মোড়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে হাজারো শিক্ষার্থী রাস্তায়। তারা শুধু চেয়েছিলো সাম্য ও ন্যায়ের দাবি। শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিল গালিবও। কিন্তু হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে আসে লাঠি আর পাটকেল।
ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা হামলা চালায় আন্দোলনকারীদের ওপর। শুরু হয় নির্মম মারধর। একদল পুলিশ এসে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে শিক্ষার্থীদের, সাথে টিয়ারশেল ও ছররা গুলি ছোড়ে। গালিবও সেই বর্বরতার শিকার হয়। পুলিশসহ ছাত্রলীগ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর নির্মমভাবে আঘাত করলে অনেকেই হতাহত হয়। পরের দিন রাতে চালানো হয় প্রত্যেক মেসে মেসে অভিযান। হাজার হাজার ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। গালিব মেসে থাকতো। তার মেচসহ আশেপাশের মেসে প্রায় সবাই বাড়িতে চলে যায়। কিন্তু গালিব ও তার কিছু বন্ধু রয়ে যায় আন্দোলনের জন্য। এরপর একদিন মাইকে ঘোষণা আসে যে, যারা মেসে আছে তারা যেন দ্রুত বাসায় চলে যায়। তখন তারা গোপনে থাকা শুরু করে। বাড়ি থেকে তখন বারবার কল আসছিল এবং তাদেরকে বাড়ি যাওয়ার আহ্বান করছিল। কিন্তু তারা অনড়। তারা ছাত্র হত্যার প্রতিশোধ চায়। তাদের ন্যায্য দাবি নিয়েই তারা বাড়ি ফিরবে এই দৃঢ় প্রত্যায় ছিল তাদের মধ্যে।
টিয়ার গ্যাসে অন্ধকার নামলো চোখ
দিনটা ছিল ৪ আগস্ট। আবারও গালিব দাঁড়ায় আন্দোলনে, আবারও সেই কলেজ মোড়েই। কিন্তু এদিন পরিস্থিতি হয় আরও ভয়ংকর। পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আগে থেকেই অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছিল। পুলিশ ছুঁড়ে দেয় একের পর এক টিয়ার গ্যাস শেল। হাওয়ার গতি বাড়ায় বিষাক্ত ধোঁয়া। হঠাৎ একটি শেল এসে পড়ে গালিবের পাশে, সোজা তার চোখে আঘাত করে। চোখে প্রচণ্ড জ্বালা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়। সে পড়ে যায় মাটিতে, কান্না জড়ানো গলায় বলে, ভাই, আমি তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না! ছাত্র বন্ধুরা তাকে তুলে নেয় হাসপাতালে।
চিকিৎসা
প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে নেয়া হয় ইসলামি ব্যাংক হাসপাতাল কমিউনিটিতে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, টিয়ার গ্যাসের কারণে চোখে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। তার অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে আমেনা আই কেয়ার প্রাইভেট হসপিটালে চিকিৎসা নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। তবে বয়ে বেড়াচ্ছেন চোখের যন্ত্রণা। গালিবের এই জীবনচিত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ন্যায়বিচারের দাবি করতে গিয়ে কত তরুণকে দিতে হয় তাদের অমূল্য স্বপ্নের মূল্য। তাদের গল্প যেন হারিয়ে না যায় বাতাসে।
কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা
শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে দেয়া।
নাম : মো: আসাদুল্লাহ আল গালিব
জন্ম তারিখ : ২৫ মে ২০০৪
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : দিনাজপুর সরকারি কলেজ (অনার্স ২য় বর্ষ, উদ্ভিদ বিজ্ঞান)
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: জগদীশপুর, ইউনিয়ন: মুকুন্দপুর, থানা: বিরামপুর, জেলা: দিনাজপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: খিতাব আলী
মায়ের নাম : রেখা বানু
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৫৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
মাসিক আয় : ৩ হাজার
আয়ের উৎস : কৃষি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. রাজু আহমেদ, বয়স: ৩০, পেশা: কৃষক, সম্পর্ক: ভাই
২. রাফিকুন্নাহার, বয়স: ২৬, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : কলেজ মোড়, দিনাজপুর সদর
আহত হওয়ার সময় : ১৮ জুলাই (মডার্ণ মোড়) এবং ৪ আগস্ট
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনী
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍