আবদুল্লাহ আল ফেরদৌস
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : রিকশাচালক
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
সবুজ মাঠে বেড়ে ওঠা
দিনাজপুর জেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চাপাপাড়া গ্রামে জন্ম নেয় এক সাহসী তরুণ আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস। জন্মতারিখ ১৫ নভেম্বর ২০০২। গ্রামীণ পরিবেশে, সবুজ ধানের মাঠ, পাখির কুজন, আর মাটির গন্ধে ভরা সেই শৈশব তাকে গড়ে তোলে এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষ হিসেবে। বাবা ইয়াসিন আলী ছিলেন একজন অটোচালক, মা তানজিলা বেগম গৃহিণী। সাত জনের বড় পরিবারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। তবু মনের মধ্যে ছিল একরাশ স্বপ্ন। শৈশব কেটেছে মাঠে খেলতে, আর গ্রামের স্কুলে পড়তে পড়তে। নিজের পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ থাকলেও সংসারের হাল ধরার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন স্পষ্ট হতে থাকে।
গ্রামের মাটির বাড়ি, খড়ের চাল, আর বৃষ্টির দিনে গুঁড়িয়ে পড়া সেই দেয়ালগুলো যেন আগেই বলে দিচ্ছিল এই জীবনের পথে কাঁটার অভাব হবে না।
শহরের রিকশাচালক, সন্তানের বাবা
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আব্দুল্লাহর জীবনে নেমে আসে কঠিনতম এক বিপর্যয়। তার বাবা ইয়াসিন আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ, কারণ ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। সেই থেকে সংসারের হাল পুরোপুরি পড়ে আব্দুল্লাহর কাঁধে। এসএসসি পাস করার পর পড়াশুনার ইতি টানতে হয় তাকে। স্ত্রী, মা, এবং তার সদ্যজাত পাঁচ মাস বয়সী ছেলে আবু যরের দায়িত্ব নিতে হয় তার কাঁধে। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি চলে যান মাইজদী শহর নোয়াখালীতে। সেখানে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা রিকশা চালিয়ে যা আয় করতেন তা দিয়েই চলতো পরিবারের ভরণপোষণ। সন্তানকে দুধ কিনে দেয়ার সামর্থ্য অনেক সময় থাকত না। রিকশা চালাতে চালাতে একসময় শরীর ভেঙে পড়তে শুরু করে কিন্তু থেমে থাকেননি তিনি।
প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন, আর ফিরতেন গভীর রাতে। কিন্তু মনের মধ্যে ছিল একটাই বিশ্বাস, এই জীবন একদিন বদলাবে।
আন্দোলনের মাঠে সাহসী যুবক
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের কথা তখনো ভুলে যাননি আব্দুল্লাহ। তিনি তখন ছাত্র না থাকলেও আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। ২০২৪ সালে যখন আন্দোলন নতুন করে জ্বলে ওঠে, তখন তিনি আর চুপ থাকেননি। নোয়াখালী থেকে ফিরে আসেন দিনাজপুর, সেখান থেকে যান ঠাকুরগাঁওয়ে। ঠাকুরগাঁও শহর ছিল দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে খুব দূরে নয়। সেখানকার আন্দোলনে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে। আব্দুল্লাহও তাদের একজন হয়ে যান। সেখানে এক দফা দাবির স্লোগান নিয়ে যখন হাজার হাজার তরুণ রাস্তায়, তখন আব্দুল্লাহ তাদের মধ্যে ছিলেন অন্যতম। সরকারি চাকরিতে বৈষম্য, গ্রেফতার, গুম, রাজনৈতিক নিপীড়ন সবকিছুই তাদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। একসময় রাজপথই হয়ে ওঠে আব্দুল্লাহর ঠিকানা।
রক্তাক্ত ৪ আগস্ট, গুলিবিদ্ধ যুবকের কান্না
৪ আগস্ট ২০২৪। দুপুর ১টা। ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টের সামনে জড়ো হয়েছিল শত শত আন্দোলনকারী। স্লোগানে কাঁপছিল শহর। হঠাৎ করেই পুলিশ ও সরকারের নিয়ন্ত্রিত সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে হামলা চালায়। লাঠি, গুলি, টিয়ার গ্যাস সব কিছু ব্যবহার করা হয় সাধারণ ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে। আব্দুল্লাহ তখন আন্দোলনের সম্মুখভাগে ছিলেন। হঠাৎ একটি টিয়ারগ্যাসের শেল তার শরীরে আঘাত করে, কোমরে ভয়াবহ ক্ষত তৈরি হয়। চোখেও গ্যাসের প্রভাব পড়ে। এখনও ঝাপসা দেখেন। এটা শুধু আব্দুল্লাহ নয় বরং অনেক ছাত্র-জনতাই সেদিন হতাহত হয়। টিয়ার গ্যাসের প্রভাবে সেদিন অনেকেরেই চোখে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে। রক্তাক্ত হয় পিচঢালা ঐ রাস্তা। স্বৈরাচারী সরকারের দাবানলে পড়ে অনেক ছাত্রই তাদের মূল্যবান চক্ষু ও শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়ে ফেলে। আব্দুল্লাহও এই ন্যায্য আন্দোলনে যোগদান করে হতাহতের শিকার হন। যখন তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন তখন ছাত্র-জনতা তাকে ধরে দিনাজপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। তার কোমরে টিয়ারগ্যাস লাগার কারণে গ্যাস তার চোখে প্রভাব পড়ে। এখনো গ্রামের ডাক্তারকে মাঝে মাঝে দেখাতে হয়। পুলিশের নির্মমতা, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, আর একটি সাহসী মানুষের অসহায় আর্তনাদ এই হলো আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌসের গল্প।
নাম : আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস
জন্ম তারিখ : ১৫ নভেম্বর ২০০২
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : রিকশাচালক
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: চাপাপাড়া, ইউনিয়ন: পলাশবাড়ী, থানা: বীরগঞ্জ, জেলা: দিনাজপুর
বর্তমান ঠিকানা : মাইজদী শহর, নোয়াখালী
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : ইয়াছিন আলী
মায়ের নাম : তানজিলা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : অটোচালক, ৪৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৩
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. আবু যর, বয়স: ৫ মাস, সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টের ভিতর
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
দিনাজপুর জেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চাপাপাড়া গ্রামে জন্ম নেয় এক সাহসী তরুণ আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস। জন্মতারিখ ১৫ নভেম্বর ২০০২। গ্রামীণ পরিবেশে, সবুজ ধানের মাঠ, পাখির কুজন, আর মাটির গন্ধে ভরা সেই শৈশব তাকে গড়ে তোলে এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষ হিসেবে। বাবা ইয়াসিন আলী ছিলেন একজন অটোচালক, মা তানজিলা বেগম গৃহিণী। সাত জনের বড় পরিবারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। তবু মনের মধ্যে ছিল একরাশ স্বপ্ন। শৈশব কেটেছে মাঠে খেলতে, আর গ্রামের স্কুলে পড়তে পড়তে। নিজের পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ থাকলেও সংসারের হাল ধরার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন স্পষ্ট হতে থাকে।
গ্রামের মাটির বাড়ি, খড়ের চাল, আর বৃষ্টির দিনে গুঁড়িয়ে পড়া সেই দেয়ালগুলো যেন আগেই বলে দিচ্ছিল এই জীবনের পথে কাঁটার অভাব হবে না।
শহরের রিকশাচালক, সন্তানের বাবা
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আব্দুল্লাহর জীবনে নেমে আসে কঠিনতম এক বিপর্যয়। তার বাবা ইয়াসিন আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ, কারণ ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। সেই থেকে সংসারের হাল পুরোপুরি পড়ে আব্দুল্লাহর কাঁধে। এসএসসি পাস করার পর পড়াশুনার ইতি টানতে হয় তাকে। স্ত্রী, মা, এবং তার সদ্যজাত পাঁচ মাস বয়সী ছেলে আবু যরের দায়িত্ব নিতে হয় তার কাঁধে। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি চলে যান মাইজদী শহর নোয়াখালীতে। সেখানে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা রিকশা চালিয়ে যা আয় করতেন তা দিয়েই চলতো পরিবারের ভরণপোষণ। সন্তানকে দুধ কিনে দেয়ার সামর্থ্য অনেক সময় থাকত না। রিকশা চালাতে চালাতে একসময় শরীর ভেঙে পড়তে শুরু করে কিন্তু থেমে থাকেননি তিনি।
প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন, আর ফিরতেন গভীর রাতে। কিন্তু মনের মধ্যে ছিল একটাই বিশ্বাস, এই জীবন একদিন বদলাবে।
আন্দোলনের মাঠে সাহসী যুবক
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের কথা তখনো ভুলে যাননি আব্দুল্লাহ। তিনি তখন ছাত্র না থাকলেও আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। ২০২৪ সালে যখন আন্দোলন নতুন করে জ্বলে ওঠে, তখন তিনি আর চুপ থাকেননি। নোয়াখালী থেকে ফিরে আসেন দিনাজপুর, সেখান থেকে যান ঠাকুরগাঁওয়ে। ঠাকুরগাঁও শহর ছিল দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে খুব দূরে নয়। সেখানকার আন্দোলনে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে। আব্দুল্লাহও তাদের একজন হয়ে যান। সেখানে এক দফা দাবির স্লোগান নিয়ে যখন হাজার হাজার তরুণ রাস্তায়, তখন আব্দুল্লাহ তাদের মধ্যে ছিলেন অন্যতম। সরকারি চাকরিতে বৈষম্য, গ্রেফতার, গুম, রাজনৈতিক নিপীড়ন সবকিছুই তাদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। একসময় রাজপথই হয়ে ওঠে আব্দুল্লাহর ঠিকানা।
রক্তাক্ত ৪ আগস্ট, গুলিবিদ্ধ যুবকের কান্না
৪ আগস্ট ২০২৪। দুপুর ১টা। ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টের সামনে জড়ো হয়েছিল শত শত আন্দোলনকারী। স্লোগানে কাঁপছিল শহর। হঠাৎ করেই পুলিশ ও সরকারের নিয়ন্ত্রিত সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে হামলা চালায়। লাঠি, গুলি, টিয়ার গ্যাস সব কিছু ব্যবহার করা হয় সাধারণ ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে। আব্দুল্লাহ তখন আন্দোলনের সম্মুখভাগে ছিলেন। হঠাৎ একটি টিয়ারগ্যাসের শেল তার শরীরে আঘাত করে, কোমরে ভয়াবহ ক্ষত তৈরি হয়। চোখেও গ্যাসের প্রভাব পড়ে। এখনও ঝাপসা দেখেন। এটা শুধু আব্দুল্লাহ নয় বরং অনেক ছাত্র-জনতাই সেদিন হতাহত হয়। টিয়ার গ্যাসের প্রভাবে সেদিন অনেকেরেই চোখে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে। রক্তাক্ত হয় পিচঢালা ঐ রাস্তা। স্বৈরাচারী সরকারের দাবানলে পড়ে অনেক ছাত্রই তাদের মূল্যবান চক্ষু ও শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়ে ফেলে। আব্দুল্লাহও এই ন্যায্য আন্দোলনে যোগদান করে হতাহতের শিকার হন। যখন তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন তখন ছাত্র-জনতা তাকে ধরে দিনাজপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। তার কোমরে টিয়ারগ্যাস লাগার কারণে গ্যাস তার চোখে প্রভাব পড়ে। এখনো গ্রামের ডাক্তারকে মাঝে মাঝে দেখাতে হয়। পুলিশের নির্মমতা, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, আর একটি সাহসী মানুষের অসহায় আর্তনাদ এই হলো আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌসের গল্প।
নাম : আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস
জন্ম তারিখ : ১৫ নভেম্বর ২০০২
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : রিকশাচালক
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: চাপাপাড়া, ইউনিয়ন: পলাশবাড়ী, থানা: বীরগঞ্জ, জেলা: দিনাজপুর
বর্তমান ঠিকানা : মাইজদী শহর, নোয়াখালী
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : ইয়াছিন আলী
মায়ের নাম : তানজিলা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : অটোচালক, ৪৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৩
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. আবু যর, বয়স: ৫ মাস, সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টের ভিতর
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍