হোম / আহতদের তালিকা / মিসেস মিনা
মিসেস মিনা

মিসেস মিনা

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মিসেস মিনার জীবন যেন অবহেলা, দারিদ্র্য আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা এক নীরব শিখা। লালমনিরহাটের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই নারী স্বামীর পরিত্যাগ আর দুই সন্তানের বোঝা বুকে নিয়ে ঢাকায় ক্লিনারের চাকরিতে বাঁচার লড়াই চালিয়ে গেছেন। ২০২৪-এর আন্দোলনে যাত্রাবাড়ীর মোড়ে তিনি প্রতিবাদীদের সঙ্গে দাঁড়াতেই স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ চিকিৎসা, অপারেশন আর অনিশ্চিত দিন পেরিয়েও তিনি আজও দুই সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য হাঁটছেন ব্যথা-বোঝাই পথে। তবুও হাল ছাড়েননি কারণ তার জীবন শেখায়, সাহসী মানুষের আলো অন্ধকারেও নিভে না।

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের সামনে
আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আক্রমণ
মিসেস মিনা
ক্রমিক: ০৩১
আইডি: ঢাকা সিটি ০৩১
শৈশব ও কৈশোর
লালমনিরহাট জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে এই সাহসী নারী মিনা জন্ম। পরিবারের সাথে ধবলগুড়ি নামের গ্রামটিতেই তার শৈশব ও কৈশোর জীবন কাটে। বাবা মজিবুর রহমান ছিলেন একজন সহজ সরল কৃষক, আর মা সামিনা খাতুন পরিবারকে দেখাশোনা করেন অর্থাৎ গৃহিণী। তাদের পরিবারের দারিদ্র্য ছিল নিত্যসঙ্গী, তবে পরিবারের ভালোবাসা, যত্ন ছিল অফুরন্ত।
১৯৮৬ সালের পহেলা জানুয়ারি লালমনিরহাট জেলার ধবলগুড়ি গ্রামে জন্ম নেয়া মিনা আক্তার। ছোটবেলা থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন। একটি ছোট্ট ঘর, ছোট একটি পরিবার, যেখানে থাকবে ভালোবাসা, নিরাপত্তা, আর সন্তানের মুখে হাসি। বিয়ের পর তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো এই সংসার হবে আনন্দময়। একটি সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন কাটানোর আশায় সংসার শুরু করেন
কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতা তার সে স্বপ্নকে খুব বেশিদিন টিকতে দেয়নি। স্বামী একসময় দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং মিনা ও তাঁর দুই সন্তানকে ফেলে রেখে অন্যত্র সংসার গড়েন। স্ত্রী ও দুই সন্তানের কোনো মূল্য দেননি তার স্বামী।
সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় মিনার জীবনের আসল যুদ্ধ। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তাঁকে বেছে নিতে হয় জীবনের নতুন সংগ্রামের পথ।
আজ তাঁর বয়স ৩৯ হলেও জীবনের লড়াই তাঁকে ভীষণ কঠিন করে তুলেছে। কঠোর পরিশ্রম করেও থেমে যাননি মিনা। গ্রামের মায়া ছেড়ে পাড়ি জমান ঢাকায়। ঢাকার এক বেসরকারি হাসপাতালে ক্লিনারের কাজ করে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছেন একা।
মিনা আক্তার মা হিসেবে কখনোই সন্তানদের ফেলে দিতে পারেননি। স্বামী সংসার গড়েছে অন্যত্র, কিন্তু তিনি আগলে রেখেছেন নিজের সন্তানদের। মাবাবা দু'জনের ভূমিকায় শুধুই মিনা আক্তার। সন্তানদের ভবিষ্যতের একমাত্র আশ্রয় হিসেবে তিনি।
ঢাকায় সংগ্রামী জীবন
গ্রামের মায়া ছেড়ে জীবিকার তাকিদে ছুটে আসেন ঢাকা যাত্রাবাড়ির ধলপুর সুতিখালপাড় এলাকায়। ঢাকা শহরে বসবাস করা খুব সহজ ছিল না তার জন্য। কেননা এই শহরটা ছিল খুবই নিষ্ঠুর। নিষ্ঠুর হলেও সম্ভবনাও যেন ছিল এখানেই। ঢাকায় এসে তাকে কঠোর পরিশ্রম করে একটি কর্মের সন্ধান করতে হয়। পরবর্তীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ক্লিনারের চাকরি নেন। ক্লিনারের চাকরি করাটা তার জন্য কোনো বিষয় না হলেও গ্রামের মেয়ে হিসেবে মানিয়ে নিতে যেনো ভীষণ কষ্টই হয়েছিল। তবুও এই পেশায় নিয়োজিত হন দুই সন্তানের জননী মিনা। সামান্য আয়, ভাঙা ঘর, আর দু'টি ছেলেমেয়ের দায়িত্ব নিয়ে জীবনকে এগিয়ে নেন।
দুই সন্তান ও একরাশ স্বপ্ন
মেয়ে স্মৃতি আক্তার দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে বিয়ে হয়ে যায়। মেয়ের স্বপ্ন বড় থাকলেও স্বপ্ন পূরণের জন্য নেই সেই পিতা।
ছেলে মেহেদী হাসান পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে আর এগোতে পারেনি। তার অর্থই ছিল বাঁধা। মাতার উপার্জনে ৫ম শ্রেণীর বেশি পড়ানোর সাধ্য তার নেই। সে এখন এক হার্ডওয়্যারের দোকানে কাজ করে। যে বয়সে তার বন্ধুরা স্কুলে যায়, পড়াশোনা করে সে বয়সে সে জীবিকার কাজে হার্ডওয়ারের দোকানে কাজ করে। কিন্তু মিনার এখনও মনে চাওয়া, ছেলে যেন একদিন বড় হয়, মানুষ হয়।
অসত্যের বিরূদ্ধে সংগ্রামের সিদ্ধান্ত
২০২৪ সালের জুলাই মাস। শুরু হয়েছে বৈষম্য বিরোধী কোটা সংস্কার অন্দোলন। সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের পরিবর্তে বুকে গুলি চালাতে থাকে। সারা দেশ ক্রকডাউন শুরু করে স্বৈরাচারী হাসিনা। বাংলাদেশের রাজপথে তখন শুধু মানুষের হাহাকার ও ক্ষোভ। কোটা আন্দোলনের সাথে সাথে দুর্নীতি, রাহাজানি, গুম, বিচারিক হত্যা ও পুলিশ লীগের জুলুম আর রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল সমগ্র জাতি। শহর থেকে গ্রাম, শ্রমিক থেকে শিক্ষক, কিশোর থেকে বৃদ্ধ।
১৬ তারিখ থেকে সকল পেশার মানুষ নেমে পরে রাজপথে। রাজপথ, আকাশপথ থেকে গুলিবর্ষণ করে স্বৈরাচারী হাসিনার পুলিশ বাহিনী। ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপকভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে সর্বমহলের জনসাধারণ। বিশেষ করে ১৯ তারিখে ঢাকার যাত্রাবাড়ী, লক্ষ্মীবাজার, রামপুরা, সাভারসহ বিভিন্ন জায়গায় ফ্যাসিস্ট হাসিনার পুলিশ বাহিনী সরাসরি গুলি চালায় ছাত্র-জনতার উপর।
মিনা আক্তার তখন যাত্রাবাড়ির ধলপুর এলাকায় বাস করতেন। গলির মুখে যখন প্রতিবাদীদের মিছিল এগিয়ে যাচ্ছিল, তিনি জানালার ফাঁক দিয়ে তা দেখতেন, মনে মনে আগুন জ্বলতো। ভাবতেন, আমি তো অন্যায়-অবিচারের ভুক্তভোগী। আমারও তো প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। একজন সাহসী স্ত্রী, সংগ্রামী মা হিসেবে এতদিন নিঃশব্দে লড়াই করেছেন, কিন্তু এবার চুপ থাকা সম্ভব হলো না।
তাঁর চারপাশের নারীরাও নেমেছিলেন রাস্তায়। মহল্লার অনেক ঘরোয়া নারী প্রথমবারের মতো রাস্তার ভাষা শিখেছিলেন। মিসেস মিনা এটি দেখে রাজপথে নেমে পড়লেন ছাত্র জনতার কাতারে। সেদিনও অন্যান্য নারীর সঙ্গে নেমেছিলেন যাত্রাবাড়ি থানার পাশের মোড়ে। শ্লোগান উঠছিল,
বুকের ভিতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।
মিনা সমস্ত অবহেলিত মানুষের পক্ষেই দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর চোখে তখন ছিল এক অন্যরকম উদ্দীপনা। অধিকার ফিরিয়ে পাবার ভীষণ আকুতি।
ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের জুলাই মাস। কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুনরূপে জ্বলে উঠেছিল দেশজুড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শুরু হয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজ মাঠ, বাজার মোড়, ইউনিয়নের রাস্তাসহ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল একটাই আহ্বান:
বুকের ভিতর তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর
সরকার যখন শিক্ষার্থীদের দাবি শুনতে ব্যর্থ হয়, বরং গুলি চালিয়ে দমন করতে চায়, তখন সাধারণ মানুষও আর ঘরে বসে থাকতে পারেনি। ১৬ জুলাই থেকে সারা দেশে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী, বৃদ্ধ সবাই রাস্তায় নেমে আসে।
সেই জাতীয় জাগরণের ঢেউ আছড়ে পড়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকাতেও। মিনা আক্তার তখন ধলপুর সুতিখালপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
তার জীবনজুড়ে একটিই শব্দ সংগ্রাম। স্বামীর পরিত্যাগ, অভাব, নিঃসঙ্গতা আর দুই সন্তানকে ঘিরে তার প্রতিদিনের জীবন চলে কেবল লড়াইয়ের উপর ভর করে। তিনিও রাজপথে দাঁড়িয়ে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে ভ্রুক্ষেপ করলেন না।
জুলাইয়ের দিনগুলো ছিল ভিন্ন। যখন চারপাশের প্রতিবাদ-প্রত্যাঘাত তার ঘরের সামনে এসেছিল, যখন জানালার বাইরে ছাত্রদের গলা ফাটানো শ্লোগান শোনা যাচ্ছিল, যখন তিনি দেখেছিলেন, পাড়ার নারীরাও প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নেমেছে তখন আর চুপ থাকতে পারেননি মিনা। নিজের অভিজ্ঞতা, অপমান, দারিদ্র্য, সন্তানদের ভবিষ্যৎ সব একসাথে মিলিয়ে তাঁর ভিতরে জন্ম নেয় এক বিদ্রোহী আগুন।
তিনি স্থানীয় নারীদের নিয়ে রাজপথে নেমে পড়েন ১৯ জুলাই ২০২৪, বিকেল ৫টা। মিনা আক্তার তার চেনা নারীদের সঙ্গে যাত্রাবাড়ি থানার পাশের মোড়ে গিয়ে দাঁড়ান। নারী হলেও তিনি ভীষণ সাহসী। হঠাৎই শান্তিপূর্ণ সেই বিক্ষোভে জনতার ভেতর ঢুকে পড়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে একদল যুবক। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার আবুল কালাম।
তাঁদের পেছনে সরে দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশ: তারা দেখছিল, কিন্তু কিছু করছিল না।
মিনাকে লক্ষ্য করে লাঠি দিয়ে তীব্র আঘাত করা হয় পেটের নিচে। তিনি ঝাঁকিয়ে ওঠেন দৌড়াতে গিয়েও পারেন না। পরপর দুটি আঘাত লাগে তাঁর হাঁটুর নিচে ও উরুতে। তিনি ছিটকে পড়ে যান মাটিতে। চারপাশে তখন আতঙ্ক, হাহাকার। অনেকে পালিয়ে গেলেও কেউ মিনার শরীর ঘিরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে: উনি মেয়ে মানুষ, ছেড়ে দেন।" কিন্তু সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য তখন শুধুই দমন। আর মিনার দেহে জমে উঠতে থাকেন ব্যথা, ভয় আর রক্ত।
চিকিৎসা সম্পর্কিত তথ্য
হামলার পর মিসেস মিনা আক্তারকে স্থানীয় নারীদের সহায়তায় বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়।
রক্তপাত না থাকলেও তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল। পেটের নিচে প্রচণ্ড যন্ত্রণা, দুই পা কাঁপছিল। তিনি বলছিলেন: কিছু হইছে মনে হয়, বুকের নিচে জ্বলতেছে।
প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ব্যথার ওষুধ খাওয়ানো হয়। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই তার অবস্থার অবনতি ঘটতে শুরু করে। শরীর থেকে রক্তপাত শুরু হয়। পেট ফুলে যায়। চলতে-ফিরতে কষ্ট হয়। মিনা তখন নিজেই বলেছিলেন: আমি বুঝেছিলাম, পেটের ভেতরে কিছু ছিঁড়ে গেছে। চিকিৎসকের কাছে নেয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় তার ফ্যালোপিয়ান টিউব (Fallopian tube) অভ্যন্তরীণভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষতের কারণেই শুরু হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। এ অবস্থায় চিকিৎসকরা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ব্লাড দিতে হবে, না হলে শরীর ভেঙে পড়বে। পরবর্তী ৬ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়।
চিকিৎসা ব্যয় বহন ও পরবর্তী অবস্থা
মিনার অর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। অল্প আয়ের এক নারী জননী। সে সময় টাকা-পয়সা ছিল না মিনার হাতে। ক্লিনারের চাকরি দিয়ে সংসার চলে না, চিকিৎসা তো নয়ই। তখন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় এলাকার জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তাঁর চিকিৎসার সব খরচ, রক্ত সংগ্রহ, ওষুধের ব্যবস্থা সবকিছু তাঁরাই করেন। মিনার জন্য এটা পরম সুযোগের সৃষ্টি হয়। রক্ত দেয়ার পর কিছুদিন স্থিতিশীল থাকলেও সমস্যা আবার বাড়ে। চিকিৎসকরা জানান: ফ্যালোপিয়ান টিউব পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে এবং এটি শরীরে রেখে দিলে ইনফেকশন ও সেপসিসের ঝুঁকি রয়েছে। মে ২০২৫-এর মাঝামাঝি সময়ে অস্ত্রোপচার করে তা কেটে ফেলতে হয়। অপারেশনের পর ধীরে ধীরে কিছুটা সুস্থ হলেও তার দুই পায়ের ব্যথা এখনো রয়েছে। হাঁটতে গেলে ব্যথা বাড়ে, অনেক সময় পা ফুলে যায়। ডাক্তাররা বলেছেন, স্থায়ী ব্যথা হতে পারে, নিয়মিত চিকিৎসা না করলে জটিলতা হবে। এখনও তিনি প্রতিদিন ঔষধ খান। হাসপাতালের ফলোআপে যেতে হয় মাসে একবার।
কিন্তু কাজ বন্ধ করতে পারেন না। দুই সন্তান এখনও তার ওপর নির্ভরশীল। এই লড়াইয়ে সে জিতেছে কি না বলা কঠিন। তবে হেরে যায়নি, হেরে যাবে না।
অন্ধকারেও আলো
অপারেশনের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকেন। তবে পায়ের ব্যথা এখনও সঙ্গী। ডাক্তার তাকে নিয়মিত ওষুধ খেতে বলেছেন। প্রতিদিন নিয়মিত ওষুধ নিতে হয়। আর্থিক সংকটে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াও কঠিন।
রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্ব ও অভিবাসন
১. চিকিৎসা সহায়তার সরকারি ব্যবস্থাপনা: মিনার চিকিৎসা স্থায়ীভাবে সম্পন্ন করতে সরকারি উদ্যোগে তার জন্য স্বাস্থ্যবীমা বা বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা কার্ড (স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড) প্রদান করা উচিত। প্রতিবন্ধী বা আহত নাগরিক হিসেবে তাকে চিকিৎসার জন্য বিশেষ কোটা বা ভাতা দেয়া যেতে পারে।
২. আবাসন সহায়তা প্রদান: শহরের বস্তিতে দুর্বলভাবে বসবাসরত মিনার জন্য নগর গৃহনির্মাণ প্রকল্প বা আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একটি নিরাপদ বাসস্থান বরাদ্দ দেওয়া।
৩. অর্থনৈতিক পুনর্বাসন: একটি ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য অনুদান/ঋণ (যেমন: মুদি দোকান, সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন)। কোনো নারী পুনর্বাসন প্রকল্পের মাধ্যমে মাসিক সহায়তা।

এক নজরে মিসেস মিনা
নাম: মিসেস মিনা
জন্ম তারিখ: ০১ জানুয়ারি ১৯৮৬
জন্মস্থান: লালমনিরহাট
জাতীয়তা: বাংলাদেশী
ধর্ম: ইসলাম
বৈবাহিক অবস্থা: বিবাহিত (স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করে পরিত্যাগ করেছেন)
পেশা: হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী (ক্লিনার)
চাকরির ধরণ: বেসরকারি প্রতিষ্ঠান
নিজ জেলা: লালমনিরহাট
বর্তমান ঠিকানা: এলাকা: ধলপুর সুতিখালপাড়, থানা: যাত্রাবাড়ি, শহর: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ধবলগুড়ি, ইউনিয়ন: সরকারেরহাট,
থানা: পাটগ্রাম, জেলা: লালমনিরহাট
পারিবারিক তথ্য
পিতার নাম: মজিবর রহমান (মৃত)
মাতার নাম: সামিনা খাতুন, পেশা: গৃহিণী, বয়স: ৫৮ বছর
পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা: ৩ জন (মিনা আক্তারসহ)
মাসিক পারিবারিক আয়: আনুমানিক ১০,০০০ টাকা
আয় উৎস: মিনার ব্যক্তিগত চাকরি
আক্রমণকারী: আবুল কালাম, স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনারের নেতৃত্বে ছিল একদল যুব সন্ত্রাসী
আহত হওয়ার স্থান
যাত্রাবাড়ী থানার পাশের মোড়
চিকিৎসার স্থান: স্থানীয় ফার্মেসি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
চিকিৎসা সহায়তা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍