আরাফাত সানি
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ছাত্র, ৭ম শ্রেনী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্ম পরিচয়
রংপুরের এক নিভৃত পল্লীতে জন্ম নেয় এক সাহসী কিশোর মো: আরাফাত সানি। প্রকৃতির কোলে, মাটির ঘ্রাণে, গ্রামের সহজ-সরল পরিবেশে তার বেড়ে ওঠা। পিতা মো: রবিউল আওয়াল ও মাতা মোছা: জনি বেগমের কোলে জন্ম নেওয়া এই কিশোর বর্তমানে ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ছোটবেলা থেকেই ছিল চঞ্চল, দুরন্ত আর মেধাবী। তার চোখে ছিল এক আকাশছোঁয়া স্বপ্ন ভবিষ্যতে দেশের জন্য কিছু করার।
আরাফাতের জীবনের প্রতিটি দিন ছিল সংগ্রামে ভরা। গরিব পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ছেলেটি কখনো হাল ছাড়েনি। সকালে স্কুলে যেত, আর বিকেলে কখনো মায়ের পাশে রান্নাঘরে সাহায্য করত, কখনো বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করত। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে খেলাধুলা করলেও তার চোখে ছিল ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে, যখন গোটা দেশ এক অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠছিল, তখন আরাফাতও চুপ করে থাকতে পারেনি। ছোট বয়স হলেও তার ভেতরেই জন্ম নিয়েছিল এক প্রতিবাদী মন। গ্রামের প্রতিবাদ মিছিলে সে সাহসের সঙ্গে অংশ নেয়। কিন্তু এই সাহসিকতার মাশুল দিতে হয় তাকে রক্ত দিয়ে। একদিন পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয় সে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনা তার পরিবারে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। অসচ্ছল পরিবারের জন্য চিকিৎসার খরচ বহন করা ছিল অসম্ভব। তারপরও ধারদেনা করে, মানুষের সাহায্যে তারা চালিয়ে যাচ্ছে ছেলেটির চিকিৎসা।
আজ আরাফাত সানি শুধু একজন কিশোর নয়—সে হয়ে উঠেছে দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের প্রতীক। তার আহত শরীর আমাদের চোখে প্রশ্ন তোলে—এদেশের সাহসী সন্তানরা কি এমনই পরিণতির যোগ্য?
আকাশ ছোয়া স্বপ্নঃ আন্দোলনে অংশ নেওয়া আরাফাত সানি সপ্তম শ্রেণির একজন ছাত্র। তার চোখে ছিল আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন,সে বড় হয়ে একজন ডাক্তার হতে চায়, মানুষের সেবা করতে চায়। তবে শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেনি সে, দেশের কথাও ভেবেছে গভীরভাবে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সানি আন্দোলনে শরিক হয়। সেই আন্দোলনে সে আহত হয়, কিন্তু তবুও তার মনোবল ভাঙেনি। এখনো সে বিশ্বাস করে, প্রয়োজনে দেশের জন্য জীবন দিতেও সে প্রস্তুত। কারণ, তার কাছে নিজের স্বপ্ন ও জীবন থেকেও প্রিয় তার দেশ। এই ছোট্ট ছেলেটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক সাহসী, স্বপ্নবাজ এবং দেশপ্রেমিক নাগরিকের প্রতিচ্ছবি।
আন্দোলনে ভুমিকা: ২০২৪ সালের জুলাই মাস, সারা দেশজুড়ে উত্তাল জনতার ঢল। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে রংপুরসহ দেশের নানা প্রান্তে গড়ে ওঠে ছাত্র-জনতার জাগরণ। সেই আন্দোলনের সাহসী এক যোদ্ধা ছিল মাত্র সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত সানি। বয়সে ছোট হলেও মন ছিল বিশাল। তার চোখে ছিল বড় হয়ে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন, কিন্তু তার চেয়েও বড় ছিল দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ।
আরাফাত ছিল প্রবল আওয়ামী বিরোধী। সে প্রতিদিন রংপুরের ইঞ্জিনিয়ার কাচারিপাড়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিত। তার কণ্ঠে ছিল স্লোগান, পিঠে ছিল প্ল্যাকার্ড, আর মনে ছিল অটল সাহস। ১৮ জুলাই, আন্দোলনের এক উত্তপ্ত দিনে, হঠাৎ গুলি ছোড়া শুরু হয়। এক নির্মম মুহূর্তে গুলি লাগে সানির শরীরে। সে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কিন্তু আহত অবস্থাতেও সে থেমে যায়নি। বুক ভরা সাহসে সে আন্দোলনের গান গেয়ে, হাত তুলে জনগণকে উৎসাহ দিয়ে গেছে।
এই ছোট্ট কিশোরকে ভয় দেখাতে শুরু করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তাদের হুমকি ছিল ঘরে-বাইরে, দিনে-রাতে। তবুও আরাফাত পিছিয়ে যায়নি। তার কণ্ঠ থেকে উঠে এসেছে দৃপ্ত উচ্চারণ—”আমি দেশের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত। কারণ এই দেশ আমার ভালোবাসা, আমার অস্তিত্ব।”
আরাফাত সানি শুধু একজন ছাত্র নয়, সে হচ্ছে এই সময়ের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি—যে নিজের স্বপ্ন আর জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়েছে। তার বীরত্ব ইতিহাসে গর্বের সঙ্গে লেখা থাকবে।
চিকিৎসা : আরাফাত সানির শরীরে মুলত ছোরা গুলি লাগে। প্রথম দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজে অপারেশনের মাধ্যমে তার গুলি বের করা হয়। তারপর আন্দোলনের কিছুদিন পরই স্থানীয় ফার্মেসিতে চিকিৎসা নিয়ে স্স্থু হয়ে উঠেন। বর্তমানে তার কোন চিকিৎসার দরকার নেই। চিকিৎসা বাবদ তার পরিবারের প্রায় ৫০০০/- টাকা ব্যয় হয়।
বাজেট প্রস্তাবনাঃ আরাফাত সানিকে শিক্ষাবৃত্তি দেয়া যেতে পারে। তার বাবা যেহেতু দিনমজুর তাই, একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে ভালো হবে।
নাম : আরাফাত সানি
জন্মতারিখ : ২১/০২/২০১২
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : ছাত্র, ৭ম শ্রেনী
নিজ জেলা : রংপুর
বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: দামোদরপুর, ইউনিয়ন: কোতয়ালী বড় বাড়ী, জেলা: রংপুর সিটি কর্পোরেশন
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: দামোদরপুর, ইউনিয়ন: কোতয়ালী বড় বাড়ী, জেলা: রংপুর সিটি কর্পোরেশন
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : রবিউল ইসলাম
পিতার পেশা ও বয়স : শ্রমিক, ৩৫
মায়ের নাম : জলি বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ২৭
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
আয়ের উৎস : ব্যবসা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬ জন
মো জোনায়েদ : ছেলে
রাবেয়া বসরী : মেয়ে
আহত হওয়ার তারিখ : ১৯-০৭-২০২৪
রংপুরের এক নিভৃত পল্লীতে জন্ম নেয় এক সাহসী কিশোর মো: আরাফাত সানি। প্রকৃতির কোলে, মাটির ঘ্রাণে, গ্রামের সহজ-সরল পরিবেশে তার বেড়ে ওঠা। পিতা মো: রবিউল আওয়াল ও মাতা মোছা: জনি বেগমের কোলে জন্ম নেওয়া এই কিশোর বর্তমানে ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ছোটবেলা থেকেই ছিল চঞ্চল, দুরন্ত আর মেধাবী। তার চোখে ছিল এক আকাশছোঁয়া স্বপ্ন ভবিষ্যতে দেশের জন্য কিছু করার।
আরাফাতের জীবনের প্রতিটি দিন ছিল সংগ্রামে ভরা। গরিব পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ছেলেটি কখনো হাল ছাড়েনি। সকালে স্কুলে যেত, আর বিকেলে কখনো মায়ের পাশে রান্নাঘরে সাহায্য করত, কখনো বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করত। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে খেলাধুলা করলেও তার চোখে ছিল ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে, যখন গোটা দেশ এক অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠছিল, তখন আরাফাতও চুপ করে থাকতে পারেনি। ছোট বয়স হলেও তার ভেতরেই জন্ম নিয়েছিল এক প্রতিবাদী মন। গ্রামের প্রতিবাদ মিছিলে সে সাহসের সঙ্গে অংশ নেয়। কিন্তু এই সাহসিকতার মাশুল দিতে হয় তাকে রক্ত দিয়ে। একদিন পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয় সে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনা তার পরিবারে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। অসচ্ছল পরিবারের জন্য চিকিৎসার খরচ বহন করা ছিল অসম্ভব। তারপরও ধারদেনা করে, মানুষের সাহায্যে তারা চালিয়ে যাচ্ছে ছেলেটির চিকিৎসা।
আজ আরাফাত সানি শুধু একজন কিশোর নয়—সে হয়ে উঠেছে দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের প্রতীক। তার আহত শরীর আমাদের চোখে প্রশ্ন তোলে—এদেশের সাহসী সন্তানরা কি এমনই পরিণতির যোগ্য?
আকাশ ছোয়া স্বপ্নঃ আন্দোলনে অংশ নেওয়া আরাফাত সানি সপ্তম শ্রেণির একজন ছাত্র। তার চোখে ছিল আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন,সে বড় হয়ে একজন ডাক্তার হতে চায়, মানুষের সেবা করতে চায়। তবে শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেনি সে, দেশের কথাও ভেবেছে গভীরভাবে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সানি আন্দোলনে শরিক হয়। সেই আন্দোলনে সে আহত হয়, কিন্তু তবুও তার মনোবল ভাঙেনি। এখনো সে বিশ্বাস করে, প্রয়োজনে দেশের জন্য জীবন দিতেও সে প্রস্তুত। কারণ, তার কাছে নিজের স্বপ্ন ও জীবন থেকেও প্রিয় তার দেশ। এই ছোট্ট ছেলেটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক সাহসী, স্বপ্নবাজ এবং দেশপ্রেমিক নাগরিকের প্রতিচ্ছবি।
আন্দোলনে ভুমিকা: ২০২৪ সালের জুলাই মাস, সারা দেশজুড়ে উত্তাল জনতার ঢল। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে রংপুরসহ দেশের নানা প্রান্তে গড়ে ওঠে ছাত্র-জনতার জাগরণ। সেই আন্দোলনের সাহসী এক যোদ্ধা ছিল মাত্র সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত সানি। বয়সে ছোট হলেও মন ছিল বিশাল। তার চোখে ছিল বড় হয়ে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন, কিন্তু তার চেয়েও বড় ছিল দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ।
আরাফাত ছিল প্রবল আওয়ামী বিরোধী। সে প্রতিদিন রংপুরের ইঞ্জিনিয়ার কাচারিপাড়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিত। তার কণ্ঠে ছিল স্লোগান, পিঠে ছিল প্ল্যাকার্ড, আর মনে ছিল অটল সাহস। ১৮ জুলাই, আন্দোলনের এক উত্তপ্ত দিনে, হঠাৎ গুলি ছোড়া শুরু হয়। এক নির্মম মুহূর্তে গুলি লাগে সানির শরীরে। সে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কিন্তু আহত অবস্থাতেও সে থেমে যায়নি। বুক ভরা সাহসে সে আন্দোলনের গান গেয়ে, হাত তুলে জনগণকে উৎসাহ দিয়ে গেছে।
এই ছোট্ট কিশোরকে ভয় দেখাতে শুরু করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তাদের হুমকি ছিল ঘরে-বাইরে, দিনে-রাতে। তবুও আরাফাত পিছিয়ে যায়নি। তার কণ্ঠ থেকে উঠে এসেছে দৃপ্ত উচ্চারণ—”আমি দেশের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত। কারণ এই দেশ আমার ভালোবাসা, আমার অস্তিত্ব।”
আরাফাত সানি শুধু একজন ছাত্র নয়, সে হচ্ছে এই সময়ের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি—যে নিজের স্বপ্ন আর জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়েছে। তার বীরত্ব ইতিহাসে গর্বের সঙ্গে লেখা থাকবে।
চিকিৎসা : আরাফাত সানির শরীরে মুলত ছোরা গুলি লাগে। প্রথম দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজে অপারেশনের মাধ্যমে তার গুলি বের করা হয়। তারপর আন্দোলনের কিছুদিন পরই স্থানীয় ফার্মেসিতে চিকিৎসা নিয়ে স্স্থু হয়ে উঠেন। বর্তমানে তার কোন চিকিৎসার দরকার নেই। চিকিৎসা বাবদ তার পরিবারের প্রায় ৫০০০/- টাকা ব্যয় হয়।
বাজেট প্রস্তাবনাঃ আরাফাত সানিকে শিক্ষাবৃত্তি দেয়া যেতে পারে। তার বাবা যেহেতু দিনমজুর তাই, একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে ভালো হবে।
নাম : আরাফাত সানি
জন্মতারিখ : ২১/০২/২০১২
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : ছাত্র, ৭ম শ্রেনী
নিজ জেলা : রংপুর
বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: দামোদরপুর, ইউনিয়ন: কোতয়ালী বড় বাড়ী, জেলা: রংপুর সিটি কর্পোরেশন
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: দামোদরপুর, ইউনিয়ন: কোতয়ালী বড় বাড়ী, জেলা: রংপুর সিটি কর্পোরেশন
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : রবিউল ইসলাম
পিতার পেশা ও বয়স : শ্রমিক, ৩৫
মায়ের নাম : জলি বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ২৭
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
আয়ের উৎস : ব্যবসা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬ জন
মো জোনায়েদ : ছেলে
রাবেয়া বসরী : মেয়ে
আহত হওয়ার তারিখ : ১৯-০৭-২০২৪
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍