হোম / আহতদের তালিকা / মানিক মিয়া
মানিক মিয়া

মানিক মিয়া

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : অটো রিক্সা চালক

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম পরিচয়
৫ জুলাই ১৯৯০ সালে রংপুর জেলার এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয় এক শিশু, তার নাম মানিক মিয়া। জন্মস্থান রংপুর শহরের পাশে ছোট্ট এক গ্রাম, ছিলিমপুর, ইউনিয়ন ধাপের হাট, রংপুর সদর থানার অন্তর্গত। বাবা মো: শফিউল ইসলাম ছিলেন একজন দিনমজুর, যার কষ্টের টাকায় চলতো সংসার। দুঃখজনকভাবে, মানিক ছোটবেলাতেই বাবাকে হারায়। মা শেফালী বেগম, বয়স এখন ৫৫, এখনও সেই অভাবের সংসার টেনে নিয়ে যাচ্ছেন একজন গৃহিণী হিসেবে।
শিক্ষা জীবন কখনোই ছিল না সমৃদ্ধ। সংসারের অভাব-অনটনে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন মানিক। জীবনের তাগিদে তিনি হয়ে উঠেন একজন অটো রিকশা চালক। দিনভর রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ঘুরে ঘুরে মানুষের যাত্রী বহনই ছিল তার নিত্যদিনের জীবিকা। চার সদস্যের পরিবারটিকে একাই বাঁচিয়ে রেখেছিলেন এই শ্রমজীবী মানুষটি।
তবে ২০২৪ সাল ছিল ভিন্ন। সারাদেশে ছাত্রজনতা যখন কোটা বেইমানি ও হাসিনা সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে, তখন মানিকও থেমে থাকেননি। ১৯ জুলাই বিকেল ৫টা, রংপুর শহরের পুলিশ লাইনের সামনে জড়ো হয়েছিল হাজারো ছাত্র-জনতা। স্লোগানে মুখর ছিল চারদিক:
“দালালি চলবে না!”
“হাসিনা তুই নির্লজ্জ!”
এই স্লোগানের মাঝেই, একপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন মানিক মিয়া। তিনি রিকশাচালক, কিন্তু তার বুকেও ছিল ন্যায়ের তৃষ্ণা, পরিবর্তনের স্বপ্ন। তিনি বিশ্বাস করতেন—এই দেশ কেবল বিত্তবানদের নয়, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষেরও। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে পুলিশ অতর্কিতে হামলা চালায়। লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, গুলি সব ছুঁড়ে দেয় নিরস্ত্র জনতার ওপর। সেই হঠাৎ আক্রমণে মানিক মিয়া আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মানিক মিয়ার গল্প কেবল একজন রিকশাচালকের গল্প নয় এটি এক সচেতন নাগরিকের জাগরণের গল্প। তিনি প্রমাণ করেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ডিগ্রি লাগে না, সাহস লাগে। তিনি ছিলেন না কোনো রাজনৈতিক কর্মী, কিন্তু ছিলেন মানবাধিকারের যোদ্ধা। পেটে ভাত না থাকলেও তার মুখে ছিল প্রতিবাদের ভাষা।
আজও রংপুর শহরের মানুষ মনে রাখে সেই রিকশাচালক যিনি ছাত্রদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়েছিলেন, গায়ে আঘাত নিয়েও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন।
আন্দোলনে অংশগ্রহন
শ্রমিকের হৃদয়ে বিপ্লবের আগুন
তিনি ছিলেন একজন সাধারণ মানুষ—পেশায় একজন শ্রমিক। প্রতিদিনের জীবন কাটতো শ্রমে-ঘামে, দিন আনে দিন খায়। কিন্তু যখন ২০২৪ সালে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের ডাকে রাজপথ উত্তাল হয়ে ওঠে, তখন সেই সাধারণ মানুষটি আর চুপ করে থাকতে পারেননি। তার নাম মানিক মিয়া।
১৯ জুলাই, রংপুর শহরে শিক্ষার্থী ও জনতার ঢল নামে। চারদিকে গর্জে উঠছিলো স্লোগান, “দালালি চলবে না!”, “হাসিনা তুই নির্লজ্জ!” ছাত্রদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে রাস্তায় নামেন মানিক মিয়াও। শুধু একজন শ্রমিক হিসেবে নয়, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে, যে চেয়েছিলো একটা ন্যায্য, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।
তবে সেই দিনের শান্তিপূর্ণ মিছিল বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। হঠাৎই পুলিশ ও আওয়ামী বাহিনী অতর্কিতে হামলা চালায়। টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট যেন যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে ওঠে রংপুরের সিটি কর্পোরেশন এলাকা। আর সেই আগুনের মধ্যে মানিক মিয়া পড়ে যান মাটিতে, আহত অবস্থায়।
তাকে স্থানীয় এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, কিন্তু গরিব শ্রমিকের পক্ষে উন্নত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব ছিল না।
মানিক মিয়ার এই গল্প প্রমাণ করে এই আন্দোলন কেবল ছাত্রদের ছিল না, এটি ছিল জনগণের আন্দোলন। যেখানে একজন গরিব শ্রমিকও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
মানিক মিয়া হয়তো একজন নাম না জানা কর্মজীবী, কিন্তু তার সাহসিকতা একদিন ইতিহাসে জায়গা করে নেবে একজন শ্রমিক কীভাবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের গর্বিত সৈনিক হয়ে উঠেছিলেন।
চিকিৎসা: বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি এখন সুস্থ আছেন।
প্রস্তাবনা: আহত মানিক মিয়া একজন হতদরিদ্র অটোর রিক্সা চালক জীবন ধারণের জন্য কয়েকটি দুগ্ধ গরু কিনে দিলে তার জন্য সহজ হবে এছাড়াও এনজিও তে কিছু ঋণ আছে কিন্তু আর্থিক সহায়তা দিলে ঋণ মুক্ত হতে পারবে।

নাম : মানিক মিয়া
জন্ম তারিখ : ১৫/০৭/১৯৯০
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : অটো রিক্সা চালক
জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: ছিলিমপুর, ইউনিয়ন: ধাপের হাট, থানা: রংপুর সদর, জেলা: রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মৃত মো: শফিউল ইসলাম
মায়ের নাম : শেফালী বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৫
আয়ের উৎস : দিন মজুরি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন

ঘটনার স্থান :
পুলিশ লাইনের সামনে, রংপুর
আহত হওয়ার সময়কাল :
১৯ জুলাই ২০২৪, বিকাল ৫ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍